Thursday, 15 March 2018

পানি, পানি রে.....


ভারতী ঘোষ, ছাপ্পান্ন বছর বয়েস, তিন কামরার ফ্ল্যাটে পুজো আচ্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। স্বামী রিটায়ার করেছেন বছর কয়েক হল। পুত্র, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে নিয়ে সচ্ছল পরিবার তাঁর। আজ বাড়িতে একটা বড় অনুষ্ঠান। তাঁর একমাত্র নাতির আজ অন্নপ্রাশন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ভর্তি লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের কোলাহলে চারিদিক মুখরিত। পুরোহিতমশাই অন্নপ্রাশনের পুজোয় বসেছেন এবং নাতির চারপাশে গোল হয়ে ঘিরে বসে আছেন বাকিরা। এমন আনন্দঘন পরিবেশে থেকে থেকেই বিভিন্ন কথায় হাসির রোল উঠছে। ভারতী দেবী প্রায় সমস্ত কথাতেই হোহো করে হেসে উঠছেন। এমন সময় আচম্কা তিনি এক ভীষণ হাসির কথায় জোর হাসতে গিয়ে একেবারে কেলেঙ্কারি করে ফেললেন। হাসতে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে তাঁর প্রিয় ঢাকাই শাড়িটিতে কলকল করে জলে ভাসিয়ে ফেললেন। এমন বেমক্কা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সবাই যত না ভ্যাবাচ্যাকা খেল, ভারতী দেবী তার দ্বিগুন মরমে মরে গেলেন। একঘর ভর্তি লোকের সামনে এমন অপ্রত্যাশিত কারণে লজ্জায় মাথা হেঁটে হয়ে গেল তাঁর। অনতিকাল পরেই সমস্তটা ধুয়ে পরিষ্কার করা হল। নাতির অন্নপ্রাশন তাতে আটকালো না বটে তবে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে উঠে তিনি অন্য ঘরে চলে গেলেন। বিকেলের দিকে ডাক্তার সমস্তটা শুনে ও পরীক্ষা করে বললেন, ভারতী দেবীর ইনকন্টিনেন্স হয়েছে। আসুন জেনে নিই এই বেয়াড়া সমস্যা কি এবং কিভাবে তাকে আয়ত্বে আনা যায়।

ইনকন্টিনেন্স কি ?
ইনকন্টিনেন্স বা অনিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং বিব্রতকর সমস্যা। এটি হলে শুধুমাত্র অস্বস্তি নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। না চাইতে বা আপনা আপনিই যখন প্রস্রাব বা মলত্যাগ হয়ে যায় তখন তাকে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা বলে। এর অর্থ হল, যে পেশীগুলি প্রস্রাব আটকে রাখতে সাহায্য করে সেই পেশীগুলি দুর্বল বা অক্ষম হয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষে তিনহাজার মহিলাদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ২১.৮% মহিলাদেরই এই সমস্যা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদেরই এই সমস্যা হয় বেশি।

এর উপসর্গ কি ? 
ইনকন্টিনেন্সের প্রধান উপসর্গই হল অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ। স্থান, কালের ওপর একেবারেই নির্ভরশীল নয় এই সমস্যা।

কত রকমের হয় ?
এই অনিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক রকমের হয়। যেমন -
# স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স - হাঁচি, কাশি বা হাসার সময় এবং ব্যায়াম বা কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় মূত্রাশয়ে চাপ পড়ে, ফলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়।
# আর্জ ইনকন্টিনেন্স - হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাব পেলে অনিচ্ছাকৃত মূত্রত্যাগ হয়। এক্ষেত্রে সারারাত ধরেও প্রস্রাব পায়। কোনোরকম সংক্রমণ বা ডায়াবেটিস হলে সাধারণত এই সমস্যাটি হয়।
# ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স - মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি না হলে ঘন ঘন প্রস্রাব পেতে থাকে।
# ফাংশনাল ইনকন্টিনেন্স - কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে সময়মত টয়লেট যাবার আগেই প্রস্রাব হয়ে যায়।

এর কারণ কি ?
এর বিভিন্ন কারণ হতে পারে। আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস বা কোনো মেডিক্যাল বা শারীরিক সমস্যার কারণে মূলত ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# স্থূলতা
# মদ্যপান
# অতিরিক্ত ক্যাফিন
# কার্বনেটেড পানীয়
# আর্টফিসিয়াল সুইটনার
# চকোলেট
# সাইট্রাস ফল
# হার্ট এবং ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ
# ভিটামিন সিএর অতিরিক্ত ডোজ
# এছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির জন্যেও হতে পারে

শুধু এটাই নয় বেশ কিছু স্বাভাবিক কারণেও ইনকন্টিনেন্স হয়। যেমন -
# গর্ভাবস্থা এবং সন্তানের জন্ম
# বয়সের সাথে সাথে মূত্রাশয়ের পরিবর্তন
# মেনোপজ
# হিস্টেরেক্টমি
# প্রস্টেটের বৃদ্ধি
# প্রস্টেট ক্যান্সার
# ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো বাধা বা
# স্নায়বিক রোগ

এর চিকিৎসা কি ?
এর চিকিৎসা বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করবে যেমন - অনিয়ন্ত্রণের ধরণ, রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য এবং তার মানসিক অবস্থা। নিম্নলিখিত কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল।

# ব্যায়াম - কেগল এক্সারসাইজ নামে কোমরের একটি ব্যায়াম আছে যা নিয়মিত করলে সুফল পাওয়া     যায়।
# মূত্রের বেগ নিয়ন্ত্রণ - মূত্রত্যাগের সময় একটু দেরি করে টয়লেট গেলে ভালো হয়। একটা নির্দিষ্ট           সময়ের পর পর টয়লেট গেলে উপকার পাবেন।
# ওষুধ - বেশ কিছু ওষুধ আছে যেমন - এন্টিকোলিনার্জিক, টপিক্যাল ইস্ট্রোজেন, ইমিপ্রামিন ইত্যাদি।     তবে বলাই বাহুল্য যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
# সার্জারি - বাকি পন্থায় কাজ না হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই ভালো।
   *স্লিঙ পদ্ধতি - মূত্রাশয়ের নিচে একটি জাল বা মেশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ মূত্রত্যাগের             সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
   *কল্পসাস্পেনশন - মুত্রাশয়টিকে একটু তুলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স থেকে রেহাই        পাওয়া যায়।
   *আর্টিফিশিয়াল স্ফিঙ্কটার - একটি কৃত্তিম ভাল্ভ মূত্রনালীর ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর দরুন           প্রস্রাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
# এছাড়া ইউরিনারি ক্যাথিটার বা এবসরবেন্ট প্যাড দিয়েও সাময়িক নিরাময় হয়। তবে এতে                     সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। 
# কিছু মেডিক্যাল যন্ত্র রয়েছে যার দ্বারাও চিকিৎসা করা যায়। যেমন - ইউরিথ্রাল ইন্সার্ট এবং পেসারি।     রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপি, বোটক্স, বাল্কিং এজেন্ট এবং সেক্র্যাল নার্ভ স্টিমুলেটর ব্যবহার করেও       প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সুতরাং ভারতী দেবীর মতো আপনারও যদি ইনকন্টিনেন্স হয়ে থাকে এবং উপরোক্ত ঘটনার মতো কোনোরকম বিপদের মধ্যে না জড়াতে চান তাহলে আর কালক্ষেপ না করে জলদি একজন ইউরোলোজিস্ট বা কোনো হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে দেখিয়ে নিন। মনে রাখবেন আপনার সম্মান কিন্তু আপনারই হাতে।


#incontinence #bengalimedicalarticle #womenproblems #AsPrecribed #GenesisHospitalKolkata

Saturday, 24 February 2018

দুরন্ত এক্সপ্রেস #





গৃহবধূ রণিতা বসু ঘুম ভেঙে আঁতকে উঠলেন। বিছানায় বাবলু নেই তার পাশে। এঘর ওঘর খুঁজে কোত্থাও না পেয়ে শেষটায় বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলেন তার আদরের বাবলু বাগানের মাটি খুঁড়ে একাকার করেছে। রাগের বশে একছুটে তিনি দুম করে এক কিল বসিয়ে দিলেন বাবলুর পিঠে। চার বছরের বাবলু সে কিলের তোয়াক্কা না করে দৌড়ে গিয়ে একপাশে ঝোলানো দোলনার চেন ধরে অবলীলায় হনুমানের মতো দোল খেতে লাগলো। রণিতা সেখানেও তাকে তাড়া করায় সে কলা দেখিয়ে সেখান থেকেও পালালো। তারপর রান্নাঘরে ঢুকে একটা স্টিলের থালা আর হাতা নিয়ে মনের সুখে বাজনা বাজাতে শুরু করল। বাগানের মধ্যেই রণিতা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। সংসারের সমস্ত কাজ সামলালেও তার আদরের বাবলুকে তিনি কিছুতেই যেন সামলে উঠতে পারছেন না। বাবলু চরম দুরন্ত হয়েছে, আর চার পাঁচটা ছেলে মেয়েদের থাকে বড্ড আলাদা। কারোর কোনো কথা তো শোনেই না উল্টে সর্বক্ষণই যেন এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো এদিক থেকে ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। শেষটায় একদিন স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করলেন একজন মনোবিদের সাথে। সমস্তটা দেখে তিনি বললেন বাবলুর এডিএইচডি (ADHD) অর্থাৎ এটেনশন ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসর্ডার আছে।এডিএইচডি কি এবং কেন হয় জানার আগে ছোট্ট করে দেখে নিন একটা পরিসংখ্যান। 

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রাথমিক স্কুল শিশুদের মধ্যে এডিএইচডির প্রভাব রয়েছে  প্রায় ১১.৩২ % । আরও জানা গেছে যে তুলনামূলক ভাবে নারী শিশুদের (৩৩.৩%) থেকে পুরুষ শিশুদের (৬৬.৭%) ক্ষেত্রেই বেশি এডিএইচডি হয়। পড়লে আশ্চর্য হবেন, নিম্ন আর্থ - সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব প্রায় ১৬.৩৩ % এবং মধ্য আর্থ - সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব ৬.৮৪% ।  এডিএইচডি হবার কারণ কি ?

কারণ 
এডিএইচডি হবার সঠিক কারণ এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যায় নি। তবে চিকিৎসক এবং গবেষকরা কয়েকটি নিম্নলিখিত কারণ বলছেন।  

# একটি এডিএইচডি শিশুর মস্তিস্ক সাধারণ শিশুর মস্তিষ্কের থেকে ৫% ছোট হয়। বিশেষ করে সেই সমস্ত জায়গাগুলি যেগুলি মনোযোগ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত। নিউরোট্রান্সমিটার নরএপিনেফ্রিন এবং ডোপামিনের অসামঞ্জস্য - এক্ষেত্রে একটি কারণ হতে পারে।

# মস্তিষ্কে রাসায়নিক, কাঠামোগত বা সংযোগের পার্থক্য হলে এডিএইচডি হয়। বেশীরভাগটাই জিনগত কারণে।

# এছাড়া গর্ভাবস্থায় ড্রাগের ব্যবহার বা মদ্যপান করলেও এডিএইচডি হতে পারে।

বৈশিষ্ট 
এডিএইচডির প্রধান বৈশিষ্টগুলি হল -
# অমনোযোগ - পড়াশোনার সময় অধ্যাবসায়ের অভাব ভীষণ ভাবে লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত শিশুটি একেবারেই মনোযোগী হয় না এবং সুষ্ঠভাবে কোনো কাজই করে উঠতে পারে না। তবে মনে রাখতে হবে এর অর্থ কিন্তু শিশুটি অবাধ্য বা তার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, এমনটা কিন্তু নয়।

# অতিচাঞ্চল্য - মাত্রাতিরিক্ত চঞ্চলতার ফলে শিশুটিকে একজায়গায় বসিয়ে রাখা সম্ভব হয় না কিছুতেই। এর ফলে অনেকসময়ই প্রতিকুল পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে। সাধারণত এরা একটানা কোনো একটা কাজ করতে থাকে বা অনর্গল কথা বলতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে  অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা যায়।

# অতিআবেগপ্রবণ - এরা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়। কোনো রকম জটিলতা বা ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই কোনো কাজ করে ফেলাটা এদের অন্যতম লক্ষণ। "উঠল বাই তো কটক যাই" - এই প্রবাদটা এদের ক্ষেত্রেই বোধহয় বেশি করে খাটে।

উপসর্গ 
অমনোযোগীর ক্ষেত্রে 

# স্কুলের কাজে বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল করা

# কোনো লেকচার বা আলোচনার সময় অমনোযোগী হওয়া, এছাড়া পড়ার সময় বারে বারে মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলা

# কারোর কথা না শোনা এবং স্কুল, বাড়ি বা অফিসের কাজ সময়মত শেষ করতে না পারা

# সংগঠিত ভাবে কাজ করায় সমস্যা, যেমন কোন কাজটা আগে বা পরে করা জরুরি, স্কুলে বা কাজের ক্ষেত্রে ডেডলাইন মিট করতে ব্যর্থ হওয়া।

# জিনিসপত্র এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা

# জরুরী কাজে অনীহা, যেমন হোমওয়ার্ক না করতে চাওয়া।  প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অফিসের জরুরি কাজগুলি নিয়মিত এড়িয়ে যাওয়া

# মাঝেমাঝেই নিজের জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা

# উদ্ভট চিন্তাভাবনায় মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলা

# প্রতিদিনের কাজ প্রায়ই ভুলে যাওয়া

অতিচাঞ্চল্য বা অতিআবেগপ্রবণতার ক্ষেত্রে 

# সারাক্ষণ উসখুস করা

# হঠাৎ করে নিজের সিট্ থেকে উঠে পড়া

# অনুপযুক্ত পরিস্থিতিতে সহজেই জড়িয়ে পড়া

# সর্বক্ষণ ছটফট করা বা একটা অস্থির ভাব থাকা

# অনর্গল কথা বলে যাওয়া

# প্রশ্ন শেষ হবার আগেই উত্তর দেওয়া, কোনো একটা আলোচনার মধ্যে হঠাৎ করে কথা বলে ওঠা

# অন্যের কাজে বাধা দেওয়া, ইত্যাদি

চিকিৎসা
এডিএইচডি একেবারে সেরে যাবে এমন কোনো ওষুধ বা পদ্ধতি এখনো অবধি বেরোয়নি। তবে বিশেষ চিকিৎসার দ্বারা এর উপসর্গগুলি কমানো যেতে পারে এবং কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা উন্নতি লাভ করা যেতে পারে। যেমন - 

# ওষুধ - বেশ কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের সাহায্যে অতিচাঞ্চল্য এবং আবেগপ্রবণতা  কমানো সম্ভব। এর ফলে কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যায়। এডিএইচডির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রচলিত ওষুধ হল 'স্টিমুল্যান্ট'। এই ওষুধটি মস্তিষ্কে নরএপিনেফ্রিন এবং ডোপামিন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে। চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

# সাইকোথেরাপি - বিহেভিওরাল থেরাপি দ্বারা একজন শিশুর ব্যবহার বা তার কাজের প্রতি মনোভাব বদলানো সম্ভব। এর মাধ্যমে সামাজিক দক্ষতা, অন্যের প্রতি ব্যবহার বা মনোভাবের যথেষ্ট উন্নতি হয়।এছাড়া ফ্যামিলি এন্ড ম্যারিটাল থেরাপির দ্বারা স্বামী, স্ত্রী বা পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি সাধন করা যায়। 

# শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ - পেরেন্টিং স্কিল ট্রেনিং এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিকের মাধ্যমে বাবা মায়েদের শেখানো হয় কিভাবে একজন এডিএইচডি শিশুকে সামলানো উচিত। পরিস্থিতি বিচারে শিশুটিকে যেমন পুরস্কৃত করতে হবে আবার সময়বিশেষে কঠোরও হতে হবে। আবার জটিল পরিস্থিতিতে কিভাবে নিজেদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে শিশুটিকে সামলানো উচিৎ তারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া সাপোর্ট গ্রূপের সাহায্যে শিশুদের বাবা মায়েরা একে অন্যের সাথে সমস্যার কথা আলোচনা করতে পারেন এবং কি কি ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে তারও একটা সম্যক ধারণা তৈরী করতে পারেন। এতেও যথেষ্ট সুফল পাওয়া যায়।

# মিরাক্যালস এবং টার্নিং পয়েন্ট নামে দুটি সংস্থা আছে যাঁরা কলকাতায় এডিএইচডি শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। যথাক্রমে ওয়েবসাইট হল - http://www.miraclespecialschool.com/contact-us.html . এবং http://www.turningpoint.org.in/disha.asp. এছাড়া ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স, পার্ক স্ট্রিট - এ এই শিশুদের চিকিৎসা করা হয়।

সুতরাং ধৈর্য ধরে রাখাটাই কিন্তু এক্ষেত্রে সবথেকে জরুরী। নিয়মিত শিশুটিকে সময় দিতে হবে এবং তার সমস্ত ব্যবহার বা কাজের দিকে মনোযোগ দিয়ে তার মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করতে হবে। মাথা গরম করে দু চার ঘা দিয়ে ফেললে কিন্তু শিশু এবং তার বাবা মা, দুজনেরই লোকসান বই লাভ কিছু হবে না। বরং দিনে অন্তত কিছুটা সময় বাইরে নিয়ে গিয়ে খোলা মাঠে খেলতে দিন। ঘুমোনোর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন এবং ঘুমোনোর বেশ কিছুটা আগে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনমত স্কুল থেকে আপনার সন্তানের রিপোর্ট চেক করুন। লক্ষ্য রাখুন কমপ্লেন খুব বেশি আসছে কিনা। সেক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে বসে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বার করুন। বলাই বাহুল্য আপনার শিশুটিকে সঠিক ভাবে পথ দেখানো কিন্তু আপনারই দায়িত্ব, এটা ভুলে গেলে কিন্তু বড় রকমের গাড্ডায় পড়তে হবে। #ADHD #attentiondeficithyperactivitydisorder #medicalarticle #learningdisabilities #learningdisorder #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed

Tuesday, 13 February 2018

তারাদের কথা


যে বিষয়ে নিয়ে একটা গোটা হিন্দী ছবি তৈরী হয়েছে, সেই বিষয়ের নাম আমাদের প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু শুধু জেনে রাখলেই কাজ শেষ হয় না, বরং সেখান থেকেই শুরু । ছবিতে ঈশান অবস্তির করুণ সময়ের কথা ভাবলেই আমাদের বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে। 'তুঝে সব হ্যায় পাতা....মেরি মা' এই গান শুনলে আজও চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে, একথা সত্যি, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ব্যাস ! ওই পর্যন্তই। পরবর্তী সময়ের সংগ্রাম ও নিরলস পরিশ্রমের কথা আমরা ভাবতেও পারি না, তার কারণ আমরা একটা গল্প তৈরী হতে দেখেছি, চেষ্টা করেছি সে গল্পের সাথে বাঁচতে কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করিনি। আমাদের বাড়িতে যদি এমনই একজন ডিস্লেক্সিক শিশু থাকত তাহলে কিন্তু সমস্যাটা আর রুপালি পর্দার মোড়কে বন্দী হয়ে থাকত না। দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব বোধহয় পাহাড়ের থেকেও ভারী মনে হত তখন। কঠিন হলেও এমন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কি কি উপায় আছে আসুন একটু দেখে নিই।     

ডিস্লেক্সিয়া কি ?
ডিস্লেক্সিক একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ হল শব্দের সমস্যা। এর নানা রকম সংজ্ঞা থাকতে পারে, তবে  সহজ ভাষায় ডিস্লেক্সিয়া হল একপ্রকার অক্ষমতা যার দরুন পড়তে, লিখতে বা বুঝতে সমস্যা হয়। জেনে রাখা ভালো যে এই সমস্যাটি কিন্তু সম্পূর্ণ ভাষাগত এবং এর সাথে বুদ্ধিমত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং বাড়িতে যদি ডিস্লেক্সিক শিশু থাকে তাহলে তার মেধা নিয়ে আশঙ্কিত হবার কোনো প্রয়োজন নেই। দেখা গেছে শিশুরা ডিস্লেক্সিক হলেও অন্যান্য বিষয়ে তারা বেশ প্রতিভাশালী হয়। এমন চমকপ্রদ উদাহরণ বহু আছে। তবে তার আগে জেনে নিই ঠিক কি কারণে ডিস্লেক্সিয়া হয়। 

কি কারণ ?
ডিস্লেক্সিয়া এসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া শিশুরা কোনো না কোনো ভাবে ডিস্লেক্সিয়ায় আক্রান্ত। আমাদের দেশের বহুভাষার সমস্যাও কিন্তু এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সাধারণত ডিস্লেক্সিয়ার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা যায় নি, তবু কিছু তথ্যের ফলে একটা সম্যক ধারণা তৈরী করা যায়। যেমন - আমরা জানি যে একজন বাঁহাতির ক্ষেত্রে ডানদিকের মস্তিস্ক বেশি সক্রিয় এবং একজন ডানহাতির ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বাঁদিক। কিন্তু একজন ডিস্লেক্সিকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোন দিকটি বেশি সক্রিয় তা নিয়ে বিভ্রান্তির ফলে তথ্যের সরলীকরণে সমস্যা হয়। এছাড়া জিনগত বা পরিবেশগত কারণেও ডিস্লেক্সিয়া হতে পারে। তাহলে কিভাবে বুঝবেন একটি শিশু ডিস্লেক্সিক ? আসুন জেনে নিই। 

উপসর্গ কি ?
# পড়বার সময়ে সমস্যা  
# ডিস্লেক্সিক শিশুদের তুলনামূলক ভাবে সাধারণ কাজে দেরি হয় বেশি - যেমন হাঁটাচলা, কথা বলা, সাইকেল চড়া ইত্যাদি 
# ভুল উচ্চারণ করা, ছড়া বলায় সমস্যা এবং শব্দের তফাৎ করতে না পারা 
# অক্ষর ও তার উচ্চারণে বিলম্ব হওয়া, রঙ চিনতে সমস্যা হওয়া বা গণিতে অসুবিধা 
# সাধারণ খেলাধুলায় সমস্যা 
# ডানদিক - বাঁদিক গুলিয়ে ফেলা 
# অক্ষর বা সংখ্যা উল্টো করে লেখা এবং বানানে সমস্যা 
# কোনো কাজে মনোযোগী না হওয়া
# ডিস্লেক্সিক শিশুরা এমনভাবে পরপর তাদের ভাবনাগুলিকে ব্যক্ত করে যা অযৌক্তিক বা অপ্রয়োজনীয়ও মনে হতে পারে
# এছাড়া এজমা, এক্জিমা বা অন্য ধরণের এলার্জিও হয়ে থাকে ডিস্লেক্সিক শিশুদের 

এ সমস্যার সমাধান কি ?
এই ধরণের সমস্যা অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। বরং বাবা মায়েদের আরেকটু বেশি যত্নবান হতে হবে, তাহলেই সমস্যাগুলি সহজে ধরা পড়বে।

# প্রথমেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে শুরু করুন। তাহলে শিশুটির পক্ষে সমস্ত কিছু বুঝতে অনেকটাই সহজ হবে। কোনোভাবেই ধৈর্য হারানো চলবে না।  

# ডিস্লেক্সিক শিশুদের সাধারণত জানার ইচ্ছে প্রবল হয়। যুক্তিসম্মত উত্তর পেলে শিখতে দেরি হয় না তাদের। লেখার ওপর জোর দিন বেশি, শুধুমাত্র কানে শুনে শিখে ফেলা কঠিন কিন্তু। 

# বিজ্ঞানের বিষয়গুলি টেবিল বা চার্টের মাধ্যমে বোঝান। এতে সহজ হবে অনেকটাই।

# অডিও ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে বেশ সুফল পাওয়া যায়। যে কোনো বিষয় চিত্রের মাধ্যমে বোঝালে মনে রাখতে সুবিধে হবে। 

#  বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিন। যেমন - একটা প্যারাগ্রাফ পড়ানোর পর বিভিন্ন ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশ্ন করুন। এতে ভালো কাজ দেয়। 
# ফ্ল্যাশ কার্ডের সাহায্যে শেখালে ভালো হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরপর পুনরায় চেষ্টা করুন। 

# বস্তুর আকৃতি ও আয়তন সঠিক ভাবে বুঝিয়ে দিন। যেমন - বৃত্ত ও গোলকের তফাৎ বুঝিয়ে দিন সুনির্দিষ্ট ভাবে। জ্যামিতিক আকারগুলি ভালো করে বোঝানো প্রয়োজন। 

# নিয়মিত যোগাসন মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের অভ্যেস করান, সুফল পাবেন।

# স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের সাথে আলোচনা করে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে এই বিষয়ের ওপর সেমিনার করতে পারেন। এতে দু পক্ষই উপকৃত হবে।

# ডিস্লেক্সিক শিশুদের চিহ্নিত করার কিছু টেস্ট আছে। এই লিংকটি ক্লিক করে জেনে নিন আপনার বা আপনার পরিচিত কোনো শিশু ডিস্লেক্সিক নয়তো ! https://www.lexercise.com/tests/dyslexia-test
উপরন্তু কলকাতার বুকে একটি সংস্থা আছে যাঁরা ডিস্লেক্সিক শিশুদের অত্যন্ত যত্ন নিয়ে শেখান। তাঁদের ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হল -  http://www.breakingthroughdyslexia.com/index.php
এছাড়া কলকাতায় এমন অনেক স্কুল আছে যেখানে অন্যান্য শিশুদের সাথেই ডিস্লেক্সিক শিশুদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। 

ঈশান অবস্তি গল্পের চরিত্র হলেও বাস্তবিক এমন অনেকেই আছেন যাঁরা ডিস্লেক্সিক হয়েও পরবর্তী জীবনে সাফল্যের উচ্চতায় পৌঁছেছেন। উদাহরণস্বরূপ যাঁদের নাম বলছি তাঁরা অতীব জনপ্রিয় শুধু নন, স্ববিভাগে নির্দিষ্ট ছাপ রেখে গেছেন। তাঁরা দেখিয়ে গেছেন প্রতিভা গোপন থাকে না, সঠিক সময় নিজ গুণবলে নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাঁরা হলেন - এলবার্ট আইনস্টাইন, পাবলো পিকাসো, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, জর্জ ওয়াশিংটন, জন এফ কেনেডি, ওয়াল্ট ডিজনি, জন লেনন, রিচার্ড ব্র্যানসন, স্টিভেন স্পিলবার্গ, টম ক্রুজ, জিম ক্যারি এবং আরও অনেক বিখ্যাতরা যাঁদের নাম বলতে গেলে এই লেখা হয়ত কোনোদিন শেষ হবে না। 

সুতরাং আপনার বাড়িতে যদি একজন ডিস্লেক্সিক শিশু থাকে তাহলে ভেঙে না পড়ে তার প্রতিভার দিকে নজর দিন। কে জানে হয়ত কোনো একদিন তারই কৃতিত্বে আপনি গর্বিত হবেন। আপনার মতো করে নয়, ওদের চোখ দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে শিখুন, কতকটা ওদের মতো করেই বাঁচুন, এ পৃথিবী অনেক নিষ্পাপ ও আলোকজ্জ্বল মনে হবে, আমি একশোভাগ নিশ্চিত।

#Dyslexia #DyslexiaAssociationofIndia #Learningdisability #Learningdisorder #Medicalarticle #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed 

Friday, 2 February 2018

সব মহিলাদের বলছি !



কিছু কিছু বিষয় প্রায় অধিকাংশ সময় পর্দার আড়ালে বা মাদুরের নিচে চাপা পড়ে থাকে। ধুলো ঝাড়ার মতো করে ঝেড়ে নিয়ে তাকে সর্বসমক্ষে নিয়ে আসার দুঃসাহস আমরা সচরাচর দেখাতে পছন্দ করি না। বিশেষ করে সে বিষয় যদি মহিলা কেন্দ্রিক হয় তাহলে তো আলোচনা করা দূর, সে প্রসঙ্গের ছায়া পর্যন্ত মাড়াই না। অথচ যখন বিপদে পড়ি তখন কিন্তু ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে  চলতে ঠিক ডাক্তারের কাছে উপস্থিত হয়ে সমস্তটা খোলসা করে বলি। তেমনই একটা বিষয় হল মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ। 

তবে এ সমস্যা আজকের নয়। জানলে হাঁ হয়ে যাবেন, ১৮০০ শতাব্দীতে কিছু পাশ্চাত্য দেশে  মহিলাদের মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ হলে বলা হত, তাদের 'মৃত্যুর দরজা' বা 'gateway to death' উন্মুক্ত হল। মেনোপজ আটকাতে গিনিপিগের ডিম্বাশয় থেকে জ্যুস বানিয়ে খেতেও দ্বিধা বোধ করতেন না সেই সময়ের মহিলারা। অবশ্য ভারতবর্ষে এমন কোনো ঘটনা ঘটত কিনা সেটা জানা নেই। তবে রক্ষণশীল দেশ হিসেবে এই বিষয়ে যে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করা যেত না সে ব্যাপারে আমরা একশোভাগ নিশ্চিত। বর্তমান যুগে সে সমস্যা খানিক মিটেছে বটে কিন্তু এহেন মোক্ষম বিষয় গোপন রাখতে আমরা কিন্তু এখনো ভালোবাসি। অনেকেরই হয়ত জানা নেই যে এই ধরণের বিষয়গুলি সঠিক জানা না থাকলে পরবর্তীকালে জটিল হবার সম্ভাবনা থাকে দ্বিগুন। তারচেয়ে আসুন সমস্যাগুলি  রাখঢাক না করে খোলাখুলি আলোচনা করে নিই। 


মেনোপজ কি ?
মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ এমন একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মহিলার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়। মহিলাদের জীবনে এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা এবং জেনে রাখা ভালো যে এটি কিন্তু কোনোরকম রোগ বা ব্যাধি নয়। টানা বারো মাস যদি ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে তাহলে বলা হয় সেই মহিলার ঋতুবন্ধ হয়েছে। সাধারণত ৫০ বছর বয়েসের পরেই ঋতুবন্ধ হয়ে থাকে তবে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়েসের যে কোনো সময়ের মধ্যেও এটা ঘটতে পারে। 

মেনোপজ হওয়ার কারণ
# বয়স বাড়ার সাথে সাথে অর্থাৎ ৪০ এর কোঠায় ঢোকার মুহূর্তে একজন মহিলার শরীরে প্রজনন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। কারণ, ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের  উৎপাদন অনেকটাই হ্রাস পায় । যার ফলে মাসিকের সময়কালে হেরফের ঘটে এবং ৫০ বা ৫১ বছর বয়েসের পরই তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।  

# হিস্টেরেক্টমি এবং বাইল্যাটারাল উফরেক্টমির মাধ্যমে যদি জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাৎক্ষণিক ঋতুবন্ধ হবে। স্বাভাবিকভাবে মাসিকও বন্ধ হয়ে যাবে এবং ঋতুবন্ধের উপসর্গগুলিও দেখা দেবে।  

# কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপিও ঋতুবন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে সর্বক্ষেত্রে থেরাপির পর একেবারে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় না।

# প্রাথমিক অপর্যাপ্ত ডিম্বাশয় - দেখা গেছে প্রায় এক শতাংশ মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়েসের আগেই ঋতুবন্ধ ঘটে। একে অকাল ঋতুবন্ধ বা প্রিমাচিওর মেনোপজ  বলা হয়। এর কারণ হল ডিম্বাশয়ের মধ্যে উপযুক্ত পরিমানে প্রজনন হরমোন তৈরী না হওয়া। সাধারণত এর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি তবে চিকিৎসকদের মতে এক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি করিয়ে নেওয়াটা ভীষণ  জরুরি, এতে মস্তিস্ক, হৃদয় এবং হাড় সুরক্ষিত থাকে।

উপসর্গ 
ঋতুবন্ধ হওয়ার আগে অর্থাৎ পেরিমেনোপজের মুহূর্তগুলিতে বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যদিও সমস্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে একইরকম হবে এমনটা নয় তবু সাধারণত যে উপসর্গগুলি দেখা যায় তা হল - 

# অনিয়মিত মাসিক - হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়ে আবার কয়েক মাস বাদে শুরু হতে পারে 
# যোনিতে শুষ্ক ভাব 
# হট ফ্ল্যাশ - শরীরের উপরিভাগে অর্থাৎ মুখ, গলা বা বুকের অংশে গরম ভাব 
# নাইট সোয়েট - রাত্রে ঘুমোবার সময় হট ফ্ল্যাশ হওয়া
# ঘুমোনোয় সমস্যা 
# মেজাজে পরিবর্তন 
# ওজন বৃদ্ধি এবং হজমে সমস্যা 
# পাতলা চুল, শুষ্ক ত্মক এবং 
# স্তন সংকোচন হওয়া 

জটিলতা 
তবে এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হল, তা পড়ে অনেকেই হয়ত নাক সিঁটকোচ্ছেন আর ভাবছেন, ধুস ! এ আর নতুন কি ? এর অধিকাংশই তো জানা এবং সিলেবাসের মধ্যেই। তাহলে আপনাদের বলি যে অতটাও উদাসীন হবেন না। কারণ কিছু কিছু বিষয় আছে যা সিলেবাসের বাইরে এবং যথেষ্ট বেগ দিতে পারে এই সময়টায়। ঋতুবন্ধের কারণে বেশ কিছু জটিলতা তৈরী হয় এবং সময় বিশেষে তা মারাত্মক হতে পারে যদি না আগের থেকেই সাবধান হওয়া যায়। যেমন - 

# হৃদরোগ - ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে হৃদরোগের সমস্যা তৈরী হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। 

# অষ্টিওপোরোসিস -  ঋতুবন্ধের প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব কমে আসে। এর ফলে অষ্টিওপোরোসিস হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। 

# প্রস্রাবে অসংযম - ঋতুবন্ধের কারণে যোনি এবং মূত্রনালীর টিস্যুর ক্ষমতা কমে আসে। এর ফলে যখন তখন প্রস্রাব পাবার সম্ভাবনা তৈরী হয়। কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃত ভাবেও প্রস্রাব হয়ে যায়। বিশেষ করে, হাঁচি, কাশি বা অত্যধিক হাসলেও এমনটা হতে পারে। 

# স্তনের ক্যান্সার - ঋতুবন্ধের পর এই রোগ হতে পারে। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ঝুঁকি কম থাকে। 

# যৌনতা হ্রাস - শুষ্ক যোনির কারণে যৌনমিলনে অস্বস্তি বা সামান্য রক্তপাত হতে পারে। যার ফলে যৌনমিলনে প্রবল অনিচ্ছা তৈরী হতে পারে। এক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার বা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। 

# ওজন বৃদ্ধি - ঋতুবন্ধের পর, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের ওজন বেড়ে যায় তার কারণ এই সময় পাকপ্রক্রিয়া ধীরগতির হয়। সেক্ষেত্রে একটু কম পরিমাণে খেতে হবে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে যাতে ওজনটা একই থাকে।

চিকিৎসা 
ঋতুবন্ধে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে যদি কোনো উপসর্গে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে একজন দক্ষ চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া নিম্নলিখিত কিছু পদ্ধতি আপনাকে স্বস্তি দিতে পারে।  

# হরমোন থেরাপি - হট ফ্ল্যাশ উপশমের জন্য ইস্ট্রোজেন থেরাপির বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা আছে। যদি জরায়ু থাকে তাহলে ইস্ট্রোজেনের সাথে প্রোজেস্টিনেরও প্রয়োজন আছে। ইস্ট্রোজেন হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। তবে পুরোটাই নির্ভর করবে একজন মহিলার শারীরিক অবস্থা বা তার চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর।

# ভ্যাজাইনাল ইস্ট্রোজেন - এটি একটি ক্রীম, ট্যাবলেট বা রিঙের সাহায্যে যোনির শুষ্ক ভাব বা অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। এতে মূত্র সম্পর্কিত বাকি উপসর্গগুলি থেকেও উপশম ঘটে। 

# লো ডোজ এন্টিডিপ্রেস্যান্ট - হট ফ্ল্যাশ বা মেজাজ পরিবর্তনে এই এন্টিডিপ্রেস্যান্ট থেকে সুফল পাওয়া যায়। 

# গাবাপেন্টিন (নিউরোন্টিন, গ্রেলাইজ এবং অন্যান্য) - যারা ইস্ট্রোজেন থেরাপি নিতে পারেন না এবং রাতের পর রাত হট ফ্যাশের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য এই ওষুধ বেশ স্বস্তিদায়ক।  

# ক্লোনিডিন - উচ্চ রক্তচাপ বা হট ফ্ল্যাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এই ওষুধ। 

#  অষ্টিওপোরোসিসের ওষুধ - এই ক্ষেত্রে একজন দক্ষ অর্থোপেডিকের পরামর্শ খুব জরুরি। এছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টে নিলেও হাড় শক্ত হবে। 

ঋতুবন্ধ অত্যন্ত সহজ সাধারণ হলেও এর উপসর্গ বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক সময়ই চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। এসমস্ত ক্ষেত্রে অবস্থা জটিলতর হলে ঝঞ্ঝাটের শেষ থাকে না। যদিও এই অবস্থা বাস্তবে এড়ানো সম্ভব নয় তবু এর উপসর্গ থেকে অন্তত কিছুটা হলেও উপশম পাওয়া যায়, যদি উপরোক্ত বিষয়ের ওপর মনোযোগী হন তবেই। তাই আপনার বয়স যদি ৪০ পেরিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে বলব নিজের শরীরের প্রতি আরেকটু যত্ন নিন। কালের গর্ভে কি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য আমরা কেউই জানি না। তার চেয়ে আগের থেকেই সাবধান হই বরং, কি বলেন ? 

#medicalarticle #healtharticle #menopause #hotflash #nightsweat #oldageproblems #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed


Tuesday, 30 January 2018

তিল থেকে তাল

কথায় বলে বিউটি স্পটের কদরই আলাদা। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে একপ্রকার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বলা যেতে পারে। মুখে যাদের বিউটি স্পট আছে তারা যে রাস্তাঘাটে অতিরিক্ত মনোযোগ পেয়ে থাকেন এ হয়ত না বললেও চলবে। ভুবনমোহিনী হাসির অন্তরালে যার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তার দিকে বরং আরেকটু লক্ষ্য রাখুন। খেয়াল করে দেখুন তো এই বিউটি স্পটের বিউটি চিরকাল একইরকম থাকছে কিনা ? অর্থাৎ যে স্পট বা  তিলটি সৌন্দর্যের মূল উপাদান সেইটি কোনোরকম আকারে পরিবর্তন হল, নাকি তার বর্ণের কোনোরকম বিসদৃশ ঘটল ! তা যদি হয়ে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান এক্ষুনি। মেলানোমা নামক ত্মকের একটি ভয়ানক ক্যান্সার হতে পারে। এই রোগের কথা আগে না শুনে থাকলে, আজই জেনে নিন এর হাল হকিকত।  

মেলানোমা কি ?
খুব প্রচলিত না হলেও ত্মকের এই ক্যান্সারটি অত্যন্ত মারাত্মক কারণ এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে কিছু জেনেটিক সমস্যা তৈরী হয়। যার ফলে ত্মকের কোষগুলি দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করে এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হয়। এই টিউমারগুলি তৈরী হয় এপিডার্মিসের বেসাল লেয়ারে। ত্মকের যে কোনো জায়গায় হতে পারে এই রোগ। মেলানোমা কতকটা তিলের মতো দেখতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আবার তিল থেকেই শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেলানোমা কালো বা বাদামী রঙের হয়। আবার কখনো কখনো গোলাপী, লাল, বেগুনি বা সাদা রঙেরও হতে পারে। প্রধানত ইউভি (UV) রশ্মির তীব্রতার কারণেই ত্মকে মেলানোমা হয়। 

তবে কি আশার আলো একেবারেই নেই ? হ্যাঁ আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি মেলানোমা ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা হয় তাহলে প্রায়ই সেড়ে যায়। তা যদি না হয় তাহলে এই ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। 

কত রকমের হয় এই রোগ ?
মেলানোমা সাধারণত চার রকমের হয়। 
#  সুপার ফিসিয়াল স্প্রেডিং মেলানোমা - এটি বেশ প্রচলিত। সাধারণত বুক, পেট, পিঠ বা হাতে পায়ে দেখা যায়।

# নোডিউলার মেলানোমা - বুক, পিঠ, মাথা বা গলার দিকে হয়। অপেক্ষাকৃত দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এই রোগের এবং ধীরে ধীরে লাল হতে থাকে। 

# লেন্টিগো ম্যালাইনা মেলানোমা - বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে শরীরের সেই সমস্ত জায়গাতে হয় যা বহু বছর ধরে সূর্যের রশ্মিতে উন্মুক্ত থাকে। প্রথমে একটা দাগের মতো হয়, সময়ের সাথে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। তুলনামূলক ভাবে এটি কম বিপজ্জনক।

# এক্রাল লেন্টিজিনাস মেলানোমা - এই রোগটি বিরল। সাধারণত এটি দেখা যায় হাতের চেটোয়, গোড়ালির নিচে অথবা নখের তলায়। এর সাথে ত্মকের বর্ণ বা সূর্যের রশ্মির কোনো সম্পর্ক নেই।

এই রোগ হওয়ার কারণ কি ?
কোনো একটি নির্দিষ্ট ধরণের ত্মকে মেলানোমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নিম্নলিখিত কারণের ফলে এই রোগ হতে পারে। 
# ছোট ছোট প্যাচ হওয়া বা সূর্য রশ্মির কারণে সেই প্যাচ গাঢ় হওয়া। 
# প্রচুর তিল হওয়া 
# সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের তিল হওয়া 
# ছোট ছোট বাদামী রঙের স্পট বা বয়সজনিত কোনো স্পট দেখা দেওয়া 
# এমন ত্মক যা সহজেই রোদে পুড়ে যায়
# অতিরিক্ত সময় ধরে সূর্যের রশ্মিতে উন্মুক্ত থাকা  
# পরিবারের কোনো সদস্যের মেলানোমা হওয়া বা 
# যদি কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে

এর উপসর্গ কি কি ?
অন্যান্য ক্যান্সারের মতোই মেলানোমার প্রাথমিক স্টেজ শনাক্ত করা মুশকিল হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ত্মকে কোনোরকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিনা। যেমন - 
# নতুন কোনো স্পট বা তিল হওয়া অথবা পুরোনো তিলের বর্ণ বা আকারে কোনো পরিবর্তন 
# ত্মকের কোনো সমস্যা সহজে ঠিক না হওয়া  
# কোনো স্পটে ব্যাথা হওয়া বা রক্তক্ষরণ হওয়া 
# কোনো স্পট অতিরিক্ত উজ্জ্বল, মসৃণ বা ম্লান হওয়া, অথবা 
# কোনো অদ্ভুত দর্শন শক্ত লাল পিণ্ড যার থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে 

কিভাবে বুঝবেন ?
এবিসিডিই (ABCDE) টেস্টের মাধ্যমে মেলানোমার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। নিচে বিশদে দেওয়া হল। 
# এসিমেট্রিক - সাধারণ তিল, গোল বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ক্যান্সারাস তিল কিন্তু গোল বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। অর্থাৎ তিলটির দুদিক একইরকম দেখতে নয়। 
# বর্ডার - তুমলমূলক ভাবে অমসৃণ বা ঝাপসা হবে।  
# কালার - বিভিন্ন বর্ণের হতে পারে, যেমন - কালো, বাদামী, সাদা বা নীল। 
# ডায়ামিটার - তিলের আকারে পরিবর্তন বা সাধারণ তিলের থেকে বড় হলে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। 
# ইভলভিং - কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই যদি তিলের চেহারায় পরিবর্তন আসে তাহলেও ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। 

চিকিৎসার উপায় 
অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় এর চিকিৎসা খানিকটা সহজ কারণ এর সম্পূর্ণ অপসারণ সম্ভব। মেলানোমার অত্যন্ত প্রচলিত চিকিৎসা হল সার্জারি। অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ক্ষতস্থান ও চারপাশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। যদি ত্মকের অনেকটা জায়গা জুড়ে হয় তাহলে স্কিন গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে নির্মূল করা হয়। এছাড়া স্কিন ক্যান্সারের অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি হল - কেমোথেরাপি এবং বায়োলজিক্যাল থেরাপি। বিরল ক্ষেত্রে ফোটোডায়নামিক থেরাপিও করা হয়। 

সুতরাং মেলানোমার জন্য দরজা খোলা না রেখে আমাদের প্রতিরোধের দিকে মন দেওয়াটাই বেশি প্রয়োজন। অতিরিক্ত রোদ বা সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলুন। বলাই বাহুল্য ব্যাগে সানস্ক্রিন রাখতে হবে এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে শিশুদের দূরে রাখুন। মেলানোমার কবল থেকে বাঁচতে নিজেকেই প্রাথমিক ধাপটা নিতে হবে, জানবেন, বিপদ কিন্তু ওত পেতেই আছে। তাই আগের থেকেই সাবধান হন।

#melanoma #skincancer #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed #bengalihealtharticle #medicalarticle #health 

Friday, 12 January 2018

দিনের শেষে ঘুমের দেশে

(Audio File)
https://soundcloud.com/user-298724335/fz5bc3sdjgnc 


ঘুম বড় আশ্চর্য জিনিস। পেলে একরকম না পেলে আরেকরকম। যখন তখন ঘুমিয়ে পড়াও যেমন ঠিক নয় তেমনি ঘুমকে অবজ্ঞা করাও মোটে উচিত নয়। ট্রামে, বাসে বা ট্রেনে যদি আপনি মখমলি কাঁধ পেলেই চোখ বোজার সুযোগ খোঁজেন তাহলে বলতে হবে আপনি ঘুমের অভাবে ভুগছেন অথবা ঐটে আপনার ভীষণ রকম বদভ্যেস। সেটা যদি না হয় তাহলে চট করে পড়ে ফেলুন ঘুমের অভাবে কি কি হতে পারে। 

ঘুমের অভাবে কি হতে পারে ?
ঘুমের অভাবে নানান রকম সমস্যা তৈরী হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেসব সমস্যা জটিলতর হতে থাকে অচিরেই। এক্ষেত্রে প্রথমেই যার কথা বলতে হয় তা হল স্মৃতি। ভীষণ রকম স্মৃতিজনিত সমস্যা হতে পারে। যাঁরা গান ভালোবাসেন তাঁদের, 'তোমার গীতি জাগালো স্মৃতি' - রবিঠাকুরের এই গানটি আর নাও মনে আসতে পারে। মুচকি হেসে ভাবছেন, 'যাহ ! রবিঠাকুর ভুলে যাব ! তাই আবার কখনো হয় নাকি' ! তাহলে একটি সরল, ছোট্ট ব্যাখ্যা দিই। আসন্ন বিপদটা বুঝতে সুবিধে হবে আপনার। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনার ইমেল্ ইনবক্সের মতো মস্তিষ্কেরও একটি স্মৃতির ইনবক্স থাকে। ঠিকঠাক ঘুম না হলে এই ইনবক্সটি আপনা আপনিই বন্ধ বা শাট ডাউন হয়ে যায়। যার ফলে নতুন করে কোনোরকম স্মৃতি তৈরী হতে পারে না। আপনার স্মৃতিবিলোপ হতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি। দাঁড়ান, এখানেই শেষ নয়।  

এছাড়া আরও একটি সমস্যা আছে। ঘুমের অভাবে একটি বিষাক্ত প্রোটিন তৈরী হয় যার নাম হল 'বিটা এমিলয়েড'। এই প্রোটিন তৈরীর ফলে আপনার মারাত্মক রকমের স্মৃতি সংশয় হতে পারে, ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম - আলঝেইমার্স ডিজিজ। ঘুমোনোর সময় আপনার মস্তিষ্কে একটি নিকাশী ব্যবস্থা সচল হয়ে ওঠে। যার মাধ্যমে এই 'বিটা এমিলয়েড' ধুয়ে সাফ হয়ে বেরিয়ে যায়। সুতরাং ঘুমের অভাব কিন্তু অজান্তেই আপনার মস্তিষ্কে তৈরী করবে এই আলঝেইমার্স প্রোটিন। যত বেশি মাত্রায় এই ক্ষতিকারক প্রোটিন তৈরী হবে ততটাই দ্রুত আপনি স্মৃতিভ্রংশ হবেন। "ম্যায় কাঁহা হুঁ" ? এই ধরণের প্রশ্ন আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে আসাটা কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং 'ঘুমিয়ে কি কেউ বড়লোক হতে পেরেছে' ? - এই বেদবাক্যে যদি আপনি বিশ্বাসী হন তাহলে কোন কোন রোগকে আগাম পান সুপুরি দিয়ে নিমন্ত্রণ দিচ্ছেন তা একবার নিচের লেখায় চোখ বুলিয়ে নিলেই জানতে পারবেন।   

শরীরের ওপর কি কি প্রভাব পড়ে  ?
শরীরের ওপর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যাঁরা ইচ্ছে করে রাত জাগেন বা অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভোগেন তাঁরা হয়ত জানেন না যে অজান্তেই আপনারা শরীরের মধ্যে ডেকে আনছেন অবাঞ্ছিত বিপদ। পরবর্তীকালে যে বিপদ আপনাদের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তখন হয়ত বড্ড বেশি দেরি হয়ে যাবে। তাই আগের থেকেই জেনে রাখুন নিম্নলিখিত বিপদের তালিকা এবং প্রয়োজনমত ব্যবস্থা নিন এখন থেকেই।

# প্রজনন প্রক্রিয়ায় এর যথেষ্ট প্রভাব পড়ে। যে সমস্ত পুরুষরা ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ঘুমোন তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে বেশ কম হয়। ঘুমের অভাবে কিন্তু তাদের পুরুষত্ব হ্রাস পাবার সম্ভাবনা সাংঘাতিক রকম বেশি। 

# রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক। যাঁরা ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ঘুমোন তাঁদের এন্টি ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধক কোষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ হ্রাস পায়। এছাড়া অন্য আরও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে প্রবল। যেমন অন্ত্রের ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং স্তনের ক্যান্সার। সম্প্রতি হু (WHO), রাত্রিকালীন  শিফটের কাজগুলিকে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

# এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপরেও বিশেষ প্রভাব পড়ে। এখানে জেনে রাখা ভালো যে ঘুমোনোর সময়তেই আমরা কিন্তু রক্তচাপের ওষুধ সঞ্চয় করি। আশ্চর্য হচ্ছেন ? আমাদের হয়তো অনেকেরই এই সহজ তথ্যটি জানা নেই যে ঘুমোনোর সময় হৃদ কম্পন ধীরগতির হয় যার ফলে রক্তচাপ হ্রাস পায়। জানা গেছে যে ৬ঘন্টা বা তার কম সময়ে ঘুমের দরুন হার্ট এট্যাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে ২০০ শতাংশ।  সুতরাং পরিমিত ঘুম, সুস্থ হৃদয়ের অন্যতম কারণ। 

বছরে দুবার প্রায় ১৬ কোটি মানুষের ওপর বিশ্বব্যাপী একটি পরীক্ষা করা হয় যার নাম হল ডেলাইট সেভিং টাইম। এই পরীক্ষায় দেখা গেছে যে একদিন এক ঘন্টা কম ঘুমোনোর ফলে তার পরের দিনে ২৪ শতাংশ হার্ট এট্যাক বেড়েছে। এমতাবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবে একটি প্রশ্ন উঠে আসে। 

ঘুম ছাড়া কতক্ষন পর্যন্ত আমাদের মস্তিস্ক সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে ?
উত্তর হল - ১৬ ঘন্টা। তারপরেই মানসিক ও শারীরিক অবনতি ঘটে। কতকটা গাড়ির স্টিয়ারিঙ ধরে  নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চালানোর মতো। অতএব জেগে থাকার ক্ষতি মেরামতির জন্য অন্তত পক্ষে ৮ ঘন্টার ঘুম অতি আবশ্যক। তাই এরপরেও যদি আপনার মনে হয় রাত জেগে আরও কিছুক্ষন লুডো খেলে নি, যা আপনি খেলতেই পারেন কিন্তু পরের দিনে আপনাকে না ছক্কা পুটের মাশুল গুনতে হয় সে ব্যাপারে কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। বাকি আপনি দিনের শেষে ঘুমের দেশে যাবেন না অন্য কোথাও সে আপনার একান্তই ব্যক্তিগত।

courtesy : Prof. Matthew Walker, Neuroscience and Psychology, University of California, Berkeley

#sleepdisorders #sleepproblems #lackofsleep #AsPrescribed #GenesisHospitalKolkata


Saturday, 6 January 2018

হাত জড়ালেই বন্ধু


আজকের দুপুরটা সম্পূর্ণ অন্য রকম। সারা বছরের মুহূর্তগুলো জমাট বাঁধা হয়ে আছে এক অমূল্য ক্ষণে। যে ক্ষণের অপেক্ষায় সৌভিক দিন গুনেছে সময়ের পর সময়ের হাত ধরে। অবশেষে পৃথা সায় দিয়েছে। সায় দিয়েছে কিছু মুহূর্ত একসাথে কাটাবার, কিছু উষ্ণতা একসাথে ভাগ করে নেবার। দুদিন আগে টেলিফোনে যখন সৌভিক ডায়াল করেছে পৃথার নাম্বারটা তখন পৃথা জানতই না সৌভিক তাকে দেখা করার কথা বলবে। জানত না গঙ্গার ধারে আপাত নিরিবিলি, ছিমছাম এক রেস্তরাঁর বুকে আঁকা হবে কত দিনবদলের স্বপ্ন। তাই আধঘন্টা আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সৌভিক। পৃথা অবশ্য দেরি করেনি খুব বেশি। যথাসময় পৌঁছে টিউশন ক্লাসের ব্যাচমেট সৌভিকের চোখে চোখ রেখেছিল। ইশারায় জিজ্ঞেস করেছিল এমন তলবের কারণ। যদিও মনে মনে পৃথা জানত কারণটা, তবুও নিজের কানে শোনার লোভটুকু বিসর্জন দিতে পারেনি সে। পৃথার সমস্ত পছন্দসই খাবার অর্ডার করে অনুরাগের গল্পে মেতে উঠেছিল দুজনে। 

সবটাই নিজস্ব নিয়মে চলছিল। কিন্তু তীরে এসে যে তরী ডোবার উপক্রম হবে একথা বোধহয় একমাত্র ঈশ্বরই জানতেন। সৌভিক হয়ত একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিল। খাবার শেষ হওয়ার আগেই বলে ফেলেছিল তার হৃদয়ের গোপন আর্তিগুলো। অকপটে ছুঁয়ে ফেলেছিল ভালোবাসার স্পন্দন। অকস্মাৎ বিষম খেয়েছিল পৃথা। আর তাতেই কাল হল। মাংসের টুকরো গলায় আটকে দমবন্ধ হবার উপক্রম হল প্রায়। দুপুরের নৈকট্য টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। দম আঁটকে অচৈতন্য হবার মুহূর্তে সৌভিক ধরে ফেলে পৃথাকে। বায়োলজির সুযোগ্য ছাত্র সৌভিক, হেমলিচ ম্যানুয়েভারের বিশেষ কায়দায় পৃথার পেটে চাপ দিয়ে গলা থেকে বের করে আনল মাংসের টুকরোটা। এক লহমা দম নিয়ে পৃথা জাপটে ধরেছিল সৌভিককে। আসন্ন মৃত্যুর কিনারা থেকে ফিরে এসে  থরথর করে কেঁপে উঠেছিল সে। সে যাত্রা জোর বেঁচেছিল পৃথা আর হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল রেস্তোরাঁর বাকি লোকজন। এই হেমলিচ ম্যানুয়েভারের বিশেষ কায়দাটি কি, সেটা আসুন একটু জেনে নিই।   

হেমলিচ ম্যানুয়েভার কি ?
হেমলিচ ম্যানুয়েভার হল একটি প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শ্বাসনালীতে আটকে থাকা কোনো খাবারের টুকরো বা অন্য কোনো বস্তু বের করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৪ সালে ডঃ হেনরী হেমলিচ এই পদ্ধতিটি প্রথম প্রদর্শন করেন। ওনার নামানুসারেই এই পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।জরুরী অবস্থায় এই পদ্ধতিটি কিভাবে প্রয়োগ করবেন তা জানতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন।


চোকড হবার সময় কি করবেন ?
যে ব্যক্তিটি চোকড হচ্ছেন তাঁর কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ সমস্যা হতে পারে। এই সময় যা করতে হবে তা হল -
# ব্যক্তিটির পিছন দিক দিয়ে কোমরের চারপাশে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।
# একহাতে মুঠো বন্ধ করে, আপনার বুড়ো আঙুলের দিকটা ব্যক্তিটির পাঁজরের নিচে অর্থাৎ পেটের ওপরের দিকে চেপে ধরুন।
# অন্য হাত দিয়ে সেই মুঠো চেপে ব্যক্তির পেটের উপরিভাগে জোরে চাপ দিন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন এই চাপ যেন পাঁজরের ওপর কখনই না পড়ে।
# এই পদ্ধতিটি বারে বারে করতে থাকুন, যতক্ষণ না খাবারের টুকরো বা বস্তুটি মুখ দিয়ে বেরিয়ে না আসে।
# মনে রাখবেন কখনোই যেন পিঠে চাপড় মারবেন না। তাতে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।


যখন ব্যক্তিটি অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন তখন কি করবেন ?
# প্রথমে তাকে চিৎ করে শোয়ান। 
# এরপর ব্যক্তিটির কোমরের দু দিকে হাঁটু মুড়ে বসুন।
# একটা হাতের ওপর আরেকটা হাত রেখে ব্যক্তিটির পেটের ওপর দিকে অর্থাৎ পাঁজরের নিচে চেপে ধরুন।
# তারপর দুহাত একই ভাবে রেখে দ্রুত চাপ দিতে থাকুন।
# বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত একই ভাবে করতে থাকুন। এক্ষেত্রেও পিঠে চাপড় মারতে যাবেন না কিন্তু।


শিশুদের ক্ষেত্রে কি করবেন ?
# শিশুটিকে শক্ত জমির ওপর শুইয়ে দিন। অথবা নিজের কোলে নিয়েও বসাতে পারেন।
# আপনার দুহাতের তর্জনী ও মধ্যমা এক সাথে শিশুটির পাঁজরের নিচে এবং নাভির ওপর রাখুন।
# এরপর ওই অবস্থায় দুহাতের আঙ্গুল দিয়ে একসাথে পেটের উপরিভাগে চাপ দিতে থাকুন।
# বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকুন।
# তবে খুব সাবধানে করবেন, পাঁজরে যেন কোনোভাবেই চাপ না পড়ে।

নিজের ক্ষেত্রে হলে কি করবেন ? 
# এক হাতে মুঠো বন্ধ করে, মুঠোর বুড়ো আঙুলের দিকটা আপনার পাঁজরের নিচে অর্থাৎ পেটের ওপরের দিকে চেপে ধরুন।
# তারপর অপর হাত দিয়ে সেই মুঠো চেপে পেটের উপরিভাগে জোরে চাপ দিন।
# বস্তুটি না বেরোনো অবধি এটি করতে থাকুন।
# এছাড়া আপনি কোনো চেয়ার, টেবিল বা শক্ত কিছুর ওপর ভর দিয়ে ঝুঁকে দাঁড়াতে পারেন।
# আপনার পেটের উপরিভাগ দিয়ে সেই শক্ত বস্তুটির ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকুন। এক্ষেত্রেও বস্তুটি শ্বাসনালী থেকে না বেরোনো অবধি বারে বারে করুন। 

ওপরের যে কোনো ক্ষেত্রে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরোক্ত ঘটনায় সৌভিক অনন্য গিফ্ট পেয়েছিল পৃথার থেকে। কারণ, এমন আশ্চর্য প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে পৃথা শুধু মোহিতই হয়নি, তার বন্ধুর হাত ধরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার পরে পরেই। তবে জীবনবিজ্ঞানের ছাত্র বা ছাত্রী আপনি যদি নাও হন তবুও নিকট আত্মীয়ের বিপদের সময় হাত বাড়ানোটাই কিন্তু উপযুক্ত বন্ধুত্বের পরিচয়। হেমলিচ ম্যানুয়েভার পদ্ধতির সামান্য কয়েকটি ধাপ মাত্র, শিখে রাখতে ক্ষতি তো কিছু নেই, কে জানে কখন কোথায় কিভাবে কাজে লাগে, তাই না ? 

#Heimlichmaneuver #abdominalthrust #bengalihealtharticle #firstaid #emergencytreatment  #AsPrescribed