Showing posts with label চমকপ্রদ তথ্য. Show all posts
Showing posts with label চমকপ্রদ তথ্য. Show all posts

Friday, 28 June 2019

হার্নিয়ায় হাহাকার !


নানান রোগের মাঝে এই রোগের গুরুত্ব অপরিসীম। নাম ছোট হলেও দেশ জুড়ে বেশ বড় রকমের প্রকোপ আছে এই হার্নিয়ার। একেবারে সঠিক অংক কষে বলা না গেলেও একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া হয়। সাধারণত ৪০ থেকে ৭০ বয়সী রুগীদের মধ্যে এর উপস্থিতি বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হল পুরুষ ও নারীর অনুপাত এক্ষেত্রে ৭:১, অর্থাৎ চল্লিশোর্ধ পুরুষরা সাবধান। আসুন এই রোগ সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

হার্নিয়া কি ?
যখন কোনো অঙ্গ বা টিস্যু পেটের অভ্যন্তরীণ পেশীর প্রাচীর বা পেরিটোনিয়াম ভেদ করে বেরিয়ে আসে তখন তাকে হার্নিয়া বলা হয়। এই পেরিটোনিয়ামের কাজ হল পেটের ভিতরে সমস্ত অঙ্গকে যথাস্থানে রাখা। কোনো কারণে এই পেশী যদি দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বা টিস্যু সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে ফোলাভাব বা লাম্প তৈরী করে। অদ্ভুত ভাবে, শোওয়ার সময় এই লাম্পটি কিন্তু দেখতে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত কাশি বা হাঁচি হলে এই লাম্প আবার অনুভূত হয়।

হার্নিয়ার প্রকারভেদ আছে নাকি ?
আছে বৈকি। হার্নিয়া বেশ কয়েক রকমের হয়। যেমন -

# ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া - জন্মের ঠিক আগে যে পথ দিয়ে পুরুষদের অণ্ডকোষ পেট থেকে অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসে বা নারীদের ক্ষেত্রে যেখানে জরায়ুর লিগামেন্ট থাকে সেই পথটিকে বলা হয় ইঙ্গুইনাল ক্যানাল। কোনো কারণে ইঙ্গুইনাল ক্যানালের পেশী দুর্বল হয়ে পড়লে অন্ত্রের কিছু অংশ সেই জায়গা ভেদ করে তলপেট থেকে কুঁচকির দিকে নেমে আসে। একেই বলা হয় ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া। এই হার্নিয়া সাধারণত পুরুষদেরই বেশি হয়। (চিত্র-১)


# আম্বিলিকাল হার্নিয়া - নাভির কাছে মাংশপেশী দুর্বল হয়ে থাকলে, অন্ত্রের কিছু অংশ সেই দুর্বল পেশী ভেদ করে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করে। এই ধরণের হার্নিয়া বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যায় এবং সাধারণত বেশ স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। নারী - পুরুষ নির্বিশেষে এই হার্নিয়া হতে পারে। (চিত্র-১)

# ফিমোরাল হার্নিয়া - ঊরুর উপর দিকে ধমনী বহনকারী ক্যানেলের ভিতর যখন অন্ত্রের কিছু অংশ প্রবেশ করে তখন তাকে ফিমোরাল হার্নিয়া বলা হয়। দেখা গেছে, মহিলাদের মধ্যে এই হার্নিয়ার উপস্থিতি বেশি, বিশেষ করে যাঁরা গর্ভবতী এবং স্থুল তাঁদের ক্ষেত্রে হার্নিয়া
উল্লেখযোগ্য। (চিত্র-১)


# হায়াটাল হার্নিয়া - পাকস্থলীর উপরের অংশ, যখন ডায়াফ্রাম (যে বড় পেশীটি বুক এবং পেটের মাঝামাঝি থাকে) ভেদ করে ওপরের দিকে অর্থাৎ খাদ্যনালীর দিকে বেরিয়ে আসে তখন তাকে হায়াটাল হার্নিয়া বলা হয়। (চিত্র-২)




# ইন্সিশানাল হার্নিয়া - পেটের পুরোনো কোনো অস্ত্রোপচারের জায়গা দিয়ে অন্ত্রের কোনো অংশ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাকে ইন্সিশানাল হার্নিয়া বলা হয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে। যেমন ধরুন, আপনার পরনের জামাটি বেশ কিছু কারণে ছিঁড়ে যেতে পারে। এক - যদি কাপড় খারাপ হয়, দুই - যদি সুতো খারাপ হয় এবং তিন - যদি দর্জি খারাপ হয়। এক্ষেত্রেও কতকটা একইরকম। পুরোনো অস্ত্রোপচারের কারণে যদি পেটের পেশী দুর্বল হয়ে গিয়ে থাকে অথবা সেসময় যদি উন্নতমানের সুতো ব্যবহার না করা হয়ে থাকে এবং শল্যচিকিৎসক যদি যথেষ্ট দক্ষ না হয়ে থাকেন তবে পুরোনো পথ ধরে আবার কিন্তু অন্ত্র বেরিয়ে আসতে পারে। এছাড়া সেই জায়গায় সংক্রমণ বা অতিরিক্ত চাপের কারণেও এই হার্নিয়া হতে পারে। (চিত্র-৩)

কি কি কারণে হার্নিয়া হতে পারে ?
বেশ কিছু কারণ আছে যার ফলে হার্নিয়া হতে পারে। সেগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং সেইমতো সাবধান হওয়া উচিত। যেমন - কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে টয়লেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং চাপ দেওয়া। একটানা কাশি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, প্রস্টেটের বৃদ্ধি, প্রস্রাবে অতিরিক্ত চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থুল হলেও হার্নিয়া হতে পারে। এছাড়া পেটের ভিতর তরল জমা হওয়া, ভারী ওজন তোলা, পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস, অপুষ্টি, ধূমপান এবং অণ্ডকোষের সমস্যার ফলেও হার্নিয়া হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।

উপসর্গ কি কি ?
হার্নিয়া হলে বেশ ব্যাথা বা অস্বস্তি হতে পারে। দাঁড়িয়ে থাকলে বা ভারী জিনিস তুলতে যাওয়ার সময় লক্ষণগুলি আরও স্পষ্ট হয়। এছাড়া বমি বা বমিভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি ফুলে ওঠা অংশটি অনেকটা সময় ধরে একটানা থেকে যেতে পারে বা বড় হতে পারে।

এই ধরণের সমস্যায় একেবারেই দেরি করা উচিত নয়। কারণ যত দেরি হবে ততই সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকবে। সুতরাং অবিলম্বে একজন দক্ষ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়ে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করুন। চিকিৎসকরা বলেন যে হার্নিয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়াই সমস্ত দিক থেকে শ্রেয়। এখানে উল্লেখযোগ্য, বহু বছর ধরে জেনেসিস হাসপাতালে, স্বনামধন্য শল্যচিকিৎসকরা অত্যন্ত সফলভাবে ও সুলভে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করে চলেছেন। যোগাযোগের জন্য এই নম্বরে ফোন করুন - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩-৪০২২৪২৪২

#whatishernia #typesofhernia #symptomsofhernia #causesofhernia #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed   


Friday, 8 March 2019

উলটপুরাণ


গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর (Gallstone) হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই যে উপযুক্ত কাজ তা বোধহয় বর্তমান যুগে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যাঁরা ভাবছেন যে এসব সামান্য বিষয়ে ছুরি, কাঁচির তলায় পেট কি না পাতলেই নয়, তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখি যে পিত্তথলিতে গঠিত পাথর বেশ বড় রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার জীবনে। যেমন - জন্ডিস , জ্বর তার সাথে তীব্র ব্যাথা, পিত্তথলিতে পুঁজ সঞ্চয়, প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় জনিত ব্যাধি, পিত্তথলির ক্যান্সার এবং পিত্তথলিতে ছিদ্র থাকলে তা জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। পেটে পাথর নিয়ে আপনি ঘুরে ফিরে বেড়াতেই পারেন তবে কিনা ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমির (laparoscopic cholecystectomy) সাহায্যে এই গোটা পিত্তথলিটাই বার করে নেওয়া হয়। তাতে রুগী অনেক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং অন্যান্য কাজ করতে আর কোনোরকম বাধা থাকে না। এত গেল সাধারণ গরুর রচনা। এই ব্যাপারে কম বেশি আমরা সকলেই জানি। এ আর নতুন কি ? তাহলে একটা চমকপ্রদ গল্প বলি শুনুন।

তারাতলাবাসী যুবক সুরঞ্জন দত্তচৌধুরীকে (নাম পরিবর্তিত) একডাকে আশেপাশের মানুষ চেনে। সুরঞ্জন এলাকার একজন নামকরা ব্যায়ামবীর। রোগজ্বালা না থাকায় শক্তপোক্ত সুরঞ্জনের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি খুব একটা। এহেন ট্রাইসেপ বাইসেপধারীর হঠাৎ করে একদিন পেটের বাঁদিকে ব্যাথা শুরু হল। হজমের গোলমাল ভেবে গোটা কয়েক এন্টাসিড খেয়ে সে দিব্যি চালিয়ে দিল কয়েকদিন। কিন্তু দিন যত যায় সুরঞ্জনের ব্যাথাও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। শেষটায় আর সহ্য করতে না পেরে সে পাড়ার এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হল। তিনিও পাকস্থলীর সমস্যা ভেবে দু একটা ওষুধ লিখে দিলেন। তাতে ব্যথা তো কমলই না বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। অবশেষে সুরঞ্জন যোগাযোগ করল জেনেসিস হাসপাতালে ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়ের সাথে। সমস্ত উপসর্গ শুনে তিনি আল্ট্রাসোনোগ্রাফির নির্দেশ দিলেন। যথাসময় রিপোর্টে দেখা গেল সুরঞ্জনের গলস্টোন অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। কিন্তু তার সাথে যে অদ্ভুত বিষয়টি ধরা পড়ল তাতে করে সুরঞ্জনের হাঁ হয়ে যাওয়া মুখ আর কিছুতেই বন্ধ হতে চাইল না।

ডাঃ রায় বললেন সুরঞ্জনের সাইটাস ইনভার্সাস (situs inversus) রয়েছে। ভাবছেন এ আবার কি গোলমেলে রোগ ? না, এটা ঠিক রোগ নয়। চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী এটি একরকম অবস্থা, যেখানে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি তাদের স্বাভাবিক জায়গার বদলে তাদের ঠিক উল্টোদিকে থাকে। একটু খোলসা করে বলি। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বাম কক্ষপথ এবং বাম ফুসফুস শরীরের ডান দিকে অবস্থান করে। লিভার, ডানদিকের বদলে থাকে বাঁদিকে এবং পাকস্থলী বাঁদিকের বদলে ডানদিকে থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিত্তথলিও ডানদিকের বদলে বাঁদিকে থাকে। সুরঞ্জনের ক্ষেত্রে ঠিক যেটা হয়েছে। এবং সেই কারণেই সুরঞ্জনের বাঁদিকে ব্যাথা হচ্ছিল, যাকে পূর্বতন চিকিৎসক পাকস্থলীর ব্যাথা ভেবে ভুল করছিলেন। অতএব এখন বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠতে পারে, যেমন - 


সাইটাস ইনভার্সাস হওয়ার কারণ কি ?
বিভিন্ন জটিল জিনগত সমস্যার কারণে এই অবস্থার সূত্রপাত। অত্যন্ত দুর্লভ হলেও এটা দেখতে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০,০০০ মানুষের মধ্যে একজনের সাইটাস ইনভার্সাস হয়। যমজ "মিরর ইমেজ" শিশুদের মধ্যেও এটা দেখতে পাওয়া যায়।

কত রকমের হয় ?
সাধারণত দু ধরণের হয়। ডেক্সট্রোকার্ডিয়া (dextrocardia) এবং লেভোকার্ডিয়া (levocardia) হৃদপিণ্ড অন্যদিকে থাকলে ডেক্সট্রোকার্ডিয়া এবং বাকি অঙ্গগুলি উল্টোদিকে থাকলে লেভোকার্ডিয়া বলে। তবে সমস্ত অঙ্গ উল্টোদিকে থাকলে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস টোটালিস।  

এর উপসর্গ কি কি ?

উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও যেহেতু অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিকভাবে কাজ করে তাই সাধারণত কোনো উপসর্গ পাওয়া যায় না। সুতরাং গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসার কোনো কারণ নেই।

কিভাবে জানতে পারবেন ?
এক্স রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলে তবেই জানা যায়। শুধু খেয়াল রাখবেন তলপেটের বাঁদিকে এপেনডিক্সের মতো ব্যাথা হচ্ছে না তো ! সেক্ষেত্রে ডানদিকের বদলে বাঁদিকে এপেন্ডিক্স থাকতে পারে। তবে একজন চিকিৎসকের পক্ষে হার্টবিট শুনে বলে দেওয়া সম্ভব সাইটাস ইনভার্সাস আছে কিনা। 

এক্ষেত্রে কি করণীয় ?
সাধারণ রোগ যেভাবে চিকিৎসা করা হয় এক্ষেত্রেও তাই হবে। তবে দিকপরিবর্তনের জন্য চিকিৎসকের সামান্য সমস্যা হতে পারে। তাই বলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য জেদ ধরে থাকবেন না। তাতে কিন্তু আবার অন্য বিপদ। বরং যেমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলছে তেমনই চলতে দিন।

ডাঃ পূর্ণেন্দু রায় (Dr.Purnendu Roy) অবশ্য সুরঞ্জনের গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার সফলভাবেই করেছিলেন। সুরঞ্জন, তার এই বিরল অবস্থার কথা প্রথমটায় বিশ্বাস করেনি যদিও, তবে ডাঃ রায়ের চিকিৎসা ও আশ্বাসবাণীতে সে এখন একেবারেই সুস্থ। বলা চলে দ্বিগুন উৎসাহে সে এখন শারীরিক কসরত করে চলেছে। সুতরাং আপনি যদি এহেন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে একেবারেই ভয় পাবেন না। আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমনই থাকুক না কেন, কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে জেনেসিস হাসপাতালে (www.genesishospital.co) যোগাযোগ করুন। এখানে সোজা উল্টো সবরকম রোগেরই চিকিৎসা হয়।

#genesishospitalkolkata #situsinversus #gastroeneterology #asprescribed #bengalimedicalarticle #medicalblog #medicine #drpurnenduroy

Tuesday, 19 February 2019

সুখে থাকতে ভূতের কিল

বালাই ষাট ! সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে যাবেন কেন ? ভূতের কিল খাক আপনার শত্তুর ! আপনি দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোতে থাকুন। কারণ আপনার শরীরের বাইরে ও ভিতরের সমস্ত যন্ত্র, মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অবধি বেরোখ কাজ করছে একেবারে। ঠিক কিনা ? তার কারণ আপনি তো বিলকুল সুস্থ ! সুতরাং আগের থেকে মেডিক্যাল টেস্ট করে আবার কোন পাগলে ? বইটা ছিঁড়ুক তবে তো বইয়ের মলাট দেবেন ? বাইকটা খারাপ হোক তবে তো সার্ভিসিং !

কি বললেন ? 'এরকমটা নয়' ? মানে মলাট বা সার্ভিসিং-টা আগের থেকেই করিয়ে রাখেন, তাই তো ? বেশ, শরীরের ব্যাপারে তাহলে মাতব্বরি কেন বন্ধু ?  বাড়ির ফিল্টারটা যদি ৩ মাস অন্তর লোক ডেকে সার্ভিসিং করাতে পারেন, তাহলে আপনার শরীরের দুদিকে যে দুটো ফিল্টার রয়েছে সে কি দোষ করল বলুন তো ? কিডনি - জন্ম থেকে সমানে আপনার শরীরের দূষিত পদার্থ নিরলস ফিল্টার করে চলেছে কোনো রকম ইন্সেন্টিভ আর ছুটিছাটা ছাড়াই। রাগ করে সে যদি দুদিন ছুটি নিয়ে ফেলে আপনার তো ইউরেমিয়া হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে ছুটি হয়ে যেতে পারে, সেটা জানেন কি ? শেষ কবে ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন মেপে দেখেছেন, মনে আছে ? 

বাড়ির টুলু পাম্পটির অতিরিক্ত জল তুলে ফেললে যে জ্বলে যাবার উপক্রম হয় এ আপনার থেকে
বেশি ভালো আর কে জানে। কিন্তু আপনার বুকের ভিতর যে মোটরটা মিনিটে ৭০ বার পাম্প করছে তার বেলা ? জানেন, আপনার হার্টরেট আর রিদিম ঠিক আছে কিনা ? ইস্কিমিয়া (ischemia) নেই তো ? কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে গেলে আপনার পাতে মিষ্টি পড়তে সময় পায় না। পিঁপড়েরা হা হুতাশ করে পাশ দিয়ে চলে যায় এমনি আপনার রসগোল্লা খাওয়ার ধুম।

বলুন তো, শেষ কবে ব্লাডসুগার টেস্ট (blood sugar test) করেছেন ? জানেন কি সারা পৃথিবীতে ভারতবর্ষ হল ডায়বেটিসের রাজধানী। ২০৩০ সালে ভারতবর্ষে ডায়াবেটিকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ছুঁতে পারে। ডায়াবেটিসে চোখ খারাপ - ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (diabetic retinopathy), কিডনি খারাপ - ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি (diabetic nephropathy), ব্লাড ভেসেলস ড্যামেজ - ডায়াবেটিস মাইক্রোএনজিওপ্যাথি (diabetic microangiopathy) - এতো জেনেও সুস্থ অবস্থাতেও কিছুতেই আপনি ব্লাড সুগার টেস্টটা করবেন না। কারণ লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে যাবে সে আপনার ধম্মে সইবে কেন ? আচ্ছা এবার বলুন তো আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেলটা ঠিক কত ? কেন জানতে চাইছি ? তার কারণ কোলেস্টেরল আর্টারির ওয়ালের মধ্যে তৈরী করবে এথেরোসক্লেরোসিস (atherosclerosis)। করোনারি আর্টারিটা একটু একটু করে সরু হয়ে এনজাইনা এবং পরে করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফাকশন (myocardial infarction), যার ফল হার্ট এট্যাক। অর্থাৎ আপনার হাসি হাসি মুখের ছবিতে মালা ঝুলবে। 

এবার আসি মহিলাদের ক্যান্সারের কথায়। এক্ষেত্রে ক্যান্সার বললেই সর্বপ্রথম ব্রেস্ট ক্যান্সারের কথা মাথায় আসে। জানেন কি, মহিলারা সব থেকে বেশি কোন ক্যান্সারে মারা যান ? সারাভাইকাল ক্যান্সার (cervical cancer), ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক ভাবে ৩৫ বছরের উর্দ্ধে সবাইকে 'ওয়েল-উম্যান ক্লিনিক' এটেন্ড করতে হয়। এই ক্লিনিকে 'প্যাপ স্মিয়ার' (pap smear) বলে একটা টেস্ট করা হয়, যাতে ক্যান্সার সার্ভিক্স, স্টেজ ওয়ানের আগেই ধরা পড়ে। ক্যান্সার হওয়া অবস্থাতেই সার্জারি বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় করা হয়। তবে মহিলারা সুস্থ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন এটা কতকটা সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠার মতো।  তাঁরা অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে যান না আর তাই, সময়মত ক্যান্সারও ধরা পড়ে না। কি ! কালঘাম ছুটছে তো ? আচ্ছা বেশ, দূর থেকে পাথর না ছুঁড়ে বরং ঠিকঠাক জেনে নিই সুস্থ অবস্থায় কি কি টেস্ট আমাদের সকলের করে রাখা উচিত। 

# ব্লাড টেস্ট - হিমোগ্লোবিন করা উচিত কারণ এনিমিয়া আছে কিনা বোঝা যাবে। এছাড়া টোটাল
কাউন্ট, ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট, ই.এস.আর করতে হবে। অনেক রক্তের অসুখ আছে যার কিন্তু উপসর্গ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আবার রুটিন টেস্টেও লিউকেমিয়া ধরা পড়েছে এমন পেশেন্টও আছেন । যে অসুখে ব্যাথা নেই সে অসুখ ধরাও পরে অনেক দেরিতে। কারণ ব্যাথা না হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রশ্নই উঠছে না।

# ইউরিয়া, সিরাম, ক্রিয়াটিনিন করা উচিত - কিডনি কেমন চলছে তা দেখার জন্য।

# লিভার ফাংশন টেস্ট - বিলিরুবিন, এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন, ফসফেটিস, এলবুমিন, গ্লোবিউলিন ইত্যাদি টেস্ট করে বোঝা যায় আপনার লিভারটি কেমন কাজ করছে।

# লিপিড প্রোফাইল - কোলেস্টেরোল-ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্ট করে জেনে নিন আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা। অনেক অসুখ আছে যেগুলো বংশানুক্রমিক, চট করে ধরা পড়ে না। 

# চেস্ট এক্স রে - ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত জরুরী। শহরের দূষণ থেকে নানারকম রোগ হতে পারে। ফুসফুসের বিভিন্ন বিড়ম্বনা কিন্তু রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে।

# আল্ট্রাসোনোগ্রাফি - একটা ইউএসজি অফ হোল এবডোমেন বছরে বার দুয়েক করে রাখলে মঙ্গল। কিডনি, প্যানক্রিয়াস, গল ব্লাডার, লিভার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ইউটেরাস, ওভারি টিউব ইত্যাদি।

# বেসিক ইসিজি করিয়ে রাখা ভালো। ইসিজি আর ইকোকার্ডিওগ্রামের তফাৎ কি ? ইসিজি  নির্ণয় করে ইলেক্ট্রিক্যাল কন্ডাকশন, হার্ট রেট, রিদম। আমাদের কোনো এভি ব্লক আছে কিনা বা পাণ্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক আছে কিনা, এতে ধরা পড়বে। ইস্কিমিয়া থাকলে অর্থাৎ করোনারি আর্টারি ড্যামেজ থাকলে ইসিজি-তে খানিকটা ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রামে ভাল্ভ স্ট্রাকচার দেখতে পাওয়া যায়। যেমন - পালমোনারি ভাল্ভ, ট্রাইকাস্পিড ভাল্ভ, এওর্টিক ভাল্ভ ইত্যাদি।  যারা হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগেন তাদের লেফট ভেন্ট্রিকুলার ওয়াল হাইপারট্রফি হয়। ওয়াল মোটা হয়ে গেলে এই টেস্টে সেটা দেখা যায়। হার্ট এট্যাকের পর হার্ট কেমন কাজ করছে তাও ইকোকার্ডিওগ্রামে বোঝা যায়। একে বলে লেফট ভেন্ট্রিকুলার ইজেকশন ফ্র্যাকশন। 

এছাড়া আরো অন্যান্য টেস্ট আছে যা সময়বিশেষে অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে জেনেসিস হাসপাতালে যোগাযোগ করে সমস্ত টেস্ট সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩ ৪০২২৪২৪২ সুতরাং টেস্ট করা কেন প্রয়োজন তা নিশ্চই এবার বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন। তাছাড়া শরীরের সমস্ত যন্ত্রাদি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নিয়ম করে ঘর বাড়ির যত্ন নিচ্ছেন আর শরীরের বেলা দ্বিচারিতা কেন ? ভেবে দেখুন একবার…..

#bloodtest #ureaserumcreatinine #lipidprofile #chestxray #USG #ECG #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed


Saturday, 12 January 2019

ফুড অ্যালাৰ্জি থেকে মৃত্যু !



সদ্য বিবাহিত পরিমল ঠিক করল তার নববধূ অঞ্জলিকে একটা সারপ্রাইজ দেবে। পরিমল জানত অঞ্জলির সীফুড খাওয়ার বেশ শখ আছে। তাই এক শীতের দুপুরে, মায়াবী রোদের আলোয় দুজনে হাজির হল দক্ষিণ কলকাতার একটা নামি রেস্তোরাঁয়। অঞ্জলিকে অবাক করে দিয়ে পরিমল অর্ডার করল বিচিত্র কয়েকটা ডিশ। জিভে জল আনা সেসব খাবারের থালা যখন ওয়েটার টেবিলের ওপর সাজিয়ে দিয়ে গেল তখন অঞ্জলীর চোখে একরাশ বিস্ময় আর ভালোলাগার ঘোর। তবে বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল। ডিশগুলো শেষ করার পর পরই পরিমলের মুখ আর গলা চুলকাতে শুরু করল ভীষণরকম। দেখতে দেখতে ঠোঁটের চারপাশটা লাল হয়ে ফুলে উঠল আর সারা গায়ে, হাতে, পায়ে  বেরিয়ে গেল গোল গোল চাকা চাকা দাগ। সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে পরিমল নিজে সারপ্রাইজড হল দ্বিগুন। কোনোমতে বিল মিটিয়ে দুজনে ছুটল ডাক্তারের কাছে। সমস্তটা দেখে ডাক্তারবাবু বললেন পরিমলের ফুড অ্যালাৰ্জি হয়েছে। আসুন এই ফুড অ্যালাৰ্জির সম্বন্ধে একটু আলোকপাত করা যাক।

ফুড অ্যালাৰ্জি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কম বেশি প্রায় সকলেরই কোনো না কোনো খাবার থেকে অ্যালাৰ্জি হয়ে থাকে। এর কারণ হল মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে নির্দিষ্ট একটি খাবারের প্রতিক্রিয়া ঘটে এবং তার থেকেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল চাকা চাকা দাগ দেখা দেয়। সাধারণত শিশুদের মধ্যেই এই ফুড অ্যালাৰ্জির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অবস্থাকে বলা হয় আর্টিক্যারিয়া বা হাইভ্স (hives)। এর উপসর্গগুলি অত্যন্ত পরিচিত হলেও আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

উপসর্গ
# ত্বকের কয়েকটি জায়গায় লাল হয়ে ফুলে ওঠা
# প্রচণ্ড চুলকানি হওয়া এবং কখনো কখনো জ্বালা হওয়া
# শ্বাসনালীর সমস্যা, সাথে হাঁচি বা কাশি
# মুখের চারপাশটা ফুলে ওঠা বা চুলকানি হওয়া
# খাবার গিলতে সমস্যা, বমিভাব বা পেটে ব্যাথা
# হঠাৎ করে উধাও হয়ে গিয়ে আবার দেখা দেওয়া

কোন কোন খাবারে হতে পারে ?
নির্দিষ্ট করে বলা খুব কঠিন কারণ এটা ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। তবে সাধারণত যে সমস্ত খাবারের কারণে হয়ে থাকে তা হল - দুধ, ডিম, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, বেগুন ইত্যাদি।

আপাতভাবে ফুড অ্যালাৰ্জি খুব একটা ভয়ের কারণ না হলেও একটি বিশেষ রোগ আছে যা সত্যিই বেশ সমস্যা তৈরী করতে পারে। এর নাম হল - এঞ্জিও নিউরোটিক ইডিমা বা এঞ্জিওইডিমা (angioneurotic edema)। চিকিৎসকরা বলছেন যে পোকা মাকড়ের কামড় বা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াও এই রোগটা কিন্তু খাবার থেকেও হতে পারে। এই রোগে ত্বকের নিচের আস্তরণ বা টিস্যু ফুলে যায় বেশ। এই ফুলে যাওয়াটা মুখে, জিভে, শ্বাসনালীতে, পেটে, হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। সাধারণত কয়েকঘন্টার জন্য এটা স্থায়ী হয়, তবে তার বেশি হলে চিকিৎসককে দেখিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।

এছাড়া দেখা গেছে যে ফুড অ্যালাৰ্জির কারণে এটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা (eczema) হতে পারে। সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, সারা গা হাত পায়ে অসম্ভব চুলকানি হয় এবং ত্বক পুরু হয়ে, ফেটে গিয়ে তরল বেরোতে পারে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ।






এই প্রসঙ্গে  আরও একটি ফুড অ্যালাৰ্জির প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যা থেকে প্রাণসংশয় পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগের নাম হল অ্যানাফাইল্যাক্সিস (anaphylaxis)। এক্ষেত্রে ভোকাল কর্ড ফুলে গিয়ে বায়ুপথ প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। যার ফলে শ্বাস প্রশ্বাসে চরম সমস্যা হয়। এই পরিস্থিতিতে গলা চিরে একটি নল ঢুকিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করা হয়। এছাড়া গলা ফুলে যেতে পারে, রক্তচাপ সাংঘাতিক কমে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি জটিল হলে রুগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। শীঘ্র চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।



চিকিৎসা কি ?
ফুড অ্যালাৰ্জির চিকিৎসা অত্যন্ত সাধারণ। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো উপসর্গ কম করে এবং বেশ কিছুটা স্বস্তি দেয়। এছাড়া যে সমস্ত খাবার থেকে আপনার অ্যালাৰ্জি হয় সেগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলুন। তাহলেই অনেকটা সুস্থ থাকবেন। তেমন বাড়াবাড়ি হলে জেনেসিস হাসপাতালের ডারম্যাটোলজি বিভাগ তো আছেই, চিন্তা কি !

#GenesisHospitalKolkata #foodallergy #urticaria #hives #angioedema #eczema #anaphylaxis #angioneuroticedema #prescriptiontheke 

Friday, 29 June 2018

কেস জণ্ডিস !

জণ্ডিস হলেই হলুদ খেতে বারণ করা হয়। তার কারণ হলুদের হলুদ বর্ণ জণ্ডিস বাড়িয়ে দিতে পারে এমন একটা চালু ধারণা পোষণ করেন অনেকেই। এর সাথে যখন সেদ্ধ শাকসবজি এবং তেল,নুন ব্যতীত পথ্য চলতে থাকে তখন রোগীর সর্বপ্রকারে কেস জণ্ডিস হবার উপক্রম হয়। সদ্যজাতকের ক্ষেত্রে তা আরও মারাত্মক। জন্ডিস হলেই তার স্তন্যপান বন্ধ করে দিতে উদ্যত হন বাড়ির লোকজন। তাঁদের ধারণা মাতৃদুগ্ধের বদলে জল খাওয়ালে বোধহয় শিশুটি তাড়াতাড়ি সেড়ে উঠবে। জেনেসিস হাসপাতালের কর্ণধার ডাঃ পূর্ণেন্দু রায় বলছেন, এই সমস্ত চিন্তাভাবনা করতে অসুবিধে নেই কিন্তু কার্যকরী করতে যাবেন না তার কারণ এর ফল মারাত্মক হতে পারে।   
প্রথমেই যেটা ভালো করে জেনে রাখা দরকার তা হল জণ্ডিস কোনো রোগ নয়। অন্য কোনো রোগের উপসর্গ মাত্র। শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলেই জণ্ডিস দেখা দেয়। প্রতি ১২০ দিন অন্তর পুরোনো লোহিত রক্ত কণিকা (RED BLOOD CELLS) নষ্ট হয়ে আবার নতুন লোহিত রক্ত কণিকার জন্ম হয়। এর ফলে বিলিরুবিন তৈরী হয় যা শরীরের অন্যান্য বর্জ্য পদার্থের সাথে বেরিয়ে যায়। কোনো সমস্যার ফলে এই বিলিরুবিন শরীর থেকে বেরোতে না পারলেই তা জমা হতে থাকে যার ফলস্বরূপ জণ্ডিস হয়। বলাই বাহুল্য জণ্ডিস হলে ত্মক ও চোখের বর্ণ হলুদ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন রোগ অনুযায়ী এর উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। খুব সাধারণ উপসর্গগুলি নিচে দেওয়া হল। 

উপসর্গ 
# প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ 
# ত্মকের চুলকানি 
# বমি ভাব বা বমি হওয়া 
# ডায়ারিয়া 
# জ্বর 
# শারীরিক দুর্বলতা 
# ওজন হ্রাস পাওয়া 
# খিদে না হওয়া 
# পেটে ব্যাথা 
# পা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি 

কোন কোন রোগে জণ্ডিস হয় সেটা আগের থেকেই জেনে রাখা দরকার। সেইমত চিকিৎসা করলে উপযুক্ত ফল পাওয়া যায়। জণ্ডিসের কারণ অনুযায়ী সাধারণত দুভাগে ভাগ করা হয়। মেডিক্যাল জণ্ডিস এবং সার্জিক্যাল বা অবস্ট্রাক্টিভ জণ্ডিস। এই দুই কারণের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্টতা আছে যা বিশদে আলোচনা করে নেওয়া প্রয়োজন। 

মেডিক্যাল জণ্ডিস যে যে কারণে হয় তা হল - 
# হেপাটাইটিস (A,B,C,D,E)
# ম্যালেরিয়া  
# ডেঙ্গু 
# সিক্ল সেল ডিজিজ (Sickle cell disease)
# স্ফেরোসাইটোসিস 
# সিরোসিস 
# অতিরিক্ত মদ্যপান 
# ড্রাগ সেবন 
# গিলবার্টস সিনড্রোম (Gilbert's syndrome) ইত্যাদি 
সার্জিক্যাল বা অবস্ট্রাক্টিভ জণ্ডিস যে যে কারণে হয় তা হল -
# পিত্তথলিতে পাথর 
# ক্যান্সার (অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার, পিত্তথলির ক্যান্সার, বাইল ডাক্টের ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার)
# প্যাঙ্ক্রিয়াটাইটিস 
# কোল্যাঞ্জাইটিস 
# বাইল ডাক্টে কোনো বাধা বা সমস্যা ইত্যাদি 

এর চিকিৎসা কি ?
মেডিক্যাল জন্ডিসের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। যেমন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, লিভার ফাঙ্কশন টেস্ট অথবা ইউরিন্যালিসিস। এরপর সঠিক রোগ নির্ণয় করে রোগ অনুযায়ী ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক খেলে জণ্ডিস আপনিই সেরে যাবে। এছাড়া প্রচুর পরিমানে জল খেতে হবে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং মদ্যপান থেকে শতহস্ত দূরে থাকতে হবে। তবে সার্জিক্যাল বা অবস্ট্রাক্টিভ জণ্ডিস হলে পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের সার্জারি করিয়ে নিতে হবে এবং বাইল ডাক্টের সমস্যাতে এন্ডোস্কোপি করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। শিশুদের ক্ষেত্রে ফোটোথেরাপি একটি অত্যন্ত স্বীকৃত মাধ্যম।  

সুতরাং জণ্ডিস নিয়ে কোনোরকম টোটকার বশবর্তী হবেন না। শিশুদের ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধই শ্রেষ্ঠ। জণ্ডিসের সময় স্তন্যপানে বঞ্চিত করবেন না, শিশুর ক্ষতি হতে পারে। বাকিরা পুষ্টিযুক্ত খাবার খান। শুধুমাত্রই নিরামিষ খাবারের ওপর নির্ভর করতে হবে এমনটা নয় বরং স্বল্প পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে আপনার ডায়েট যেন সুষম হয় এবং তাতে যেন সমস্ত পুষ্টিগুণ থাকে। বাকি বিশ্রামে থাকুন আর অতিরিক্ত চিন্তা করার খুব একটা প্রয়োজন নেই। 

#jaundice #hepatitis #liverproblems #gallstone #pancreatitis #endoscopy #medicaljaundice #obstructivejaundice 

Thursday, 17 May 2018

বহিছে ধারা

ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে সমরেশ গজগজ করতে থাকেন। পাঁচটার মধ্যে ফেরার কথা ঋকের।  সাড়ে পাঁচটা বাজে অথচ ধারে কাছে টিকি পাওয়া যাচ্ছে না ছেলের। ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় চলে আসেন তিনি। গলির শেষ মাথাটা অবধি দেখা যায় এখান থেকে। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ ছেলের দেখা নেই। আজ আইপিএলের খেলা আছে ইডেনে। প্রায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুটো  টিকিট জোগাড় করেছেন সমরেশ। বাবা ছেলের ক্রিকেট দেখার শখ সাংঘাতিক। এখনই বেরোতে না পারলে ঠিকমতো গুছিয়ে বসা যাবে না। ভিড় তো আছেই তার ওপর জ্যাম। এসব ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে ওঠেন নিরুপায় বাবা।

অকস্মাৎ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢোকে ঋক। সমরেশ চেঁচিয়ে ওঠেন, 'কিরকম আক্কেল তোর ? কটা বাজে খেয়াল আছে ? এখনই বেরোতে না পারলে.......'। পুরোটা শেষ করতে দেয় না ঋক। হাত তুলে থামায় বাবাকে। নিচুস্বরে বলে, 'কোচিং থেকে বেরিয়ে দেখলাম পাশের পাড়ায় ব্লাড ক্যাম্প হচ্ছে। দিয়ে আসতেই যা একটু দেরি হল'। মুহূর্তে শান্ত হয়ে গেলেন সমরেশ। ঘুরে তাকালেন দেওয়ালে ঝোলানো একটা বাঁধানো ছবির দিকে। বছর দুয়েক আগের স্মৃতি এখনো দগদগে ঘায়ের মতো দুজনের বুকেই জীবন্ত। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার ভয়াল কোপে স্নেহলতা আজ দুজনের থেকে বিচ্ছিন্না। শুধুমাত্র রক্তের অভাবে সেদিন ফেরানো যায়নি তাঁকে। ছবির কাঁচে ঋকের ছায়া পড়ায় সম্বিৎ ফেরে সমরেশের। কোমল কণ্ঠে বলেন, 'যা, মুখ হাত ধুয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। সময়মতো পৌঁছতে হবে তো'।

বাবার হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে দেয় ঋক । কনুইয়ের ভাঁজে একটা গোলাকার ব্যান্ডেড চোখে পড়ে। তৎক্ষণাৎ ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে, 'কি ব্যাপার ! চোট লাগল কি করে তোমার' ? সমরেশ কোনোমতে কম্পিতস্বরে বলেন, 'ও কিছু না, অফিস যাওয়ার আগে আমিও একবার ওই ক্যাম্পে.......' । নিজেকে আর সামলাতে পারে না ঋক । এক লহমায় জড়িয়ে ধরে সমরেশকে। অন্তর্নিহিত গ্লানি জল হয়ে বেরিয়ে আসে দুই গাল বেয়ে। অস্ফুটে বলে, 'বাবা.......' 

এমন গল্প হয়ত খুঁজলে পরে অনেক পাওয়া যাবে। তার কারণ ভারতবর্ষে রক্তের জোগানে বরাবরের সমস্যা আছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষ সচেতন হচ্ছেন এবং রক্তদাতার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। একটা ছোট্ট পরিসংখ্যানে বোঝানো যেতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ২০০৬ - ০৭ সালে রক্তদাতার সংখ্যা ছিল ৫৪.৪ শতাংশ যা ২০১১ - ১২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৩.১ শতাংশে। প্রতি ইউনিট রক্তের হিসাবে ২০০৬ - ০৭ সালে ৪.৪ মিলিয়ন ইউনিট থেকে ২০১২ - ১৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯.৩ মিলিয়ন ইউনিটে। তবু চমকপ্রদভাবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, ভারত সরকারের একটি রিপোর্টে জানা গেছে যে ২০১৬ সালে ১২ মিলিয়ন ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী শুধুমাত্র ১০.৯ মিলিয়ন ইউনিট রক্তই পাওয়া গেছে। সুতরাং ঘাটতির পরিমাণটা যে এখনও বিপুল তা এই সহজ অঙ্কের মাধ্যমেই বোঝা যায়। প্রয়োজন আরও সচেতনতার এবং এর উপকারিতাগুলি জেনে রাখার।

রক্তদানের উপকারিতা :
# হিমোক্রোমাটোসিস (Hemochromatosis) প্রতিরোধে সাহায্য করে - শরীরে লৌহমাত্রা বেড়ে গেলে এই ধরণের সমস্যা হয়। রক্তদানের ফলে এই সমস্যা হ্রাস পায় অনেকটাই।
# ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। 
# হৃদযন্ত্র, লিভার এবং অগ্ন্যাশয় সুস্থ থাকে।  
# শরীরের ওজন কম রাখতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা আছে রক্তদানের। বিশেষ করে যাঁরা স্থূল এবং কার্ডিওভাস্কুলার রোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্য বিশেষ উপকারী।
# রক্তদানের দরুন নতুন রক্তকোষের জন্ম হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

নূন্যতম বিধি :
রক্তদান একটি অত্যন্ত সুস্থ চিন্তা, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না যে চাইলেই কিন্তু রক্ত দেওয়া যায় না। রক্তদানের ক্ষেত্রে নূন্যতম কিছু বিধি মেনে চলা অতি আবশ্যক। স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রক, ভারত সরকারের অধীনে কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যা একজন রক্তদাতার জেনে রাখা উচিত। যেমন -

# রক্তদাতাকে সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হতে হবে
# রক্তদাতার বয়স হতে হবে  ১৮ - ৬৫ র মধ্যে
# ওজন নূন্যতম পক্ষে ৪৫ কিলোগ্রাম হতে হবে
# হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ন্যূনতম ১২.৫ গ্রাম হতে হবে
# পুরুষদের ক্ষেত্রে তিন মাসে একবার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে চারমাসে একবার রক্তদান করা যাবে
# এছাড়া চিকিসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তদানের পূর্বে কিছু আবশ্যক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে

ভারত সরকারের অধীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় - এর একটি নির্দেশিকা আছে যা রক্তদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পড়ুন। 

রক্তদানের উপকারিতা যে যথেষ্ট তা আমরা জানলাম বটে তবে কতটা সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টা দেখব সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন। এর কারণ হল আমাদের মধ্যে এখনো অনেকেই আছেন যাঁরা রক্তদান এড়িয়ে চলেন, বিভিন্ন রকমের অজুহাত দেন এবং সর্বোপরি রক্তদান সম্পর্কে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন। যেমন - রক্তদান করলে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বা পরবর্তীকালে নানান রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে ইত্যাদি। তাঁদেরকে বলব সময় করে নাহয় একবার আপনার চিকিৎসককেই জিজ্ঞেস করে দেখুন। তাঁর কথা নিশ্চই বিশ্বাসযোগ্য হবে এই আশা রাখি।

                                                           www.genesishospital.co

Tags :blooddonation ; donateblood ; savelife ; PrescriptionTheke ; GenesisHospitalKolkata

Friday, 12 January 2018

দিনের শেষে ঘুমের দেশে

(Audio File)
https://soundcloud.com/user-298724335/fz5bc3sdjgnc 


ঘুম বড় আশ্চর্য জিনিস। পেলে একরকম না পেলে আরেকরকম। যখন তখন ঘুমিয়ে পড়াও যেমন ঠিক নয় তেমনি ঘুমকে অবজ্ঞা করাও মোটে উচিত নয়। ট্রামে, বাসে বা ট্রেনে যদি আপনি মখমলি কাঁধ পেলেই চোখ বোজার সুযোগ খোঁজেন তাহলে বলতে হবে আপনি ঘুমের অভাবে ভুগছেন অথবা ঐটে আপনার ভীষণ রকম বদভ্যেস। সেটা যদি না হয় তাহলে চট করে পড়ে ফেলুন ঘুমের অভাবে কি কি হতে পারে। 

ঘুমের অভাবে কি হতে পারে ?
ঘুমের অভাবে নানান রকম সমস্যা তৈরী হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেসব সমস্যা জটিলতর হতে থাকে অচিরেই। এক্ষেত্রে প্রথমেই যার কথা বলতে হয় তা হল স্মৃতি। ভীষণ রকম স্মৃতিজনিত সমস্যা হতে পারে। যাঁরা গান ভালোবাসেন তাঁদের, 'তোমার গীতি জাগালো স্মৃতি' - রবিঠাকুরের এই গানটি আর নাও মনে আসতে পারে। মুচকি হেসে ভাবছেন, 'যাহ ! রবিঠাকুর ভুলে যাব ! তাই আবার কখনো হয় নাকি' ! তাহলে একটি সরল, ছোট্ট ব্যাখ্যা দিই। আসন্ন বিপদটা বুঝতে সুবিধে হবে আপনার। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনার ইমেল্ ইনবক্সের মতো মস্তিষ্কেরও একটি স্মৃতির ইনবক্স থাকে। ঠিকঠাক ঘুম না হলে এই ইনবক্সটি আপনা আপনিই বন্ধ বা শাট ডাউন হয়ে যায়। যার ফলে নতুন করে কোনোরকম স্মৃতি তৈরী হতে পারে না। আপনার স্মৃতিবিলোপ হতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি। দাঁড়ান, এখানেই শেষ নয়।  

এছাড়া আরও একটি সমস্যা আছে। ঘুমের অভাবে একটি বিষাক্ত প্রোটিন তৈরী হয় যার নাম হল 'বিটা এমিলয়েড'। এই প্রোটিন তৈরীর ফলে আপনার মারাত্মক রকমের স্মৃতি সংশয় হতে পারে, ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম - আলঝেইমার্স ডিজিজ। ঘুমোনোর সময় আপনার মস্তিষ্কে একটি নিকাশী ব্যবস্থা সচল হয়ে ওঠে। যার মাধ্যমে এই 'বিটা এমিলয়েড' ধুয়ে সাফ হয়ে বেরিয়ে যায়। সুতরাং ঘুমের অভাব কিন্তু অজান্তেই আপনার মস্তিষ্কে তৈরী করবে এই আলঝেইমার্স প্রোটিন। যত বেশি মাত্রায় এই ক্ষতিকারক প্রোটিন তৈরী হবে ততটাই দ্রুত আপনি স্মৃতিভ্রংশ হবেন। "ম্যায় কাঁহা হুঁ" ? এই ধরণের প্রশ্ন আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে আসাটা কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং 'ঘুমিয়ে কি কেউ বড়লোক হতে পেরেছে' ? - এই বেদবাক্যে যদি আপনি বিশ্বাসী হন তাহলে কোন কোন রোগকে আগাম পান সুপুরি দিয়ে নিমন্ত্রণ দিচ্ছেন তা একবার নিচের লেখায় চোখ বুলিয়ে নিলেই জানতে পারবেন।   

শরীরের ওপর কি কি প্রভাব পড়ে  ?
শরীরের ওপর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যাঁরা ইচ্ছে করে রাত জাগেন বা অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভোগেন তাঁরা হয়ত জানেন না যে অজান্তেই আপনারা শরীরের মধ্যে ডেকে আনছেন অবাঞ্ছিত বিপদ। পরবর্তীকালে যে বিপদ আপনাদের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তখন হয়ত বড্ড বেশি দেরি হয়ে যাবে। তাই আগের থেকেই জেনে রাখুন নিম্নলিখিত বিপদের তালিকা এবং প্রয়োজনমত ব্যবস্থা নিন এখন থেকেই।

# প্রজনন প্রক্রিয়ায় এর যথেষ্ট প্রভাব পড়ে। যে সমস্ত পুরুষরা ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ঘুমোন তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে বেশ কম হয়। ঘুমের অভাবে কিন্তু তাদের পুরুষত্ব হ্রাস পাবার সম্ভাবনা সাংঘাতিক রকম বেশি। 

# রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক। যাঁরা ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ঘুমোন তাঁদের এন্টি ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধক কোষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ হ্রাস পায়। এছাড়া অন্য আরও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে প্রবল। যেমন অন্ত্রের ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং স্তনের ক্যান্সার। সম্প্রতি হু (WHO), রাত্রিকালীন  শিফটের কাজগুলিকে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

# এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপরেও বিশেষ প্রভাব পড়ে। এখানে জেনে রাখা ভালো যে ঘুমোনোর সময়তেই আমরা কিন্তু রক্তচাপের ওষুধ সঞ্চয় করি। আশ্চর্য হচ্ছেন ? আমাদের হয়তো অনেকেরই এই সহজ তথ্যটি জানা নেই যে ঘুমোনোর সময় হৃদ কম্পন ধীরগতির হয় যার ফলে রক্তচাপ হ্রাস পায়। জানা গেছে যে ৬ঘন্টা বা তার কম সময়ে ঘুমের দরুন হার্ট এট্যাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে ২০০ শতাংশ।  সুতরাং পরিমিত ঘুম, সুস্থ হৃদয়ের অন্যতম কারণ। 

বছরে দুবার প্রায় ১৬ কোটি মানুষের ওপর বিশ্বব্যাপী একটি পরীক্ষা করা হয় যার নাম হল ডেলাইট সেভিং টাইম। এই পরীক্ষায় দেখা গেছে যে একদিন এক ঘন্টা কম ঘুমোনোর ফলে তার পরের দিনে ২৪ শতাংশ হার্ট এট্যাক বেড়েছে। এমতাবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবে একটি প্রশ্ন উঠে আসে। 

ঘুম ছাড়া কতক্ষন পর্যন্ত আমাদের মস্তিস্ক সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে ?
উত্তর হল - ১৬ ঘন্টা। তারপরেই মানসিক ও শারীরিক অবনতি ঘটে। কতকটা গাড়ির স্টিয়ারিঙ ধরে  নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চালানোর মতো। অতএব জেগে থাকার ক্ষতি মেরামতির জন্য অন্তত পক্ষে ৮ ঘন্টার ঘুম অতি আবশ্যক। তাই এরপরেও যদি আপনার মনে হয় রাত জেগে আরও কিছুক্ষন লুডো খেলে নি, যা আপনি খেলতেই পারেন কিন্তু পরের দিনে আপনাকে না ছক্কা পুটের মাশুল গুনতে হয় সে ব্যাপারে কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। বাকি আপনি দিনের শেষে ঘুমের দেশে যাবেন না অন্য কোথাও সে আপনার একান্তই ব্যক্তিগত।

courtesy : Prof. Matthew Walker, Neuroscience and Psychology, University of California, Berkeley

#sleepdisorders #sleepproblems #lackofsleep #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata


Saturday, 6 January 2018

হাত জড়ালেই বন্ধু


আজকের দুপুরটা সম্পূর্ণ অন্য রকম। সারা বছরের মুহূর্তগুলো জমাট বাঁধা হয়ে আছে এক অমূল্য ক্ষণে। যে ক্ষণের অপেক্ষায় সৌভিক দিন গুনেছে সময়ের পর সময়ের হাত ধরে। অবশেষে পৃথা সায় দিয়েছে। সায় দিয়েছে কিছু মুহূর্ত একসাথে কাটাবার, কিছু উষ্ণতা একসাথে ভাগ করে নেবার। দুদিন আগে টেলিফোনে যখন সৌভিক ডায়াল করেছে পৃথার নাম্বারটা তখন পৃথা জানতই না সৌভিক তাকে দেখা করার কথা বলবে। জানত না গঙ্গার ধারে আপাত নিরিবিলি, ছিমছাম এক রেস্তরাঁর বুকে আঁকা হবে কত দিনবদলের স্বপ্ন। তাই আধঘন্টা আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সৌভিক। পৃথা অবশ্য দেরি করেনি খুব বেশি। যথাসময় পৌঁছে টিউশন ক্লাসের ব্যাচমেট সৌভিকের চোখে চোখ রেখেছিল। ইশারায় জিজ্ঞেস করেছিল এমন তলবের কারণ। যদিও মনে মনে পৃথা জানত কারণটা, তবুও নিজের কানে শোনার লোভটুকু বিসর্জন দিতে পারেনি সে। পৃথার সমস্ত পছন্দসই খাবার অর্ডার করে অনুরাগের গল্পে মেতে উঠেছিল দুজনে। 

সবটাই নিজস্ব নিয়মে চলছিল। কিন্তু তীরে এসে যে তরী ডোবার উপক্রম হবে একথা বোধহয় একমাত্র ঈশ্বরই জানতেন। সৌভিক হয়ত একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিল। খাবার শেষ হওয়ার আগেই বলে ফেলেছিল তার হৃদয়ের গোপন আর্তিগুলো। অকপটে ছুঁয়ে ফেলেছিল ভালোবাসার স্পন্দন। অকস্মাৎ বিষম খেয়েছিল পৃথা। আর তাতেই কাল হল। মাংসের টুকরো গলায় আটকে দমবন্ধ হবার উপক্রম হল প্রায়। দুপুরের নৈকট্য টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। দম আঁটকে অচৈতন্য হবার মুহূর্তে সৌভিক ধরে ফেলে পৃথাকে। বায়োলজির সুযোগ্য ছাত্র সৌভিক, হেমলিচ ম্যানুয়েভারের বিশেষ কায়দায় পৃথার পেটে চাপ দিয়ে গলা থেকে বের করে আনল মাংসের টুকরোটা। এক লহমা দম নিয়ে পৃথা জাপটে ধরেছিল সৌভিককে। আসন্ন মৃত্যুর কিনারা থেকে ফিরে এসে  থরথর করে কেঁপে উঠেছিল সে। সে যাত্রা জোর বেঁচেছিল পৃথা আর হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল রেস্তোরাঁর বাকি লোকজন। এই হেমলিচ ম্যানুয়েভারের বিশেষ কায়দাটি কি, সেটা আসুন একটু জেনে নিই।   

হেমলিচ ম্যানুয়েভার কি ?
হেমলিচ ম্যানুয়েভার হল একটি প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শ্বাসনালীতে আটকে থাকা কোনো খাবারের টুকরো বা অন্য কোনো বস্তু বের করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৪ সালে ডঃ হেনরী হেমলিচ এই পদ্ধতিটি প্রথম প্রদর্শন করেন। ওনার নামানুসারেই এই পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।জরুরী অবস্থায় এই পদ্ধতিটি কিভাবে প্রয়োগ করবেন তা জানতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন।


চোকড হবার সময় কি করবেন ?
যে ব্যক্তিটি চোকড হচ্ছেন তাঁর কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ সমস্যা হতে পারে। এই সময় যা করতে হবে তা হল -
# ব্যক্তিটির পিছন দিক দিয়ে কোমরের চারপাশে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।
# একহাতে মুঠো বন্ধ করে, আপনার বুড়ো আঙুলের দিকটা ব্যক্তিটির পাঁজরের নিচে অর্থাৎ পেটের ওপরের দিকে চেপে ধরুন।
# অন্য হাত দিয়ে সেই মুঠো চেপে ব্যক্তির পেটের উপরিভাগে জোরে চাপ দিন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন এই চাপ যেন পাঁজরের ওপর কখনই না পড়ে।
# এই পদ্ধতিটি বারে বারে করতে থাকুন, যতক্ষণ না খাবারের টুকরো বা বস্তুটি মুখ দিয়ে বেরিয়ে না আসে।
# মনে রাখবেন কখনোই যেন পিঠে চাপড় মারবেন না। তাতে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।


যখন ব্যক্তিটি অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন তখন কি করবেন ?
# প্রথমে তাকে চিৎ করে শোয়ান। 
# এরপর ব্যক্তিটির কোমরের দু দিকে হাঁটু মুড়ে বসুন।
# একটা হাতের ওপর আরেকটা হাত রেখে ব্যক্তিটির পেটের ওপর দিকে অর্থাৎ পাঁজরের নিচে চেপে ধরুন।
# তারপর দুহাত একই ভাবে রেখে দ্রুত চাপ দিতে থাকুন।
# বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত একই ভাবে করতে থাকুন। এক্ষেত্রেও পিঠে চাপড় মারতে যাবেন না কিন্তু।


শিশুদের ক্ষেত্রে কি করবেন ?
# শিশুটিকে শক্ত জমির ওপর শুইয়ে দিন। অথবা নিজের কোলে নিয়েও বসাতে পারেন।
# আপনার দুহাতের তর্জনী ও মধ্যমা এক সাথে শিশুটির পাঁজরের নিচে এবং নাভির ওপর রাখুন।
# এরপর ওই অবস্থায় দুহাতের আঙ্গুল দিয়ে একসাথে পেটের উপরিভাগে চাপ দিতে থাকুন।
# বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকুন।
# তবে খুব সাবধানে করবেন, পাঁজরে যেন কোনোভাবেই চাপ না পড়ে।

নিজের ক্ষেত্রে হলে কি করবেন ? 
# এক হাতে মুঠো বন্ধ করে, মুঠোর বুড়ো আঙুলের দিকটা আপনার পাঁজরের নিচে অর্থাৎ পেটের ওপরের দিকে চেপে ধরুন।
# তারপর অপর হাত দিয়ে সেই মুঠো চেপে পেটের উপরিভাগে জোরে চাপ দিন।
# বস্তুটি না বেরোনো অবধি এটি করতে থাকুন।
# এছাড়া আপনি কোনো চেয়ার, টেবিল বা শক্ত কিছুর ওপর ভর দিয়ে ঝুঁকে দাঁড়াতে পারেন।
# আপনার পেটের উপরিভাগ দিয়ে সেই শক্ত বস্তুটির ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকুন। এক্ষেত্রেও বস্তুটি শ্বাসনালী থেকে না বেরোনো অবধি বারে বারে করুন। 

ওপরের যে কোনো ক্ষেত্রে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরোক্ত ঘটনায় সৌভিক অনন্য গিফ্ট পেয়েছিল পৃথার থেকে। কারণ, এমন আশ্চর্য প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে পৃথা শুধু মোহিতই হয়নি, তার বন্ধুর হাত ধরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার পরে পরেই। তবে জীবনবিজ্ঞানের ছাত্র বা ছাত্রী আপনি যদি নাও হন তবুও নিকট আত্মীয়ের বিপদের সময় হাত বাড়ানোটাই কিন্তু উপযুক্ত বন্ধুত্বের পরিচয়। হেমলিচ ম্যানুয়েভার পদ্ধতির সামান্য কয়েকটি ধাপ মাত্র, শিখে রাখতে ক্ষতি তো কিছু নেই, কে জানে কখন কোথায় কিভাবে কাজে লাগে, তাই না ? 

#Heimlichmaneuver #abdominalthrust #bengalihealtharticle #firstaid #emergencytreatment  #AsPrescribed

Saturday, 7 October 2017

গোপন কথাটি রবে না গোপনে....

ইদানীং অবনীবাবু ঘুম ভাঙলেই যেন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দুচোখের পাতা খুললেই তাঁর চোখের কোণে জল আসার উপক্রম হয়। পায়ে পায়ে বাথরুমের দরজা খুলে কমোডের ওপর বসলেই তিনি প্রায় সর্ষেফুল দেখতে থাকেন চারিধারে। প্রথমদিকে ভয়ের চোটে বাথরুম যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন একেবারে। কিন্তু পেটের কামড় উপেক্ষা করবে এমন বীরপুঙ্গব আর যেই হোন না কেন অবনীবাবু অন্তত নন। আর তাই সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে প্রত্যেক সকালবেলাতে তিনি কোনোমতে কষ্ট করে কমোডের ওপর বিরাজমান হতে থাকেন। কিন্তু সেও ক্ষনিকের। কিছুটা হওয়ার পরই অস্বস্তিতে উঠে চলে আসেন বারবার। কারণটা আর কিছুই নয়। ফুরফুরে দিনের শুরুতেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তিনি বিলক্ষণ বুঝতে পারেন যে তাঁর গুপ্তস্থানে কিঞ্চিৎ গোলযোগ দেখা দিয়েছে অথচ চরম সঙ্কোচের ফলে ভরসা করে বাড়ির কাউকে বলেও উঠতে পারছেন না। কারণ বললেই যদি কেউ বলে, 'কই দেখি' ? তাহলে তো আর তিনি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে কোনোকিছুই ঠিক দেখিয়ে উঠতে পারবেন না। তাই তিনি চুপচাপ ঠিক করলেন পাড়ার ডাক্তারকে গিয়ে একবার গোপনে দেখিয়ে নেবেন। চেম্বারে গিয়ে পাজামার দড়ি আলগা করে কামানের মতো পিছন তাক করে যখন ঝুঁকে দাঁড়ালেন তখন ডাক্তার গম্ভীর হয়ে বললেন, 'হুম, আপনার তো পাইলস হয়েছে মশাই'। একথায় অবনীবাবু প্রায় শুকনো মুখে জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে' ?

এই তাহলে যে কি সেটা জানতে হলে বেশ কিছু জিনিস আগে জেনে রাখা প্রয়োজন। যেমন শুধু পাইলস নয়, গুপ্তস্থানে ফিশার বা ফিশ্চুলার মতোও কঠিন রোগ হতে পারে। সেগুলো কি, কেমন করে হয় আর তার কি প্রতিকার, আসুন জেনে নিই এক এক করে।  

পাইলসের সাতকাহন 
মলদ্বারের ভিতরে যে ছোট ছোট শিরাগুলি থাকে সেগুলি যখন বিভিন্ন কারণে স্ফীত হয় তখনই তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। মূলতঃ কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়া, ভারী ওজন তোলা, প্রেগন্যান্সি বা মলত্যাগে সমস্যার দরুন পাইলস হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, অনেকসময়ই পাইলস কিন্তু নিজে থেকেই সেরে যায়। অবশ্য সমস্যা জটিল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। খুব কঠিন সমস্যা হলে ছোট্ট সার্জারিতেই রোগ নিরাময় হয়।  

পাইলসের উপসর্গ কি ?

সাধারণত পাইলসে কোনো যন্ত্রনা হয় না। মলদ্বারের চারপাশে অস্বস্তিকর সমস্যা হয়। প্রথম দিকে মলদ্বার থেকে রক্তপাত হয়। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর পাইলস থেকে কষ্ট অনুভূত হয়। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণীতে পৌঁছলে রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসিসের আকার ধারণ করে। সেক্ষেত্রে যথেষ্ট বেদনাদায়ক হয়।

এর চিকিৎসা কি ?
জেনেসিস হসপিটালের কর্ণধার ও বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক ডঃ পূর্ণেন্দু রায় এই সমস্যার কিছু সহজ সমাধান দিয়েছেন। ডায়েট কন্ট্রোল করলে অনেকাংশেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যেমন ফাইবার যুক্ত খাবার, ফল, শাকসবজি, ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রচুর পরিমানে জল খেতে হবে এবং ক্যাফিনের থেকে দূরে থাকতে হবে। মলত্যাগের সময় বেশি চাপ না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। শরীরের স্থূলতা কমিয়ে ফেলতে হবে এবং নিয়ম করে কিছু হালকা ব্যায়াম করলে এর সুফল পাওয়া যাবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু মলম, ক্রীম বা স্টুল সফ্টনার ব্যবহার করলে অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়।

এবার ফিশার 
মলদ্বার চিরে যাওয়া বা কেটে যাওয়াকে ফিশার বলে। এই চিরে যাওয়া জায়গায় অসম্ভব যন্ত্রনা হয় এবং মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত ঘটে। এর বিভিন্ন কারণগুলি হল কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে সমস্যা, শিশুর জন্ম দেওয়া, ডায়েরিয়া, ইনফেকশন বা অন্যান্য পেটের সমস্যা।  যে কোনো বয়েসেই এই রোগ হতে পারে। সাধারণত ফিশার নিজের থেকেই সেরে যায় তবুও একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফিশারের উপসর্গ কি ?
# চেরা জায়গার পাশে ছোট মাংসপিণ্ড হওয়া।
# মলত্যাগের সময় অসহ্য যন্ত্রনা।
# মলের সাথে রক্তপাত এবং মলদ্বারে জ্বলন।  

এর চিকিৎসা কি ?
সাধারণত অত্যাধিক ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। কিছু সহজ প্রতিকারের মাধ্যমে এই রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেমন প্রচুর পরিমানে জল, ফলমূল, সবজি খেতে হবে। নাইট্রোগ্লিসারিন মলম বা হাইড্রোকর্টিসোন ক্রীম ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সিটজ বাথ নিলে অনেকটাই অস্বস্তি কমে। এক গামলা ঈষদুষ্ণ জলে দিনে অন্তত দুবার কোমর অবধি ডুবিয়ে রাখলে অনেকটাই সুফল পাবেন। এর পরেও যদি সমস্যা হয় তাহলে একমাত্র চিকিৎসকই আপনার ভরসা।

সবশেষে ফিশ্চুলা 
ফিশ্চুলা হল একটি ছোট চ্যানেল বিশেষ, যা অন্ত্রের শেষভাগ ও মলদ্বারের চামড়ার মাঝামাঝি তৈরী হয়। এর মাধ্যমে রক্তপাত হয়, পুঁজ জমা হয় এবং কখনো কখনো মল বেরিয়ে আসে। ফিশ্চুলা যথেষ্ট বেদনাদায়ক এবং সার্জারি করেই এই রোগের নিরাময় ঘটে। ডঃ পূর্ণেন্দু রায় জানাচ্ছেন যে ফিশ্চুলার অন্যতম কারণ হল মলদ্বারে ইনফেকশন বা ফোঁড়া হওয়া। অনেকসময় ক্রনজ ডিজিস, টিউবারকিউলোসিস এবং ডাইভারটিকিউলাইটিস এর কারণেও ফিশ্চুলা হয়। 

এর উপসর্গ কি ?
# অসহনীয় একটানা ব্যথা হওয়া। বিশেষ করে বসার সময় অত্যন্ত অস্বস্তি হওয়া। 
# মলদ্বার ফুলে যাওয়া, চুলকানি হওয়া এবং লাল হয়ে যাওয়া। 
# পুঁজ বেরোনো ও রক্তক্ষরণ। 
# মলত্যাগে যন্ত্রনা ও কোষ্ঠকাঠিন্য।  
# জ্বর হওয়া। 

তাহলে ফিশ্চুলার চিকিৎসা কি ?
এর একমাত্র চিকিৎসা হল সার্জারি। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করবে মলদ্বারের ঠিক কোন জায়গায় ফিশ্চুলা হয়েছে তার ওপর। নিচে কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল। 
# ফিশ্চুলোটমি  - ৯০% সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এক -দু মাস সময় লাগে। 
# সিটন - এই পদ্ধতি একটি সার্জিক্যাল থ্রেডের মাধ্যমে করা হয়। অনেকসময় অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করার আগে সিটন ব্যবহার করা হয়।
# ফিশ্চুলেক্টোমি - এই পদ্ধতিতে ফিশ্চুলা ট্রাক্ট কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। জটিল ফিশ্চুলার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটিই শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা। 
# লেজার ট্রিটমেন্ট - এই আধুনিক পদ্ধতিতে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে না। এতে অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় সেরে উঠতেও কম সময় লাগে। 

এছাড়াও আরও পদ্ধতি আছে যা জটিল ফিশ্চুলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অবলম্বন করেন। 

সুতরাং এসমস্ত রোগ যদি আপনার হয়ে থাকে এবং আপনি যদি লজ্জা ও কুণ্ঠার ভেলায় ভেসে বেড়ান তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই কোনোরকম সঙ্কোচ না করে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া ভীষণ জরুরী। মনে রাখবেন এই সমস্ত রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়াটাই আপনার পক্ষে অত্যন্ত মঙ্গলের। নাহলে ইনফেকশনের কবলে পড়ে শেষকালে কি মুখ আর 'ইয়ে' দুটোই খোয়াবেন নাকি ?

#piles #fissure #fistula #medicalarticles #genesishospitalkolkata #asprescribed

Sunday, 3 September 2017

The Right Nutrition


Nutrition is the most significant point of health and well-being. It makes you strong, provides you with energy to perform and above all makes you look and feel good. According to WHO, "Nutrition is the intake of food, considered in relation to the body’s dietary needs". Nutrition is an issue of survival, health and development for current and succeeding generations. 
Malnutrition is defined as "a state of poor nutrition caused by insufficient or unbalanced diet". It is one of the major health problems especially in developing countries. Malnutrition is estimated to contribute to more than one third of all the child deaths. One out of three world's malnourished children live in India. Malnutrition has its adverse effects on human health, growth and development. It also results in loss of productivity and economic backwardness.
Good nutrition combined with a regular physical activity is the cornerstone of good health. Healthy children learn better, implement better and grow better. People with adequate nutrition are more productive comparatively. On the other hand, poor nutrition will lead to reduced immunity, increased vulnerability to disease, impaired physical and mental development, and reduced productivity. We often get confused about our right intake, their necessity and impact on our lives. So, let us find out answers to some of those very important questions which we keep asking to Doctors every now and then because good nutrition prepares healthy individuals and it eventually leads to a healthy nation.

What are the elements of a Healthy Diet?
Food consists of six specific types of nutrients: proteins, carbohydrates, fats, vitamins, minerals and water, all of which are necessary for life, growth, body function and tissue repair.
What is Balanced diet?
A balanced diet is one which provides all the types of nutrients in prescribed amounts and proper proportion. It includes fruits and vegetables, grains, roots, beans, pulses, nuts and animal products.
Can you explain in terms of calories requirement?
A balanced diet should provide around 50-60% of total calories from carbohydrates, preferably from complex carbohydrates, about 10-15% from proteins and 20-30% from both visible and invisible fat.
What is the role of fruits?
Fruits contain vitamins, minerals, fibres and plant chemicals (phytonutrients).
Why do we need Calcium?
Calcium is essential for strong and healthy bones.
Which are the best sources of calcium?
Rich sources of calcium are milk, cheese, yoghurt and green leafy vegetables.
Are cooking oils good for the health?
No single oil can do the job. It is always recommended to use a combination of oils either blended or by rotation. Such as, groundnut oil, soya bean oil, sunflower oil, rice bran oil so that you get the benefit of all.
Will eating tomatoes and spinach cause stones in the kidney?
No. These are unfounded fears. Eating tomatoes and spinach may be little harmful to those who are prone to formation of stones in the kidneys.
Does excessive eating of salt increase blood pressure?
Yes, excessive eating of salt increase blood pressure
What is the role of breast milk for infants?
Breast milk is the single most important food for infants.
Why breast milk is considered as single most important food for infants?
Breast milk contains adequate amount of proteins, fats, calories, lactose, vitamins, iron, minerals, water and enzymes. It also boosts immunity of the baby which further protects baby from several infections. It is quick and easy to digest.

Nutrition Tips
  • Eat fresh food with minimum of processing.
  • Eat raw fruits and vegetables whenever possible because cooking destroys many nutrients.
  • Wash the fruits and vegetables thoroughly and eat them with skin on
  • Don't cut, wash or soak fruits and vegetables until you are ready to eat them.
  • Prefer traditional, homemade food as compared to fast food.
  • Avoid replacing main meals with snacks
  • Limit consumption of sugar and unhealthy processed foods.
#nutrition #genesishospitalkolkata #health #medicalarticle #asprescribed

Information courtesy: https://www.nhp.gov.in/national-nutrition-week-2016_pg

Saturday, 19 August 2017

Myths of Jaundice


Jaundice has always found a place in the list of most common sickness. However, it deals with lot of myths which people have believed over the decades and acted in ways which have led to many dangers. Let’s put an eye of some of the very common myths and get a reality check on the same.

Myth: Jaundice is a disease.
Reality: Jaundice is not a disease by itself but a symptom of high level of bilirubin in the blood.

Myth: Jaundice happens solely due to water-borne infections.
Reality: Water-borne infections like hepatitis A and E do cause jaundice but they are not the only causes. Hepatitis B and C, malaria, leptospirosis and dengue also cause jaundice and they are not water-borne. Obstruction of the bile duct due to bile stones or cancer also leads to jaundice.

Myth: Jaundice is due to liver problems.
Reality: Not always. Excess breakdown of red blood corpuscles in the blood and obstruction to the flow of bile can also cause jaundice known as obstructive jaundice.

Myth: In jaundice, itching means you are recovering.
Reality: Obstructive jaundice is often accompanied by intense itching. But it is not a sign of recovery.

Myth: Excess sleepiness is normal during jaundice.
Reality: Though fatigue is common, excessive sleepiness (drowsiness) or altered sleep patterns (daytime sleepiness and sleeplessness at night) is not normal. It's a warning sign that indicates acute liver failure, which needs emergency medical care.

Myth: Once jaundice is diagnosed, you don't need to investigate further since there is no treatment for the condition.
Reality: It is important to evaluate jaundice further with the help of liver function tests to know its severity and cause. Only then can we facilitate complete recovery. Often, the cause of jaundice is treatable. But if we don't investigate further and get to the root of the problem, the cause might remain untreated, which can lead to complete liver damage (cirrhosis of the liver) or sudden worsening of liver functions (fulminant liver failure), which can be life threatening. Some causes like obstruction of the bile duct may need either endoscopic intervention or surgery to relieve the condition.

Myth: A person with jaundice should eat bland food with no spices and that too in less quantity to help the liver recover fast. The person should also abstain from eating non-vegetarian food.
Reality: You don't need to switch to a bland diet, as it will do no good. In fact, improper nutrition causes lack of nutrients, which may aggravate nausea. Doctors advise not eating food with strong flavours during jaundice because it could precipitate nausea. You need to consume a normal diet with moderate spices and eat light and well-balanced meals. This provides the body with the right nutrients and helps the liver heal faster. Small, frequent meals help keep the food in the stomach as most patients suffer from nausea and vomiting. This improves the overall daily calorie intake, which facilitates recovery. You can eat non-vegetarian food, provided it is cooked adequately and hygienically.

Myth: Adults with jaundice should consume anti-inflammatory foods such as turmeric and ginger. However, they need to go easy on the turmeric as the yellow colour of turmeric can aggravate symptoms.
Reality: There is no evidence to suggest that consumption of any of these substances helps the liver recover. Also, the yellowness of turmeric does not add to that of bilirubin to aggravate jaundice. So, consumption of these in moderation is advised and will not do any harm.

Myth: Sugarcane juice is the best treatment for jaundice.
Reality: Although sugarcane is a good source of carbohydrates, which helps increase the nutrition quotient of your diet, it is definitely not a treatment option.

Myth: When a newborn has jaundice, it means that the baby is not adjusting to her mother's milk. The baby should be fed water instead.
Reality: Breast milk is the best, safest and the only complete food option for a newborn. Do not administer water as it may worsen the jaundice and may even cause a host of other infections if it is not clean. It is important to continue to only breastfeed the baby. You may also have to wake the baby for feeds as babies with jaundice are often more sleepy than others.

So if you are diagnosed with jaundice, keep aside the myths, stay calm and follow your doctor's advice strictly. That is the only safest and fastest way of getting better.

#jaundice #mythsofjaundice #genesishospitalkolkata #health #medicalarticle #asprescribed

Information courtesy :http://timesofindia.indiatimes.com/life-style/health-fitness/health-a-z/jaundice/params/diseasearticle/cat-myths/msid-54310589
https://completewellbeing.com/article/yellow-lies/