Thursday, 17 May 2018

বহিছে ধারা

ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে সমরেশ গজগজ করতে থাকেন। পাঁচটার মধ্যে ফেরার কথা ঋকের।  সাড়ে পাঁচটা বাজে অথচ ধারে কাছে টিকি পাওয়া যাচ্ছে না ছেলের। ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় চলে আসেন তিনি। গলির শেষ মাথাটা অবধি দেখা যায় এখান থেকে। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ ছেলের দেখা নেই। আজ আইপিএলের খেলা আছে ইডেনে। প্রায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুটো  টিকিট জোগাড় করেছেন সমরেশ। বাবা ছেলের ক্রিকেট দেখার শখ সাংঘাতিক। এখনই বেরোতে না পারলে ঠিকমতো গুছিয়ে বসা যাবে না। ভিড় তো আছেই তার ওপর জ্যাম। এসব ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে ওঠেন নিরুপায় বাবা।

অকস্মাৎ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢোকে ঋক। সমরেশ চেঁচিয়ে ওঠেন, 'কিরকম আক্কেল তোর ? কটা বাজে খেয়াল আছে ? এখনই বেরোতে না পারলে.......'। পুরোটা শেষ করতে দেয় না ঋক। হাত তুলে থামায় বাবাকে। নিচুস্বরে বলে, 'কোচিং থেকে বেরিয়ে দেখলাম পাশের পাড়ায় ব্লাড ক্যাম্প হচ্ছে। দিয়ে আসতেই যা একটু দেরি হল'। মুহূর্তে শান্ত হয়ে গেলেন সমরেশ। ঘুরে তাকালেন দেওয়ালে ঝোলানো একটা বাঁধানো ছবির দিকে। বছর দুয়েক আগের স্মৃতি এখনো দগদগে ঘায়ের মতো দুজনের বুকেই জীবন্ত। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার ভয়াল কোপে স্নেহলতা আজ দুজনের থেকে বিচ্ছিন্না। শুধুমাত্র রক্তের অভাবে সেদিন ফেরানো যায়নি তাঁকে। ছবির কাঁচে ঋকের ছায়া পড়ায় সম্বিৎ ফেরে সমরেশের। কোমল কণ্ঠে বলেন, 'যা, মুখ হাত ধুয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। সময়মতো পৌঁছতে হবে তো'।

বাবার হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে দেয় ঋক । কনুইয়ের ভাঁজে একটা গোলাকার ব্যান্ডেড চোখে পড়ে। তৎক্ষণাৎ ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে, 'কি ব্যাপার ! চোট লাগল কি করে তোমার' ? সমরেশ কোনোমতে কম্পিতস্বরে বলেন, 'ও কিছু না, অফিস যাওয়ার আগে আমিও একবার ওই ক্যাম্পে.......' । নিজেকে আর সামলাতে পারে না ঋক । এক লহমায় জড়িয়ে ধরে সমরেশকে। অন্তর্নিহিত গ্লানি জল হয়ে বেরিয়ে আসে দুই গাল বেয়ে। অস্ফুটে বলে, 'বাবা.......' 

এমন গল্প হয়ত খুঁজলে পরে অনেক পাওয়া যাবে। তার কারণ ভারতবর্ষে রক্তের জোগানে বরাবরের সমস্যা আছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষ সচেতন হচ্ছেন এবং রক্তদাতার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। একটা ছোট্ট পরিসংখ্যানে বোঝানো যেতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ২০০৬ - ০৭ সালে রক্তদাতার সংখ্যা ছিল ৫৪.৪ শতাংশ যা ২০১১ - ১২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৩.১ শতাংশে। প্রতি ইউনিট রক্তের হিসাবে ২০০৬ - ০৭ সালে ৪.৪ মিলিয়ন ইউনিট থেকে ২০১২ - ১৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯.৩ মিলিয়ন ইউনিটে। তবু চমকপ্রদভাবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, ভারত সরকারের একটি রিপোর্টে জানা গেছে যে ২০১৬ সালে ১২ মিলিয়ন ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী শুধুমাত্র ১০.৯ মিলিয়ন ইউনিট রক্তই পাওয়া গেছে। সুতরাং ঘাটতির পরিমাণটা যে এখনও বিপুল তা এই সহজ অঙ্কের মাধ্যমেই বোঝা যায়। প্রয়োজন আরও সচেতনতার এবং এর উপকারিতাগুলি জেনে রাখার।

রক্তদানের উপকারিতা :
# হিমোক্রোমাটোসিস (Hemochromatosis) প্রতিরোধে সাহায্য করে - শরীরে লৌহমাত্রা বেড়ে গেলে এই ধরণের সমস্যা হয়। রক্তদানের ফলে এই সমস্যা হ্রাস পায় অনেকটাই।
# ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। 
# হৃদযন্ত্র, লিভার এবং অগ্ন্যাশয় সুস্থ থাকে।  
# শরীরের ওজন কম রাখতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা আছে রক্তদানের। বিশেষ করে যাঁরা স্থূল এবং কার্ডিওভাস্কুলার রোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্য বিশেষ উপকারী।
# রক্তদানের দরুন নতুন রক্তকোষের জন্ম হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

নূন্যতম বিধি :
রক্তদান একটি অত্যন্ত সুস্থ চিন্তা, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না যে চাইলেই কিন্তু রক্ত দেওয়া যায় না। রক্তদানের ক্ষেত্রে নূন্যতম কিছু বিধি মেনে চলা অতি আবশ্যক। স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, ভারত সরকারের অধীনে কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যা একজন রক্তদাতার জেনে রাখা উচিত। যেমন -

# রক্তদাতাকে সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হতে হবে
# রক্তদাতার বয়স হতে হবে  ১৮ - ৬৫ র মধ্যে
# ওজন নূন্যতম পক্ষে ৪৫ কিলোগ্রাম হতে হবে
# হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ন্যূনতম ১২.৫ গ্রাম হতে হবে
# পুরুষদের ক্ষেত্রে তিন মাসে একবার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে চারমাসে একবার রক্তদান করা যাবে
# এছাড়া চিকিসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তদানের পূর্বে কিছু আবশ্যক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে

ভারত সরকারের অধীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় - এর একটি নির্দেশিকা আছে যা রক্তদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পড়ুন। 

রক্তদানের উপকারিতা যে যথেষ্ট তা আমরা জানলাম বটে তবে কতটা সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টা দেখব সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন। এর কারণ হল আমাদের মধ্যে এখনো অনেকেই আছেন যাঁরা রক্তদান এড়িয়ে চলেন, বিভিন্ন রকমের অজুহাত দেন এবং সর্বোপরি রক্তদান সম্পর্কে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন। যেমন - রক্তদান করলে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বা পরবর্তীকালে নানান রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে ইত্যাদি। তাঁদেরকে বলব সময় করে নাহয় একবার আপনার চিকিৎসককেই জিজ্ঞেস করে দেখুন। তাঁর কথা নিশ্চই বিশ্বাসযোগ্য হবে এই আশা রাখি।

                                                           www.genesishospital.co

Tags :blooddonation ; donateblood ; savelife ; PrescriptionTheke ; GenesisHospitalKolkata

Thursday, 19 April 2018

স্নায়ুর জালে

অরিজিৎ ও পারমিতা, উত্তর কলকাতার মধ্যবিত্ত বাঙালি দম্পতি। দোতলার বাড়িতে সাজানো গোছানো সংসার। দিন কেটে যায় সচ্ছলতার ডানায় ভর করে। সুখ আছে, তবু যেন দুজনের মনে শান্তি নেই। একমাত্র সন্তান ধ্রবজ্যোতির বয়স সাড়ে তিন বছর। অন্য আর চার পাঁচটা সমবয়সীদের থেকে যেন বড্ড আলাদা। কোথায় এই সময়টা ধ্রুবজ্যোতি মেল্ ট্রেনের মতো ছুটবে, চড়াইপাখির মতো দুরন্ত পায় সারা বাড়ি তোলপাড় করবে অথচ কোনো এক অলৌকিক  জাদুবলে ধ্রুবজ্যোতি যেন ভীষণরকম শান্ত। তাতে অবশ্য কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু ছেলের যেন কোনো কিছুতেই কোনো স্পৃহা নেই। ডাকলে সাড়া দেয় না, খেলাধুলার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, সারাক্ষন শুধু বারান্দার ধারে বসে সমানে কাগজ ছিঁড়তে থাকে। কোনো কথার উত্তর দেয় না ঠিকমতো, বন্ধুবান্ধবে আগ্রহ নেই তবে হঠাৎ করে কোনো কোনো বায়না ধরলে তা একনাগাড়ে বলতে থাকে। কোনোরকম বারণ বা শাসন গ্রাহ্য করে না। সাতপাঁচ ভেবে একজন নামকরা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলেন অরিজিৎ ও পারমিতা। সমস্তটা দেখে তিনি বললেন ধ্রবজ্যোতি এস্পারগার্স সিন্ড্রোম অর্থাৎ অটিজমে আক্রান্ত। এখন থেকেই তার চিকিৎসার প্রয়োজন। অরিজিৎ ও পারমিতার মাথায় যেন বাজ পড়ল। এই গল্প বলার আগে আসুন জেনে নিই কি এই রোগ আর এর হাত থেকে নিস্তার পাবার উপায় কি। 


অটিজম কি ?
অটিজম সোসাইটি অফ আমেরিকার মতে এটি একটি জটিল স্নায়বিক রোগ যা মস্তিষ্কের অক্ষমতার কারণে হয়ে থাকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ কথাবার্তায় এবং ব্যবহারে। ইন্ডিয়ান স্কেল এসেসমেন্ট অফ অটিজম - এর মতে ভারতবর্ষে প্রায় ২০ লক্ষ শিশু এই রোগের শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতি ৬৮ জন শিশুতে ১ জন শিশুর এই রোগ হয়। সর্বোপরি একটা আশ্চর্য তথ্য দিই। সারা বিশ্ব জুড়ে ৭ কোটি মানুষ রয়েছেন যাঁদের অটিজম আছে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হল এঁদের মধ্যে ১ কোটি মানুষ হলেন ভারতীয়।

এই রোগের কারণ কি ? 
নিয়মিত গবেষণার ফলে কিছু কারণ চিহ্নিত করা যায়। যেমন -

# জিনগত বিরল সমস্যা, পরিবেশগত চাপ, গর্ভকালীন অবস্থায় পিতামাতার বয়স, গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনো রোগ, জন্মের সময় শিশুর মস্তিষ্কে অপর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবাহ ইত্যাদি।
# এছাড়া মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতায় অস্বাভাবিকতার দরুণও অটিজম হতে পারে।

এই রোগ কি একই রকমের হয় ?
একদমই না। এই রোগের বিভিন্ন প্রকার আছে এবং প্রকারগত সমস্যাও একেবারেই আলাদা। সুতরাং শিশুটির কোন অটিজম হয়েছে সে ব্যাপারে জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

# এস্পারগার্স সিন্ড্রোম - এই রোগে সাধারণত কোনো বস্তু বা বিষয়ের ওপর সাংঘাতিক আকর্ষণ থাকে। একই কাজ বারেবারে করার একটা প্রবণতা থাকে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা স্বাভাবিক গড় বা গড়ের থেকে বেশি বুদ্ধিমান হয়। সেই কারণে একে হাই - ফাঙ্কশনিং অটিজমও বলা হয়।

# পারভেসিভ ডেভেলপ্মেন্টাল ডিসর্ডার -  সামাজিক মেলামেশা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যা হয়। এস্পারগার্স সিন্ড্রোমের তুলনায় আচরণগত সমস্যা কম।

# অটিস্টিক ডিসর্ডার - উপরোক্ত দুই প্রকারের তুলনায় এটি অত্যন্ত জটিল। এক্ষেত্রে সামাজিকতা ও কথাবলায় সমস্যা তো আছেই তাছাড়া মানসিক প্রতিবন্ধকতাও হতে পারে।

কিভাবে বুঝবেন বা উপসর্গ কি ?
জেনেসিস হাসপাতালের শিশু বিভাগের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক বলছেন যে সামাজিক ভাবে এই রোগ নিয়ে একটা সমস্যা আছে। মানুষকে বুঝতে হবে যে এই রোগ যদি প্রাথমিক ভাবে নির্ণয় করা যায় এবং শিশুদের পর্যাপ্ত সাহায্য করা যায় তাহলে সেই শিশুটিও অন্যদের মতো বেড়ে উঠবে। সমাজে তারও অবদান থাকবে এবং পাশাপাশি অন্যের ওপরেও নির্ভরশীল হতে হবে না। এই রোগ নির্ণয়ের কিছু সহজ পন্থা আছে, যেমন -

# শিশুটির যদি খেলনার প্রতি কোনো আকর্ষণ না থাকে
# ডাকলে যদি সাড়া না দেয়
# যদি নিজের খেয়ালেই ব্যস্ত থাকে
# একই কথা বারবার বলতে থাকে
# কথাবলার সময় যদি সরাসরি চোখের দিকে না তাকায় অথবা
# অন্যদের সাথে মেলামেশায় সমস্যা হয় তাহলে
একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে যে বাবা মায়েরা তাদের সন্তানের পাঁচ বছর বয়েসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারে প্রথম দিকে অর্থাৎ দু আড়াই বছর বয়েসেই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাই উচিত। তাতে করে প্রাথমিক ভাবেই শিশুটির চিকিৎসা শুরু হবে এবং মনোবিজ্ঞানীদের সাহায্যে বয়সচিত কাজের সাথেও পরিচিত হতে পারবে। যার দরুণ সুফল পাওয়া যাবে তাড়াতাড়ি। জেনে রাখবেন, বয়েস বেড়ে গেলে বিভিন্ন কাজের সাথে খাপ খাওয়াতে অসুবিধে হবে।

এক্ষেত্রে কি করণীয় ?
# বাবা মার কার্যকরী ভূমিকা -  বাবা মাকে ভীষণভাবে সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং সমস্ত ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে।
# সুসম্পর্ক স্থাপন - সন্তানের সাথে বাবা মার অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ সম্পর্ক হতে হবে। সন্তানের পড়াশোনা এবং সঠিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে।
# বিশেষজ্ঞর মতামত - সর্বপ্রথম একজন শিশু বিশেষজ্ঞর পরামর্শ ভীষণ প্রয়োজন। তাঁর মতামত অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলাই বাঞ্ছনীয়। 
# সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে যোগাযোগ - কিছু সংস্থা আছে যারা অত্যন্ত যত্নসহকারে এই শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ট্রেনিং, থেরাপি ও এক্টিভিটির মাধ্যমে শিশুটির সর্বাঙ্গীন উন্নতি সাধন করুন। এক্ষেত্রে বাবা মায়েদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। নিম্নলিখিত লিঙ্কগুলিতে যোগাযোগ করতে পারেন।
http://autismsupport.in/helpline-region/west-bengal/#s=1
http://www.pradipautism.org/#
http://shruti.co.in
http://motherandchildschool.com/index.html

কয়েক বছর ধরে, একটি অটিজম সেন্টারের যোগ্য সহায়তায় ও নিয়মিত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ধ্রুবজ্যোতি ধীরে ধীরে তার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠছে। অরিজিৎ ও পারমিতার মুখে এখন স্বস্তির ছাপ। তাঁদের একমাত্র সন্তান নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেছে। সন্ধ্যের দিকে সে নিয়মিত বইখাতা খুলে বসে। কয়েকজন বন্ধুবান্ধব হওয়াতে ক্রিকেটের প্রতি তার একটা বিশেষ আগ্রহ জন্মেছে। ভারতবর্ষের বহু বাড়িতে এমন ধ্রুবজ্যোতিরা অনেকেই রয়েছে। এমন ভাবার কিন্তু কোনো কারণ নেই যে তারা সময়পোযোগী হয়ে উঠতে পারবে না। বরং সঠিক দিশা পেলে নিজ নিজ বিষয়ে তারা যথেষ্ট যোগ্যতা প্রমান করতে পারে যার নজির কিন্তু প্রচুর রয়েছে। প্রয়োজন একটু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর, একটু সহনীয় মনোভাবের........ মনে রাখতে হবে তারাও এ পৃথিবীর সন্তান।

#Autism #Worldautismday #autisticchildren #neurology #neurologicaldisorder #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata

Wednesday, 4 April 2018

খতরনাক


নাসিকা গর্জন যেমন অতিরিক্ত হলে আমাদের বিরক্তির শেষ থাকে না তেমনি নাসিকা বর্ষণ হলেও কিন্তু চিন্তার অন্ত থাকে না। বিশেষ করে নাক দিয়ে যদি হঠাৎ রক্তপাত হয় তাহলে সারা বাড়ি মাথায় তুলে নেওয়ার একটা চালু রেওয়াজ আছে আমাদের। ঠিক তারপরেই যেটা ঘটে তা হল এই রক্তপাতের সাথে কোন কোন রোগের সম্পর্ক আছে তা নিয়ে একটা জম্পেশ আলোচনা শুরু করে দেওয়া বা নিজে নিজেই নানারকম আকাশকুসুম ভাবতে বসে যাওয়া। এক্ষেত্রে যেটা করণীয় তা হল মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে রক্তপাতকে আয়ত্তে আনা। তার আগে আসুন একটু জেনে নিই যে কি কি কারণে রক্তপাত হতে পারে এবং এই নিয়ে কোনো উদ্বেগের অবকাশ আছে কিনা। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাক থেকে রক্তপাতের ঘটনাকে এপিসট্যাক্সিস বলে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা উষ্ণ আবহাওয়ায় এপিসট্যাক্সিসের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটা যেকোনো বয়েসেই হতে পারে তবে ২ থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে এবং ৫০ থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের মধ্যে বেশি হয়। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা এবং দু ধরণের হয়ে থাকে। যথা -

# নাকের অগ্রভাগ থেকে রক্তপাত - নাকের অভ্যন্তরীণ কোনো শিরা বা উপশিরা থেকে এই রক্তপাত ঘটে থাকে এবং এই রক্তপাতকে খুব সহজেই আয়ত্তে আনা যায়।
# নাকের পশ্চাৎভাগ থেকে রক্তপাত - এই রক্তপাত খুব একটা বেশি দেখা যায় না তবে বয়স্ক মানুষদেরই সাধারণত হয় এটা। নাকের পশ্চাৎভাগে অবস্থিত ধমনী থেকে এই রক্তপাত হয়। এক্ষেত্রে রক্তপাতের মাত্রা অনেক বেশি এবং হলে অবশ্যই একজন ই.এন.টি বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত।

এমনটা হওয়ার কারণ কি ?
নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণে প্রচুর ক্ষুদ্র শিরা আছে যা ছোট্ট আঘাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে যথেষ্ট। তবে অত্যন্ত সাধারণ কারণগুলি হল -
#  শুকনো বাতাস - যখন নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণ শুকিয়ে যায় তখনই রক্তপাত বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে বেশি। অতি গ্রীষ্মের সময় বা অতিরিক্ত শীতল জায়গায় এই সমস্যাটা হয়। 
# নাক খোঁটা - এই অভ্যাস যদি আপনার থাকে তাহলে বলব অবিলম্বে সংবরণ করুন নিজেকে।  

এছাড়াও আর যে যে কারণে রক্তপাত হয় তা হল     
# সাইনাসের ইনফেকশন 
# এলার্জি 
# সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা নাক ফুলে গেলে 
# নাকে কিছু আটকে থাকা 
# বক্র নাকের হাড়  
# হিমোফিলিয়া - রক্ত জমাট না বাঁধার ব্যাধি 
# এসপিরিনের ব্যবহার 
# ওয়ার্ফরিন ও হেপারিনের ব্যবহার 
# কোকেনের ব্যবহার 
# ন্যাসাল স্প্রের অতি ব্যবহার 
# ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে র অভাব
# উচ্চ রক্তচাপ 
# বার্নার্ড সোলার ডিজিজ - প্লেটলেটের সমস্যা 
# এনিমিয়া 
# ডেঙ্গু জ্বর  

রক্তপাত বন্ধ করার কি উপায় আছে ?
রক্তপাত বন্ধ করার কিছু সহজ সরল উপায় আছে। সবার আগে যেটা করতে হবে তা হল - 
# শান্ত থাকুন, অযথা ভয় পাবেন না 
# সোজা হয়ে বসুন এবং মাথাটা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখুন  
# মাথা পিছনে হেলাবেন না, এতে রক্ত আপনার গলা দিয়ে নেমে পেটে চলে যেতে পারে 
# আঙ্গুল দিয়ে ১০ মিনিট নাক চেপে রাখুন, একটু কষ্ট হলেও করুন 
# মুখে কোনো রক্ত থাকলে ফেলে দিন, গিলে নিলে বমি হয়ে যেতে পারে
# এলার্জি হলে আস্তে হাঁচুন বা নাক ঝাড়ুন, বেশি জোর দেবেন না  

সাধারণ রক্তপাতে এগুলো করলে অনেকটাই কাজ দেবে। তবে এরপরেও যদি রক্তপাত হতে থাকে তাহলে বেশ কয়েকটা উপায় আছে যার মাধ্যমে রক্তপাত আয়ত্তে আসে অনেকটাই। যেমন -

# পোষ্টেরিয়ার নেসাল প্যাক - প্রথমে একটা সরু ক্যাথিটার নাকের মধ্যে দিয়ে ঢুকিয়ে মুখের ভিতর থেকে বের করে আনা হয়। ক্যাথিটারের শেষ ভাগে একটা প্যাক বেঁধে দেওয়া হয়। এই প্যাকের মধ্যে থাকে এন্টিবায়োটিক ওষুধ। এরপর নাকের ভিতর থেকে ক্যাথিটার বের করে আনলে ওই প্যাকটি বসে যায় নাকের পশ্চাৎভাগে অর্থাৎ ঠিক যেখান থেকে রক্তপাত হচ্ছে। প্যাকের শেষপ্রান্তে একটা সরু সুতো বাঁধা থাকে যা মুখের ভিতর থেকে বের করে এনে একটা টেপ দিয়ে গালে আটকে রাখা হয়। ৪৮ ঘন্টা পর রক্তপাত আয়ত্তে এলে এই প্যাক খুলে ফেলা হয়। এছাড়া ফোলি ক্যাথিটার ব্যবহার করেও রক্ত বন্ধ করা হয়।

# কটারি - এই পদ্ধতিতে একটা সিলভার নাইট্রেট স্টিক দিয়ে নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণে বুলিয়ে দেওয়া হয়। এই রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একটা এসিড তৈরী হয় এবং ওই আস্তরণের কিছু কিছু অংশ পুড়ে যায়, যার ফলে রক্তপাত কমে। এছাড়া রক্তপাতের স্থান চিহ্নিত করে বাইপোলার কটারিজেশন পদ্ধতিতে ইলেক্ট্রিক কারেন্টের মাধ্যমে নাকের অভ্যন্তরীণ টিস্যুগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সুফল পাওয়া যায়।

# নেসাল এন্ডোস্কোপি - একটা ফাইবার অপটিক সরু যন্ত্র, লাইট আর একটা ছোট্ট ক্যামেরার মাধ্যমে এন্ডোস্কোপি করা হয়। এই যন্ত্রটি নাকের ভিতর ঢুকিয়ে নাকের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয় রক্তপাতের সঠিক কারণটা কি। এরপর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং এতে বিরাট কিছু সমস্যা হয় না।

অতএব সাধারণভাবে যদি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি এই সমস্যা আপনার চিরকালীন হয় আর আপনি যদি এখনো কোনো ইএনটি বিশেষজ্ঞকে না দেখিয়ে থাকেন তাহলে বলব আপনি অযথাই ঝুঁকি নিচ্ছেন। সামান্য নাক নিয়ে নাকানি চোবানি খাবার দরকার কি বলুন তো ? খাবার তো আরো অনেক জিনিস আছে, তাই না ?

#epistaxis #nosebleeding #nasalendoscopy #cautery #nasalpack #medicalarticle #bengalihealtharticle #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata



Thursday, 15 March 2018

পানি, পানি রে.....


ভারতী ঘোষ, ছাপ্পান্ন বছর বয়েস, তিন কামরার ফ্ল্যাটে পুজো আচ্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। স্বামী রিটায়ার করেছেন বছর কয়েক হল। পুত্র, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে নিয়ে সচ্ছল পরিবার তাঁর। আজ বাড়িতে একটা বড় অনুষ্ঠান। তাঁর একমাত্র নাতির আজ অন্নপ্রাশন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ভর্তি লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের কোলাহলে চারিদিক মুখরিত। পুরোহিতমশাই অন্নপ্রাশনের পুজোয় বসেছেন এবং নাতির চারপাশে গোল হয়ে ঘিরে বসে আছেন বাকিরা। এমন আনন্দঘন পরিবেশে থেকে থেকেই বিভিন্ন কথায় হাসির রোল উঠছে। ভারতী দেবী প্রায় সমস্ত কথাতেই হোহো করে হেসে উঠছেন। এমন সময় আচম্কা তিনি এক ভীষণ হাসির কথায় জোর হাসতে গিয়ে একেবারে কেলেঙ্কারি করে ফেললেন। হাসতে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে তাঁর প্রিয় ঢাকাই শাড়িটিতে কলকল করে জলে ভাসিয়ে ফেললেন। এমন বেমক্কা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সবাই যত না ভ্যাবাচ্যাকা খেল, ভারতী দেবী তার দ্বিগুন মরমে মরে গেলেন। একঘর ভর্তি লোকের সামনে এমন অপ্রত্যাশিত কারণে লজ্জায় মাথা হেঁটে হয়ে গেল তাঁর। অনতিকাল পরেই সমস্তটা ধুয়ে পরিষ্কার করা হল। নাতির অন্নপ্রাশন তাতে আটকালো না বটে তবে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে উঠে তিনি অন্য ঘরে চলে গেলেন। বিকেলের দিকে ডাক্তার সমস্তটা শুনে ও পরীক্ষা করে বললেন, ভারতী দেবীর ইনকন্টিনেন্স হয়েছে। আসুন জেনে নিই এই বেয়াড়া সমস্যা কি এবং কিভাবে তাকে আয়ত্বে আনা যায়।

ইনকন্টিনেন্স কি ?
ইনকন্টিনেন্স বা অনিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং বিব্রতকর সমস্যা। এটি হলে শুধুমাত্র অস্বস্তি নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। না চাইতে বা আপনা আপনিই যখন প্রস্রাব বা মলত্যাগ হয়ে যায় তখন তাকে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা বলে। এর অর্থ হল, যে পেশীগুলি প্রস্রাব আটকে রাখতে সাহায্য করে সেই পেশীগুলি দুর্বল বা অক্ষম হয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষে তিনহাজার মহিলাদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ২১.৮% মহিলাদেরই এই সমস্যা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদেরই এই সমস্যা হয় বেশি।

এর উপসর্গ কি ? 
ইনকন্টিনেন্সের প্রধান উপসর্গই হল অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ। স্থান, কালের ওপর একেবারেই নির্ভরশীল নয় এই সমস্যা।

কত রকমের হয় ?
এই অনিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক রকমের হয়। যেমন -
# স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স - হাঁচি, কাশি বা হাসার সময় এবং ব্যায়াম বা কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় মূত্রাশয়ে চাপ পড়ে, ফলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়।
# আর্জ ইনকন্টিনেন্স - হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাব পেলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়। এক্ষেত্রে সারারাত ধরেও প্রস্রাব পায়। কোনোরকম সংক্রমণ বা ডায়াবেটিস হলে সাধারণত এই সমস্যাটি হয়।
# ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স - মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি না হলে ঘন ঘন প্রস্রাব পেতে থাকে।
# ফাংশনাল ইনকন্টিনেন্স - কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে সময়মত টয়লেট যাবার আগেই প্রস্রাব হয়ে যায়।

এর কারণ কি ?
এর বিভিন্ন কারণ হতে পারে। আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস বা কোনো মেডিক্যাল বা শারীরিক সমস্যার কারণে মূলত ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# স্থূলতা
# মদ্যপান
# অতিরিক্ত ক্যাফিন
# কার্বনেটেড পানীয়
# আর্টফিসিয়াল সুইটনার
# চকোলেট
# সাইট্রাস ফল
# হার্ট এবং ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ
# ভিটামিন সিএর অতিরিক্ত ডোজ
# এছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির জন্যেও হতে পারে

শুধু এটাই নয় বেশ কিছু স্বাভাবিক কারণেও ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# গর্ভাবস্থা এবং সন্তানের জন্ম
# বয়সের সাথে সাথে মূত্রাশয়ের পরিবর্তন
# মেনোপজ
# হিস্টেরেক্টমি
# প্রস্টেটের বৃদ্ধি
# প্রস্টেট ক্যান্সার
# ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো বাধা বা
# স্নায়বিক রোগ

এর চিকিৎসা কি ?
এর চিকিৎসা বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করবে যেমন - অনিয়ন্ত্রণের ধরণ, রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য এবং তার মানসিক অবস্থা। নিম্নলিখিত কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল।

# ব্যায়াম - কেগল এক্সারসাইজ নামে কোমরের একটি ব্যায়াম আছে যা নিয়মিত করলে সুফল পাওয়া     যায়।
# মূত্রের বেগ নিয়ন্ত্রণ - মূত্রত্যাগের সময় একটু দেরি করে টয়লেট গেলে ভালো হয়। একটা নির্দিষ্ট           সময়ের পর পর টয়লেট গেলে উপকার পাবেন।
# ওষুধ - বেশ কিছু ওষুধ আছে যেমন - এন্টিকোলিনার্জিক, টপিক্যাল ইস্ট্রোজেন, ইমিপ্রামিন ইত্যাদি।     তবে বলাই বাহুল্য যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
# সার্জারি - বাকি পন্থায় কাজ না হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই ভালো।
   *স্লিঙ পদ্ধতি - মূত্রাশয়ের নিচে একটি জাল বা মেশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ মূত্রত্যাগের             সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
   *কল্পসাস্পেনশন - মুত্রাশয়টিকে একটু তুলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স থেকে রেহাই        পাওয়া যায়।
   *আর্টিফিশিয়াল স্ফিঙ্কটার - একটি কৃত্তিম ভাল্ভ মূত্রনালীর ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর দরুন           প্রস্রাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
# এছাড়া ইউরিনারি ক্যাথিটার বা এবসরবেন্ট প্যাড দিয়েও সাময়িক নিরাময় হয়। তবে এতে                     সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। 
# কিছু মেডিক্যাল যন্ত্র রয়েছে যার দ্বারাও চিকিৎসা করা যায়। যেমন - ইউরিথ্রাল ইন্সার্ট এবং পেসারি।     রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপি, বোটক্স, বাল্কিং এজেন্ট এবং সেক্র্যাল নার্ভ স্টিমুলেটর ব্যবহার করেও       প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সুতরাং ভারতী দেবীর মতো আপনারও যদি ইনকন্টিনেন্স হয়ে থাকে এবং উপরোক্ত ঘটনার মতো কোনোরকম বিপদের মধ্যে না জড়াতে চান তাহলে আর কালক্ষেপ না করে জলদি একজন ইউরোলোজিস্ট বা কোনো হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে দেখিয়ে নিন। মনে রাখবেন আপনার সম্মান কিন্তু আপনারই হাতে।


#incontinence #bengalimedicalarticle #womenproblems #AsPrecribed #GenesisHospitalKolkata

Saturday, 24 February 2018

দুরন্ত এক্সপ্রেস #





গৃহবধূ রণিতা বসু ঘুম ভেঙে আঁতকে উঠলেন। বিছানায় বাবলু নেই তার পাশে। এঘর ওঘর খুঁজে কোত্থাও না পেয়ে শেষটায় বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলেন তার আদরের বাবলু বাগানের মাটি খুঁড়ে একাকার করেছে। রাগের বশে একছুটে তিনি দুম করে এক কিল বসিয়ে দিলেন বাবলুর পিঠে। চার বছরের বাবলু সে কিলের তোয়াক্কা না করে দৌড়ে গিয়ে একপাশে ঝোলানো দোলনার চেন ধরে অবলীলায় হনুমানের মতো দোল খেতে লাগলো। রণিতা সেখানেও তাকে তাড়া করায় সে কলা দেখিয়ে সেখান থেকেও পালালো। তারপর রান্নাঘরে ঢুকে একটা স্টিলের থালা আর হাতা নিয়ে মনের সুখে বাজনা বাজাতে শুরু করল। বাগানের মধ্যেই রণিতা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। সংসারের সমস্ত কাজ সামলালেও তার আদরের বাবলুকে তিনি কিছুতেই যেন সামলে উঠতে পারছেন না। বাবলু চরম দুরন্ত হয়েছে, আর চার পাঁচটা ছেলে মেয়েদের থাকে বড্ড আলাদা। কারোর কোনো কথা তো শোনেই না উল্টে সর্বক্ষণই যেন এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো এদিক থেকে ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। শেষটায় একদিন স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করলেন একজন মনোবিদের সাথে। সমস্তটা দেখে তিনি বললেন বাবলুর এডিএইচডি (ADHD) অর্থাৎ এটেনশন ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসর্ডার আছে।এডিএইচডি কি এবং কেন হয় জানার আগে ছোট্ট করে দেখে নিন একটা পরিসংখ্যান। 

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রাথমিক স্কুল শিশুদের মধ্যে এডিএইচডির প্রভাব রয়েছে  প্রায় ১১.৩২ % । আরও জানা গেছে যে তুলনামূলক ভাবে নারী শিশুদের (৩৩.৩%) থেকে পুরুষ শিশুদের (৬৬.৭%) ক্ষেত্রেই বেশি এডিএইচডি হয়। পড়লে আশ্চর্য হবেন, নিম্ন আর্থ - সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব প্রায় ১৬.৩৩ % এবং মধ্য আর্থ - সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব ৬.৮৪% ।  এডিএইচডি হবার কারণ কি ?

কারণ 
এডিএইচডি হবার সঠিক কারণ এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যায় নি। তবে চিকিৎসক এবং গবেষকরা কয়েকটি নিম্নলিখিত কারণ বলছেন।  

# একটি এডিএইচডি শিশুর মস্তিস্ক সাধারণ শিশুর মস্তিষ্কের থেকে ৫% ছোট হয়। বিশেষ করে সেই সমস্ত জায়গাগুলি যেগুলি মনোযোগ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত। নিউরোট্রান্সমিটার নরএপিনেফ্রিন এবং ডোপামিনের অসামঞ্জস্য - এক্ষেত্রে একটি কারণ হতে পারে।

# মস্তিষ্কে রাসায়নিক, কাঠামোগত বা সংযোগের পার্থক্য হলে এডিএইচডি হয়। বেশীরভাগটাই জিনগত কারণে।

# এছাড়া গর্ভাবস্থায় ড্রাগের ব্যবহার বা মদ্যপান করলেও এডিএইচডি হতে পারে।

বৈশিষ্ট 
এডিএইচডির প্রধান বৈশিষ্টগুলি হল -
# অমনোযোগ - পড়াশোনার সময় অধ্যাবসায়ের অভাব ভীষণ ভাবে লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত শিশুটি একেবারেই মনোযোগী হয় না এবং সুষ্ঠভাবে কোনো কাজই করে উঠতে পারে না। তবে মনে রাখতে হবে এর অর্থ কিন্তু শিশুটি অবাধ্য বা তার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, এমনটা কিন্তু নয়।

# অতিচাঞ্চল্য - মাত্রাতিরিক্ত চঞ্চলতার ফলে শিশুটিকে একজায়গায় বসিয়ে রাখা সম্ভব হয় না কিছুতেই। এর ফলে অনেকসময়ই প্রতিকুল পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে। সাধারণত এরা একটানা কোনো একটা কাজ করতে থাকে বা অনর্গল কথা বলতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে  অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা যায়।

# অতিআবেগপ্রবণ - এরা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়। কোনো রকম জটিলতা বা ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই কোনো কাজ করে ফেলাটা এদের অন্যতম লক্ষণ। "উঠল বাই তো কটক যাই" - এই প্রবাদটা এদের ক্ষেত্রেই বোধহয় বেশি করে খাটে।

উপসর্গ 
অমনোযোগীর ক্ষেত্রে 

# স্কুলের কাজে বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল করা

# কোনো লেকচার বা আলোচনার সময় অমনোযোগী হওয়া, এছাড়া পড়ার সময় বারে বারে মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলা

# কারোর কথা না শোনা এবং স্কুল, বাড়ি বা অফিসের কাজ সময়মত শেষ করতে না পারা

# সংগঠিত ভাবে কাজ করায় সমস্যা, যেমন কোন কাজটা আগে বা পরে করা জরুরি, স্কুলে বা কাজের ক্ষেত্রে ডেডলাইন মিট করতে ব্যর্থ হওয়া।

# জিনিসপত্র এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা

# জরুরী কাজে অনীহা, যেমন হোমওয়ার্ক না করতে চাওয়া।  প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অফিসের জরুরি কাজগুলি নিয়মিত এড়িয়ে যাওয়া

# মাঝেমাঝেই নিজের জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা

# উদ্ভট চিন্তাভাবনায় মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলা

# প্রতিদিনের কাজ প্রায়ই ভুলে যাওয়া

অতিচাঞ্চল্য বা অতিআবেগপ্রবণতার ক্ষেত্রে 

# সারাক্ষণ উসখুস করা

# হঠাৎ করে নিজের সিট্ থেকে উঠে পড়া

# অনুপযুক্ত পরিস্থিতিতে সহজেই জড়িয়ে পড়া

# সর্বক্ষণ ছটফট করা বা একটা অস্থির ভাব থাকা

# অনর্গল কথা বলে যাওয়া

# প্রশ্ন শেষ হবার আগেই উত্তর দেওয়া, কোনো একটা আলোচনার মধ্যে হঠাৎ করে কথা বলে ওঠা

# অন্যের কাজে বাধা দেওয়া, ইত্যাদি

চিকিৎসা
এডিএইচডি একেবারে সেরে যাবে এমন কোনো ওষুধ বা পদ্ধতি এখনো অবধি বেরোয়নি। তবে বিশেষ চিকিৎসার দ্বারা এর উপসর্গগুলি কমানো যেতে পারে এবং কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা উন্নতি লাভ করা যেতে পারে। যেমন - 

# ওষুধ - বেশ কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের সাহায্যে অতিচাঞ্চল্য এবং আবেগপ্রবণতা  কমানো সম্ভব। এর ফলে কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যায়। এডিএইচডির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রচলিত ওষুধ হল 'স্টিমুল্যান্ট'। এই ওষুধটি মস্তিষ্কে নরএপিনেফ্রিন এবং ডোপামিন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে। চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

# সাইকোথেরাপি - বিহেভিওরাল থেরাপি দ্বারা একজন শিশুর ব্যবহার বা তার কাজের প্রতি মনোভাব বদলানো সম্ভব। এর মাধ্যমে সামাজিক দক্ষতা, অন্যের প্রতি ব্যবহার বা মনোভাবের যথেষ্ট উন্নতি হয়।এছাড়া ফ্যামিলি এন্ড ম্যারিটাল থেরাপির দ্বারা স্বামী, স্ত্রী বা পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি সাধন করা যায়। 

# শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ - পেরেন্টিং স্কিল ট্রেনিং এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিকের মাধ্যমে বাবা মায়েদের শেখানো হয় কিভাবে একজন এডিএইচডি শিশুকে সামলানো উচিত। পরিস্থিতি বিচারে শিশুটিকে যেমন পুরস্কৃত করতে হবে আবার সময়বিশেষে কঠোরও হতে হবে। আবার জটিল পরিস্থিতিতে কিভাবে নিজেদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে শিশুটিকে সামলানো উচিৎ তারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া সাপোর্ট গ্রূপের সাহায্যে শিশুদের বাবা মায়েরা একে অন্যের সাথে সমস্যার কথা আলোচনা করতে পারেন এবং কি কি ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে তারও একটা সম্যক ধারণা তৈরী করতে পারেন। এতেও যথেষ্ট সুফল পাওয়া যায়।

# মিরাক্যালস এবং টার্নিং পয়েন্ট নামে দুটি সংস্থা আছে যাঁরা কলকাতায় এডিএইচডি শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। যথাক্রমে ওয়েবসাইট হল - http://www.miraclespecialschool.com/contact-us.html . এবং http://www.turningpoint.org.in/disha.asp. এছাড়া ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স, পার্ক স্ট্রিট - এ এই শিশুদের চিকিৎসা করা হয়।

সুতরাং ধৈর্য ধরে রাখাটাই কিন্তু এক্ষেত্রে সবথেকে জরুরী। নিয়মিত শিশুটিকে সময় দিতে হবে এবং তার সমস্ত ব্যবহার বা কাজের দিকে মনোযোগ দিয়ে তার মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করতে হবে। মাথা গরম করে দু চার ঘা দিয়ে ফেললে কিন্তু শিশু এবং তার বাবা মা, দুজনেরই লোকসান বই লাভ কিছু হবে না। বরং দিনে অন্তত কিছুটা সময় বাইরে নিয়ে গিয়ে খোলা মাঠে খেলতে দিন। ঘুমোনোর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন এবং ঘুমোনোর বেশ কিছুটা আগে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনমত স্কুল থেকে আপনার সন্তানের রিপোর্ট চেক করুন। লক্ষ্য রাখুন কমপ্লেন খুব বেশি আসছে কিনা। সেক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে বসে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বার করুন। বলাই বাহুল্য আপনার শিশুটিকে সঠিক ভাবে পথ দেখানো কিন্তু আপনারই দায়িত্ব, এটা ভুলে গেলে কিন্তু বড় রকমের গাড্ডায় পড়তে হবে। #ADHD #attentiondeficithyperactivitydisorder #medicalarticle #learningdisabilities #learningdisorder #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed

Tuesday, 13 February 2018

তারাদের কথা


যে বিষয়ে নিয়ে একটা গোটা হিন্দী ছবি তৈরী হয়েছে, সেই বিষয়ের নাম আমাদের প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু শুধু জেনে রাখলেই কাজ শেষ হয় না, বরং সেখান থেকেই শুরু । ছবিতে ঈশান অবস্তির করুণ সময়ের কথা ভাবলেই আমাদের বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে। 'তুঝে সব হ্যায় পাতা....মেরি মা' এই গান শুনলে আজও চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে, একথা সত্যি, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ব্যাস ! ওই পর্যন্তই। পরবর্তী সময়ের সংগ্রাম ও নিরলস পরিশ্রমের কথা আমরা ভাবতেও পারি না, তার কারণ আমরা একটা গল্প তৈরী হতে দেখেছি, চেষ্টা করেছি সে গল্পের সাথে বাঁচতে কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করিনি। আমাদের বাড়িতে যদি এমনই একজন ডিস্লেক্সিক শিশু থাকত তাহলে কিন্তু সমস্যাটা আর রুপালি পর্দার মোড়কে বন্দী হয়ে থাকত না। দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব বোধহয় পাহাড়ের থেকেও ভারী মনে হত তখন। কঠিন হলেও এমন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কি কি উপায় আছে আসুন একটু দেখে নিই।     

ডিস্লেক্সিয়া কি ?
ডিস্লেক্সিক একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ হল শব্দের সমস্যা। এর নানা রকম সংজ্ঞা থাকতে পারে, তবে  সহজ ভাষায় ডিস্লেক্সিয়া হল একপ্রকার অক্ষমতা যার দরুন পড়তে, লিখতে বা বুঝতে সমস্যা হয়। জেনে রাখা ভালো যে এই সমস্যাটি কিন্তু সম্পূর্ণ ভাষাগত এবং এর সাথে বুদ্ধিমত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং বাড়িতে যদি ডিস্লেক্সিক শিশু থাকে তাহলে তার মেধা নিয়ে আশঙ্কিত হবার কোনো প্রয়োজন নেই। দেখা গেছে শিশুরা ডিস্লেক্সিক হলেও অন্যান্য বিষয়ে তারা বেশ প্রতিভাশালী হয়। এমন চমকপ্রদ উদাহরণ বহু আছে। তবে তার আগে জেনে নিই ঠিক কি কারণে ডিস্লেক্সিয়া হয়। 

কি কারণ ?
ডিস্লেক্সিয়া এসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া শিশুরা কোনো না কোনো ভাবে ডিস্লেক্সিয়ায় আক্রান্ত। আমাদের দেশের বহুভাষার সমস্যাও কিন্তু এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সাধারণত ডিস্লেক্সিয়ার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা যায় নি, তবু কিছু তথ্যের ফলে একটা সম্যক ধারণা তৈরী করা যায়। যেমন - আমরা জানি যে একজন বাঁহাতির ক্ষেত্রে ডানদিকের মস্তিস্ক বেশি সক্রিয় এবং একজন ডানহাতির ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বাঁদিক। কিন্তু একজন ডিস্লেক্সিকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোন দিকটি বেশি সক্রিয় তা নিয়ে বিভ্রান্তির ফলে তথ্যের সরলীকরণে সমস্যা হয়। এছাড়া জিনগত বা পরিবেশগত কারণেও ডিস্লেক্সিয়া হতে পারে। তাহলে কিভাবে বুঝবেন একটি শিশু ডিস্লেক্সিক ? আসুন জেনে নিই। 

উপসর্গ কি ?
# পড়বার সময়ে সমস্যা  
# ডিস্লেক্সিক শিশুদের তুলনামূলক ভাবে সাধারণ কাজে দেরি হয় বেশি - যেমন হাঁটাচলা, কথা বলা, সাইকেল চড়া ইত্যাদি 
# ভুল উচ্চারণ করা, ছড়া বলায় সমস্যা এবং শব্দের তফাৎ করতে না পারা 
# অক্ষর ও তার উচ্চারণে বিলম্ব হওয়া, রঙ চিনতে সমস্যা হওয়া বা গণিতে অসুবিধা 
# সাধারণ খেলাধুলায় সমস্যা 
# ডানদিক - বাঁদিক গুলিয়ে ফেলা 
# অক্ষর বা সংখ্যা উল্টো করে লেখা এবং বানানে সমস্যা 
# কোনো কাজে মনোযোগী না হওয়া
# ডিস্লেক্সিক শিশুরা এমনভাবে পরপর তাদের ভাবনাগুলিকে ব্যক্ত করে যা অযৌক্তিক বা অপ্রয়োজনীয়ও মনে হতে পারে
# এছাড়া এজমা, এক্জিমা বা অন্য ধরণের এলার্জিও হয়ে থাকে ডিস্লেক্সিক শিশুদের 

এ সমস্যার সমাধান কি ?
এই ধরণের সমস্যা অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। বরং বাবা মায়েদের আরেকটু বেশি যত্নবান হতে হবে, তাহলেই সমস্যাগুলি সহজে ধরা পড়বে।

# প্রথমেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে শুরু করুন। তাহলে শিশুটির পক্ষে সমস্ত কিছু বুঝতে অনেকটাই সহজ হবে। কোনোভাবেই ধৈর্য হারানো চলবে না।  

# ডিস্লেক্সিক শিশুদের সাধারণত জানার ইচ্ছে প্রবল হয়। যুক্তিসম্মত উত্তর পেলে শিখতে দেরি হয় না তাদের। লেখার ওপর জোর দিন বেশি, শুধুমাত্র কানে শুনে শিখে ফেলা কঠিন কিন্তু। 

# বিজ্ঞানের বিষয়গুলি টেবিল বা চার্টের মাধ্যমে বোঝান। এতে সহজ হবে অনেকটাই।

# অডিও ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে বেশ সুফল পাওয়া যায়। যে কোনো বিষয় চিত্রের মাধ্যমে বোঝালে মনে রাখতে সুবিধে হবে। 

#  বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিন। যেমন - একটা প্যারাগ্রাফ পড়ানোর পর বিভিন্ন ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশ্ন করুন। এতে ভালো কাজ দেয়। 
# ফ্ল্যাশ কার্ডের সাহায্যে শেখালে ভালো হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরপর পুনরায় চেষ্টা করুন। 

# বস্তুর আকৃতি ও আয়তন সঠিক ভাবে বুঝিয়ে দিন। যেমন - বৃত্ত ও গোলকের তফাৎ বুঝিয়ে দিন সুনির্দিষ্ট ভাবে। জ্যামিতিক আকারগুলি ভালো করে বোঝানো প্রয়োজন। 

# নিয়মিত যোগাসন মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের অভ্যেস করান, সুফল পাবেন।

# স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের সাথে আলোচনা করে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে এই বিষয়ের ওপর সেমিনার করতে পারেন। এতে দু পক্ষই উপকৃত হবে।

# ডিস্লেক্সিক শিশুদের চিহ্নিত করার কিছু টেস্ট আছে। এই লিংকটি ক্লিক করে জেনে নিন আপনার বা আপনার পরিচিত কোনো শিশু ডিস্লেক্সিক নয়তো ! https://www.lexercise.com/tests/dyslexia-test
উপরন্তু কলকাতার বুকে একটি সংস্থা আছে যাঁরা ডিস্লেক্সিক শিশুদের অত্যন্ত যত্ন নিয়ে শেখান। তাঁদের ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হল -  http://www.breakingthroughdyslexia.com/index.php
এছাড়া কলকাতায় এমন অনেক স্কুল আছে যেখানে অন্যান্য শিশুদের সাথেই ডিস্লেক্সিক শিশুদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। 

ঈশান অবস্তি গল্পের চরিত্র হলেও বাস্তবিক এমন অনেকেই আছেন যাঁরা ডিস্লেক্সিক হয়েও পরবর্তী জীবনে সাফল্যের উচ্চতায় পৌঁছেছেন। উদাহরণস্বরূপ যাঁদের নাম বলছি তাঁরা অতীব জনপ্রিয় শুধু নন, স্ববিভাগে নির্দিষ্ট ছাপ রেখে গেছেন। তাঁরা দেখিয়ে গেছেন প্রতিভা গোপন থাকে না, সঠিক সময় নিজ গুণবলে নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাঁরা হলেন - এলবার্ট আইনস্টাইন, পাবলো পিকাসো, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, জর্জ ওয়াশিংটন, জন এফ কেনেডি, ওয়াল্ট ডিজনি, জন লেনন, রিচার্ড ব্র্যানসন, স্টিভেন স্পিলবার্গ, টম ক্রুজ, জিম ক্যারি এবং আরও অনেক বিখ্যাতরা যাঁদের নাম বলতে গেলে এই লেখা হয়ত কোনোদিন শেষ হবে না। 

সুতরাং আপনার বাড়িতে যদি একজন ডিস্লেক্সিক শিশু থাকে তাহলে ভেঙে না পড়ে তার প্রতিভার দিকে নজর দিন। কে জানে হয়ত কোনো একদিন তারই কৃতিত্বে আপনি গর্বিত হবেন। আপনার মতো করে নয়, ওদের চোখ দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে শিখুন, কতকটা ওদের মতো করেই বাঁচুন, এ পৃথিবী অনেক নিষ্পাপ ও আলোকজ্জ্বল মনে হবে, আমি একশোভাগ নিশ্চিত।

#Dyslexia #DyslexiaAssociationofIndia #Learningdisability #Learningdisorder #Medicalarticle #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed 

Friday, 2 February 2018

সব মহিলাদের বলছি !



কিছু কিছু বিষয় প্রায় অধিকাংশ সময় পর্দার আড়ালে বা মাদুরের নিচে চাপা পড়ে থাকে। ধুলো ঝাড়ার মতো করে ঝেড়ে নিয়ে তাকে সর্বসমক্ষে নিয়ে আসার দুঃসাহস আমরা সচরাচর দেখাতে পছন্দ করি না। বিশেষ করে সে বিষয় যদি মহিলা কেন্দ্রিক হয় তাহলে তো আলোচনা করা দূর, সে প্রসঙ্গের ছায়া পর্যন্ত মাড়াই না। অথচ যখন বিপদে পড়ি তখন কিন্তু ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে  চলতে ঠিক ডাক্তারের কাছে উপস্থিত হয়ে সমস্তটা খোলসা করে বলি। তেমনই একটা বিষয় হল মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ। 

তবে এ সমস্যা আজকের নয়। জানলে হাঁ হয়ে যাবেন, ১৮০০ শতাব্দীতে কিছু পাশ্চাত্য দেশে  মহিলাদের মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ হলে বলা হত, তাদের 'মৃত্যুর দরজা' বা 'gateway to death' উন্মুক্ত হল। মেনোপজ আটকাতে গিনিপিগের ডিম্বাশয় থেকে জ্যুস বানিয়ে খেতেও দ্বিধা বোধ করতেন না সেই সময়ের মহিলারা। অবশ্য ভারতবর্ষে এমন কোনো ঘটনা ঘটত কিনা সেটা জানা নেই। তবে রক্ষণশীল দেশ হিসেবে এই বিষয়ে যে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করা যেত না সে ব্যাপারে আমরা একশোভাগ নিশ্চিত। বর্তমান যুগে সে সমস্যা খানিক মিটেছে বটে কিন্তু এহেন মোক্ষম বিষয় গোপন রাখতে আমরা কিন্তু এখনো ভালোবাসি। অনেকেরই হয়ত জানা নেই যে এই ধরণের বিষয়গুলি সঠিক জানা না থাকলে পরবর্তীকালে জটিল হবার সম্ভাবনা থাকে দ্বিগুন। তারচেয়ে আসুন সমস্যাগুলি  রাখঢাক না করে খোলাখুলি আলোচনা করে নিই। 


মেনোপজ কি ?
মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ এমন একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মহিলার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়। মহিলাদের জীবনে এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা এবং জেনে রাখা ভালো যে এটি কিন্তু কোনোরকম রোগ বা ব্যাধি নয়। টানা বারো মাস যদি ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে তাহলে বলা হয় সেই মহিলার ঋতুবন্ধ হয়েছে। সাধারণত ৫০ বছর বয়েসের পরেই ঋতুবন্ধ হয়ে থাকে তবে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়েসের যে কোনো সময়ের মধ্যেও এটা ঘটতে পারে। 

মেনোপজ হওয়ার কারণ
# বয়স বাড়ার সাথে সাথে অর্থাৎ ৪০ এর কোঠায় ঢোকার মুহূর্তে একজন মহিলার শরীরে প্রজনন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। কারণ, ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের  উৎপাদন অনেকটাই হ্রাস পায় । যার ফলে মাসিকের সময়কালে হেরফের ঘটে এবং ৫০ বা ৫১ বছর বয়েসের পরই তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।  

# হিস্টেরেক্টমি এবং বাইল্যাটারাল উফরেক্টমির মাধ্যমে যদি জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাৎক্ষণিক ঋতুবন্ধ হবে। স্বাভাবিকভাবে মাসিকও বন্ধ হয়ে যাবে এবং ঋতুবন্ধের উপসর্গগুলিও দেখা দেবে।  

# কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপিও ঋতুবন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে সর্বক্ষেত্রে থেরাপির পর একেবারে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় না।

# প্রাথমিক অপর্যাপ্ত ডিম্বাশয় - দেখা গেছে প্রায় এক শতাংশ মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়েসের আগেই ঋতুবন্ধ ঘটে। একে অকাল ঋতুবন্ধ বা প্রিমাচিওর মেনোপজ  বলা হয়। এর কারণ হল ডিম্বাশয়ের মধ্যে উপযুক্ত পরিমানে প্রজনন হরমোন তৈরী না হওয়া। সাধারণত এর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি তবে চিকিৎসকদের মতে এক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি করিয়ে নেওয়াটা ভীষণ  জরুরি, এতে মস্তিস্ক, হৃদয় এবং হাড় সুরক্ষিত থাকে।

উপসর্গ 
ঋতুবন্ধ হওয়ার আগে অর্থাৎ পেরিমেনোপজের মুহূর্তগুলিতে বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যদিও সমস্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে একইরকম হবে এমনটা নয় তবু সাধারণত যে উপসর্গগুলি দেখা যায় তা হল - 

# অনিয়মিত মাসিক - হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়ে আবার কয়েক মাস বাদে শুরু হতে পারে 
# যোনিতে শুষ্ক ভাব 
# হট ফ্ল্যাশ - শরীরের উপরিভাগে অর্থাৎ মুখ, গলা বা বুকের অংশে গরম ভাব 
# নাইট সোয়েট - রাত্রে ঘুমোবার সময় হট ফ্ল্যাশ হওয়া
# ঘুমোনোয় সমস্যা 
# মেজাজে পরিবর্তন 
# ওজন বৃদ্ধি এবং হজমে সমস্যা 
# পাতলা চুল, শুষ্ক ত্মক এবং 
# স্তন সংকোচন হওয়া 

জটিলতা 
তবে এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হল, তা পড়ে অনেকেই হয়ত নাক সিঁটকোচ্ছেন আর ভাবছেন, ধুস ! এ আর নতুন কি ? এর অধিকাংশই তো জানা এবং সিলেবাসের মধ্যেই। তাহলে আপনাদের বলি যে অতটাও উদাসীন হবেন না। কারণ কিছু কিছু বিষয় আছে যা সিলেবাসের বাইরে এবং যথেষ্ট বেগ দিতে পারে এই সময়টায়। ঋতুবন্ধের কারণে বেশ কিছু জটিলতা তৈরী হয় এবং সময় বিশেষে তা মারাত্মক হতে পারে যদি না আগের থেকেই সাবধান হওয়া যায়। যেমন - 

# হৃদরোগ - ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে হৃদরোগের সমস্যা তৈরী হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। 

# অষ্টিওপোরোসিস -  ঋতুবন্ধের প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব কমে আসে। এর ফলে অষ্টিওপোরোসিস হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। 

# প্রস্রাবে অসংযম - ঋতুবন্ধের কারণে যোনি এবং মূত্রনালীর টিস্যুর ক্ষমতা কমে আসে। এর ফলে যখন তখন প্রস্রাব পাবার সম্ভাবনা তৈরী হয়। কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃত ভাবেও প্রস্রাব হয়ে যায়। বিশেষ করে, হাঁচি, কাশি বা অত্যধিক হাসলেও এমনটা হতে পারে। 

# স্তনের ক্যান্সার - ঋতুবন্ধের পর এই রোগ হতে পারে। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ঝুঁকি কম থাকে। 

# যৌনতা হ্রাস - শুষ্ক যোনির কারণে যৌনমিলনে অস্বস্তি বা সামান্য রক্তপাত হতে পারে। যার ফলে যৌনমিলনে প্রবল অনিচ্ছা তৈরী হতে পারে। এক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার বা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। 

# ওজন বৃদ্ধি - ঋতুবন্ধের পর, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের ওজন বেড়ে যায় তার কারণ এই সময় পাকপ্রক্রিয়া ধীরগতির হয়। সেক্ষেত্রে একটু কম পরিমাণে খেতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে যাতে ওজনটা একই থাকে।

চিকিৎসা 
ঋতুবন্ধে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে যদি কোনো উপসর্গে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে একজন দক্ষ চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া নিম্নলিখিত কিছু পদ্ধতি আপনাকে স্বস্তি দিতে পারে।  

# হরমোন থেরাপি - হট ফ্ল্যাশ উপশমের জন্য ইস্ট্রোজেন থেরাপির বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা আছে। যদি জরায়ু থাকে তাহলে ইস্ট্রোজেনের সাথে প্রোজেস্টিনেরও প্রয়োজন আছে। ইস্ট্রোজেন হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। তবে পুরোটাই নির্ভর করবে একজন মহিলার শারীরিক অবস্থা বা তার চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর।

# ভ্যাজাইনাল ইস্ট্রোজেন - এটি একটি ক্রীম, ট্যাবলেট বা রিঙের সাহায্যে যোনির শুষ্ক ভাব বা অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। এতে মূত্র সম্পর্কিত বাকি উপসর্গগুলি থেকেও উপশম ঘটে। 

# লো ডোজ এন্টিডিপ্রেস্যান্ট - হট ফ্ল্যাশ বা মেজাজ পরিবর্তনে এই এন্টিডিপ্রেস্যান্ট থেকে সুফল পাওয়া যায়। 

# গাবাপেন্টিন (নিউরোন্টিন, গ্রেলাইজ এবং অন্যান্য) - যারা ইস্ট্রোজেন থেরাপি নিতে পারেন না এবং রাতের পর রাত হট ফ্যাশের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য এই ওষুধ বেশ স্বস্তিদায়ক।  

# ক্লোনিডিন - উচ্চ রক্তচাপ বা হট ফ্ল্যাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এই ওষুধ। 

#  অষ্টিওপোরোসিসের ওষুধ - এই ক্ষেত্রে একজন দক্ষ অর্থোপেডিকের পরামর্শ খুব জরুরি। এছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টে নিলেও হাড় শক্ত হবে। 

ঋতুবন্ধ অত্যন্ত সহজ সাধারণ হলেও এর উপসর্গ বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক সময়ই চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। এসমস্ত ক্ষেত্রে অবস্থা জটিলতর হলে ঝঞ্ঝাটের শেষ থাকে না। যদিও এই অবস্থা বাস্তবে এড়ানো সম্ভব নয় তবু এর উপসর্গ থেকে অন্তত কিছুটা হলেও উপশম পাওয়া যায়, যদি উপরোক্ত বিষয়ের ওপর মনোযোগী হন তবেই। তাই আপনার বয়স যদি ৪০ পেরিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে বলব নিজের শরীরের প্রতি আরেকটু যত্ন নিন। কালের গর্ভে কি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য আমরা কেউই জানি না। তার চেয়ে আগের থেকেই সাবধান হই বরং, কি বলেন ? 

#medicalarticle #healtharticle #menopause #hotflash #nightsweat #oldageproblems #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed