Saturday, 20 April 2019

ফাইব্রয়েড থেকে ক্যান্সার !



উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির গৃহবধূ ঊর্মিলা বসাক গত কয়েকমাস ধরে এক বিচিত্র পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। তার সাথে যোগ হয়েছিল ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ। মাঝে পাড়ার একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিয়ম করে ৭ দিন বেশ কয়েকটা গ্যাস-অম্বলের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। তাঁর স্বামী ভদ্রলোকটি অতিরিক্ত রকম যোগাসন প্রিয় ব্যক্তি। তিনি নির্দ্বিধায় ঊর্মিলাকে উষ্ট্রাসনের উপদেশ দিয়ে চুপচাপ নিজের কাজে মন দিয়েছিলেন। অবস্থা যখন প্রায় হাতের বাইরে চলে যায় অর্থাৎ ঊর্মিলার যখন অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে থাকে তখন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হন। পরীক্ষা করার পর জানা যায় ঊর্মিলার ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড হয়েছে এবং সার্জারির প্রয়োজন আছে। এখানে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডটা ঠিক কি। 
    
ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড (uterine fibroid) হল একধরণের টিউমার যা জরায়ুর মধ্যে হয়। এই টিউমারগুলি পেশীর ফাইবার দ্বারা গঠিত হলেও জরায়ুর মায়োমেট্রিয়ামের (uterine wall - myometrium) তুলনায় অনেক বেশি ঘন হয়। এই টিউমার সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কোনোরকম ব্যথা হয় না। তবে ফাইব্রয়েড যদি আকারে বড় হয় সেক্ষেত্রে ব্লাডার বা অন্যান্য অঙ্গে বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ফাইব্রয়েড বেশ কয়েক ধরণের হতে পারে। এর অবস্থান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ভাবে তাদের ভাগ করা হল।

১. সাবসেরোসাল ফাইব্রয়েড (Subserosal fibroid) - জরায়ুর বহিঃস্তরে এই ফাইব্রয়েড হয়।
২. সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েড (Submucosal fibroid) - জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের নিচে এই ফাইব্রয়েডটি হয়।
৩. ইন্ট্রামুরাল ফাইব্রয়েড (Intramural fibroid) - জরায়ুর পেশিতে হয়।
৪. পেডানকুলেটেড ফাইব্রয়েড (Pedunculated fibroid) - এই ফাইব্রয়েড কতকটা ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে যা জরায়ুর বহির্ভাগে হয়।
৫. ইন্ট্রাক্যাভিটারি ফাইব্রয়েড (intracavitary fibroid) - এটি জরায়ুর অভ্যন্তরে হয়। এর ফলে যৌনমিলনে যথেষ্ট ব্যাথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।

এর উপসর্গ কি কি ?
সাধারণত এর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে যাঁর ফাইব্রয়েড আছে তিনিও এর উপস্থিতি নাও টের পেতে পারেন। তবু কিছু কিছু জটিলতার আভাস আগে থেকে পাওয়া যায় যেমন - জরায়ু থেকে রক্তপাত, একটানা অনেকদিন ধরে ঋতুস্রাব, ঋতুস্রাবের সময় যথেষ্ট ব্যাথা, অত্যাধিক ঋতুস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাতে রক্তাল্পতা, যথেষ্ট ব্যাথা অনুভূত হওয়া, পেটে চাপ অনুভূত হওয়া, প্রস্রাব বেশি হওয়া বা আটকে যাওয়া ইত্যাদি। 
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফাইব্রয়েড থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। যার ফলে বারে বারে গর্ভপাতও হতে পারে। এর সাথে অতিরিক্ত রক্তপাতও হতে পারে। যদি সময়মতো ফাইব্রয়েড নির্মূল না করা হয় তাহলে পরবর্তীকালে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখন যে প্রশ্নটা মনে আসে, তা হল -

ফাইব্রয়েড হওয়ার কারণ কি ?
এখনো অবধি কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলা যায়নি, তবে কিছু কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারে যেমন - জিনগত জটিলতা, পারিবারিক ইতিহাসে ফাইব্রয়েডের উপস্থিতি, ভাস্কুলার সিস্টেমে অস্বাভাবিকতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ইস্ট্রোজেনের কারণেও ফাইব্রয়েড হতে পারে।

ফাইব্রয়েড থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে ?
সাধারণত জরায়ুর ফাইব্রয়েড কোনোরকম সমস্যা করে না। তবে এই ফাইব্রয়েড যদি খুব তাড়াতাড়ি আকারে বড় হতে থাকে তাহলে বেশ চিন্তার বিষয় আছে। এর কারণ লিওমায়োসার্কোমা (leiomyosarcoma) নামে একধরণের বিরল ক্যান্সার আছে যা এক্ষেত্রে হতেই পারে। যেটা ভয়ের কথা তা হল আল্ট্রাসাউন্ড বা এম.আর.আই পরীক্ষায় আলাদা করে একে ক্যান্সার ফাইব্রয়েড বলে চেনা যায় না। তবে এই ধরণের টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা ১% এরও নিচে। তাই ফাইব্রয়েড হলে তাকে ফেলে না রেখে সত্বর একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

এর চিকিৎসা কি ?
ফাইব্রয়েডের আকার অনুযায়ী এর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। অর্থাৎ ফাইব্রয়েড যদি বড় হয় তাহলে কয়েকটা সার্জারির মাধ্যমে তা পুরোপুরি নির্মূল করা হয়, যেমন -

# হিস্টেরেক্টমি (hysterectomy) - এই পদ্ধতির মাধ্যমে ফাইব্রয়েড সহ সম্পূর্ণ জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয়। ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা NDVH-এর সাহায্যে হিস্টেরেক্টমি করা হয়।
 
# মায়োমেক্টমি (myomectomy) - এই পদ্ধতিতে ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা হিস্টেরেস্কোপির সাহায্যে জরায়ুকে যথাস্থানে রেখে শুধুমাত্র ফাইব্রয়েড কেটে বের করা হয়।

এছাড়া আরও কিছু পদ্ধতি আছে যার সাহায্যে জরায়ুর ফাইব্রয়েড বের করে আনা হয়।   
বেশ কিছু ওষুধও আছে যার সাহায্যে ফাইব্রয়েডের চিকিৎসা করা হয়। জেনে রাখা ভালো যে এই সমস্ত ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তবে এই চিকিৎসা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।  বরং ফাইব্রয়েডের হাত  থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি পেতে গেলে অস্ত্রোপচারই সর্বশ্রেষ্ঠ  উপায়। সুতরাং একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ যে অবশ্যই নিয়ে নেওয়া উচিত সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই ধরণের অস্ত্রোপচারের সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালে (Genesis Hospital)  এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২ / ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪

#GenesisHospitalKolkata #uterinefibroids #leiomyosarcoma #hysterectomy #myomectomy #Prescriptiontheke 

Thursday, 11 April 2019

রক্ত ছাড়াই অস্ত্রোপচার


সম্প্রতি জেনেসিস হাসপাতালে (Genesis Hospital) ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। উত্তর-পূর্বভারতীয় একজন মহিলা রুগীর অস্ত্রোপচার হল কোনোরকম রক্তের সাহায্য ছাড়াই।

দিনকয়েক আগে এই রুগী অসহ্য পেট ব্যাথা নিয়ে দেখা করেছিলেন জেনেসিস হাসপাতালের বিখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গঙ্গা শরণের সাথে। নিয়মমাফিক কিছু টেস্টে ধরা পড়ে যে রুগীর জরায়ুতে একাধিক ফাইব্রয়েডের (Uterine Fibroid) উপস্থিতি আছে। যার ফলে রুগীকে নানান রকমের উপসর্গ ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় যে ল্যাপারোস্কপি পদ্ধতির সাহায্যে রুগীর অস্ত্রোপচার করা হবে। এই অবধি সম্পূর্ণ ঠিক ছিল, কিন্তু এক অদ্ভুত দাবি করে বসেন রুগী নিজে ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বলেন যে তাঁরা জেহোভা সম্প্রদায়ের (Jehova) অন্তর্ভুক্ত এবং সেই কারণে অস্ত্রোপচার চলাকালীন বা অস্ত্রোপচারের পরে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে রুগীকে কোনোভাবেই রক্তদান করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যদি রুগীর প্রাণসংশয় হয় তাহলেও তাঁদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

এখানে উল্লেখ্য 'জেহোবার সাক্ষী' বা 'Jehova's Witness' হল খ্রিস্টধর্ম অন্তর্গত একটি সম্প্রদায় যাঁরা মূলধারার খ্রিস্টধর্ম থেকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হল এই সম্প্রদায়ের মানুষরা ক্রিসমাস, ইস্টার, জন্মদিন বা অন্যান্য ছুটির দিনগুলি একেবারেই পালন করেন না। এছাড়া সামরিক পরিষেবা এবং রক্তগ্রহণ বা রক্তদানের প্রক্রিয়াগুলি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন।    


ডাঃ গঙ্গা শরণ বলছেন যে এমন একটি অস্ত্রোপচার করা তাঁর পক্ষে বেশ কঠিন ছিল। জেহোভা সম্প্রদায়ের মানুষ রক্তগ্রহণ তো করেনই না পাশাপাশি অটোলোগাস রক্তগ্রহণের প্রক্রিয়াও (autologous blood transfusion) এড়িয়ে চলেন। অর্থাৎ নিজের শরীরের রক্ত আলাদা করে সংগ্রহ করলেও সেই রক্তও গ্রহণ করেন না তাঁরা। সুতরাং এই সম্প্রদায়ের রুগীর অস্ত্রোপচারে যথেষ্ট ঝুঁকির অবকাশ থেকে যায়। 

সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট দিনে প্রায় তিন ঘন্টা সময় ধরে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।  টোটাল ল্যাপারোস্কোপিক হিস্টেরেক্টমি (Total Laparoscopic Hysterectomy) পদ্ধতির সাহায্যে এবং পাহাড় প্রমাণ মানসিক চাপকে জয় করে ডাঃ শরণ এই অস্ত্রোপচারকে সফল করেন দারুণভাবে। অস্ত্রোপচারের দু দিন বাদে রুগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডাঃ শরণ বলছেন যে এমন একটি অস্ত্রোপচারে প্রভূত চাপ থাকলেও জেনেসিস হাসপাতালের (Genesis Hospital) দুর্দান্ত সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে অত্যন্ত মসৃণভাবে। 

এই অস্ত্রোপচারের সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে এই নম্বরে। 
০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২ / ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪

#genesishospitalkolkata #jehova'switness #totallaparoscopichysterectomy #uterinefibroid  

Friday, 8 March 2019

উলটপুরাণ


গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর (Gallstone) হলে সার্জারি করিয়ে নেওয়াই যে উপযুক্ত কাজ তা বোধহয় বর্তমান যুগে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যাঁরা ভাবছেন যে এসব সামান্য বিষয়ে ছুরি, কাঁচির তলায় পেট কি না পাতলেই নয়, তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখি যে পিত্তথলিতে গঠিত পাথর বেশ বড় রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার জীবনে। যেমন - জন্ডিস , জ্বর তার সাথে তীব্র ব্যাথা, পিত্তথলিতে পুঁজ সঞ্চয়, প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় জনিত ব্যাধি, পিত্তথলির ক্যান্সার এবং পিত্তথলিতে ছিদ্র থাকলে তা জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। পেটে পাথর নিয়ে আপনি ঘুরে ফিরে বেড়াতেই পারেন তবে কিনা ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমির (laparoscopic cholecystectomy) সাহায্যে এই গোটা পিত্তথলিটাই বার করে নেওয়া হয়। তাতে রুগী অনেক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং অন্যান্য কাজ করতে আর কোনোরকম বাধা থাকে না। এত গেল সাধারণ গরুর রচনা। এই ব্যাপারে কম বেশি আমরা সকলেই জানি। এ আর নতুন কি ? তাহলে একটা চমকপ্রদ গল্প বলি শুনুন।

তারাতলাবাসী যুবক সুরঞ্জন দত্তচৌধুরীকে (নাম পরিবর্তিত) একডাকে আশেপাশের মানুষ চেনে। সুরঞ্জন এলাকার একজন নামকরা ব্যায়ামবীর। রোগজ্বালা না থাকায় শক্তপোক্ত সুরঞ্জনের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি খুব একটা। এহেন ট্রাইসেপ বাইসেপধারীর হঠাৎ করে একদিন পেটের বাঁদিকে ব্যাথা শুরু হল। হজমের গোলমাল ভেবে গোটা কয়েক এন্টাসিড খেয়ে সে দিব্যি চালিয়ে দিল কয়েকদিন। কিন্তু দিন যত যায় সুরঞ্জনের ব্যাথাও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। শেষটায় আর সহ্য করতে না পেরে সে পাড়ার এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হল। তিনিও পাকস্থলীর সমস্যা ভেবে দু একটা ওষুধ লিখে দিলেন। তাতে ব্যথা তো কমলই না বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। অবশেষে সুরঞ্জন যোগাযোগ করল জেনেসিস হাসপাতালে ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়ের সাথে। সমস্ত উপসর্গ শুনে তিনি আল্ট্রাসোনোগ্রাফির নির্দেশ দিলেন। যথাসময় রিপোর্টে দেখা গেল সুরঞ্জনের গলস্টোন অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। কিন্তু তার সাথে যে অদ্ভুত বিষয়টি ধরা পড়ল তাতে করে সুরঞ্জনের হাঁ হয়ে যাওয়া মুখ আর কিছুতেই বন্ধ হতে চাইল না।

ডাঃ রায় বললেন সুরঞ্জনের সাইটাস ইনভার্সাস (situs inversus) রয়েছে। ভাবছেন এ আবার কি গোলমেলে রোগ ? না, এটা ঠিক রোগ নয়। চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী এটি একরকম অবস্থা, যেখানে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি তাদের স্বাভাবিক জায়গার বদলে তাদের ঠিক উল্টোদিকে থাকে। একটু খোলসা করে বলি। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বাম কক্ষপথ এবং বাম ফুসফুস শরীরের ডান দিকে অবস্থান করে। লিভার, ডানদিকের বদলে থাকে বাঁদিকে এবং পাকস্থলী বাঁদিকের বদলে ডানদিকে থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিত্তথলিও ডানদিকের বদলে বাঁদিকে থাকে। সুরঞ্জনের ক্ষেত্রে ঠিক যেটা হয়েছে। এবং সেই কারণেই সুরঞ্জনের বাঁদিকে ব্যাথা হচ্ছিল, যাকে পূর্বতন চিকিৎসক পাকস্থলীর ব্যাথা ভেবে ভুল করছিলেন। অতএব এখন বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠতে পারে, যেমন - 


সাইটাস ইনভার্সাস হওয়ার কারণ কি ?
বিভিন্ন জটিল জিনগত সমস্যার কারণে এই অবস্থার সূত্রপাত। অত্যন্ত দুর্লভ হলেও এটা দেখতে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০,০০০ মানুষের মধ্যে একজনের সাইটাস ইনভার্সাস হয়। যমজ "মিরর ইমেজ" শিশুদের মধ্যেও এটা দেখতে পাওয়া যায়।

কত রকমের হয় ?
সাধারণত দু ধরণের হয়। ডেক্সট্রোকার্ডিয়া (dextrocardia) এবং লেভোকার্ডিয়া (levocardia) হৃদপিণ্ড অন্যদিকে থাকলে ডেক্সট্রোকার্ডিয়া এবং বাকি অঙ্গগুলি উল্টোদিকে থাকলে লেভোকার্ডিয়া বলে। তবে সমস্ত অঙ্গ উল্টোদিকে থাকলে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস টোটালিস।  

এর উপসর্গ কি কি ?

উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও যেহেতু অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিকভাবে কাজ করে তাই সাধারণত কোনো উপসর্গ পাওয়া যায় না। সুতরাং গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসার কোনো কারণ নেই।

কিভাবে জানতে পারবেন ?
এক্স রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলে তবেই জানা যায়। শুধু খেয়াল রাখবেন তলপেটের বাঁদিকে এপেনডিক্সের মতো ব্যাথা হচ্ছে না তো ! সেক্ষেত্রে ডানদিকের বদলে বাঁদিকে এপেন্ডিক্স থাকতে পারে। তবে একজন চিকিৎসকের পক্ষে হার্টবিট শুনে বলে দেওয়া সম্ভব সাইটাস ইনভার্সাস আছে কিনা। 

এক্ষেত্রে কি করণীয় ?
সাধারণ রোগ যেভাবে চিকিৎসা করা হয় এক্ষেত্রেও তাই হবে। তবে দিকপরিবর্তনের জন্য চিকিৎসকের সামান্য সমস্যা হতে পারে। তাই বলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি সঠিক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য জেদ ধরে থাকবেন না। তাতে কিন্তু আবার অন্য বিপদ। বরং যেমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলছে তেমনই চলতে দিন।

ডাঃ পূর্ণেন্দু রায় (Dr.Purnendu Roy) অবশ্য সুরঞ্জনের গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার সফলভাবেই করেছিলেন। সুরঞ্জন, তার এই বিরল অবস্থার কথা প্রথমটায় বিশ্বাস করেনি যদিও, তবে ডাঃ রায়ের চিকিৎসা ও আশ্বাসবাণীতে সে এখন একেবারেই সুস্থ। বলা চলে দ্বিগুন উৎসাহে সে এখন শারীরিক কসরত করে চলেছে। সুতরাং আপনি যদি এহেন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে একেবারেই ভয় পাবেন না। আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমনই থাকুক না কেন, কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে জেনেসিস হাসপাতালে (www.genesishospital.co) যোগাযোগ করুন। এখানে সোজা উল্টো সবরকম রোগেরই চিকিৎসা হয়।

#genesishospitalkolkata #situsinversus #gastroeneterology #asprescribed #bengalimedicalarticle #medicalblog #medicine #drpurnenduroy

Tuesday, 19 February 2019

সুখে থাকতে ভূতের কিল

বালাই ষাট ! সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে যাবেন কেন ? ভূতের কিল খাক আপনার শত্তুর ! আপনি দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোতে থাকুন। কারণ আপনার শরীরের বাইরে ও ভিতরের সমস্ত যন্ত্র, মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অবধি বেরোখ কাজ করছে একেবারে। ঠিক কিনা ? তার কারণ আপনি তো বিলকুল সুস্থ ! সুতরাং আগের থেকে মেডিক্যাল টেস্ট করে আবার কোন পাগলে ? বইটা ছিঁড়ুক তবে তো বইয়ের মলাট দেবেন ? বাইকটা খারাপ হোক তবে তো সার্ভিসিং !

কি বললেন ? 'এরকমটা নয়' ? মানে মলাট বা সার্ভিসিং-টা আগের থেকেই করিয়ে রাখেন, তাই তো ? বেশ, শরীরের ব্যাপারে তাহলে মাতব্বরি কেন বন্ধু ?  বাড়ির ফিল্টারটা যদি ৩ মাস অন্তর লোক ডেকে সার্ভিসিং করাতে পারেন, তাহলে আপনার শরীরের দুদিকে যে দুটো ফিল্টার রয়েছে সে কি দোষ করল বলুন তো ? কিডনি - জন্ম থেকে সমানে আপনার শরীরের দূষিত পদার্থ নিরলস ফিল্টার করে চলেছে কোনো রকম ইন্সেন্টিভ আর ছুটিছাটা ছাড়াই। রাগ করে সে যদি দুদিন ছুটি নিয়ে ফেলে আপনার তো ইউরেমিয়া হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে ছুটি হয়ে যেতে পারে, সেটা জানেন কি ? শেষ কবে ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন মেপে দেখেছেন, মনে আছে ? 

বাড়ির টুলু পাম্পটির অতিরিক্ত জল তুলে ফেললে যে জ্বলে যাবার উপক্রম হয় এ আপনার থেকে
বেশি ভালো আর কে জানে। কিন্তু আপনার বুকের ভিতর যে মোটরটা মিনিটে ৭০ বার পাম্প করছে তার বেলা ? জানেন, আপনার হার্টরেট আর রিদিম ঠিক আছে কিনা ? ইস্কিমিয়া (ischemia) নেই তো ? কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে গেলে আপনার পাতে মিষ্টি পড়তে সময় পায় না। পিঁপড়েরা হা হুতাশ করে পাশ দিয়ে চলে যায় এমনি আপনার রসগোল্লা খাওয়ার ধুম।

বলুন তো, শেষ কবে ব্লাডসুগার টেস্ট (blood sugar test) করেছেন ? জানেন কি সারা পৃথিবীতে ভারতবর্ষ হল ডায়বেটিসের রাজধানী। ২০৩০ সালে ভারতবর্ষে ডায়াবেটিকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ছুঁতে পারে। ডায়াবেটিসে চোখ খারাপ - ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (diabetic retinopathy), কিডনি খারাপ - ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি (diabetic nephropathy), ব্লাড ভেসেলস ড্যামেজ - ডায়াবেটিস মাইক্রোএনজিওপ্যাথি (diabetic microangiopathy) - এতো জেনেও সুস্থ অবস্থাতেও কিছুতেই আপনি ব্লাড সুগার টেস্টটা করবেন না। কারণ লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে যাবে সে আপনার ধম্মে সইবে কেন ? আচ্ছা এবার বলুন তো আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেলটা ঠিক কত ? কেন জানতে চাইছি ? তার কারণ কোলেস্টেরল আর্টারির ওয়ালের মধ্যে তৈরী করবে এথেরোসক্লেরোসিস (atherosclerosis)। করোনারি আর্টারিটা একটু একটু করে সরু হয়ে এনজাইনা এবং পরে করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফাকশন (myocardial infarction), যার ফল হার্ট এট্যাক। অর্থাৎ আপনার হাসি হাসি মুখের ছবিতে মালা ঝুলবে। 

এবার আসি মহিলাদের ক্যান্সারের কথায়। এক্ষেত্রে ক্যান্সার বললেই সর্বপ্রথম ব্রেস্ট ক্যান্সারের কথা মাথায় আসে। জানেন কি, মহিলারা সব থেকে বেশি কোন ক্যান্সারে মারা যান ? সারাভাইকাল ক্যান্সার (cervical cancer), ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে মহিলাদের বাধ্যতামূলক ভাবে ৩৫ বছরের উর্দ্ধে সবাইকে 'ওয়েল-উম্যান ক্লিনিক' এটেন্ড করতে হয়। এই ক্লিনিকে 'প্যাপ স্মিয়ার' (pap smear) বলে একটা টেস্ট করা হয়, যাতে ক্যান্সার সার্ভিক্স, স্টেজ ওয়ানের আগেই ধরা পড়ে। ক্যান্সার হওয়া অবস্থাতেই সার্জারি বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় করা হয়। তবে মহিলারা সুস্থ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন এটা কতকটা সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠার মতো।  তাঁরা অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে যান না আর তাই, সময়মত ক্যান্সারও ধরা পড়ে না। কি ! কালঘাম ছুটছে তো ? আচ্ছা বেশ, দূর থেকে পাথর না ছুঁড়ে বরং ঠিকঠাক জেনে নিই সুস্থ অবস্থায় কি কি টেস্ট আমাদের সকলের করে রাখা উচিত। 

# ব্লাড টেস্ট - হিমোগ্লোবিন করা উচিত কারণ এনিমিয়া আছে কিনা বোঝা যাবে। এছাড়া টোটাল
কাউন্ট, ডিফারেন্সিয়াল কাউন্ট, ই.এস.আর করতে হবে। অনেক রক্তের অসুখ আছে যার কিন্তু উপসর্গ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আবার রুটিন টেস্টেও লিউকেমিয়া ধরা পড়েছে এমন পেশেন্টও আছেন । যে অসুখে ব্যাথা নেই সে অসুখ ধরাও পরে অনেক দেরিতে। কারণ ব্যাথা না হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রশ্নই উঠছে না।

# ইউরিয়া, সিরাম, ক্রিয়াটিনিন করা উচিত - কিডনি কেমন চলছে তা দেখার জন্য।

# লিভার ফাংশন টেস্ট - বিলিরুবিন, এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন, ফসফেটিস, এলবুমিন, গ্লোবিউলিন ইত্যাদি টেস্ট করে বোঝা যায় আপনার লিভারটি কেমন কাজ করছে।

# লিপিড প্রোফাইল - কোলেস্টেরোল-ট্রাইগ্লিসারাইড টেস্ট করে জেনে নিন আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা। অনেক অসুখ আছে যেগুলো বংশানুক্রমিক, চট করে ধরা পড়ে না। 

# চেস্ট এক্স রে - ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত জরুরী। শহরের দূষণ থেকে নানারকম রোগ হতে পারে। ফুসফুসের বিভিন্ন বিড়ম্বনা কিন্তু রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে।

# আল্ট্রাসোনোগ্রাফি - একটা ইউএসজি অফ হোল এবডোমেন বছরে বার দুয়েক করে রাখলে মঙ্গল। কিডনি, প্যানক্রিয়াস, গল ব্লাডার, লিভার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ইউটেরাস, ওভারি টিউব ইত্যাদি।

# বেসিক ইসিজি করিয়ে রাখা ভালো। ইসিজি আর ইকোকার্ডিওগ্রামের তফাৎ কি ? ইসিজি  নির্ণয় করে ইলেক্ট্রিক্যাল কন্ডাকশন, হার্ট রেট, রিদম। আমাদের কোনো এভি ব্লক আছে কিনা বা পাণ্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক আছে কিনা, এতে ধরা পড়বে। ইস্কিমিয়া থাকলে অর্থাৎ করোনারি আর্টারি ড্যামেজ থাকলে ইসিজি-তে খানিকটা ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রামে ভাল্ভ স্ট্রাকচার দেখতে পাওয়া যায়। যেমন - পালমোনারি ভাল্ভ, ট্রাইকাস্পিড ভাল্ভ, এওর্টিক ভাল্ভ ইত্যাদি।  যারা হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগেন তাদের লেফট ভেন্ট্রিকুলার ওয়াল হাইপারট্রফি হয়। ওয়াল মোটা হয়ে গেলে এই টেস্টে সেটা দেখা যায়। হার্ট এট্যাকের পর হার্ট কেমন কাজ করছে তাও ইকোকার্ডিওগ্রামে বোঝা যায়। একে বলে লেফট ভেন্ট্রিকুলার ইজেকশন ফ্র্যাকশন। 

এছাড়া আরো অন্যান্য টেস্ট আছে যা সময়বিশেষে অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে জেনেসিস হাসপাতালে যোগাযোগ করে সমস্ত টেস্ট সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩ ৪০২২৪২৪২ সুতরাং টেস্ট করা কেন প্রয়োজন তা নিশ্চই এবার বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন। তাছাড়া শরীরের সমস্ত যন্ত্রাদি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নিয়ম করে ঘর বাড়ির যত্ন নিচ্ছেন আর শরীরের বেলা দ্বিচারিতা কেন ? ভেবে দেখুন একবার…..

#bloodtest #ureaserumcreatinine #lipidprofile #chestxray #USG #ECG #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed


Saturday, 12 January 2019

ফুড অ্যালাৰ্জি থেকে মৃত্যু !



সদ্য বিবাহিত পরিমল ঠিক করল তার নববধূ অঞ্জলিকে একটা সারপ্রাইজ দেবে। পরিমল জানত অঞ্জলির সীফুড খাওয়ার বেশ শখ আছে। তাই এক শীতের দুপুরে, মায়াবী রোদের আলোয় দুজনে হাজির হল দক্ষিণ কলকাতার একটা নামি রেস্তোরাঁয়। অঞ্জলিকে অবাক করে দিয়ে পরিমল অর্ডার করল বিচিত্র কয়েকটা ডিশ। জিভে জল আনা সেসব খাবারের থালা যখন ওয়েটার টেবিলের ওপর সাজিয়ে দিয়ে গেল তখন অঞ্জলীর চোখে একরাশ বিস্ময় আর ভালোলাগার ঘোর। তবে বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল। ডিশগুলো শেষ করার পর পরই পরিমলের মুখ আর গলা চুলকাতে শুরু করল ভীষণরকম। দেখতে দেখতে ঠোঁটের চারপাশটা লাল হয়ে ফুলে উঠল আর সারা গায়ে, হাতে, পায়ে  বেরিয়ে গেল গোল গোল চাকা চাকা দাগ। সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে পরিমল নিজে সারপ্রাইজড হল দ্বিগুন। কোনোমতে বিল মিটিয়ে দুজনে ছুটল ডাক্তারের কাছে। সমস্তটা দেখে ডাক্তারবাবু বললেন পরিমলের ফুড অ্যালাৰ্জি হয়েছে। আসুন এই ফুড অ্যালাৰ্জির সম্বন্ধে একটু আলোকপাত করা যাক।

ফুড অ্যালাৰ্জি একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কম বেশি প্রায় সকলেরই কোনো না কোনো খাবার থেকে অ্যালাৰ্জি হয়ে থাকে। এর কারণ হল মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে নির্দিষ্ট একটি খাবারের প্রতিক্রিয়া ঘটে এবং তার থেকেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল চাকা চাকা দাগ দেখা দেয়। সাধারণত শিশুদের মধ্যেই এই ফুড অ্যালাৰ্জির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অবস্থাকে বলা হয় আর্টিক্যারিয়া বা হাইভ্স (hives)। এর উপসর্গগুলি অত্যন্ত পরিচিত হলেও আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

উপসর্গ
# ত্বকের কয়েকটি জায়গায় লাল হয়ে ফুলে ওঠা
# প্রচণ্ড চুলকানি হওয়া এবং কখনো কখনো জ্বালা হওয়া
# শ্বাসনালীর সমস্যা, সাথে হাঁচি বা কাশি
# মুখের চারপাশটা ফুলে ওঠা বা চুলকানি হওয়া
# খাবার গিলতে সমস্যা, বমিভাব বা পেটে ব্যাথা
# হঠাৎ করে উধাও হয়ে গিয়ে আবার দেখা দেওয়া

কোন কোন খাবারে হতে পারে ?
নির্দিষ্ট করে বলা খুব কঠিন কারণ এটা ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। তবে সাধারণত যে সমস্ত খাবারের কারণে হয়ে থাকে তা হল - দুধ, ডিম, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, বেগুন ইত্যাদি।

আপাতভাবে ফুড অ্যালাৰ্জি খুব একটা ভয়ের কারণ না হলেও একটি বিশেষ রোগ আছে যা সত্যিই বেশ সমস্যা তৈরী করতে পারে। এর নাম হল - এঞ্জিও নিউরোটিক ইডিমা বা এঞ্জিওইডিমা (angioneurotic edema)। চিকিৎসকরা বলছেন যে পোকা মাকড়ের কামড় বা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াও এই রোগটা কিন্তু খাবার থেকেও হতে পারে। এই রোগে ত্বকের নিচের আস্তরণ বা টিস্যু ফুলে যায় বেশ। এই ফুলে যাওয়াটা মুখে, জিভে, শ্বাসনালীতে, পেটে, হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। সাধারণত কয়েকঘন্টার জন্য এটা স্থায়ী হয়, তবে তার বেশি হলে চিকিৎসককে দেখিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।

এছাড়া দেখা গেছে যে ফুড অ্যালাৰ্জির কারণে এটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা (eczema) হতে পারে। সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, সারা গা হাত পায়ে অসম্ভব চুলকানি হয় এবং ত্বক পুরু হয়ে, ফেটে গিয়ে তরল বেরোতে পারে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ।






এই প্রসঙ্গে  আরও একটি ফুড অ্যালাৰ্জির প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যা থেকে প্রাণসংশয় পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগের নাম হল অ্যানাফাইল্যাক্সিস (anaphylaxis)। এক্ষেত্রে ভোকাল কর্ড ফুলে গিয়ে বায়ুপথ প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। যার ফলে শ্বাস প্রশ্বাসে চরম সমস্যা হয়। এই পরিস্থিতিতে গলা চিরে একটি নল ঢুকিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করা হয়। এছাড়া গলা ফুলে যেতে পারে, রক্তচাপ সাংঘাতিক কমে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি জটিল হলে রুগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। শীঘ্র চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।



চিকিৎসা কি ?
ফুড অ্যালাৰ্জির চিকিৎসা অত্যন্ত সাধারণ। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো উপসর্গ কম করে এবং বেশ কিছুটা স্বস্তি দেয়। এছাড়া যে সমস্ত খাবার থেকে আপনার অ্যালাৰ্জি হয় সেগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলুন। তাহলেই অনেকটা সুস্থ থাকবেন। তেমন বাড়াবাড়ি হলে জেনেসিস হাসপাতালের ডারম্যাটোলজি বিভাগ তো আছেই, চিন্তা কি !

#GenesisHospitalKolkata #foodallergy #urticaria #hives #angioedema #eczema #anaphylaxis #angioneuroticedema #prescriptiontheke 

Friday, 7 December 2018

কিছু কিছু কথা



মনের সাথে শরীরের অমিলটা, রূপান্তরিত লিঙ্গ এবং রূপান্তরকামীদের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ। বাহ্যিক অবয়বের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে যে মানুষটি অধিকাংশ সময়ই কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর  সমস্যা হয় প্রচুর। কপালে জোটে নানান বিদ্রূপ ও লাঞ্ছনা। কারণ ধ্বনি খাপ খায়না শরীরের সাথে। একজন রূপান্তরকামী পুরুষ তাঁর পোশাকের ধারায় বদল আনতে পারলেও গলার স্বরটা কিন্তু তাঁর  পুরুষেরই থেকে যায়। তবে আর চিন্তা নেই ! একঝাঁক অভিজ্ঞ ই.এন.টি সার্জেন  এবং স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্ট-দের তত্ত্বাবধানে জেনেসিস হাসপাতাল ও ডেসিবেল হিয়ারিং ক্লিনিক  (DBHCL) - এর যুগ্ম প্রচেষ্টায় এখন ধ্বনি রূপান্তরের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন ! আপনার ভিতরের পুরুষ বা মহিলা এবার থেকে বাঙময় হবে। কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই এখন প্রাণ খুলে কথা বলা যাবে আকাঙ্খিত ধ্বনিতে। সার্জারি এবং স্পীচ থেরাপির মাধ্যমে সমস্তটা হবে খুবই স্বাভাবিকভাবে, কোনোরকম জটিলতা ছাড়াই। জেনেসিস হাসপাতাল ও DBHCL এর ই.এন.টি সার্জেন  এবং স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্টরা শুধু এটা দাবীই করছেন না বরং হাতে কলমে করে দেখাচ্ছেন একের পর এক।

দিল্লী, আসানসোল, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রূপান্তরকামী এবং রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষরা অত্যন্ত সফলভাবে এই সার্জারি করিয়েছেন এবং আশাতীত ফল পেয়েছেন। এখনো অবধি ৭ জনের পুরুষ থেকে মহিলা ধ্বনি রূপান্তর করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি সার্জারি দুর্দান্ত ভাবে সফল প্রমানিত হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হল এই অস্ত্রোপচার, অধিকাংশ সময়, লোকাল অ্যানাস্থেসিয়ার মাধ্যমে এক ঘন্টার মধ্যেই করে ফেলা যায় এবং একদিন পরেই রুগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরুষ থেকে মহিলা রূপান্তরের ক্ষেত্রে, প্রয়োজন পড়লে গলার নমনীয় ভাবটাও এনে দেওয়া হয়।

যে সমস্ত মানুষরা এই ধ্বনি রূপান্তর করিয়েছেন তাঁরা বলছেন যে তাঁরা এক নতুন জীবনের সন্ধান পেয়েছেন। পাল্টে গেছে তাঁদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিকোণ, তাঁদের শরীরের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ফেলে তাঁরা এখন অন্য মানুষ, অনেক পরিবর্তিত, আরও অনেক বেশি স্বাধীন। কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হল -

# একজন শিক্ষক বলছেন যে রূপান্তরিত হলেও কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের পর সমস্ত বাধা কাটিয়ে তিনি এখন এগিয়ে চলেছেন নতুন জীবনের দিকে।

# একটি নার্সিং হোমের একজন জনসংযোগ আধিকারিক ফিরে পেয়েছেন তাঁর হৃত আত্মবিশ্বাস। নার্সিং হোমের সমস্ত পরিস্থিতি এখন তিনি নিঁখুত হাতে সামলাচ্ছেন।

# ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর সংগ্রামের পর একজন মডেল এখন সফলভাবে কাজ করছেন এই ধ্বনি রূপান্তরের দৌলতে।

জেনেসিস হাসপাতাল ও DBHCL - এর চিকিৎসকরা একযোগে দেখাচ্ছেন এক নতুন আলোর দিশা। রূপান্তরকামী বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষদের কাছে এ যে এক বৈপ্লবিক জাগরণ, এ বিষয় কোনো সন্দেহ নেই। যদিও ভারতবর্ষের দু একটা সংস্থায় ধ্বনি রূপান্তর করা হয় তবে পশ্চিমবঙ্গের বুকে এই প্রয়াস হল সর্বপ্রথম তথা চমকপ্রদ। সুতরাং যাঁরা ধ্বনি রূপান্তর করতে চান অথচ এখনো পর্যন্ত কোনো উপায় খুঁজে পাননি তাঁরা দেরি না করে অবিলম্বে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২। বেছে নিন নতুন করে বেঁচে ওঠার পথ।

#Transgendervoicetransformation #transgenderissues #GenesisHospitalKolkata #DBHCL #Asprescribed

Friday, 17 August 2018

এলার্জিক রাইনাইটিস ! একটি বিরক্তিকর সমস্যা



উল্টোডাঙা নিবাসী হরিপদ সান্যাল সদ্য এস.এস.সি পাশ করে একটা স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি  পেয়েছেন। স্কুলের প্রথম দিন। হরিপদ গম্ভীর মুখে অষ্টম শ্রেণীর ঘরে ঢুকলেন। ঘরভর্তি ছাত্র, নতুন শিক্ষকের রাশভারী ভাব দেখে অনেকেরই মুখ থমথমে। হরিপদ দু চারটে প্রাথমিক কথা বলে নিজের পরিচয় দিতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটা বেমক্কা হাঁচির তোড়ে মুখ ফস্কে বেরিয়ে এল, "আ.. আঃ নাম হরিপদ...হ্যাঁচ্চো" !! মুহূর্তে ক্লাস জুড়ে হাসির বন্যা বয়ে গেল। গম্ভীর পরিবেশটা আমূল বদলে গিয়ে ফাজলামিতে পরিণত হল। দু একটা ফচকে ছেলে জিজ্ঞেস করে বসল, "হ্যাঁ, কি নাম বললেন স্যার"?? হরিপদ খানিক থতমত খেয়ে সামলে নিয়ে আবার নিজের নাম বলতে গেলেন। 

কিন্তু এবারও যথারীতি বিরাট হাঁচির তোড়ে নামটা জিভের ডগায় জড়িয়ে সমস্তটা তছনছ হয়ে গেল। তিনি এবারও  বললেন, "আঃনাম…..হরিপদ....হ্যাঁচ্চো" ! বলাই বাহুল্য এরপর থেকে হরিপদ সান্যাল  নাম বদলে গিয়ে হরিপদ হ্যাঁচ্চো হয়ে সম্পূর্ণ ভুল কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এমনকি স্কুলের সহকর্মীরা পর্যন্ত তাঁকে নতুন নামে ডাকতে শুরু করে দিলেন। হরিপদর অবশ্য এ সমস্যা বহুদিনের। সামান্য সিজন চেঞ্জ বা ধুলো ময়লার কারণে হরিপদ হেঁচে হেঁচে পাগল হয়ে ওঠেন। ব্যাপারটা যখন স্কুল অবধি পৌঁছে গেল তখন হরিপদ আর থাকতে না পেরে একজন ই.এন.টি চিকিৎসককে দেখালেন। তিনি বললেন হরিপদর এলার্জিক রাইনাইটিস আছে। আসুন জেনে নিই এই এলার্জিক রাইনাইটিস কি।
     
সাধারণত অ্যালার্জেন (allergen) নামক একটি বস্তু থেকে এলার্জি হয়। এলার্জিক রাইনাইটিস, বা হেম জ্বর, এমনই কিছু নির্দিষ্ট অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। ফুলের রেণু হল এলার্জিক রাইনাইটিসের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে যেমন - 

# ঘাসের রেণু
# ধুলো
# পশুদের শুকনো চামড়া
# বিড়ালের লালা
# মোল্ড - এক ধরণের ছত্রাক যা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে জন্মায় 

তাছাড়া কিছু বাহ্যিক কারণেও এই রোগ হতে পারে। যেমন - ধূমপান বা কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, ঠাণ্ডা তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুদূষণ, নির্দিষ্ট কোনো সুগন্ধি, ধোঁয়া ইত্যাদি। 

উপরোক্ত কারণে কিছু মানুষের সারা বছর ধরেই এলার্জিক রাইনাইটিস থাকে আবার কোনো কোনো মানুষের একটা নির্দিষ্ট ঋতুতে এই সমস্যা হয়। যেমন বসন্তের শুরুতে বা শীতের আগে বেশি হয়। তবে এই ধরণের এলার্জি যেকোনো মানুষেরই হতে পারে। যাদের এলার্জিক রাইনাইটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা এজমা (asthma), একজিমা (eczema) আছে তাদের ক্ষেত্রে এটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রেও কতকটা একইরকম। শুধু খেয়াল রাখতে হবে বছরের কোনো একটা নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে কিনা। তা যদি হয় তাহলে ওই সময়টিতে শিশুটির বিশেষ যত্ন নিতে হবে। জামাকাপড় নিয়মিত ধোয়া, বাড়ির ভিতর ও আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি খুবই জরুরি। তবে এর সাথে কিছু জটিলতাও দেখা দিতে পারে যেমন - শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট বা শ্বাস টানার সময় শব্দ হওয়া। এমনটা হলে দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। 

এই রোগের বেশ কিছু উপসর্গ আছে। যেমন - 


# সাংঘাতিক হাঁচি
# নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
# কাশি
# গলা ফুলে যাওয়া
# চোখ দিয়ে জল পড়া বা অস্বস্তি
# চোখের তলায় কালি
# মাঝে মাঝেই মাথা ব্যাথা হওয়া
# এক্জিমা অর্থাৎ ত্মকে চুলকানি হওয়া
# ক্লান্তিভাব ইত্যাদি 

মনে রাখবেন এই উপসর্গগুলি সহজ মনে হলেও এই রোগ কিন্তু আপনা আপনি সেরে যায় না। কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আছে যা করলে এই রোগের উপশম হয়। অন্যথায় বেশ কিছু জটিলতা তৈরী হতে পারে। যেমন -
# এজমা হতে পারে বা থাকলে আরও বেশি হতে পারে
# কানের সংক্রমণ
# সাইনুসাইটিস বা সাইনাসের সংক্রমণ
# রাত্রে ঘুমোনোয় সমস্যা 

তাহলে এর চিকিৎসা কি ?

এলার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসা অত্যন্ত সহজ এবং সরল। এর বেশ কিছু ওষুধ আছে যেমন - ফেক্সোফেনাডিন, ডিফেনহাইড্রামিন, সেট্রিজিন, লোরাটাডিন ইত্যাদি যা একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে নিয়মিত খেলেই অনেকটা সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু চোখের ড্রপ বা নাকের স্প্রে আছে যা এই ধরণের সমস্যায় ভালো কাজ দেয়। আরও দুটি চিকিসা পদ্ধতি আছে যাদের নাম হল - ইমিউনোথেরাপি এবং সাবলিঙ্গুয়াল ইমিউনোথেরাপি। একটায় ইনজেকশন নিতে হয় আর আরেকটায় জিভের তলায় এক ধরণের ট্যাবলেট রাখতে হয়। দু ক্ষেত্রেই যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। তবে আপনার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য হবে সেটা কিন্তু আপনার চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এছাড়া সিলভার নাইট্রেট প্রয়োগ করে কেমিকাল কটারাইজেশন পদ্ধতিতেও এই রোগের চিকিৎসা করা যায়। 


তবে সমস্যা যদি গভীর হয় এবং অনেকদিন ধরে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে জেনেসিস হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ই.এন.টি বিভাগে যোগাযোগ করুন। যোগাযোগের নম্বর - 8584883884 / 40224242 । আমাদের ই.এন.টি বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের সমস্যার সহজ সমাধান দিয়ে থাকেন।

#allergicrhinitis #ENT #nasalproblem #respiratoryproblem #GenesisHospitalKolkata #prescriptiontheke