Showing posts with label ইউরোলজি. Show all posts
Showing posts with label ইউরোলজি. Show all posts

Saturday, 8 June 2019

প্রস্রাবে রংবদল ! রক্তপাত নয় তো ?


মানুষের জীবনে রঙের ভূমিকা আছে প্রচুর । আর সময়ের সাথে সাথে দৈনিক জীবনের গতিতে সে রঙের পরিবর্তনও আসে । পরিবর্তন হয় ঋতুর, পরিবর্তন হয় আকাশের, এমনকি কালের ফেরে রাজনৈতিক রঙেও ঘটে যায় অদলবদল। তবে সেসব চিন্তার বিষয় নয় খুব একটা। সকালবেলায় আধোঘুম চোখে প্রকৃতির ডাকে টয়লেটে গিয়ে যদি দেখেন আপনার শরীর থেকে নিষ্কৃত জলোচ্ছাসের রঙে বদল দেখা দিয়েছে তাহলে ঘুম আপনার উড়ে যেতে বাধ্য । হলুদ হলে তাও একরকম কিন্তু তা যদি লাল বা গাঢ় বাদামি হয় এবং তার সাথে যদি সামান্য ব্যাথা অনুভব করেন তাহলে জেনে রাখুন আপনার শিরে নয়, রেচকে সংক্রান্তি । তাই বলে ঘাবড়ে গিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে নিজের ও বাকিদের রক্তচাপ বাড়াবেন না যেন । বরং ঠান্ডা মাথায় নিচের লেখাটা পড়ে নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন ।   

প্রস্রাবের সাথে রক্তপাতের অর্থ হল আপনার কিডনিতে কোনোরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে অথবা মূত্রনালীতে কোনো সংক্রমণ বা সমস্যা হয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেই রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই রোগের নাম হিমাটুরিয়া। হিমাটুরিয়া সাধারণত দু ধরণের হয় -

# যদি প্রস্রাবে রক্তপাত দেখা যায় তাহলে তাকে বলে গ্রস হিমাটুরিয়া
# খালি চোখে যদি না দেখা যায় অথচ মাইক্রোস্কোপের তলায় রক্তের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে বলে মাইক্রোস্কোপিক হিমাটুরিয়া। 

কোন বয়েসে হয় ? 
হিমাটুরিয়া যে কোনো বয়েসে যে কোনো মানুষের হতে পারে। তবে আপনি যদি নিম্নলিখিত তালিকার মধ্যে পড়েন তাহলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। যেমন -

# যদি পারিবারিক কিডনির সমস্যা থাকে
# প্রস্টেট গ্ল্যান্ড যদি বড় হয়ে গিয়ে থাকে (পুরুষদের ক্ষেত্রে )
# অতীতে যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে
# যদি ব্যাথার ওষুধ, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা কোনো বিশেষ এন্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন
# যদি শ্রমসাধ্য ব্যায়ামের অভ্যাস থাকে অথবা
# সম্প্রতি কোনো ইনফেকশন হয়ে থাকে বা আছে, তাহলে হিমাটুরিয়া হতেই পারে। 

তবে প্রথম থেকেই ভয়ে পাথর হয়ে যাবেন না। কারণ প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত হচ্ছে মানেই যে কিডনির সমস্যা আছে তা কিন্তু নয়। হিমাটুরিয়া হওয়ার কিছু অন্যরকম কারণ চিহ্নিত করা গেছে যেগুলো জেনে রাখা অতি আবশ্যক। 

কি কারণ হতে পারে ?
# পিরিয়ড বা মাসিক
# ভাইরাস জনিত কারণ 
# কোনো আঘাত লাগা
# মূত্রনালীতে সংক্রমণ ইত্যাদি
এছাড়াও জানিয়ে রাখি যে কিছু অতিগম্ভীর কারণও আছে যা অনায়াসেই আপনার কপালে ভাঁজ ফেলে দিতে পারে। যেমন -
# কিডনি বা মূত্রথলির ক্যান্সার
# কিডনি, প্রস্টেট বা মূত্রনালির কোনো অংশ   ফুলে যাওয়া
# পলিসিস্টিক কিডনি অর্থাৎ কিডনির ভিতর ছোট ছোট টিউমার বা সিস্ট হওয়া
# এমন কোনো রোগ যাতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে এবং  
# সিক্ল সেল ডিজিজ

কি করে বুঝবেন বা উপসর্গ কি ?
যদি মাইক্রোস্কোপিক হিমাটুরিয়া হয়ে থাকে তাহলে হয়ত কোনোরকম উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে যদি গ্রস হিমাটুরিয়া হয়ে থাকে তাহলে প্রস্রাবের রং লাল, বাদামি বা গোলাপি হওয়ার বেশ সম্ভাবনা আছে। সুতরাং একটু খেয়াল রাখবেন প্রস্রাবের বর্ণে কোনোরকম পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। গ্রস হিমাটুরিয়া হলে প্রস্রাবের সাথে রক্তপিণ্ডও বেরিয়ে আসতে পারে। নিঃসন্দেহে এই সমস্যা যন্ত্রণাদায়ক বটে। 

সুতরাং আপনার প্রস্রাবে এমন কিছু যদি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে সত্বর যোগাযোগ করুন একজন ইউরোলজিস্টের সাথে অথবা জেনেসিস হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে। 

কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয় ?
বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়, যেমন -
# প্রস্রাবের পরীক্ষা বা ইউরিন্যালিসিস করে শ্বেতরক্তকণিকার উপস্থিতি পাওয়া গেলে বুঝতে হবে মূত্রনালির সংক্রমণ হয়েছে।
# ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় প্রস্টাইটিস বা বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH) আছে কিনা।
# প্রস্রাবে প্রোটিন, গ্লুকোজ বা কোনো সেডিমেন্ট-এর উপস্থিতি কিডনির রোগ চিহ্নিত করে।
# সমানভাবে রক্ত পরীক্ষাও জরুরি তার কারণ রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা সেটা ধরা পড়বে।
# এছাড়া ইমেজিং, ইউরিন সাইটোলজি এবং সিস্টোস্কপি করেও বিভিন্নভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়। 



এর চিকিৎসা কি ?
প্রথমেই জেনে নিতে হবে যে প্রস্রাবে রক্তপাত হওয়ার সঠিক কারণটা কি। ধরুন আপনার যদি ইনফেকশনের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে তাহলে হয়তো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু এন্টিবায়োটিক ওষুধেই কাজ দেবে এবং আপনি আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে উপরোক্ত টেস্টের মাধ্যমে সঠিক কারণ জেনে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। তেমন হলে জেনেসিস হাস্পাতাল তো আছেই।  চিন্তা কি !

Tags : Gross Haematuria ; Microscopic Haematuria ; Urinalysis ; Blood In Urine ; Urinary Tract Infection ; Genesis Hospital Kolkata ; Prescription Theke 

Thursday, 15 March 2018

পানি, পানি রে.....


ভারতী ঘোষ, ছাপ্পান্ন বছর বয়েস, তিন কামরার ফ্ল্যাটে পুজো আচ্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। স্বামী রিটায়ার করেছেন বছর কয়েক হল। পুত্র, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে নিয়ে সচ্ছল পরিবার তাঁর। আজ বাড়িতে একটা বড় অনুষ্ঠান। তাঁর একমাত্র নাতির আজ অন্নপ্রাশন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ভর্তি লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের কোলাহলে চারিদিক মুখরিত। পুরোহিতমশাই অন্নপ্রাশনের পুজোয় বসেছেন এবং নাতির চারপাশে গোল হয়ে ঘিরে বসে আছেন বাকিরা। এমন আনন্দঘন পরিবেশে থেকে থেকেই বিভিন্ন কথায় হাসির রোল উঠছে। ভারতী দেবী প্রায় সমস্ত কথাতেই হোহো করে হেসে উঠছেন। এমন সময় আচম্কা তিনি এক ভীষণ হাসির কথায় জোর হাসতে গিয়ে একেবারে কেলেঙ্কারি করে ফেললেন। হাসতে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে তাঁর প্রিয় ঢাকাই শাড়িটিতে কলকল করে জলে ভাসিয়ে ফেললেন। এমন বেমক্কা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সবাই যত না ভ্যাবাচ্যাকা খেল, ভারতী দেবী তার দ্বিগুন মরমে মরে গেলেন। একঘর ভর্তি লোকের সামনে এমন অপ্রত্যাশিত কারণে লজ্জায় মাথা হেঁটে হয়ে গেল তাঁর। অনতিকাল পরেই সমস্তটা ধুয়ে পরিষ্কার করা হল। নাতির অন্নপ্রাশন তাতে আটকালো না বটে তবে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে উঠে তিনি অন্য ঘরে চলে গেলেন। বিকেলের দিকে ডাক্তার সমস্তটা শুনে ও পরীক্ষা করে বললেন, ভারতী দেবীর ইনকন্টিনেন্স হয়েছে। আসুন জেনে নিই এই বেয়াড়া সমস্যা কি এবং কিভাবে তাকে আয়ত্বে আনা যায়।

ইনকন্টিনেন্স কি ?
ইনকন্টিনেন্স বা অনিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং বিব্রতকর সমস্যা। এটি হলে শুধুমাত্র অস্বস্তি নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। না চাইতে বা আপনা আপনিই যখন প্রস্রাব বা মলত্যাগ হয়ে যায় তখন তাকে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা বলে। এর অর্থ হল, যে পেশীগুলি প্রস্রাব আটকে রাখতে সাহায্য করে সেই পেশীগুলি দুর্বল বা অক্ষম হয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষে তিনহাজার মহিলাদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ২১.৮% মহিলাদেরই এই সমস্যা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদেরই এই সমস্যা হয় বেশি।

এর উপসর্গ কি ? 
ইনকন্টিনেন্সের প্রধান উপসর্গই হল অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ। স্থান, কালের ওপর একেবারেই নির্ভরশীল নয় এই সমস্যা।

কত রকমের হয় ?
এই অনিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক রকমের হয়। যেমন -
# স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স - হাঁচি, কাশি বা হাসার সময় এবং ব্যায়াম বা কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় মূত্রাশয়ে চাপ পড়ে, ফলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়।
# আর্জ ইনকন্টিনেন্স - হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাব পেলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়। এক্ষেত্রে সারারাত ধরেও প্রস্রাব পায়। কোনোরকম সংক্রমণ বা ডায়াবেটিস হলে সাধারণত এই সমস্যাটি হয়।
# ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স - মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি না হলে ঘন ঘন প্রস্রাব পেতে থাকে।
# ফাংশনাল ইনকন্টিনেন্স - কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে সময়মত টয়লেট যাবার আগেই প্রস্রাব হয়ে যায়।

এর কারণ কি ?
এর বিভিন্ন কারণ হতে পারে। আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস বা কোনো মেডিক্যাল বা শারীরিক সমস্যার কারণে মূলত ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# স্থূলতা
# মদ্যপান
# অতিরিক্ত ক্যাফিন
# কার্বনেটেড পানীয়
# আর্টফিসিয়াল সুইটনার
# চকোলেট
# সাইট্রাস ফল
# হার্ট এবং ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ
# ভিটামিন সিএর অতিরিক্ত ডোজ
# এছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির জন্যেও হতে পারে

শুধু এটাই নয় বেশ কিছু স্বাভাবিক কারণেও ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# গর্ভাবস্থা এবং সন্তানের জন্ম
# বয়সের সাথে সাথে মূত্রাশয়ের পরিবর্তন
# মেনোপজ
# হিস্টেরেক্টমি
# প্রস্টেটের বৃদ্ধি
# প্রস্টেট ক্যান্সার
# ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো বাধা বা
# স্নায়বিক রোগ

এর চিকিৎসা কি ?
এর চিকিৎসা বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করবে যেমন - অনিয়ন্ত্রণের ধরণ, রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য এবং তার মানসিক অবস্থা। নিম্নলিখিত কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল।

# ব্যায়াম - কেগল এক্সারসাইজ নামে কোমরের একটি ব্যায়াম আছে যা নিয়মিত করলে সুফল পাওয়া     যায়।
# মূত্রের বেগ নিয়ন্ত্রণ - মূত্রত্যাগের সময় একটু দেরি করে টয়লেট গেলে ভালো হয়। একটা নির্দিষ্ট           সময়ের পর পর টয়লেট গেলে উপকার পাবেন।
# ওষুধ - বেশ কিছু ওষুধ আছে যেমন - এন্টিকোলিনার্জিক, টপিক্যাল ইস্ট্রোজেন, ইমিপ্রামিন ইত্যাদি।     তবে বলাই বাহুল্য যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
# সার্জারি - বাকি পন্থায় কাজ না হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই ভালো।
   *স্লিঙ পদ্ধতি - মূত্রাশয়ের নিচে একটি জাল বা মেশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ মূত্রত্যাগের             সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
   *কল্পসাস্পেনশন - মুত্রাশয়টিকে একটু তুলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স থেকে রেহাই        পাওয়া যায়।
   *আর্টিফিশিয়াল স্ফিঙ্কটার - একটি কৃত্তিম ভাল্ভ মূত্রনালীর ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর দরুন           প্রস্রাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
# এছাড়া ইউরিনারি ক্যাথিটার বা এবসরবেন্ট প্যাড দিয়েও সাময়িক নিরাময় হয়। তবে এতে                     সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। 
# কিছু মেডিক্যাল যন্ত্র রয়েছে যার দ্বারাও চিকিৎসা করা যায়। যেমন - ইউরিথ্রাল ইন্সার্ট এবং পেসারি।     রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপি, বোটক্স, বাল্কিং এজেন্ট এবং সেক্র্যাল নার্ভ স্টিমুলেটর ব্যবহার করেও       প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সুতরাং ভারতী দেবীর মতো আপনারও যদি ইনকন্টিনেন্স হয়ে থাকে এবং উপরোক্ত ঘটনার মতো কোনোরকম বিপদের মধ্যে না জড়াতে চান তাহলে আর কালক্ষেপ না করে জলদি একজন ইউরোলোজিস্ট বা কোনো হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে দেখিয়ে নিন। মনে রাখবেন আপনার সম্মান কিন্তু আপনারই হাতে।


#incontinence #bengalimedicalarticle #womenproblems #AsPrecribed #GenesisHospitalKolkata

Monday, 6 November 2017

৮০তে আসিও না


'বার্লি খেলে কি আর যৌবন ফিরে পাব' ?.......
ভানু বন্দোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত ছবির কথা মনে আছে নিশ্চই ? বার্ধক্যের অমাবস্যা ছেড়ে পুকুর ভর্তি যৌবনের পূর্ণ চন্দ্রিমার লালসায় যে কি কি অলীক কাণ্ড ঘটতে পারে তা তিনি এই ছবিতে সুচারুরূপে বুঝিয়ে গেছেন। তবে কিনা ছায়াছবির গল্পকথায় হৃদয় গলে বটে, তবে বাস্তবের ফাঁক গলে আসল প্রতিচ্ছবিটা আমাদের প্রায়শই বেদনার কারণ হয়ে ওঠে। মন চায় কিন্তু শরীর চায় না মোটে। তবে মনোহর আইচের মতো শতাব্দী জোড়া বাইসেপ্স ট্রাইসেপ্স বাগাতে না পারলেও সুস্থ শরীরটা যে একান্ত কাম্য একথা কিন্তু কায়মনোবাক্যে স্বীকার করবেন সকলে। কারণ মনের প্রজাপতি ইতিউতি উড়ে বেড়ালেও বয়সকালে হাত পা ছুঁড়ে আপনিও যে দিগ্বিদিগ ঘুরে বেড়াবেন তা আর হয়ে ওঠে কৈ ? 

আশিতে আসিলে যে কি কি সমস্যা তৈরী হয় এ আমাদের আপামর বাঙালীকুলের বিলক্ষণ জানা আছে। যেমন - ছানি, আমবাত, গেঁটে বাত, অনিদ্রা, বুক ধড়ফড়, মাড়ি কনকন, গ্যাস অম্বল তো আছেই এমনকি ভীমরতি হওয়াটাও আমরা অধিক বয়েসের রোগ বলেই ধরে থাকি। তবে এতেই ক্ষান্ত নেই, এই সমস্ত রোগের পাশাপাশি এমন আরও একটি রোগ আছে যা কিনা প্রায় বিনা কারণেই দেখা দিতে পারে। আর তা হল - প্রস্রাবে সমস্যা। হ্যাঁ, শুধু ভারতবর্ষে কেন, খুঁজলে পরে গোটা পৃথিবীতেই পঞ্চাশ বা তার বেশি বয়েসের পুরুষের প্রোস্টেটের সমস্যা পাবেন প্রায় ঘরে ঘরে। এই জনপ্রিয় রোগটির একটি গালভরা নাম আছে বটে, ডাক্তারী ভাষায় যাকে বলে বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া। আসুন দেখে নিই কিভাবে এই রোগ হয় এবং এর হাত থেকে নিস্তার পাবার উপায় কি। 

বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া কি ?
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া বলে। ছোট করে একে বিপিএইচ বলা হয়।বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেই সাধারণত এই রোগ দেখা দেয়। তিরিশ বছর বয়েস থেকে এই বিপিএইচ এর সূত্রপাত। ক্রমশ তা বাড়ে ও পঞ্চাশ বছর বয়েসের পর থেকে এই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন কারণ এর থেকে ক্যান্সার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং এই রোগের কারণ ও উপসর্গগুলিতে একটু চোখ বুলিয়ে নিই। সময় থাকতে থাকতে সাবধান হওয়া যাবে অন্তত। 

এই রোগ হওয়ার কারণ 
সাধারণত এর সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কিছু চিকিৎসকদের মতে বয়স্ক পুরুষদের যৌন হরমোনের পরিবর্তন এর কারণ হতে পারে। এছাড়া প্রস্টেট সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই রোগ হতে পারে। জেনেসিস হসপিটালের নামকরা তরুণ ইউরোলজিস্ট ডঃ দেবাংশু সরকার বলছেন এই রোগটিকে এড়ানোর সম্যক কোনো উপায় নেই।  

ঠিক কি হয় 
প্রস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাবার দরুন মূত্রনালীতে চাপ পড়ে। যার ফলে প্রস্রাবের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এই প্রস্রাব মূত্রাশয়ে জমতে থাকে। ফলস্বরূপ দিনে ও রাতে রুগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে। 

উপসর্গ 
# ঘন ঘন মূত্রত্যাগ 
# মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা বা ব্যাথা হওয়া  
# মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
# অসম্পূর্ণ প্রস্রাব
# প্রস্রাব লিক হওয়া  
# প্রস্রাবে রক্তের চিহ্ন 

রোগ নির্ণয় 
চিকিৎসকরা বিভিন্ন পদ্ধতি বা রেক্টাল পরীক্ষার দ্বারা বিপিএইচ নির্ণয় করেন। যেমন - 
# ইউরিনালিসিস 
# ইউরোডায়নামিক টেস্ট 
# প্রস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন টেস্ট 
# পোস্ট ভয়েড রেসিডুয়াল 
# সিস্টোস্কপি 
# ইউরোগ্রাফি 

চিকিৎসা কি 
এই রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাই হলো নিজের যত্ন নেওয়া ও শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা। যেমন মদ্যপান ও ক্যাফিনের থেকে দূরে থাকুন। অযথা স্ট্রেস নেবেন না তাতে প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করুন, বেশ কিছুটা সুফল পাবেন। তারপরেও যদি উপসর্গ রয়ে যায় তাহলে একজন দক্ষ চিকিৎসকের বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে বা প্রয়োজনমত সার্জারি করিয়ে নিতে হবে। আর সার্জারি মানেই কিন্তু কাটাছেঁড়া নয়। বর্তমান শল্য চিকিৎসায় অত্যাধুনিক পদ্ধতির দ্বারা একেবারে সহজ সার্জারি সম্ভব হচ্ছে। যেমন ট্রান্স ইউরেথ্রা রেসেকশন অফ প্রস্টেট। এই পদ্ধতিতে পুরুষের যৌনাঙ্গের মধ্যে দিয়ে রিসেক্টোস্কোপের দ্বারা প্রস্টেটের কিছু অংশ বা বর্দ্ধিত টিস্যু বের করে নেওয়া হয়। এছাড়াও লেজার ট্রিটমেন্টের দ্বারা সফল ভাবে প্রস্টেট সার্জারি করা হয়। 

তবে ভয়ের কিছু নেই। তার কারণ আপনি একা নন। সারা পৃথিবী জুড়ে সংখ্যায় প্রায় ১০ কোটির ওপর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং আশ্চর্যের বিষয় হল আশি বছর বয়েসের ঊর্ধ্বে প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষেরই এই রোগ হয়। সুতরাং নিশ্চিন্তে থাকুন এবং একজন ইউরোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার শরীর তো আপনারই দায়িত্ত্বে। তাই না ?

#urology #prostate #benignprostatichyperplasia #oldmendisease #GenesisHospitalKolkata #asprescribed