Showing posts with label ই.এন.টি. Show all posts
Showing posts with label ই.এন.টি. Show all posts

Thursday, 25 July 2019

এক বিস্ময়কর সত্য ঘটনা !

আট মাসের অবোধ শিশু চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে দক্ষিণের জানলা দিয়ে। পৌষের কুসুম কুসুম রোদ তার কচিবেলা ছুঁয়ে দিয়ে যায় নিরন্তর। পেঁয়াজি রঙের নরম তুলতুলে কাঁথায় অপত্য স্নেহের ওম জড়িয়ে রাখেন তার বাবা মা - শ্যামল ও কাকলি দেবনাথ। যাঁরা আদর করে ছেলের নাম রেখেছেন - শৌভিক। এমন স্নিগ্ধ টলটলে মধ্যবিত্তের সংসারে কখন যে শৌভিককে নিয়ে সময় কেটে যায় কেউ জানে না। হঠাৎ একদিন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় এই নিশ্চিন্ত পরিবারে ঘনিয়ে আসে বিষাদের কালো ছায়া। 

কোনো এক বিকেলের নরম আলোয় খেলা করতে করতে শৌভিকের কাকা প্রথম খেয়াল করেন তার ডাকে শৌভিক তেমন ভাবে সাড়া দিচ্ছে না। অথচ চোখ মেলে তাকানো, কচি আঙুলে কাকার গাল ছুঁয়ে দেখা, সমস্তটাই স্বাভাবিক নিয়মে ঘটছে। শুধু ডাকার সময় শৌভিক আশ্চর্য ভাবে নিরুত্তর থাকছে। প্রথমটা অবশ্য শিশুর সরল অভিব্যক্তি ভেবে পাত্তা দেননি শ্যামল ও কাকলি। কিন্তু পরবর্তী কালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তাঁরা দেরি না করে পাড়ার একজন শিশু বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিলেন। বেরা (BERA) টেস্টের মাধ্যমে ডাক্তার নিশ্চিত করলেন যে শৌভিক প্রায় বধির। শ্যামল ও কাকলিকে তিনি অবিলম্বে একজন ই.এন.টি চিকিৎসকের সাথে দেখা করতে বললেন। একবুক কষ্ট আর মনখারাপের মেঘ নিয়ে তাঁরা দেখা করলেন একজন বিশেষজ্ঞের সাথে। বিভিন্ন পরীক্ষার পর তিনিও নিশ্চিত করলেন শৌভিকের যথেষ্ট শুনতে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর পরামর্শ মতো একটি বেসরকারী  সংস্থার দ্বারস্থ হলেন দম্পতি। সেখানে বিশেষজ্ঞের কথা অনুযায়ী তাঁরা শৌভিককে দিলেন নন ডিজিটাল হিয়ারিং এড (non digital hearing aid)। 

দেখতে দেখতে বছর দুয়েক কাটল। ততদিনে শৌভিকের ঠোঁটে আধো আধো শব্দ বুদবুদের মতো ফুটে উঠেছে। এছাড়া লিপ রীডিং করেও সে কথা বলার চেষ্টা করে চলেছে একটানা। কিন্তু সংস্থায় মূল্যায়নে দেখা গেল শৌভিক তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। তাঁদের পরামর্শে এবার শ্যামল ও কাকলি শৌভিককে ডিজিটাল হিয়ারিং এড (digital hearing aid) দিলেন। বছর দেড়েক কেটে গেল এরপর। ডিজিটাল এডে কয়েক শতাংশ উন্নতি হলেও আশানুরূপ ফল মিলল না একেবারেই। শ্যামল ও কাকলির নিরলস ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল এবার, অনিবার্যভাবেই। একমাত্র পুত্রের প্রতিবন্ধকতা ছিন্নভিন্ন করে দিতে লাগল তাঁদের হৃদয়। সমস্তটা বুঝে সংস্থার বিশেষজ্ঞ কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্টেশনের (cochlear implantation) পরামর্শ দিলেন। কেটে গেল আরও দেড় বছর। ততদিনে শৌভিক একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগে সামান্য অগ্রগতি হলেও ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে লাগল কথা বলার ক্ষেত্রে।  

উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে তাঁরা কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্টেশনের সিদ্ধান্ত নিলেন। পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে অসহায়, উদ্বিগ্ন বাবা মা শেষ চেষ্টার আশায় জেনেসিস হাসপাতালের অন্যতম ই.এন.টি (E.N.T) সার্জেন ডঃ সৌমিত্র ঘোষের দ্বারস্থ হলেন। বিভিন্ন টেস্টের পর সার্জারির দিন ঠিক হল। ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ র সকালে শুরু হল কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট সার্জারি। টানা সাড়ে তিন ঘন্টা সার্জারির পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এল শৌভিক। ডঃ ঘোষের ইশারায় শ্যামল তাঁর ছেলেকে নাম ধরে ডাকলেন। বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল তাঁর পরম আদরের সন্তান। বাঁধ মানল না কাকলি ও শ্যামলের চোখের জলও। হাসপাতালের তৃতীয় তলে তখন আনন্দের বন্যায় ভেসে বেড়াচ্ছেন পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। শ্যামলের কথা অনুযায়ী 'নবজন্ম' ঘটল শৌভিকের। 

পাঠকদের বলি এই গল্প শুধুমাত্র বিস্ময়কর সত্য ঘটনা নয়, শ্যামল কাকলির একমাত্র সন্তানের জীবন্ত দলিল। তাঁদের স্বপ্ন সাকার হওয়ার এক অত্যন্ত মধুর, বাস্তব চিত্র। সুতরাং বধিরতা এখন আর কোনো সমস্যাই নয়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ফিরে পাওয়া যেতে পারে শ্রবণ ক্ষমতা। আপনার সন্তান, পরিচিত, বা কোনো আপনজনের যদি এমনই উপসর্গ দেখা দেয় এবং কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্টেশনের প্রয়োজনীয়তা পড়ে তাহলে বলব অবিলম্বে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এই ধরণের  প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় জেনেসিস হাসপাতাল সর্বদা প্রস্তুত।

আমাদের সাথে যোগাযোগ করার উপায় - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩ ৪০২২ ৪২৪২।
কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্টেশন নিয়ে বিশদে জানতে হলে এই লিংক ক্লিক করুন - https://docs.wixstatic.com/ugd/c72522_2135963da147417890acabb3a63dc6df.pdf
ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।




#cochlearimplant #hearingproblems #medicalarticles #ENT #GenesisHospitalKolkata #Prescriptiontheke 


Friday, 7 December 2018

কিছু কিছু কথা



মনের সাথে শরীরের অমিলটা, রূপান্তরিত লিঙ্গ এবং রূপান্তরকামীদের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ। বাহ্যিক অবয়বের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে যে মানুষটি অধিকাংশ সময়ই কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর  সমস্যা হয় প্রচুর। কপালে জোটে নানান বিদ্রূপ ও লাঞ্ছনা। কারণ ধ্বনি খাপ খায়না শরীরের সাথে। একজন রূপান্তরকামী পুরুষ তাঁর পোশাকের ধারায় বদল আনতে পারলেও গলার স্বরটা কিন্তু তাঁর  পুরুষেরই থেকে যায়। তবে আর চিন্তা নেই ! একঝাঁক অভিজ্ঞ ই.এন.টি সার্জেন  এবং স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্ট-দের তত্ত্বাবধানে জেনেসিস হাসপাতাল ও ডেসিবেল হিয়ারিং ক্লিনিক  (DBHCL) - এর যুগ্ম প্রচেষ্টায় এখন ধ্বনি রূপান্তরের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন ! আপনার ভিতরের পুরুষ বা মহিলা এবার থেকে বাঙময় হবে। কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই এখন প্রাণ খুলে কথা বলা যাবে আকাঙ্খিত ধ্বনিতে। সার্জারি এবং স্পীচ থেরাপির মাধ্যমে সমস্তটা হবে খুবই স্বাভাবিকভাবে, কোনোরকম জটিলতা ছাড়াই। জেনেসিস হাসপাতাল ও DBHCL এর ই.এন.টি সার্জেন  এবং স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্টরা শুধু এটা দাবীই করছেন না বরং হাতে কলমে করে দেখাচ্ছেন একের পর এক।

দিল্লী, আসানসোল, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রূপান্তরকামী এবং রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষরা অত্যন্ত সফলভাবে এই সার্জারি করিয়েছেন এবং আশাতীত ফল পেয়েছেন। এখনো অবধি ৭ জনের পুরুষ থেকে মহিলা ধ্বনি রূপান্তর করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি সার্জারি দুর্দান্ত ভাবে সফল প্রমানিত হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হল এই অস্ত্রোপচার, অধিকাংশ সময়, লোকাল অ্যানাস্থেসিয়ার মাধ্যমে এক ঘন্টার মধ্যেই করে ফেলা যায় এবং একদিন পরেই রুগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরুষ থেকে মহিলা রূপান্তরের ক্ষেত্রে, প্রয়োজন পড়লে গলার নমনীয় ভাবটাও এনে দেওয়া হয়।

যে সমস্ত মানুষরা এই ধ্বনি রূপান্তর করিয়েছেন তাঁরা বলছেন যে তাঁরা এক নতুন জীবনের সন্ধান পেয়েছেন। পাল্টে গেছে তাঁদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিকোণ, তাঁদের শরীরের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ফেলে তাঁরা এখন অন্য মানুষ, অনেক পরিবর্তিত, আরও অনেক বেশি স্বাধীন। কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হল -

# একজন শিক্ষক বলছেন যে রূপান্তরিত হলেও কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের পর সমস্ত বাধা কাটিয়ে তিনি এখন এগিয়ে চলেছেন নতুন জীবনের দিকে।

# একটি নার্সিং হোমের একজন জনসংযোগ আধিকারিক ফিরে পেয়েছেন তাঁর হৃত আত্মবিশ্বাস। নার্সিং হোমের সমস্ত পরিস্থিতি এখন তিনি নিঁখুত হাতে সামলাচ্ছেন।

# ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর সংগ্রামের পর একজন মডেল এখন সফলভাবে কাজ করছেন এই ধ্বনি রূপান্তরের দৌলতে।

জেনেসিস হাসপাতাল ও DBHCL - এর চিকিৎসকরা একযোগে দেখাচ্ছেন এক নতুন আলোর দিশা। রূপান্তরকামী বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষদের কাছে এ যে এক বৈপ্লবিক জাগরণ, এ বিষয় কোনো সন্দেহ নেই। যদিও ভারতবর্ষের দু একটা সংস্থায় ধ্বনি রূপান্তর করা হয় তবে পশ্চিমবঙ্গের বুকে এই প্রয়াস হল সর্বপ্রথম তথা চমকপ্রদ। সুতরাং যাঁরা ধ্বনি রূপান্তর করতে চান অথচ এখনো পর্যন্ত কোনো উপায় খুঁজে পাননি তাঁরা দেরি না করে অবিলম্বে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২। বেছে নিন নতুন করে বেঁচে ওঠার পথ।

#Transgendervoicetransformation #transgenderissues #GenesisHospitalKolkata #DBHCL #Asprescribed

Friday, 17 August 2018

এলার্জিক রাইনাইটিস ! একটি বিরক্তিকর সমস্যা



উল্টোডাঙা নিবাসী হরিপদ সান্যাল সদ্য এস.এস.সি পাশ করে একটা স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি  পেয়েছেন। স্কুলের প্রথম দিন। হরিপদ গম্ভীর মুখে অষ্টম শ্রেণীর ঘরে ঢুকলেন। ঘরভর্তি ছাত্র, নতুন শিক্ষকের রাশভারী ভাব দেখে অনেকেরই মুখ থমথমে। হরিপদ দু চারটে প্রাথমিক কথা বলে নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটা বেমক্কা হাঁচির তোড়ে মুখ ফস্কে বেরিয়ে এল, "আ.. আঃ নাম হরিপদ...হ্যাঁচ্চো" !! মুহূর্তে ক্লাস জুড়ে হাসির বন্যা বয়ে গেল। গম্ভীর পরিবেশটা আমূল বদলে গিয়ে ফাজলামিতে পরিণত হল। দু একটা ফচকে ছেলে জিজ্ঞেস করে বসল, "হ্যাঁ, কি নাম বললেন স্যার"?? হরিপদ খানিক থতমত খেয়ে সামলে নিয়ে আবার নিজের নাম বলতে গেলেন। 

কিন্তু এবারও যথারীতি বিরাট হাঁচির তোড়ে নামটা জিভের ডগায় জড়িয়ে সমস্তটা তছনছ হয়ে গেল। তিনি এবারও  বললেন, "আঃনাম…..হরিপদ....হ্যাঁচ্চো" ! বলাই বাহুল্য এরপর থেকে হরিপদ সান্যাল  নাম বদলে গিয়ে হরিপদ হ্যাঁচ্চো হয়ে সম্পূর্ণ ভুল কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এমনকি স্কুলের সহকর্মীরা পর্যন্ত তাঁকে নতুন নামে ডাকতে শুরু করে দিলেন। হরিপদর অবশ্য এ সমস্যা বহুদিনের। সামান্য সিজন চেঞ্জ বা ধুলো ময়লার কারণে হরিপদ হেঁচে হেঁচে পাগল হয়ে ওঠেন। ব্যাপারটা যখন স্কুল অবধি পৌঁছে গেল তখন হরিপদ আর থাকতে না পেরে একজন ই.এন.টি চিকিৎসককে দেখালেন। তিনি বললেন হরিপদর এলার্জিক রাইনাইটিস আছে। আসুন জেনে নিই এই এলার্জিক রাইনাইটিস কি।
     
সাধারণত অ্যালার্জেন (allergen) নামক একটি বস্তু থেকে এলার্জি হয়। এলার্জিক রাইনাইটিস, বা হেম জ্বর, এমনই কিছু নির্দিষ্ট অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। ফুলের রেণু হল এলার্জিক রাইনাইটিসের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে যেমন - 

# ঘাসের রেণু
# ধুলো
# পশুদের শুকনো চামড়া
# বিড়ালের লালা
# মোল্ড - এক ধরণের ছত্রাক যা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে জন্মায় 

তাছাড়া কিছু বাহ্যিক কারণেও এই রোগ হতে পারে। যেমন - ধূমপান বা কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, ঠাণ্ডা তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুদূষণ, নির্দিষ্ট কোনো সুগন্ধি, ধোঁয়া ইত্যাদি। 

উপরোক্ত কারণে কিছু মানুষের সারা বছর ধরেই এলার্জিক রাইনাইটিস থাকে আবার কোনো কোনো মানুষের একটা নির্দিষ্ট ঋতুতে এই সমস্যা হয়। যেমন বসন্তের শুরুতে বা শীতের আগে বেশি হয়। তবে এই ধরণের এলার্জি যেকোনো মানুষেরই হতে পারে। যাদের এলার্জিক রাইনাইটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা এজমা (asthma), একজিমা (eczema) আছে তাদের ক্ষেত্রে এটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রেও কতকটা একইরকম। শুধু খেয়াল রাখতে হবে বছরের কোনো একটা নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে কিনা। তা যদি হয় তাহলে ওই সময়টিতে শিশুটির বিশেষ যত্ন নিতে হবে। জামাকাপড় নিয়মিত ধোয়া, বাড়ির ভিতর ও আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি খুবই জরুরি। তবে এর সাথে কিছু জটিলতাও দেখা দিতে পারে যেমন - শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট বা শ্বাস টানার সময় শব্দ হওয়া। এমনটা হলে দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। 

এই রোগের বেশ কিছু উপসর্গ আছে। যেমন - 


# সাংঘাতিক হাঁচি
# নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
# কাশি
# গলা ফুলে যাওয়া
# চোখ দিয়ে জল পড়া বা অস্বস্তি
# চোখের তলায় কালি
# মাঝে মাঝেই মাথা ব্যাথা হওয়া
# এক্জিমা অর্থাৎ ত্মকে চুলকানি হওয়া
# ক্লান্তিভাব ইত্যাদি 

মনে রাখবেন এই উপসর্গগুলি সহজ মনে হলেও এই রোগ কিন্তু আপনা আপনি সেরে যায় না। কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আছে যা করলে এই রোগের উপশম হয়। অন্যথায় বেশ কিছু জটিলতা তৈরী হতে পারে। যেমন -
# এজমা হতে পারে বা থাকলে আরও বেশি হতে পারে
# কানের সংক্রমণ
# সাইনুসাইটিস বা সাইনাসের সংক্রমণ
# রাত্রে ঘুমোনোয় সমস্যা 

তাহলে এর চিকিৎসা কি ?

এলার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসা অত্যন্ত সহজ এবং সরল। এর বেশ কিছু ওষুধ আছে যেমন - ফেক্সোফেনাডিন, ডিফেনহাইড্রামিন, সেট্রিজিন, লোরাটাডিন ইত্যাদি যা একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে নিয়মিত খেলেই অনেকটা সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু চোখের ড্রপ বা নাকের স্প্রে আছে যা এই ধরণের সমস্যায় ভালো কাজ দেয়। আরও দুটি চিকিসা পদ্ধতি আছে যাদের নাম হল - ইমিউনোথেরাপি এবং সাবলিঙ্গুয়াল ইমিউনোথেরাপি। একটায় ইনজেকশন নিতে হয় আর আরেকটায় জিভের তলায় এক ধরণের ট্যাবলেট রাখতে হয়। দু ক্ষেত্রেই যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। তবে আপনার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য হবে সেটা কিন্তু আপনার চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এছাড়া সিলভার নাইট্রেট প্রয়োগ করে কেমিকাল কটারাইজেশন পদ্ধতিতেও এই রোগের চিকিৎসা করা যায়। 


তবে সমস্যা যদি গভীর হয় এবং অনেকদিন ধরে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে জেনেসিস হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ই.এন.টি বিভাগে যোগাযোগ করুন। যোগাযোগের নম্বর - 8584883884 / 40224242 । আমাদের ই.এন.টি বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের সমস্যার সহজ সমাধান দিয়ে থাকেন।

#allergicrhinitis #ENT #nasalproblem #respiratoryproblem #GenesisHospitalKolkata #prescriptiontheke

Tuesday, 7 August 2018

কানভারী


বর্ষার বিকেল। বৃদ্ধ অখিলেশ তার ছোট্ট ঘরে একটা তক্তপোশের ওপর বাবু হয়ে বসে আছেন। মুখে চোখে চিন্তার ছাপ। আদ্যিকালের সিলিং ফ্যানের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না প্রায়। উল্টোদিকের চেয়ারে গম্ভীরমুখে বসে আছেন অখিলেশের উকিল। খানিক্ষন চুপ করে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উকিল ভদ্রলোকটি মুখ ফুটে বললেন, 'আপনি কিন্তু আরেকবার ভেবে দেখতে পারতেন.....মানে এই নিয়ে চারবার হল কিনা'। দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বিরসবদনে অখিলেশ বললেন, 'না হে সুকান্ত, চারবার যখন করেছি তখন পাঁচবারে কোনো ক্ষতি নেই। এই সম্পত্তি আমি দান করে দেব, আমার আর কোনো মোহ নেই'। 

এখানে নেপথ্যের গল্পটা জানা দরকার সকলের, তাহলেই গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। অখিলেশ গত কয়েক বছর ধরে ভীষণ কানের সমস্যায় ভুগছিলেন। অবস্থা এমন পর্যায় গিয়ে দাঁড়ায় যে শেষটায় প্রায় বধির হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। চুপচাপ একজন ই.এন.টি বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে তিনি হিয়ারিং এড ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে করে আরও কাল হয়। চোরাগোপ্তা নিজের ছেলেমেয়েদের যে কথোপকথন তিনি শুনতে পেয়েছিলেন তাতে বাধ্য হয়ে চারবার উইল চেঞ্জ করতে হয়েছিল তাঁকে। শেষটায় সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর সম্পত্তি কোনো ছেলেমেয়েকে না দিয়ে সম্পূর্ণ দান করে দেবেন এক বৃদ্ধাশ্রমে। আর ঠিক সেই কারণেই আজ উকিলবাবুর আগমন। সুতরাং বধির হলেই যে সমস্যা হয় তা কিন্তু নয়, পুনরায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাওয়ারও গ্যাঁড়াকল আছে কিছুটা। তবে গল্পের মজা থেকে সরে এসে বলব সর্বক্ষেত্রে কিন্তু সুস্থ জীবনই কাম্য। 

এই সূত্রে জানাই যে বধিরতার কিছু প্রকারভেদ আছে এবং প্রত্যেক ভেদের সমস্যা কিন্তু ভিন্ন। সুতরাং কোন ধরণের বধিরতা সেটা প্রথমেই জানা থাকলে তার চিকিৎসায় সুবিধে হয়। এক এক করে বলি। 

১. অডিটরি প্রসেসিং ডিসর্ডার (APD) - দেখা গেছে প্রায় ৫% স্কুল পড়ুয়া শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত। এই সমস্যায় কান আর মস্তিস্কের কোনো সমন্বয় ঘটে না। যার ফলে শুনতে বা বুঝতে যথেষ্ট সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে শিশুটি, শব্দ বা ধ্বনির তারতম্য ধরতে পারে না। আরও অসুবিধে হয় যখন শিশুটি কোনো শব্দবহুল পরিবেশে থাকে যেমন  - খেলার মাঠ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা গানের অনুষ্ঠান ইত্যাদি। তবে চিন্তার কিছু নেই। সঠিক চিকিৎসা বা থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা  অনেকটাই প্রবল। প্রয়োজন শুধু আগাম রোগ নির্ণয়, তা না হলে পরবর্তীকালে ভাষা ও কথা বলায় বিস্তর সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ডেফ মিউটিজমের কারণেও APD হতে পারে। জন্মগত ভাবে যদি কেউ বধির হয় তাহলে সে জন্মগত ভাবে মূকও হয়। তার কারণ কথা বলার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি ঠিক থাকলেও শব্দ না শুনতে পাওয়ার ফলে সে কোনো শব্দই তৈরী করতে পারে না।

২. কন্ডাক্টিভ হিয়ারিং লস - যখন কানের বহির্ভাগ এবং মধ্যভাগে শব্দ পৌঁছতে পারে না তখনই  কন্ডাক্টিভ হিয়ারিং লস হয়। এক্ষেত্রে মৃদু শব্দ একেবারেই শোনা যায় না এবং জোরে শব্দ হলে জড়িয়ে যায়। বেশ কিছু কারণে এই সমস্যা হয়। যেমন - 


# ঠান্ডা বা এলার্জি থেকে কানের মধ্যে তরল জমতে পারে
# কানের সংক্রমণ
# ইউস্টাশিয়ান টিউবের সঠিক ভাবে কাজ করতে না পারা
# কানের পর্দায় ফুঁটো
# টিউমার, যা কানের বহির্ভাগ এবং মধ্যভাগ আটকে দিতে পারে # কানের মধ্যে প্রচুর ময়লা জমা হওয়া  
# কানের মধ্যে কোনো কিছু আটকে থাকা
# কানের অভ্যন্তরীণ গঠনে সমস্যা

তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এমনটা হলে কিছু ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের সাহায্যে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

৩. সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস - কানের অভ্যন্তরীণ অংশ বা ককলিয়ায় চুলের মতো সরু সরু কিছু কোষ থাকে যা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। ফলস্বরূপ, যত বয়স বাড়ে তত শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। চিকিৎশাস্ত্রে একে বলা হয় প্রেসবাইকিউসিস (Presbycusis) তবে শুধুমাত্র এটাই কারণ নয়। অতিরিক্ত শব্দের কারণেও এই কোষগুলি নষ্ট হতে পারে। যেমন কাজের সূত্রে শব্দপ্রবণ পরিবেশে সময় কাটানো বা অনেক্ষন ধরে ভীষণ জোরে গান শোনা ইত্যাদি। এছাড়া মাম্পস, মেনিঞ্জাইটিস, স্কলেরোসিসের মতো রোগ হলেও সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস হতে পারে। জেনে রাখুন কিছু ওষুধ বা এন্টিবায়োটিকের কারণেও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া মাথায় বা কানে সাংঘাতিক চোট লাগলেও শ্রবণক্ষমতা লোপ পেতে পারে। এর একমাত্র চিকিৎসা হল সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং এড অথবা অস্ত্রপচার যার দরুন এই সমস্যা আংশিকভাবে ঠিক হওয়া সম্ভব। এছাড়া একুয়াস্টিক নিউরোমা নামে একটি রোগের কারণেও এই হিয়ারিং লস হতে পারে। মস্তিষ্কের এক বিশেষ স্নায়ুতে টিউমার হওয়ার ফলে কানের এই সমস্যাটি হয়।

৪. মিক্সড হিয়ারিং লস - মিক্সড হিয়ারিং লস হল কন্ডাক্টিভ এবং সেন্সরিনিউরাল সমস্যার সমষ্টি বিশেষ। এর অর্থ হল কানের বহির্ভাগ, মধ্যভাগ এবং অভ্যন্তরীণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হ্রাসের পরিমাণ অল্প থেকে বেশিও হতে পারে। এর কারণগুলি হল কন্ডাক্টিভ এবং  সেন্সরিনিউরাল কারণের মতোই। এর চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার গভীরতার ওপর। অর্থাৎ ওষুধ বা হিয়ারিং এড ব্যবহার করে কাজ হতে পারে আবার প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার বা বোন কন্ডাকশন ইম্প্ল্যান্টও করতে হতে পারে।

এর চিকিৎসা আছে নাকি চিরকাল কালা হয়েই থাকতে হবে ?
অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বধির হয়ে থাকার দিন শেষ। বিভিন্ন পদ্ধতি আছে যার প্রচেষ্টায় আবার আপনার হৃতগৌরব ফিরে আসতে পারে। সেই সমস্ত পদ্ধতি নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

# কান পরিষ্কার - একজন ই.এন.টি চিকিৎসক অত্যন্ত সাবধানে এই কাজটি করে থাকেন। তেল ব্যবহার করে এবং ইরিগেটর যন্ত্রের সাহায্যে কানের সমস্ত ময়লা ধুয়ে বা টেনে বের করে আনা হয়।

# অস্ত্রোপচার - কানে যদি সাংঘাতিক আঘাত লাগে বা কোনোরকম সংক্রমণ হয় তাহলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

# হিয়ারিং এড - কানের অভ্যন্তরীণ ভাগের সমস্যার কারণে যদি শ্রবণক্ষমতা লোপ পায় তাহলে    
সেক্ষেত্রে হিয়ারিং এডের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। তবে অবশ্যই একজন ই.এন.টি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাজ করা উচিত।
# ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট - যদি আপনার শ্রবণশক্তি একেবারেই লুপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট আপনার জন্য দারুন একটি বিকল্প হতে পারে কারণ এটি হিয়ারিং এডের থেকেও উন্নত। ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হল একটি ইলেক্ট্রনিক চিকিৎসা যন্ত্র যা একটি ক্ষতিগ্রস্ত কানের অভ্যন্তরীণ অংশের কাজ করে। এই ইমপ্ল্যান্টটি মস্তিষ্কে শব্দের সিগন্যাল পাঠাতে সাহায্য করে। একটি ছোট্ট সার্জারির মাধ্যমে এটি বসিয়ে দেওয়া হয় কানের ভিতরের দিকে। এই সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক ক্লিক করুন -
https://docs.wixstatic.com/ugd/c72522_2135963da147417890acabb3a63dc6df.pdf


সুতরাং, এবার কিন্তু আপনাকে আর চোখ মুখ কুঁচকে, কানের পাশে হাত রেখে, উল্টোদিকের মানুষের মুখের ওপর ঝুলে পড়তে হবে না। বা হাসিহাসি মুখে তার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে বুঝতে হবে না তিনি  সিঙ্গাপুর বলছেন নাকি শ্রীরামপুর বোঝাচ্ছেন। কানের সমস্যা যেমনই হোক না কেন, তার যে একটা বাস্তবিক চিকিৎসা আছে তা কিন্তু ওপরের লেখা থেকেই পরিষ্কার। এখন আপনি আপনার অনুমান ক্ষমতার ওপর ভরসা করবেন নাকি একবার কানের চিকিৎসা করিয়ে নেবেন সে সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। শুধু এটুকু বলতে পারি জেনেসিস হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ই.এন.টি বিভাগ এই বিষয়ে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম। যোগাযোগের নম্বর - ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২। 

সবশেষে একটা আশ্চর্য তথ্য দিই। শিশুরা কিন্তু প্রথম শুনতে শুরু করে গর্ভে থাকাকালীন ২৩ থেকে ২৭ সপ্তাহের মধ্যে। শুধু তাই নয়, মায়ের গলার স্বর এবং অন্যান্য শব্দও আলাদা করে তারা চিনতে  পারে। তাই গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুকে বিশেষ কোনো সঙ্গীত বা শব্দ যদি নিয়মিত শোনাতে পারেন তাহলে জন্মের পর তাকে সামলানো সহজ হবে। 


#deafness #hearingloss #ENT #medicalarticle #bengalihealtharticle #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata

Wednesday, 4 April 2018

খতরনাক


নাসিকা গর্জন যেমন অতিরিক্ত হলে আমাদের বিরক্তির শেষ থাকে না তেমনি নাসিকা বর্ষণ হলেও কিন্তু চিন্তার অন্ত থাকে না। বিশেষ করে নাক দিয়ে যদি হঠাৎ রক্তপাত হয় তাহলে সারা বাড়ি মাথায় তুলে নেওয়ার একটা চালু রেওয়াজ আছে আমাদের। ঠিক তারপরেই যেটা ঘটে তা হল এই রক্তপাতের সাথে কোন কোন রোগের সম্পর্ক আছে তা নিয়ে একটা জম্পেশ আলোচনা শুরু করে দেওয়া বা নিজে নিজেই নানারকম আকাশকুসুম ভাবতে বসে যাওয়া। এক্ষেত্রে যেটা করণীয় তা হল মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে রক্তপাতকে আয়ত্তে আনা। তার আগে আসুন একটু জেনে নিই যে কি কি কারণে রক্তপাত হতে পারে এবং এই নিয়ে কোনো উদ্বেগের অবকাশ আছে কিনা। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাক থেকে রক্তপাতের ঘটনাকে এপিসট্যাক্সিস বলে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা উষ্ণ আবহাওয়ায় এপিসট্যাক্সিসের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটা যেকোনো বয়েসেই হতে পারে তবে ২ থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে এবং ৫০ থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের মধ্যে বেশি হয়। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা এবং দু ধরণের হয়ে থাকে। যথা -

# নাকের অগ্রভাগ থেকে রক্তপাত - নাকের অভ্যন্তরীণ কোনো শিরা বা উপশিরা থেকে এই রক্তপাত ঘটে থাকে এবং এই রক্তপাতকে খুব সহজেই আয়ত্তে আনা যায়।
# নাকের পশ্চাৎভাগ থেকে রক্তপাত - এই রক্তপাত খুব একটা বেশি দেখা যায় না তবে বয়স্ক মানুষদেরই সাধারণত হয় এটা। নাকের পশ্চাৎভাগে অবস্থিত ধমনী থেকে এই রক্তপাত হয়। এক্ষেত্রে রক্তপাতের মাত্রা অনেক বেশি এবং হলে অবশ্যই একজন ই.এন.টি বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত।

এমনটা হওয়ার কারণ কি ?
নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণে প্রচুর ক্ষুদ্র শিরা আছে যা ছোট্ট আঘাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে যথেষ্ট। তবে অত্যন্ত সাধারণ কারণগুলি হল -
#  শুকনো বাতাস - যখন নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণ শুকিয়ে যায় তখনই রক্তপাত বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে বেশি। অতি গ্রীষ্মের সময় বা অতিরিক্ত শীতল জায়গায় এই সমস্যাটা হয়। 
# নাক খোঁটা - এই অভ্যাস যদি আপনার থাকে তাহলে বলব অবিলম্বে সংবরণ করুন নিজেকে।  

এছাড়াও আর যে যে কারণে রক্তপাত হয় তা হল     
# সাইনাসের ইনফেকশন 
# এলার্জি 
# সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা নাক ফুলে গেলে 
# নাকে কিছু আটকে থাকা 
# বক্র নাকের হাড়  
# হিমোফিলিয়া - রক্ত জমাট না বাঁধার ব্যাধি 
# এসপিরিনের ব্যবহার 
# ওয়ার্ফরিন ও হেপারিনের ব্যবহার 
# কোকেনের ব্যবহার 
# ন্যাসাল স্প্রের অতি ব্যবহার 
# ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে র অভাব
# উচ্চ রক্তচাপ 
# বার্নার্ড সোলার ডিজিজ - প্লেটলেটের সমস্যা 
# এনিমিয়া 
# ডেঙ্গু জ্বর  

রক্তপাত বন্ধ করার কি উপায় আছে ?
রক্তপাত বন্ধ করার কিছু সহজ সরল উপায় আছে। সবার আগে যেটা করতে হবে তা হল - 
# শান্ত থাকুন, অযথা ভয় পাবেন না 
# সোজা হয়ে বসুন এবং মাথাটা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখুন  
# মাথা পিছনে হেলাবেন না, এতে রক্ত আপনার গলা দিয়ে নেমে পেটে চলে যেতে পারে 
# আঙ্গুল দিয়ে ১০ মিনিট নাক চেপে রাখুন, একটু কষ্ট হলেও করুন 
# মুখে কোনো রক্ত থাকলে ফেলে দিন, গিলে নিলে বমি হয়ে যেতে পারে
# এলার্জি হলে আস্তে হাঁচুন বা নাক ঝাড়ুন, বেশি জোর দেবেন না  

সাধারণ রক্তপাতে এগুলো করলে অনেকটাই কাজ দেবে। তবে এরপরেও যদি রক্তপাত হতে থাকে তাহলে বেশ কয়েকটা উপায় আছে যার মাধ্যমে রক্তপাত আয়ত্তে আসে অনেকটাই। যেমন -

# পোষ্টেরিয়ার নেসাল প্যাক - প্রথমে একটা সরু ক্যাথিটার নাকের মধ্যে দিয়ে ঢুকিয়ে মুখের ভিতর থেকে বের করে আনা হয়। ক্যাথিটারের শেষ ভাগে একটা প্যাক বেঁধে দেওয়া হয়। এই প্যাকের মধ্যে থাকে এন্টিবায়োটিক ওষুধ। এরপর নাকের ভিতর থেকে ক্যাথিটার বের করে আনলে ওই প্যাকটি বসে যায় নাকের পশ্চাৎভাগে অর্থাৎ ঠিক যেখান থেকে রক্তপাত হচ্ছে। প্যাকের শেষপ্রান্তে একটা সরু সুতো বাঁধা থাকে যা মুখের ভিতর থেকে বের করে এনে একটা টেপ দিয়ে গালে আটকে রাখা হয়। ৪৮ ঘন্টা পর রক্তপাত আয়ত্তে এলে এই প্যাক খুলে ফেলা হয়। এছাড়া ফোলি ক্যাথিটার ব্যবহার করেও রক্ত বন্ধ করা হয়।

# কটারি - এই পদ্ধতিতে একটা সিলভার নাইট্রেট স্টিক দিয়ে নাকের অভ্যন্তরীণ আস্তরণে বুলিয়ে দেওয়া হয়। এই রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একটা এসিড তৈরী হয় এবং ওই আস্তরণের কিছু কিছু অংশ পুড়ে যায়, যার ফলে রক্তপাত কমে। এছাড়া রক্তপাতের স্থান চিহ্নিত করে বাইপোলার কটারিজেশন পদ্ধতিতে ইলেক্ট্রিক কারেন্টের মাধ্যমে নাকের অভ্যন্তরীণ টিস্যুগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সুফল পাওয়া যায়।

# নেসাল এন্ডোস্কোপি - একটা ফাইবার অপটিক সরু যন্ত্র, লাইট আর একটা ছোট্ট ক্যামেরার মাধ্যমে এন্ডোস্কোপি করা হয়। এই যন্ত্রটি নাকের ভিতর ঢুকিয়ে নাকের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয় রক্তপাতের সঠিক কারণটা কি। এরপর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং এতে বিরাট কিছু সমস্যা হয় না।

অতএব সাধারণভাবে যদি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি এই সমস্যা আপনার চিরকালীন হয় আর আপনি যদি এখনো কোনো ইএনটি বিশেষজ্ঞকে না দেখিয়ে থাকেন তাহলে বলব আপনি অযথাই ঝুঁকি নিচ্ছেন। সামান্য নাক নিয়ে নাকানি চোবানি খাবার দরকার কি বলুন তো ? খাবার তো আরো অনেক জিনিস আছে, তাই না ?

#epistaxis #nosebleeding #nasalendoscopy #cautery #nasalpack #medicalarticle #bengalihealtharticle #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata



Thursday, 7 December 2017

কণ্ঠের কণ্টক


"হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে" - উত্তর কলকাতার ডাকসাইটে উকিল সুধীর গাঙ্গুলি এই লাইনটিকে প্রায় বেদবাক্যের মতো মেনে চলেন। কোনোরকম আইনি মামলা হোক বা সামাজিক ইস্যু, আন্তর্জাতিক ঘটনা থেকে পাড়ার হাইড্রেন আঁটকে যাওয়ার মতো যে কোনো বিষয়ে সুধীরবাবু তাঁর উচ্চকণ্ঠের প্রতিধ্বনিতে নিজস্ব বক্তব্য রাখতে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন গান বাজনা, শিক্ষকতা, রাজনীতি এবং ওকালতি, এই সমস্ত পেশায় গলার জোর যদি না থাকে তাহলে জনগন কিছুতেই আপনাকে পাত্তা দেবে না। মিনমিন করা মানুষদের সুধীরবাবু মোটেই দুচক্ষে দেখতে পারেন না। 

এহেন সুধীরবাবু কোনো এক শীতের ভোরবেলায় উঠে দেখলেন তাঁর গলা দিয়ে ঘড়ঘড়ে হাওয়া ছাড়া আর কোনোরকম আওয়াজই বেরোচ্ছে না। আঁতকে উঠলেন তিনি। চোখের সামনে ভেসে উঠল তিনি কোর্টের মধ্যে হাত মুখ নাড়িয়ে কতকটা ইশারাতেই একের পর এক কেস লড়ছেন আর হেরে যাচ্ছেন। একলাফে বিছানা ছেড়ে উঠে তিনি বাড়ির সমস্ত লোককে ধরে ধরে বোঝাবার চেষ্টা করলেন যে তিনি বোধহয় বোবা হয়ে যেতে বসেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির লোকজন প্রায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচবার জোগাড় করছিলেন। কিন্তু সেসমস্ত চিন্তা ভাবনাকে দূরে সরিয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল একজন ইএনটি স্পেশালিস্টের কাছে। সমস্তটা দেখে শুনে তিনি বললেন উকিলবাবুর  টন্সিলাইটিস হয়েছে। সুধীর গাঙ্গুলি তাঁর কণ্ঠরোধের আশঙ্কায় মুষড়ে পড়লেন প্রায়। কি এমন রোগ হল ? আসুন জেনে নিই। 

টন্সিলাইটিস কি ?
গলার পিছন দিকে যে দুটি লিম্ফ্ নোড থাকে তাদেরকেই টন্সিল বলে। টন্সিল, শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। মুখের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করা ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস প্রতিরোধে টন্সিলের কার্যকরী ভূমিকা রীতিমত উল্লেখযোগ্য। এই টন্সিলে যখন কোনো সংক্রমণ হয় তখন তাকে টন্সিলাইটিস বলে। এই রোগটি সাধারণত শিশুদের হয়ে থাকে এবং যথেষ্ট সংক্রামকও বটে। কিছু সাধারণ ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে স্ট্রেপ থ্রোট হয়। এই স্ট্রেপ থ্রোট থেকেই টন্সিলাইটিসের জন্ম। তবে সময়মত চিকিৎসা না করলে পরবর্তীকালে এই রোগের জটিল আকার ধারণ করার বিলক্ষণ সম্ভাবনা থেকে যায় কিন্তু। তাই বলে সাংঘাতিক ভয়ের কিছু নেই কারণ টন্সিলাইটিস চিহ্নিত করা যায় খুব সহজেই। এর নানান উপসর্গগুলি নিম্ন লিখিত দেওয়া হল।

উপসর্গ 
# গলা ফুলে যাওয়া এবং অসম্ভব ব্যাথা হওয়া
# খাবার গিলতে সমস্যা বা ব্যাথা হওয়া
# মুখে গন্ধ
# জ্বর
# ঠাণ্ডা লাগা
# কানে ব্যাথা
# ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
# টন্সিল লাল হওয়া বা ফুলে যাওয়া
# টন্সিলে সাদা বা হলুদ স্পট দেখা দেওয়া

কার হতে পারে এই রোগ ?
সাধারণত শিশুদের হলেও লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কোনো বয়েসের মানুষের টন্সিলাইটিস হতে পারে। স্ট্রেপ টেস্ট বা ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ নিশ্চিত করা হয়।

কত রকমের টন্সিলাইটিস হয় ?
সাধারণত তিন রকমের হয়।
# একিউট টন্সিলাইটিস - সাধারণ টন্সিলাইটিসেরই নামান্তর। উপরোক্ত উপসর্গগুলি দেখা যায় এক্ষেত্রে।
# রেকারেন্ট টন্সিলাইটিস - সারা বছর ধরে একাধিকবার এই রোগ হয়।
# ক্রনিক টন্সিলাইটিস - সাধারণ টন্সিলাইটিসের থেকে অনেক বেশি জটিল হয় এই রোগ। এর উপসর্গগুলি হল প্রচণ্ড গলা ব্যথা হওয়া বা ফুলে যাওয়া, মুখে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস হওয়া।

এর চিকিৎসা কি ?
খুব সাধারণ টন্সিলাইটিস হলে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। দু তিন দিনের মধ্যে এমনিই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগ যখন জটিল হয় তখন কিন্তু এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে। একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিৎ এবং সম্পূর্ণ কোর্স করাই বাঞ্ছনীয়।
সাধারণ টন্সিলাইটিস হলে প্রচুর পরিমানে জল খেতে হবে ও উষ্ণ লবন জলে নিয়মিত গার্গল করলে অনেকটাই উপশম ঘটবে। এছাড়া জলে বিটাডিন সল্যুশন মিশিয়ে গার্গল করলেও দিব্যি উপকার পাবেন। 

সার্জারির সাহায্যেও টন্সিলাইটিস নিরাময় করা হয়। এই পদ্ধতিকে বলে টন্সিলেক্টমি। এই পদ্ধতি একসময় বহুল প্রচারিত ছিল। তবে বর্তমানে যে রুগীর ক্রনিক বা রেকারেন্ট টন্সিলাইটিস হয়, তাদের ক্ষেত্রেই সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোবলেশন টেকনোলজি উপস্থাপিত হওয়ার পর বলা যেতে পারে এই সার্জারিতে অনন্য বিপ্লব ঘটেছে। দুর্দান্ত পরিবর্তন এনেছে এই যুগান্তকারী পদ্ধতি। তার কারণ, অন্যান্য টন্সিলেক্টমি পদ্ধতির তুলনায় কোবলেশন টেকনোলজিতে খুব সামান্যই ব্যাথা হয়, রক্তক্ষরণের সম্ভাবনাও অনেক কম থাকে এবং চিকিৎসকরাও অত্যন্ত সহজ ভাবে এই সার্জারি সম্পন্ন করতে পারেন। যার ফলে রুগীরা অনেক দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারেন। বাকি পদ্ধতির তুলনায় সার্জারির পরবর্তী জটিলতাও অনেকটাই কম এক্ষেত্রে।

এই কোবলেশন টেকনোলজি কলকাতার বুকে বিরল। তবে সম্প্রতি জেনেসিস হসপিটালে এমনিই একটি ব্যায়বহুল কোবলেশন টেকনোলজি স্থাপন করা হয়েছে। যার দ্বারা এখন বহু সার্জারি অপেক্ষাকৃত কম সময় ও বিনা জটিলতায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই রুগীরা সেরে উঠছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। 

সুধীরবাবুর কিন্তু কদিন ধরেই ঘুসঘুসে জ্বর, খুসখুসে কাশি ইত্যাদি সমস্তরকম উপসর্গ দেখা দিচ্ছিল। কিন্তু সেসব সামান্য ইতর বিশেষ রোগজ্বালাকে তিনি চিরকাল একফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে এসেছেন। তাই অবহেলায় ও অজান্তে তিনি এমন এক রোগ ডেকে আনলেন যা তাঁর কণ্ঠরোধের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল। আপনার ক্ষেত্রে এই ধরণের যদি কোনো উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে কিন্তু অসময়ে বীর হওয়ার চেষ্টা করবেন না। অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন অথবা জেনেসিস হসপিটালের স্পেশালিস্ট ইএনটি ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করুন যার ঠিকানা এখানেই পেয়ে যেতে পারেন প্রায় বিনা কসরতে। 

#healtharticle #tonsillitis #tonsillectomy #coblation #healthnews #GenesisHospitalKolkata #asprescribed

Thursday, 12 October 2017

নিদ্রাবিলাস


এক ঘুমে কি রাত কাবার হচ্ছে না ? আপনার নাক ডাকার জ্বালায় কি বাড়ির লোকজন বিরক্ত ? নাকি আপনি ঘুমোলে পাড়ার লোকজন জেগে উঠছে ? যদি সবকটা প্রশ্নের দিকে আপনি করুন মুখ করে তাকিয়ে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন আপনার স্লিপ স্টাডির বিশেষ প্রয়োজন আছে। কি ভাবছেন ? গ্রূপ স্টাডি শুনেছেন, স্লিপ স্টাডিটা আবার কি জিনিস ? তাহলে বলি, এটি একটি পরীক্ষা এবং এর মাধ্যমে জেনে নেওয়া যায় আপনার ঘুমের কোনো সমস্যা আছে কিনা বা কোনোরকম নিদ্রাজনিত রোগের দ্বারা আপনি আক্রান্ত কিনা। এই পরীক্ষার নাম পলিসমনোগ্রাফি। এর মাধ্যমে ব্রেন ওয়েভ, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, হৃদস্পন্দন, শ্বাস প্রশ্বাস, চোখ এবং পায়ের ম্যুভমেন্ট ইত্যাদি রেকর্ড করা হয়। আপনার ঘুমের যদি কোনো অস্বাভাবিক প্যাটার্ন থাকে বা আপনার স্লিপ এপ্নিয়া হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এই পরীক্ষায় ধরা পড়বে। সুতরাং অহেতুক দেরি করে নিজের এবং বাড়ির লোকের বিপদ আর বাড়াবেন না। পলিসমনোগ্রাফি করিয়ে নিন আর ছোট্ট করে জেনে নিন স্লিপ এপ্নিয়া কি। 

স্লিপ এপ্নিয়া কারে কয়  ?
স্লিপ এপ্নিয়া হল একরকম ঘুমের ব্যাধি। ঘুমোনোর সময় শ্বাসজনিত সমস্যার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে কিছু সেকেন্ড বা মিনিটের বিলম্ব হলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। সারারাতে বহুবার এই শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। এরই সাথে তাল মিলিয়ে চলতে থাকে অস্বাভাবিক নাক ডাকা। এই রোগ যাঁদের আছে তাঁরা সমস্তদিন ক্লান্তিতে ভোগেন ও অসময়ে তাঁদের ঘুম পেতে থাকে। স্লিপ এপ্নিয়ার ফলে রোগীর নানারকম শারীরিক সমস্যাও হয়, যার ফলে প্রতিদিনের কাজে ও মনোঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। মূলত স্লিপ এপ্নিয়া তিন ধরণের হয়।

১. অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপ্নিয়া - এটি তখনই হয় যখন ঘুমের মধ্যে গলার পিছনে থাকা সফ্ট টিস্যু কোল্যাপ্স করে বায়ুনালীর পথ রোধ করে। এই রোগটিই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

২. সেন্ট্রাল স্লিপ এপ্নিয়া - যখন মস্তিস্ক শ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশীকে সংকেত পাঠাতে ব্যর্থ হয় তখনই এই রোগটি হয়। এই সমস্যাটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (central nervous system) সাথে যুক্ত।

৩. কমপ্লেক্স বা মিক্সড স্লিপ এপ্নিয়া - উপরের  দুটি স্লিপ এপ্নিয়ার সমন্বয়ের ফলে এই রোগ দেখা দেয়।

স্লিপ এপ্নিয়ার উপসর্গ কি কি ?
# ভীষণ জোরে নাক ডাকা
# ঘুমোনোর সময় হঠাৎ বিষম খাওয়া
# শ্বাস প্রশ্বাসে বিলম্ব
# শ্বাসকষ্টের কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া
# দিনের বেলায় ক্লান্তি ও অবসাদ
# গলায় ব্যাথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা
# অনিদ্রা ও তার ফলে শারীরিক অস্থিরতা
# রাত্রে বারে বারে টয়লেট যাওয়া
# সকালে মাথাব্যথা হওয়া

দেখে নিন স্লিপ এপ্নিয়ার প্রভাবে কি হতে পারে ?
# উচ্চ রক্তচাপ
# স্ট্রোক
# অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, হার্টফেল, হার্ট এট্যাক
# ডায়াবেটিস
# অবসাদ
# মাথাব্যথা   

আমার কি স্লিপ এপ্নিয়া হতে পারে ? 
স্লিপ এপ্নিয়া সাধারণত যে কোনো মানুষেরই হতে পারে, যে কোনো বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে। তবুও মূলত যে কারণে হয় সেগুলি হল :
# অতিরিক্ত ওজন
# ৪০ বছরের ঊর্দ্ধে বয়েস হলে 
# গলার আকার ১৬ - ১৭ ইঞ্চির বেশি হলে 
# টন্সিল বা জিহ্বার আকার যদি বড় হয়
# চোয়ালের হাড় যদি ছোট হয়
# এলার্জি বা সাইনাসের সমস্যাজনিত নাকে বাধা 
# পরিবারের কোনো সদস্যের যদি স্লিপ এপ্নিয়া হয়ে থাকে
# মদ্যপান, ধূমপান, ঘুমের ওষুধ বা ট্রাংকুইলাইজার এর অভ্যাস থাকে   

কিভাবে রেহাই পাবেন ?
# ওজন কমিয়ে ফেলুন, গলায় অতিরিক্ত টিস্যুর সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। 
# ধূমপান এড়িয়ে চলুন। এর ফলে গলা বা বায়ুনালী কোনোটাই ফুলবে না। 
# মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধ একেবারে বর্জন করুন, বিশেষ করে ঘুমের আগে।  
# নিয়মিত ব্যায়াম করুন। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে এবং ভালো ঘুম হবে। 
# ঘুমের আগে ভারী খাবার বা ক্যাফিন এড়িয়ে চলুন।  
# প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস করুন। সঠিক ঘুমের ফলে স্লিপ এপ্নিয়া সেড়ে যাবার সম্ভাবনা  অনেকটাই।

অতএব কষ্ট করে ঘুমোনোর দরকার কি ? চিকিৎসকের পরামর্শে চট করে পোলিসমনোগ্রাফি করিয়ে নিন, তারপর সামান্য কিছু বদল আনুন আপনার জীবনযাত্রায়। এ যাত্রায় যে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন তা কিন্তু হলপ করে বলতে পারি। অন্তত বাড়ির লোকজনও হাঁপ ছেড়ে ঘুমোক একটু। তাই না ?

#medicalarticle #sleepapnoea #sleepapnea #genesishospitalkolkata #asprescribed