Tuesday, 28 May 2019

লাম্প থেকে ক্যান্সার !


বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক ডঃ চিরন্তন সরকার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। উল্টোদিকে বসা অনকোলজিস্ট ডঃ চৌধুরী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে চলেছেন। পশ্চিমের জানলা দিয়ে বিকেলের শেষ আলোটুকু পর্দা ভেদ করে টেবিলের ওপর রাখা একটা রিপোর্টের খাম ছুঁয়ে যাচ্ছে। ডঃ সরকার দু’হাতে মুখ ঢেকে বললেন, 'আমি জানতেই পারলাম না ! ডঃ চৌধুরী তাঁর সহকর্মীর হাত দুটি ধরে বললেন, 'শান্ত হও চিরন্তন, অকারণে নিজেকে দোষের ভাগী কোরো না। তোমার তো কিছু করার ছিল না। পেশেন্ট যদি কিছু না বলেন তুমি জানবেই বা কি করে' ? 

অশ্রুসিক্ত চোখে ডঃ সরকার ধীরে ধীরে রিপোর্টটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলেন। বললেন, 'মায়ের ব্রেস্ট টিউমারটা যদি বিনাইন অবস্থাতেই ধরতে পারতাম তাহলে বোধহয় আরও অনেকটা সময় পেতাম.......'

গল্পের এটুকু পড়ে নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে এক্ষেত্রে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। নিজে চিকিৎসক হওয়া সত্বেও মায়ের ব্রেস্ট টিউমারের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন। তার কারণ এই ধরণের বিষয়গুলি আজও মহিলারা ডাক্তারের সমক্ষে আলোচনা করতে ইতস্তত বোধ করেন, যার ফল হয় মারাত্মক। স্তনে ছোট লাম্প বা মাংসপিণ্ড হলে কিভাবে সাবধান হবেন আসুন জেনে নিই।

বিনাইন ব্রেস্ট লাম্প কি :
স্তনের টিস্যুগুলি যখন ফুলে ওঠে বা পুরু হয়ে যায় তখন তাকে ব্রেস্ট লাম্প বলে। তবে ব্রেস্ট লাম্প মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়। যেহেতু ক্যান্সার নয়, তাই একে বিনাইন ব্রেস্ট লাম্প বলা হয়। শরীরে হরমোনের পরিবর্তনেই ফলে অনেকেরই এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ঋতুস্রাবের আগে বা গর্ভধারণের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয় যার ফলে স্তনে লাম্প হতে পারে। এছাড়া কোনো আঘাত লাগলে বা স্তন্যপান করানোর সময়তেও এই সমস্যা হতে পারে।

লাম্পের রকমফের :
# ফাইব্রোএডিনোমা (Fibroadenoma) - অত্যন্ত পরিচিত এবং সাধারণ লাম্প, যা টিস্যু বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত ১৬ - ২৪ বছর বয়েসের মধ্যে হতে পারে।

# সিস্টোসারকোমা ফিলোডস টিউমার (Phyllodes tumor) - এই টিউমার হলে আগামী দিনে বেশ বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটা ৪০ - ৫০ বছর বয়েসের মধ্যে হয় এবং এই টিউমার সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলাই বাঞ্ছনীয়।

# ফ্যাট নেক্রোসিস (Fat necrosis) - এই ধরণের লাম্প বেশ শক্ত প্রকৃতির হয়। সাধারণত কোনো আঘাত লাগলে হতে পারে। 

# স্তনের সংক্রমণ (ম্যাসটাইটিস বা এবসেস) - সাধারণত স্তন্যপানের সময় এই সংক্রমণ হতে পারে।
# ডাক্ট এক্টাশিয়া (Duct Ectasia) - ঋতুবন্ধের সময় এই সমস্যা হতে পারে। স্তনের অভ্যন্তরীণ নালী বন্ধ হয়ে গিয়ে স্তনবৃন্তের তলায় লাম্প হতে পারে। অনেক সময় রক্তপাত হতেও দেখা গেছে।


উপসর্গ :
এমন বেশ কিছু উপসর্গ আছে যা আপনি নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন যে কোনো একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন, স্তনে বা বগলে কোনো লাম্প বা কঠিনভাব, স্তনের আকার বা আয়তনে পরিবর্তন, স্তনের ত্বকে ভাঁজ হওয়া বা কুঁচকে যাওয়া, স্তনবৃন্তের আকার বা অবস্থানে পরিবর্তন, স্তনবৃন্তের চারপাশে ফুসকুড়ি হওয়া স্তনবৃন্ত থেকে তরলের নির্গমন, স্তনের কোনো অংশে ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি। 
   
চিকিৎসা কি ?
এর চিকিৎসা নির্ভর করছে লাম্পের ধরণের ওপর। কিছু লাম্প আছে যাদের তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না যদি না সেই লাম্পের কোনো উপসর্গ দেখা দেয় অথবা আকারে বেশ বড় হয়। তবে যে কোনো রকম লাম্প হলে প্রথমেই এফ.এন.এ.সি (FNAC - Fine Needle Aspiration Cytology) করিয়ে নেওয়া ভালো। যদি শুধুমাত্র পুঁজ জমা হয়ে থাকে তাহলে এন্টিবায়োটিকের সাহায্যে সারিয়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া লাম্পে যদি জল জমে তাহলেও তার চিকিৎসা আছে। তবে এটা যদি ফাইব্রোএডিনোমা বা ফিলোডস টিউমার হয় তাহলে সার্জারি করিয়ে নিয়ে বায়োপসি করা উচিত। কিন্তু ক্যান্সার ধরা পড়লে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য, ফ্যাট নেক্রোসিস হলে, সাধারণত আপনিই মিলিয়ে যায়।


সুতরাং ব্রেস্ট লাম্প খুব সাধারণ একটা ঘটনা হলেও একে হেলাফেলা না করাই ভালো। বলা তো যায় না, যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরোয় তাহলে কপাল চাপড়ানোর অবকাশ পাবেন না। তাই নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আর উপরে উল্লিখিত কোনোরকম উপসর্গ দেখতে পেলেই অবিলম্বে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। এপয়েন্টমেন্টের জন্য ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২। 

Tags : Benign Breast Lump ; Fibroadenoma ; Phyllodes Tumor ; Fat Necrosis ; Duct Ectasia ; Genesis Hospital Kolkata ; Prescription Theke

Saturday, 25 May 2019

স্তন্যপানের পদ্ধতিতে বিপদ !

পলাশ - ঝুমুরের বাড়িতে আজ খুশির রোশনাই। দীর্ঘ চার বছর পর ঝুমুরের কোলে এসেছে একটা মোম মোম গড়নের ফুটফুটে পুতুল। যার চোখের বিস্ময় আর কচি হাত পায়ের ছটফটানিতে গোটা বাড়ি নিশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছে না। এদিক ওদিক থেকে নানান রকম উপদেশ, পরামর্শে পলাশ-ঝুমুর এর মধ্যেই জেরবার হয়ে উঠেছে। কি করে কোলে নেওয়া উচিত, কেমন করে দুধ খাবে, কখন খাওয়াতে হবে, কিভাবে শোয়াতে হবে এমন নানান ফরমায়েশি বিধানে দুজনের হাঁপিয়ে ওঠার জোগাড়। 

সদ্য বাবা মায়েদের বলি, কমবেশি এমনটা হয়ত সমস্ত নবজাতকের বাড়িতেই ঘটে থাকে। অযথা ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং স্তন্যপানের সঠিক তথ্য ও পদ্ধতিগুলি জেনে নিন।

WHO-র তথ্য অনুযায়ী শিশুকে অন্তত দু’বছর পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো উচিত এবং প্রথম ছ’মাস মাতৃদুগ্ধই দেওয়া উচিত। মাতৃদুগ্ধের বিবর্তন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়।https://parenting.firstcry.com/articles/breast-milk-colour-whats-normal-whats-not/ 

১. কোলোস্ট্রাম - হলদেটে রঙের ঘন রসের নাম কোলোস্ট্রাম, যা উচ্চ প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন সমৃদ্ধ। মাতৃদুগ্ধের প্রাথমিক পর্যায় এবং শিশুর জন্মের দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত এটা থাকে।

২. রূপান্তরমুখী দুধ - এর স্থায়িত্ব দু’সপ্তাহ মতো। এতে প্রচুর পরিমান ফ্যাট, ল্যাকটোজ, জলে দ্রাব্য ভিটামিন থাকে এবং এর ক্যালোরি কোলোস্ট্রামের থেকে বেশি হয়।

৩. পরিণত দুধ - এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মাতৃদুগ্ধ। এই দুধের ৯০% জল যা শিশুর শরীরে জলের মাত্রা বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রয়োজন। বাকি ১০% কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট, যা শিশুর বেড়ে ওঠা এবং শক্তির জন্য দরকার।

যখনই শিশুর খিদে পাবে তখনিই ওকে স্তন্যপান করান। একে বলে চাহিদা অনুযায়ী দুগ্ধপান। প্রথম কয়েক সপ্তাহ মাকে হয়ত প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ বারও দুগ্ধপান করাতে হতে পারে। তাছাড়া শিশুর পাশাপাশি মায়েরও শিশুকে স্তন্যপান করানো জরুরি। এই সুবিধাগুলি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হল।

স্তন্যপানে শিশুর সুবিধা -
# সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উপযুক্ত পুষ্টি যোগায়
# প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
# ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে 
# পাচনতন্ত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে
# মায়ের সাথে বন্ধন গড়ে তোলে

স্তন্যপানে মায়ের সুবিধা -
# উপকারী হরমোন তৈরী করে
# অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায়
# অপরিকল্পিত গর্ভসঞ্চারের আশঙ্কা কমায়
# প্রসবের পরে দেহের স্থুলতা প্রতিরোধ করে
# স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে




স্তন্যপানের নির্দেশিকা 

স্তন্যপান করানোর কিছু পন্থা বা নিয়ম আছে যেগুলো মেনে চললে মা এবং শিশু দুজনেরই উপকার হয় । অনেকেই হয়ত এ বিষয়ে জানেন না যার ফলে অধিকাংশ সময়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিচে বিশদে দেওয়া হল।

সঠিক পদ্ধতি 
# শিশুর মুখ বড় করে খোলা, ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো
# শিশুর চিবুক আর নাক স্তনের ওপর রাখা
# এরোলার বেশিরভাগ অংশই শিশুর মুখের মধ্যে থাকা      উচিত
# ছোট ছোট তীব্র টানের ছন্দে দুগ্ধপান
# দুধ গিলে নেওয়ার শব্দ শোনা যাবে
# প্রথম কয়েকবার দুধ টানার পরে স্তনবৃন্তে আরাম


ভুল পদ্ধতি
# শিশুর মাথা তার দেহের সাথে যখন সরলরেখায় নেই
# শিশু কেবল স্তনবৃন্ত থেকে দুধ খাচ্ছে, এরোলা মুখের মধ্যে নেই
# ছোট ছোট টানে দুগ্ধপান, স্বাভাবিক টানে নয়
# শিশুর গাল ভিতরে ঢুকে রয়েছে, মুখে কুলকুচোর শব্দ পাচ্ছেন
# দুধ গিলে নেওয়ার শব্দ নেই
# স্তনবৃন্তে সর্বক্ষণ ব্যাথা বা ফেটে যাওয়া


মনে রাখবেন, স্তন্যপান করানোর সময় আপনি যদি রিল্যাক্সড থাকেন তাহলে সহজেই শিশুর কাছে দুধ পৌঁছবে। এক্ষেত্রে হেলান দেওয়া চেয়ারে বসাটা খুব উপকারী। শিশুকে আপনার দিকে আনুন, আপনি শিশুর দিকে ঝুঁকে পড়বেন না। তাহলে আপনার ঘাড় ও কাঁধে চাপ পড়বে এবং শিশুর অবস্থানেও ক্ষতি হবে। 

খেয়াল রাখবেন শিশুর মুখে স্তনবৃন্তটি যেন সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেজন্য আপনাকে স্তন ধরে রাখতে হতে পারে। স্তনের পাশ থেকে সি (C) - এর মতো অথবা ইউ (U) এর মতো করে ধরুন। আপনার আঙুল যেন স্তনবৃন্ত থেকে খানিকটা দূরত্বে থাকে যাতে শিশুটির স্তন্যপানে অসুবিধে না হয়। 

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, বসা অবস্থায় শিশুর মাথা আপনার কনুইয়ের ভাঁজে রাখতে হবে। শিশুর নাক যেন স্তনবৃন্তের সাথে এক সরলরেখায় থাকে। 

তবে সাবধান ! সাইড-লায়িং অবস্থানে কখনোই স্তন্যপান করাবেন না। এতে শিশুর শ্বাসনালীতে দুধ ঢুকে জীবন সংশয় হতে পারে। পাশের ছবিগুলি দেখে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। 

এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা দরকার যে, ভারত সরকারের শ্রমমন্ত্রক দ্বারা ঘোষিত এবং মেটার্নিটি বেনিফিটস অ্যাক্ট, ১৯৬১ অনুযায়ী চাকুরীজীবি মায়েরা ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন।


এই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে জানতে হলে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। এপয়েন্টমেন্টের জন্য ক্লিক করুন - https://www.genesishospital.co/doctors অথবা ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২ 

এর পাশাপাশি আপনার কোনো জরুরি প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন। উত্তর দেবেন জেনেসিস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

Tags: how to breast feed a baby ; the right methods of breastfeeding ; breast feeding techniques ; Genesis Hospital Kolkata ;  Prescription Theke

Saturday, 18 May 2019

ডায়াবেটিস থেকে মৃত্যু ?

হ্যাঁ তা হতেই পারে। চোরাগোপ্তা মিষ্টি খাওয়া, সর্বোপরি ডায়বেটিসের রুগী হওয়া সত্ত্বেও নোলার আবেগকে সামলে না রাখতে পারাটা কিন্তু আখেরে বিপদের সম্ভাবনাকে বহুগুন বাড়িয়ে তোলে। আর এই বিপদ কিন্তু অধিকাংশ সময়ই আপনার মিষ্টি প্রীতিকে তোয়াক্কা না করে আপনার প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে ওঠে। আসুন জেনে নিই কি কি হতে পারে। 


# হৃদরোগ - ডায়াবেটিস কিন্তু বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। করোনারি ধমনীর সমস্যা, সাথে বুকে ব্যথা (এনজিনা), হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং ধমনীর সংকোচন (এথেরোস্ক্লেরোসিস)। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে আপনার হৃদরোগ বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 






# নার্ভ ড্যামেজ বা নিউরোপ্যাথি - অতিরিক্ত শর্করা, আপনার স্নায়ুকে পুষ্ট করে এমন ক্ষুদ্র রক্তবাহী জালিকার দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে আপনার পায়ের স্নায়ু। এতে সাধারণত হাতের বা পায়ের আঙুলের প্রান্তভাগে জ্বলুনি বা ব্যথা হতে পারে যা ধীরে ধীরে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাচন সম্পর্কীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বমি, ডায়ারিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। 




# চোখের সমস্যা বা রেটিনোপ্যাথি - ডায়াবেটিস রেটিনার রক্তবাহী জালিকার ক্ষতি করতে পারে, যা সম্ভাব্য অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য মারাত্মক অবস্থার ঝুঁকি বাড়ে, যেমন ছানি পড়া, গ্লোকোমা ইত্যাদি। 

# পায়ের সমস্যা - পায়ের স্নায়ু যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা রক্ত প্রবাহ সঠিক না হয় তাহলে নানান রকমের জটিলতা তৈরী হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে অল্প কাটা-ছেঁড়াতেই সংক্রমণ হতে পারে। তেমন মারাত্মক হলে পায়ের আঙ্গুল, পায়ের পাতা বা গোটা পা'টাই বাদ দিতে হতে পারে।

# ত্বকের সমস্যা - ডায়াবেটিসে ত্বকের সমস্যা হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ এক্ষেত্রে হতেই পারে। 

# কানের সমস্যা - ডায়াবেটিসে শুনতে না পাওয়া বা কম শোনার সমস্যাটা অত্যন্ত সাধারণ।  

# আলঝেইমার্স ডিজিজ - টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ডিমেনশিয়া নামক এক রকম স্নায়ুর রোগ হতে পারে যা হলে স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়ে যায়। যেমন - আলঝেইমার্স ডিজিজ। জেনে রাখুন, ব্লাড সুগার যত অনিয়ন্ত্রিত থাকবে ততই এই রোগের ঝুঁকি বাড়বে। 

# বিষন্নতা - টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিক রুগীদের মধ্যে বিষন্নতার বিভিন্ন উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়। এটা কাটিয়ে না উঠতে পারলে চিকিৎসায় বেশ সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

এর পাশাপাশি কয়েকটা জরুরি জিনিস জেনে রাখা দরকার। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য তারা হল উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থুলতা। আসুন এই প্রসঙ্গে একটু আলোকপাত করা যাক।

উচ্চ রক্তচাপ - ফেলুদা-তোপসে বা ব্যোমকেশ-অজিতের মতো উচ্চ রক্তচাপ আর ডায়াবেটিস হল বিখ্যাত মানিকজোড়। সাধারণত এদেরকে একইসাথে দেখতে পাওয়া যায়। এইটা যাঁদের আছে তাঁরা এই লাইনটা পড়ে নিশ্চই এখন ঘাড় নাড়ছেন। সেক্ষেত্রে বলি এতটাও আনন্দিত হবার কিছু নেই। এই মারাত্মক জুটির কারণে কিডনি, চোখ, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও এই রোগে আর যা যা হয় তা হল :

# রক্তনালীর প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়
# শরীরে তরলের পরিমান বৃদ্ধি পায়
# শরীরের ইনসুলিন পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয় 
# হৃদরোগের সমস্যা বাড়ে
এই সমস্ত ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে এবং সঠিক ডায়েট ও ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে হবে। 

মেটাবলিক সিনড্রোম - ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের ওজন বিরাট ভূমিকা পালন করে। বংশগত কারণ বা পেশাগত কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই অল্প বয়েসে মাত্রাতিরিক্ত ওজন মানুষকে প্রিডায়াবেটিক থেকে ডায়াবেটিকে রূপান্তরিত করে। আর এই ওজনের সমস্যা থেকে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গগুলি পৃথকভাবে বা একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হল সুষম আহার বা খাদ্যের মাত্রা কম করা। তার সাথে সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে বা ব্যায়ামের মাধ্যমে অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে যাঁরা স্থুলতায় ভুগছেন তাঁরা অনেকাংশেই স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলবেন। আর যাঁরা ভুগছেন না তাঁরা অনর্থক ওজন বৃদ্ধির হাত থেকে রেহাই পাবেন। 

মেডিক্যাল নিউট্রিশন থেরাপি :
পথ্যের গুরুত্ব মেটাবলিক রোগে অপরিসীম। জীবন, জীবিকা, ওজন, কিডনির ক্ষমতা - এই সমস্ত কিছু বিবেচনা করেই তৈরী হওয়া উচিত ডায়েট চার্ট । ‘ভালো খাবার - ভালো মন’ এই যোগাযোগটা চিন্তা করে একজন নিউট্রিশনিস্ট এবং একজন চিকিৎসক যুগ্মভাবে আপনার ডায়েট চার্ট তৈরী করে দেবেন। তবে যতক্ষণ না সেই চার্ট হাতে পাচ্ছেন ততক্ষন অবধি নিচের চার্টটা একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে শুরু করতে পারেন।

ভোরের দিকে : ১ কাপ চিনি ছাড়া চা, সাথে ১/২ বিস্কিট হোক।
জল+খাবার : ১ প্লেট উপ্ মা বা ওট্ স, সাথে একটা ফল বা এক কাপ লেবু জল - এই অভ্যাসটা চালু করুন।
ঠিক দুপুরবেলা : ২টো আটার রুটি, ১ বাটি ভাত, ১ বাটি ডাল, আধবাটি সবজি বা সোয়াবিন, ১/২ পিস্ মাছ এবং শেষ পাতে টক দই আর স্যালাড রাখুন।
বিকেল বিকেল : ১ কাপ চিনি ছাড়া চা, সাথে ১/২ বিস্কিট আর স্বাদবদলের জন্য ১ কাপ স্যুপ খেতে পারেন।
রাতকাবারি : ২ টো আটার রুটি,  ১ বাটি ডাল, আধবাটি সবজি আর স্যালাড হলে সবচেয়ে ভালো। এক-দু পিস্ চিকেন রাখতে পারেন থালার পাশে কিন্তু জমিয়ে রান্না করা কষা মাংসটা নৈব নৈব চ। ঘুমানোর আগে সামান্য দুধ (চিনি ছাড়া) খেতে পারেন।



যে সমস্ত দিকে আর কখনোই ভুলে তাকাবেন না তা হল - রেড মিট, তেল - চর্বি জাতীয় খাবার, সাদা ময়দা, আলু, গাজর এবং নুন। এছাড়া মিষ্টির দোকানের আশপাশ দিয়েও যে যাবেন না সেটা বলাই বাহুল্য। ফুরফুরে মেজাজে থাকার চেষ্টা করুন আর ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন। 

সুতরাং এই সমস্ত কঠিন রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে আজ থেকেই ব্যবস্থা নিন। সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নয়ত দেরি হয়ে গেলে যে বিপদের পাহাড় মাথায় ভেঙে পড়বে এ নিশ্চই দিব্যি বুঝতে পারছেন। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়ত ভাবছেন যে আমার তো অনেক বছরই হল, কই তেমন সাংঘাতিক তো কিছু হয় নি। তাঁদের প্রথমেই অনেক অভিনন্দন কারণ আপনারা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। কিন্তু যাঁরা নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না, তাঁদের বলব, নিজের কথা না হোক অন্ততপক্ষে বাড়ির আপনজনদের কথা তো একবার ভেবে দেখুন ! আপনার বিপদ মানে যে তাদেরও বিপদ সেটা ভুলে যাচ্ছেন কেন ? সুতরাং যতদিন এই ধরাধামে থাকার সুযোগ পেয়েছেন ততদিন সুস্থ হয়ে বাঁচুন।

আর তেমন হলে জেনেসিস হাসপাতালের ডায়াবেটিক ক্লিনিক তো আছেই, চিন্তা কি ! ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২

#diabetes #heartproblems #neoropathy #retinopathy #alzheimer'sdisease #asprescribed #medicalissues #GenesisHospitalKolkata

Saturday, 20 April 2019

ফাইব্রয়েড থেকে ক্যান্সার !



উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির গৃহবধূ ঊর্মিলা বসাক গত কয়েকমাস ধরে এক বিচিত্র পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। তার সাথে যোগ হয়েছিল ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ। মাঝে পাড়ার একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিয়ম করে ৭ দিন বেশ কয়েকটা গ্যাস-অম্বলের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। তাঁর স্বামী ভদ্রলোকটি অতিরিক্ত রকম যোগাসন প্রিয় ব্যক্তি। তিনি নির্দ্বিধায় ঊর্মিলাকে উষ্ট্রাসনের উপদেশ দিয়ে চুপচাপ নিজের কাজে মন দিয়েছিলেন। অবস্থা যখন প্রায় হাতের বাইরে চলে যায় অর্থাৎ ঊর্মিলার যখন অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে থাকে তখন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হন। পরীক্ষা করার পর জানা যায় ঊর্মিলার ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড হয়েছে এবং সার্জারির প্রয়োজন আছে। এখানে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডটা ঠিক কি। 
    
ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড (uterine fibroid) হল একধরণের টিউমার যা জরায়ুর মধ্যে হয়। এই টিউমারগুলি পেশীর ফাইবার দ্বারা গঠিত হলেও জরায়ুর মায়োমেট্রিয়ামের (uterine wall - myometrium) তুলনায় অনেক বেশি ঘন হয়। এই টিউমার সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কোনোরকম ব্যথা হয় না। তবে ফাইব্রয়েড যদি আকারে বড় হয় সেক্ষেত্রে ব্লাডার বা অন্যান্য অঙ্গে বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ফাইব্রয়েড বেশ কয়েক ধরণের হতে পারে। এর অবস্থান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ভাবে তাদের ভাগ করা হল।

১. সাবসেরোসাল ফাইব্রয়েড (Subserosal fibroid) - জরায়ুর বহিঃস্তরে এই ফাইব্রয়েড হয়।
২. সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েড (Submucosal fibroid) - জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের নিচে এই ফাইব্রয়েডটি হয়।
৩. ইন্ট্রামুরাল ফাইব্রয়েড (Intramural fibroid) - জরায়ুর পেশিতে হয়।
৪. পেডানকুলেটেড ফাইব্রয়েড (Pedunculated fibroid) - এই ফাইব্রয়েড কতকটা ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে যা জরায়ুর বহির্ভাগে হয়।
৫. ইন্ট্রাক্যাভিটারি ফাইব্রয়েড (intracavitary fibroid) - এটি জরায়ুর অভ্যন্তরে হয়। এর ফলে যৌনমিলনে যথেষ্ট ব্যাথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।

এর উপসর্গ কি কি ?
সাধারণত এর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে যাঁর ফাইব্রয়েড আছে তিনিও এর উপস্থিতি নাও টের পেতে পারেন। তবু কিছু কিছু জটিলতার আভাস আগে থেকে পাওয়া যায় যেমন - জরায়ু থেকে রক্তপাত, একটানা অনেকদিন ধরে ঋতুস্রাব, ঋতুস্রাবের সময় যথেষ্ট ব্যাথা, অত্যাধিক ঋতুস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাতে রক্তাল্পতা, যথেষ্ট ব্যাথা অনুভূত হওয়া, পেটে চাপ অনুভূত হওয়া, প্রস্রাব বেশি হওয়া বা আটকে যাওয়া ইত্যাদি। 
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফাইব্রয়েড থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। যার ফলে বারে বারে গর্ভপাতও হতে পারে। এর সাথে অতিরিক্ত রক্তপাতও হতে পারে। যদি সময়মতো ফাইব্রয়েড নির্মূল না করা হয় তাহলে পরবর্তীকালে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখন যে প্রশ্নটা মনে আসে, তা হল -

ফাইব্রয়েড হওয়ার কারণ কি ?
এখনো অবধি কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলা যায়নি, তবে কিছু কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারে যেমন - জিনগত জটিলতা, পারিবারিক ইতিহাসে ফাইব্রয়েডের উপস্থিতি, ভাস্কুলার সিস্টেমে অস্বাভাবিকতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ইস্ট্রোজেনের কারণেও ফাইব্রয়েড হতে পারে।

ফাইব্রয়েড থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে ?
সাধারণত জরায়ুর ফাইব্রয়েড কোনোরকম সমস্যা করে না। তবে এই ফাইব্রয়েড যদি খুব তাড়াতাড়ি আকারে বড় হতে থাকে তাহলে বেশ চিন্তার বিষয় আছে। এর কারণ লিওমায়োসার্কোমা (leiomyosarcoma) নামে একধরণের বিরল ক্যান্সার আছে যা এক্ষেত্রে হতেই পারে। যেটা ভয়ের কথা তা হল আল্ট্রাসাউন্ড বা এম.আর.আই পরীক্ষায় আলাদা করে একে ক্যান্সার ফাইব্রয়েড বলে চেনা যায় না। তবে এই ধরণের টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা ১% এরও নিচে। তাই ফাইব্রয়েড হলে তাকে ফেলে না রেখে সত্বর একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

এর চিকিৎসা কি ?
ফাইব্রয়েডের আকার অনুযায়ী এর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। অর্থাৎ ফাইব্রয়েড যদি বড় হয় তাহলে কয়েকটা সার্জারির মাধ্যমে তা পুরোপুরি নির্মূল করা হয়, যেমন -

# হিস্টেরেক্টমি (hysterectomy) - এই পদ্ধতির মাধ্যমে ফাইব্রয়েড সহ সম্পূর্ণ জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয়। ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা NDVH-এর সাহায্যে হিস্টেরেক্টমি করা হয়।
 
# মায়োমেক্টমি (myomectomy) - এই পদ্ধতিতে ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা হিস্টেরেস্কোপির সাহায্যে জরায়ুকে যথাস্থানে রেখে শুধুমাত্র ফাইব্রয়েড কেটে বের করা হয়।

এছাড়া আরও কিছু পদ্ধতি আছে যার সাহায্যে জরায়ুর ফাইব্রয়েড বের করে আনা হয়।   
বেশ কিছু ওষুধও আছে যার সাহায্যে ফাইব্রয়েডের চিকিৎসা করা হয়। জেনে রাখা ভালো যে এই সমস্ত ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তবে এই চিকিৎসা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।  বরং ফাইব্রয়েডের হাত  থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি পেতে গেলে অস্ত্রোপচারই সর্বশ্রেষ্ঠ  উপায়। সুতরাং একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ যে অবশ্যই নিয়ে নেওয়া উচিত সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই ধরণের অস্ত্রোপচারের সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালে (Genesis Hospital)  এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২ / ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪

#GenesisHospitalKolkata #uterinefibroids #leiomyosarcoma #hysterectomy #myomectomy #Prescriptiontheke 

Thursday, 11 April 2019

রক্ত ছাড়াই অস্ত্রোপচার


সম্প্রতি জেনেসিস হাসপাতালে (Genesis Hospital) ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। উত্তর-পূর্বভারতীয় একজন মহিলা রুগীর অস্ত্রোপচার হল কোনোরকম রক্তের সাহায্য ছাড়াই।

দিনকয়েক আগে এই রুগী অসহ্য পেট ব্যাথা নিয়ে দেখা করেছিলেন জেনেসিস হাসপাতালের বিখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গঙ্গা শরণের সাথে। নিয়মমাফিক কিছু টেস্টে ধরা পড়ে যে রুগীর জরায়ুতে একাধিক ফাইব্রয়েডের (Uterine Fibroid) উপস্থিতি আছে। যার ফলে রুগীকে নানান রকমের উপসর্গ ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় যে ল্যাপারোস্কপি পদ্ধতির সাহায্যে রুগীর অস্ত্রোপচার করা হবে। এই অবধি সম্পূর্ণ ঠিক ছিল, কিন্তু এক অদ্ভুত দাবি করে বসেন রুগী নিজে ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বলেন যে তাঁরা জেহোভা সম্প্রদায়ের (Jehova) অন্তর্ভুক্ত এবং সেই কারণে অস্ত্রোপচার চলাকালীন বা অস্ত্রোপচারের পরে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে রুগীকে কোনোভাবেই রক্তদান করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যদি রুগীর প্রাণসংশয় হয় তাহলেও তাঁদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

এখানে উল্লেখ্য 'জেহোবার সাক্ষী' বা 'Jehova's Witness' হল খ্রিস্টধর্ম অন্তর্গত একটি সম্প্রদায় যাঁরা মূলধারার খ্রিস্টধর্ম থেকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হল এই সম্প্রদায়ের মানুষরা ক্রিসমাস, ইস্টার, জন্মদিন বা অন্যান্য ছুটির দিনগুলি একেবারেই পালন করেন না। এছাড়া সামরিক পরিষেবা এবং রক্তগ্রহণ বা রক্তদানের প্রক্রিয়াগুলি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন।    


ডাঃ গঙ্গা শরণ বলছেন যে এমন একটি অস্ত্রোপচার করা তাঁর পক্ষে বেশ কঠিন ছিল। জেহোভা সম্প্রদায়ের মানুষ রক্তগ্রহণ তো করেনই না পাশাপাশি অটোলোগাস রক্তগ্রহণের প্রক্রিয়াও (autologous blood transfusion) এড়িয়ে চলেন। অর্থাৎ নিজের শরীরের রক্ত আলাদা করে সংগ্রহ করলেও সেই রক্তও গ্রহণ করেন না তাঁরা। সুতরাং এই সম্প্রদায়ের রুগীর অস্ত্রোপচারে যথেষ্ট ঝুঁকির অবকাশ থেকে যায়। 

সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট দিনে প্রায় তিন ঘন্টা সময় ধরে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।  টোটাল ল্যাপারোস্কোপিক হিস্টেরেক্টমি (Total Laparoscopic Hysterectomy) পদ্ধতির সাহায্যে এবং পাহাড় প্রমাণ মানসিক চাপকে জয় করে ডাঃ শরণ এই অস্ত্রোপচারকে সফল করেন দারুণভাবে। অস্ত্রোপচারের দু দিন বাদে রুগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডাঃ শরণ বলছেন যে এমন একটি অস্ত্রোপচারে প্রভূত চাপ থাকলেও জেনেসিস হাসপাতালের (Genesis Hospital) দুর্দান্ত সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে অত্যন্ত মসৃণভাবে। 

এই অস্ত্রোপচারের সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে এই নম্বরে। 
০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২ / ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪

#genesishospitalkolkata #jehova'switness #totallaparoscopichysterectomy #uterinefibroid  

Friday, 8 March 2019

উলটপুরাণ


গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর (Gallstone) হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই যে উপযুক্ত কাজ তা বোধহয় বর্তমান যুগে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যাঁরা ভাবছেন যে এসব সামান্য বিষয়ে ছুরি, কাঁচির তলায় পেট কি না পাতলেই নয়, তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখি যে পিত্তথলিতে গঠিত পাথর বেশ বড় রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার জীবনে। যেমন - জন্ডিস , জ্বর তার সাথে তীব্র ব্যাথা, পিত্তথলিতে পুঁজ সঞ্চয়, প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় জনিত ব্যাধি, পিত্তথলির ক্যান্সার এবং পিত্তথলিতে ছিদ্র থাকলে তা জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। পেটে পাথর নিয়ে আপনি ঘুরে ফিরে বেড়াতেই পারেন তবে কিনা ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমির (laparoscopic cholecystectomy) সাহায্যে এই গোটা পিত্তথলিটাই বার করে নেওয়া হয়। তাতে রুগী অনেক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং অন্যান্য কাজ করতে আর কোনোরকম বাধা থাকে না। এত গেল সাধারণ গরুর রচনা। এই ব্যাপারে কম বেশি আমরা সকলেই জানি। এ আর নতুন কি ? তাহলে একটা চমকপ্রদ গল্প বলি শুনুন।

তারাতলাবাসী যুবক সুরঞ্জন দত্তচৌধুরীকে (নাম পরিবর্তিত) একডাকে আশেপাশের মানুষ চেনে। সুরঞ্জন এলাকার একজন নামকরা ব্যায়ামবীর। রোগজ্বালা না থাকায় শক্তপোক্ত সুরঞ্জনের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি খুব একটা। এহেন ট্রাইসেপ বাইসেপধারীর হঠাৎ করে একদিন পেটের বাঁদিকে ব্যাথা শুরু হল। হজমের গোলমাল ভেবে গোটা কয়েক এন্টাসিড খেয়ে সে দিব্যি চালিয়ে দিল কয়েকদিন। কিন্তু দিন যত যায় সুরঞ্জনের ব্যাথাও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। শেষটায় আর সহ্য করতে না পেরে সে পাড়ার এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হল। তিনিও পাকস্থলীর সমস্যা ভেবে দু একটা ওষুধ লিখে দিলেন। তাতে ব্যথা তো কমলই না বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। অবশেষে সুরঞ্জন যোগাযোগ করল জেনেসিস হাসপাতালে ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়ের সাথে। সমস্ত উপসর্গ শুনে তিনি আল্ট্রাসোনোগ্রাফির নির্দেশ দিলেন। যথাসময় রিপোর্টে দেখা গেল সুরঞ্জনের গলস্টোন অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। কিন্তু তার সাথে যে অদ্ভুত বিষয়টি ধরা পড়ল তাতে করে সুরঞ্জনের হাঁ হয়ে যাওয়া মুখ আর কিছুতেই বন্ধ হতে চাইল না।

ডাঃ রায় বললেন সুরঞ্জনের সাইটাস ইনভার্সাস (situs inversus) রয়েছে। ভাবছেন এ আবার কি গোলমেলে রোগ ? না, এটা ঠিক রোগ নয়। চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী এটি একরকম অবস্থা, যেখানে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি তাদের স্বাভাবিক জায়গার বদলে তাদের ঠিক উল্টোদিকে থাকে। একটু খোলসা করে বলি। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বাম কক্ষপথ এবং বাম ফুসফুস শরীরের ডান দিকে অবস্থান করে। লিভার, ডানদিকের বদলে থাকে বাঁদিকে এবং পাকস্থলী বাঁদিকের বদলে ডানদিকে থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিত্তথলিও ডানদিকের বদলে বাঁদিকে থাকে। সুরঞ্জনের ক্ষেত্রে ঠিক যেটা হয়েছে। এবং সেই কারণেই সুরঞ্জনের বাঁদিকে ব্যাথা হচ্ছিল, যাকে পূর্বতন চিকিৎসক পাকস্থলীর ব্যাথা ভেবে ভুল করছিলেন। অতএব এখন বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠতে পারে, যেমন - 


সাইটাস ইনভার্সাস হওয়ার কারণ কি ?
বিভিন্ন জটিল জিনগত সমস্যার কারণে এই অবস্থার সূত্রপাত। অত্যন্ত দুর্লভ হলেও এটা দেখতে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০,০০০ মানুষের মধ্যে একজনের সাইটাস ইনভার্সাস হয়। যমজ "মিরর ইমেজ" শিশুদের মধ্যেও এটা দেখতে পাওয়া যায়।

কত রকমের হয় ?
সাধারণত দু ধরণের হয়। ডেক্সট্রোকার্ডিয়া (dextrocardia) এবং লেভোকার্ডিয়া (levocardia) হৃদপিণ্ড অন্যদিকে থাকলে ডেক্সট্রোকার্ডিয়া এবং বাকি অঙ্গগুলি উল্টোদিকে থাকলে লেভোকার্ডিয়া বলে। তবে সমস্ত অঙ্গ উল্টোদিকে থাকলে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস টোটালিস।  

এর উপসর্গ কি কি ?

উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও যেহেতু অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিকভাবে কাজ করে তাই সাধারণত কোনো উপসর্গ পাওয়া যায় না। সুতরাং গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসার কোনো কারণ নেই।

কিভাবে জানতে পারবেন ?
এক্স রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলে তবেই জানা যায়। শুধু খেয়াল রাখবেন তলপেটের বাঁদিকে এপেনডিক্সের মতো ব্যাথা হচ্ছে না তো ! সেক্ষেত্রে ডানদিকের বদলে বাঁদিকে এপেন্ডিক্স থাকতে পারে। তবে একজন চিকিৎসকের পক্ষে হার্টবিট শুনে বলে দেওয়া সম্ভব সাইটাস ইনভার্সাস আছে কিনা। 

এক্ষেত্রে কি করণীয় ?
সাধারণ রোগ যেভাবে চিকিৎসা করা হয় এক্ষেত্রেও তাই হবে। তবে দিকপরিবর্তনের জন্য চিকিৎসকের সামান্য সমস্যা হতে পারে। তাই বলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য জেদ ধরে থাকবেন না। তাতে কিন্তু আবার অন্য বিপদ। বরং যেমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলছে তেমনই চলতে দিন।

ডাঃ পূর্ণেন্দু রায় (Dr.Purnendu Roy) অবশ্য সুরঞ্জনের গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার সফলভাবেই করেছিলেন। সুরঞ্জন, তার এই বিরল অবস্থার কথা প্রথমটায় বিশ্বাস করেনি যদিও, তবে ডাঃ রায়ের চিকিৎসা ও আশ্বাসবাণীতে সে এখন একেবারেই সুস্থ। বলা চলে দ্বিগুন উৎসাহে সে এখন শারীরিক কসরত করে চলেছে। সুতরাং আপনি যদি এহেন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে একেবারেই ভয় পাবেন না। আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমনই থাকুক না কেন, কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে জেনেসিস হাসপাতালে (www.genesishospital.co) যোগাযোগ করুন। এখানে সোজা উল্টো সবরকম রোগেরই চিকিৎসা হয়।

#genesishospitalkolkata #situsinversus #gastroeneterology #asprescribed #bengalimedicalarticle #medicalblog #medicine #drpurnenduroy

Tuesday, 19 February 2019

সুখে থাকতে ভূতের কিল

বালাই ষাট ! সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে যাবেন কেন ? ভূতের কিল খাক আপনার শত্তুর ! আপনি দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোতে থাকুন। কারণ আপনার শরীরের বাইরে ও ভিতরের সমস্ত যন্ত্র, মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অবধি বেরোখ কাজ করছে একেবারে। ঠিক কিনা ? তার কারণ আপনি তো বিলকুল সুস্থ ! সুতরাং আগের থেকে মেডিক্যাল টেস্ট করে আবার কোন পাগলে ? বইটা ছিঁড়ুক তবে তো বইয়ের মলাট দেবেন ? বাইকটা খারাপ হোক তবে তো সার্ভিসিং !

কি বললেন ? 'এরকমটা নয়' ? মানে মলাট বা সার্ভিসিং-টা আগের থেকেই করিয়ে রাখেন, তাই তো ? বেশ, শরীরের ব্যাপারে তাহলে মাতব্বরি কেন বন্ধু ?  বাড়ির ফিল্টারটা যদি ৩ মাস অন্তর লোক ডেকে সার্ভিসিং করাতে পারেন, তাহলে আপনার শরীরের দুদিকে যে দুটো ফিল্টার রয়েছে সে কি দোষ করল বলুন তো ? কিডনি - জন্ম থেকে সমানে আপনার শরীরের দূষিত পদার্থ নিরলস ফিল্টার করে চলেছে কোনো রকম ইন্সেন্টিভ আর ছুটিছাটা ছাড়াই। রাগ করে সে যদি দুদিন ছুটি নিয়ে ফেলে আপনার তো ইউরেমিয়া হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে ছুটি হয়ে যেতে পারে, সেটা জানেন কি ? শেষ কবে ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন মেপে দেখেছেন, মনে আছে ? 

বাড়ির টুলু পাম্পটির অতিরিক্ত জল তুলে ফেললে যে জ্বলে যাবার উপক্রম হয় এ আপনার থেকে
বেশি ভালো আর কে জানে। কিন্তু আপনার বুকের ভিতর যে মোটরটা মিনিটে ৭০ বার পাম্প করছে তার বেলা ? জানেন, আপনার হার্টরেট আর রিদিম ঠিক আছে কিনা ? ইস্কিমিয়া (ischemia) নেই তো ? কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে গেলে আপনার পাতে মিষ্টি পড়তে সময় পায় না। পিঁপড়েরা হা হুতাশ করে পাশ দিয়ে চলে যায় এমনি আপনার রসগোল্লা খাওয়ার ধুম।

বলুন তো, শেষ কবে ব্লাডসুগার টেস্ট (blood sugar test) করেছেন ? জানেন কি সারা পৃথিবীতে ভারতবর্ষ হল ডায়বেটিসের রাজধানী। ২০৩০ সালে ভারতবর্ষে ডায়াবেটিকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ছুঁতে পারে। ডায়াবেটিসে চোখ খারাপ - ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (diabetic retinopathy), কিডনি খারাপ - ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি (diabetic nephropathy), ব্লাড ভেসেলস ড্যামেজ - ডায়াবেটিস মাইক্রোএনজিওপ্যাথি (diabetic microangiopathy) - এতো জেনেও সুস্থ অবস্থাতেও কিছুতেই আপনি ব্লাড সুগার টেস্টটা করবেন না। কারণ লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে যাবে সে আপনার ধম্মে সইবে কেন ? আচ্ছা এবার বলুন তো আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেলটা ঠিক কত ? কেন জানতে চাইছি ? তার কারণ কোলেস্টেরল আর্টারির ওয়ালের মধ্যে তৈরী করবে এথেরোসক্লেরোসিস (atherosclerosis)। করোনারি আর্টারিটা একটু একটু করে সরু হয়ে এনজাইনা এবং পরে করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফাকশন (myocardial infarction), যার ফল হার্ট এট্যাক। অর্থাৎ আপনার হাসি হাসি মুখের ছবিতে মালা ঝুলবে। 

এবার আসি মহিলাদের ক্যান্সারের কথায়। এক্ষেত্রে ক্যান্সার বললেই সর্বপ্রথম ব্রেস্ট ক্যান্সারের কথা মাথায় আসে। জানেন কি, মহিলারা সব থেকে বেশি কোন ক্যান্সারে মারা যান ? সারাভাইকাল ক্যান্সার (cervical cancer), ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক ভাবে ৩৫ বছরের উর্দ্ধে সবাইকে 'ওয়েল-উম্যান ক্লিনিক' এটেন্ড করতে হয়। এই ক্লিনিকে 'প্যাপ স্মিয়ার' (pap smear) বলে একটা টেস্ট করা হয়, যাতে ক্যান্সার সার্ভিক্স, স্টেজ ওয়ানের আগেই ধরা পড়ে। ক্যান্সার হওয়া অবস্থাতেই সার্জারি বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় করা হয়। তবে মহিলারা সুস্থ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন এটা কতকটা সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠার মতো।  তাঁরা অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে যান না আর তাই, সময়মত ক্যান্সারও ধরা পড়ে না। কি ! কালঘাম ছুটছে তো ? আচ্ছা বেশ, দূর থেকে পাথর না ছুঁড়ে বরং ঠিকঠাক জেনে নিই সুস্থ অবস্থায় কি কি টেস্ট আমাদের সকলের করে রাখা উচিত। 

# ব্লাড টেস্ট - হিমোগ্লোবিন করা উচিত কারণ এনিমিয়া আছে কিনা বোঝা যাবে। এছাড়া টোটাল
কাউন্ট, ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট, ই.এস.আর করতে হবে। অনেক রক্তের অসুখ আছে যার কিন্তু উপসর্গ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আবার রুটিন টেস্টেও লিউকেমিয়া ধরা পড়েছে এমন পেশেন্টও আছেন । যে অসুখে ব্যাথা নেই সে অসুখ ধরাও পরে অনেক দেরিতে। কারণ ব্যাথা না হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রশ্নই উঠছে না।

# ইউরিয়া, সিরাম, ক্রিয়াটিনিন করা উচিত - কিডনি কেমন চলছে তা দেখার জন্য।

# লিভার ফাংশন টেস্ট - বিলিরুবিন, এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন, ফসফেটিস, এলবুমিন, গ্লোবিউলিন ইত্যাদি টেস্ট করে বোঝা যায় আপনার লিভারটি কেমন কাজ করছে।

# লিপিড প্রোফাইল - কোলেস্টেরোল-ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্ট করে জেনে নিন আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা। অনেক অসুখ আছে যেগুলো বংশানুক্রমিক, চট করে ধরা পড়ে না। 

# চেস্ট এক্স রে - ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত জরুরী। শহরের দূষণ থেকে নানারকম রোগ হতে পারে। ফুসফুসের বিভিন্ন বিড়ম্বনা কিন্তু রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে।

# আল্ট্রাসোনোগ্রাফি - একটা ইউএসজি অফ হোল এবডোমেন বছরে বার দুয়েক করে রাখলে মঙ্গল। কিডনি, প্যানক্রিয়াস, গল ব্লাডার, লিভার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ইউটেরাস, ওভারি টিউব ইত্যাদি।

# বেসিক ইসিজি করিয়ে রাখা ভালো। ইসিজি আর ইকোকার্ডিওগ্রামের তফাৎ কি ? ইসিজি  নির্ণয় করে ইলেক্ট্রিক্যাল কন্ডাকশন, হার্ট রেট, রিদম। আমাদের কোনো এভি ব্লক আছে কিনা বা পাণ্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক আছে কিনা, এতে ধরা পড়বে। ইস্কিমিয়া থাকলে অর্থাৎ করোনারি আর্টারি ড্যামেজ থাকলে ইসিজি-তে খানিকটা ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রামে ভাল্ভ স্ট্রাকচার দেখতে পাওয়া যায়। যেমন - পালমোনারি ভাল্ভ, ট্রাইকাস্পিড ভাল্ভ, এওর্টিক ভাল্ভ ইত্যাদি।  যারা হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগেন তাদের লেফট ভেন্ট্রিকুলার ওয়াল হাইপারট্রফি হয়। ওয়াল মোটা হয়ে গেলে এই টেস্টে সেটা দেখা যায়। হার্ট এট্যাকের পর হার্ট কেমন কাজ করছে তাও ইকোকার্ডিওগ্রামে বোঝা যায়। একে বলে লেফট ভেন্ট্রিকুলার ইজেকশন ফ্র্যাকশন। 

এছাড়া আরো অন্যান্য টেস্ট আছে যা সময়বিশেষে অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে জেনেসিস হাসপাতালে যোগাযোগ করে সমস্ত টেস্ট সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩ ৪০২২৪২৪২ সুতরাং টেস্ট করা কেন প্রয়োজন তা নিশ্চই এবার বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন। তাছাড়া শরীরের সমস্ত যন্ত্রাদি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নিয়ম করে ঘর বাড়ির যত্ন নিচ্ছেন আর শরীরের বেলা দ্বিচারিতা কেন ? ভেবে দেখুন একবার…..

#bloodtest #ureaserumcreatinine #lipidprofile #chestxray #USG #ECG #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed