Friday, 28 June 2019

হার্নিয়ায় হাহাকার !


নানান রোগের মাঝে এই রোগের গুরুত্ব অপরিসীম। নাম ছোট হলেও দেশ জুড়ে বেশ বড় রকমের প্রকোপ আছে এই হার্নিয়ার। একেবারে সঠিক অংক কষে বলা না গেলেও একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভারতবর্ষে প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া হয়। সাধারণত ৪০ থেকে ৭০ বয়সী রুগীদের মধ্যে এর উপস্থিতি বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হল পুরুষ ও নারীর অনুপাত এক্ষেত্রে ৭:১, অর্থাৎ চল্লিশোর্ধ পুরুষরা সাবধান। আসুন এই রোগ সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

হার্নিয়া কি ?
যখন কোনো অঙ্গ বা টিস্যু পেটের অভ্যন্তরীণ পেশীর প্রাচীর বা পেরিটোনিয়াম ভেদ করে বেরিয়ে আসে তখন তাকে হার্নিয়া বলা হয়। এই পেরিটোনিয়ামের কাজ হল পেটের ভিতরে সমস্ত অঙ্গকে যথাস্থানে রাখা। কোনো কারণে এই পেশী যদি দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বা টিস্যু সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে ফোলাভাব বা লাম্প তৈরী করে। অদ্ভুত ভাবে, শোওয়ার সময় এই লাম্পটি কিন্তু দেখতে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত কাশি বা হাঁচি হলে এই লাম্প আবার অনুভূত হয়।

হার্নিয়ার প্রকারভেদ আছে নাকি ?
আছে বৈকি। হার্নিয়া বেশ কয়েক রকমের হয়। যেমন -

# ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া - জন্মের ঠিক আগে যে পথ দিয়ে পুরুষদের অণ্ডকোষ পেট থেকে অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসে বা নারীদের ক্ষেত্রে যেখানে জরায়ুর লিগামেন্ট থাকে সেই পথটিকে বলা হয় ইঙ্গুইনাল ক্যানাল। কোনো কারণে ইঙ্গুইনাল ক্যানালের পেশী দুর্বল হয়ে পড়লে অন্ত্রের কিছু অংশ সেই জায়গা ভেদ করে তলপেট থেকে কুঁচকির দিকে নেমে আসে। একেই বলা হয় ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া। এই হার্নিয়া সাধারণত পুরুষদেরই বেশি হয়। (চিত্র-১)


# আম্বিলিকাল হার্নিয়া - নাভির কাছে মাংশপেশী দুর্বল হয়ে থাকলে, অন্ত্রের কিছু অংশ সেই দুর্বল পেশী ভেদ করে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করে। এই ধরণের হার্নিয়া বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যায় এবং সাধারণত বেশ স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। নারী - পুরুষ নির্বিশেষে এই হার্নিয়া হতে পারে। (চিত্র-১)

# ফিমোরাল হার্নিয়া - ঊরুর উপর দিকে ধমনী বহনকারী ক্যানেলের ভিতর যখন অন্ত্রের কিছু অংশ প্রবেশ করে তখন তাকে ফিমোরাল হার্নিয়া বলা হয়। দেখা গেছে, মহিলাদের মধ্যে এই হার্নিয়ার উপস্থিতি বেশি, বিশেষ করে যাঁরা গর্ভবতী এবং স্থুল তাঁদের ক্ষেত্রে হার্নিয়া
উল্লেখযোগ্য। (চিত্র-১)


# হায়াটাল হার্নিয়া - পাকস্থলীর উপরের অংশ, যখন ডায়াফ্রাম (যে বড় পেশীটি বুক এবং পেটের মাঝামাঝি থাকে) ভেদ করে ওপরের দিকে অর্থাৎ খাদ্যনালীর দিকে বেরিয়ে আসে তখন তাকে হায়াটাল হার্নিয়া বলা হয়। (চিত্র-২)




# ইন্সিশানাল হার্নিয়া - পেটের পুরোনো কোনো অস্ত্রোপচারের জায়গা দিয়ে অন্ত্রের কোনো অংশ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাকে ইন্সিশানাল হার্নিয়া বলা হয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে। যেমন ধরুন, আপনার পরনের জামাটি বেশ কিছু কারণে ছিঁড়ে যেতে পারে। এক - যদি কাপড় খারাপ হয়, দুই - যদি সুতো খারাপ হয় এবং তিন - যদি দর্জি খারাপ হয়। এক্ষেত্রেও কতকটা একইরকম। পুরোনো অস্ত্রোপচারের কারণে যদি পেটের পেশী দুর্বল হয়ে গিয়ে থাকে অথবা সেসময় যদি উন্নতমানের সুতো ব্যবহার না করা হয়ে থাকে এবং শল্যচিকিৎসক যদি যথেষ্ট দক্ষ না হয়ে থাকেন তবে পুরোনো পথ ধরে আবার কিন্তু অন্ত্র বেরিয়ে আসতে পারে। এছাড়া সেই জায়গায় সংক্রমণ বা অতিরিক্ত চাপের কারণেও এই হার্নিয়া হতে পারে। (চিত্র-৩)

কি কি কারণে হার্নিয়া হতে পারে ?
বেশ কিছু কারণ আছে যার ফলে হার্নিয়া হতে পারে। সেগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং সেইমতো সাবধান হওয়া উচিত। যেমন - কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে টয়লেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং চাপ দেওয়া। একটানা কাশি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, প্রস্টেটের বৃদ্ধি, প্রস্রাবে অতিরিক্ত চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থুল হলেও হার্নিয়া হতে পারে। এছাড়া পেটের ভিতর তরল জমা হওয়া, ভারী ওজন তোলা, পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস, অপুষ্টি, ধূমপান এবং অণ্ডকোষের সমস্যার ফলেও হার্নিয়া হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।

উপসর্গ কি কি ?
হার্নিয়া হলে বেশ ব্যাথা বা অস্বস্তি হতে পারে। দাঁড়িয়ে থাকলে বা ভারী জিনিস তুলতে যাওয়ার সময় লক্ষণগুলি আরও স্পষ্ট হয়। এছাড়া বমি বা বমিভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি ফুলে ওঠা অংশটি অনেকটা সময় ধরে একটানা থেকে যেতে পারে বা বড় হতে পারে।

এই ধরণের সমস্যায় একেবারেই দেরি করা উচিত নয়। কারণ যত দেরি হবে ততই সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকবে। সুতরাং অবিলম্বে একজন দক্ষ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়ে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করুন। চিকিৎসকরা বলেন যে হার্নিয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়াই সমস্ত দিক থেকে শ্রেয়। এখানে উল্লেখযোগ্য, বহু বছর ধরে জেনেসিস হাসপাতালে, স্বনামধন্য শল্যচিকিৎসকরা অত্যন্ত সফলভাবে ও সুলভে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করে চলেছেন। যোগাযোগের জন্য এই নম্বরে ফোন করুন - ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪ / ০৩৩-৪০২২৪২৪২

#whatishernia #typesofhernia #symptomsofhernia #causesofhernia #GenesisHospitalKolkata #AsPrescribed   


Friday, 21 June 2019

ছোটদের বড় রোগ


যে কোনো পরিবারে শিশুর জন্মের সাথে সাথে আনন্দের আবহ বয়ে যায় সারা বাড়ি জুড়ে। তবে এরপর থেকেই বাবা মায়েদের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে নানারকম চিন্তা আর আশঙ্কা। কিভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখা যায় বা যত্ন করা যায় সেই ব্যাপারে প্রায় ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। তার অবশ্য সঙ্গত কারণ আছে বেশ। শিশুদের জন্মের পর পরই বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি থেকে যায় যা কপালে ভাঁজ ফেলার পক্ষে যথেষ্ট। আসুন সেই সব রোগ নিয়ে একটু আলোচনা করে নিই যাতে সময় থাকতে সাবধান হওয়া যায় কারণ ছোট হলেও রোগে ছাড় নেই।


১. হাম - রুবিওলা ভাইরাসের কারণে হাম হয়। এই রোগের প্রভাবে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়। এরসাধারণ উপসর্গগুলি হল মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, নাক দিয়ে জল পড়া এবং কাশি। এই উপসর্গের কারণে শিশুর শরীরে লাল লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়।




২. হ্যান্ড, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ - কক্স্যাকি ভাইরাসের (coxsackievirus) কারণে এই রোগ হয়। এই রোগে জ্বর ও গলা ব্যাথা হয়। এছাড়া হাতের তালুতে, পায়ের পাতায় ও মুখের ভিতরে ফোস্কা হয়। এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই তবে দিন দশেক পরে আপনিই ঠিক হয়ে যায়।




৩. ফ্লু - সাধারণত শীতকালে এই রোগ হয় এবং এর উপসর্গগুলি হল মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, কাঁপুনি, সারা শরীরে ব্যাথা ইত্যাদি। সাধারণত আপনিই সেরে যায় তবে কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বর্তমানে ৬ মাস বয়েসের পর থেকেই এই রোগের টিকা দেওয়া হয়।


৪. মাম্পস - এটাও একপ্রকার ভাইরাস ঘটিত রোগ। প্রথম দিকে ফ্লুয়ের উপসর্গ দেখা দিলেও পরবর্তী সময় লালা গ্রন্থি ফুলে গিয়ে প্রচন্ড ব্যাথা হয় (প্যারোটাইটিস - parotitis)। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভোগায়, তবে তেমন জটিল হলে মেনিঞ্জাইটিস বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।




৫. চিকেন পক্স - ভ্যারিসেলা (varicella) ভাইরাসের দরুণ চিকেন পক্স হয়। বর্তমানে নিয়মিত টিকাকরণের ফলে এই রোগ এখন অনেক কম। তবে অযত্নের ফলে ত্বকের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়াও হতে পারে।




৬. রোটাভাইরাস সংক্রমণ - অনুন্নত দেশগুলিতে রোটাভাইরাসের (rotavirus) প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এই সংক্রমণের ফলে শিশুদের জ্বর, বমি এবং ডায়ারিয়া হয়। এছাড়া পরিস্থিতি জটিল হলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে অবশ্য নিয়মিত টিকাকরণের ফলে এই সংক্রমণের প্রভাব অনেকটাই কম।




৭. কানের সংক্রমণ - শিশুদের কানের সংক্রমণ প্রায় সাধারণ ঘটনা। ইউস্ট্যাশিয়ান টিউব, অভ্যন্তরীণ কানের সঙ্গে গলার সংযোগস্থাপন করে এবং এখানে জমা হওয়া তরলের নিকাশী ব্যবস্থার কাজ করে। কোনোভাবে এই তরল আটকে গেলে এতে জীবাণু জন্মায় যার ফলে সংক্রমণ হয়। সাধারণ উপসর্গগুলি হল কানে ব্যাথা, জ্বর, কান থেকে নিষ্ক্রমণ ইত্যাদি।


৮. জয়বাংলা - এই রোগও একরকম ভাইরাসের কারণে হয়। জয়বাংলা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস (conjunctivitis) অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ৫ দিনেই এই রোগের উপশম হয় তবে জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ বাঞ্ছনীয়।



৯. ক্ৰূপ - এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ শিশুরোগ এবং বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়। এই রোগে স্বরযন্ত্র (larynx) ও শ্বাসনালী (trachea) ফুলে যায়। এছাড়া প্রচন্ড কাশি এবং শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হয়। ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতে রেখে স্টেরোয়েড বা ইনহেলার ব্যবহার করেও চিকিৎসা করা যায় তবে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়।




১০. হুপিং কাশি - বোর্ডেটেলা পারটুসিস (Bordetella pertussis) নামক এক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের কারণ। এটা ভীষণ সংক্রামক এবং এতে শিশুদের মৃত্যুও হতে পারে। প্রথমে ঠাণ্ডা লাগার উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় এবং পরে একটানা দমবন্ধ করা কাশি হতে থাকে। টিকাকরণই এই রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়।


উপরে উল্লিখিত অধিকাংশ রোগের টিকা আছে যা সময়মতো শিশুকে দিলে অনেক জটিলতার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যেগুলো সাধারণ রোগ অর্থাৎ একটু অনিয়মে হামেশাই হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু নজর এড়িয়ে গেলে চলবে না। কারণ অবহেলার ফলে সাধারণ রোগ অনেক সময়ই অসাধারণ আকার নিয়ে নানান রকম বিপদ ডেকে আনতে পারে। সুতরাং শিশুদের সাবধানে রাখুন এবং ছোটখাট সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জেনেসিস হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের এপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করুন এই নম্বরে - 8584883884 / 033 - 40224242

Tags : Common Paediatric Diseases ; Common Child Disease ; Genesis Hospital Kolkata ; Prescription Theke 

Saturday, 8 June 2019

প্রস্রাবে রংবদল ! রক্তপাত নয় তো ?


মানুষের জীবনে রঙের ভূমিকা আছে প্রচুর । আর সময়ের সাথে সাথে দৈনিক জীবনের গতিতে সে রঙের পরিবর্তনও আসে । পরিবর্তন হয় ঋতুর, পরিবর্তন হয় আকাশের, এমনকি কালের ফেরে রাজনৈতিক রঙেও ঘটে যায় অদলবদল। তবে সেসব চিন্তার বিষয় নয় খুব একটা। সকালবেলায় আধোঘুম চোখে প্রকৃতির ডাকে টয়লেটে গিয়ে যদি দেখেন আপনার শরীর থেকে নিষ্কৃত জলোচ্ছাসের রঙে বদল দেখা দিয়েছে তাহলে ঘুম আপনার উড়ে যেতে বাধ্য । হলুদ হলে তাও একরকম কিন্তু তা যদি লাল বা গাঢ় বাদামি হয় এবং তার সাথে যদি সামান্য ব্যাথা অনুভব করেন তাহলে জেনে রাখুন আপনার শিরে নয়, রেচকে সংক্রান্তি । তাই বলে ঘাবড়ে গিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে নিজের ও বাকিদের রক্তচাপ বাড়াবেন না যেন । বরং ঠান্ডা মাথায় নিচের লেখাটা পড়ে নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন ।   

প্রস্রাবের সাথে রক্তপাতের অর্থ হল আপনার কিডনিতে কোনোরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে অথবা মূত্রনালীতে কোনো সংক্রমণ বা সমস্যা হয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রেই রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই রোগের নাম হিমাটুরিয়া। হিমাটুরিয়া সাধারণত দু ধরণের হয় -

# যদি প্রস্রাবে রক্তপাত দেখা যায় তাহলে তাকে বলে গ্রস হিমাটুরিয়া
# খালি চোখে যদি না দেখা যায় অথচ মাইক্রোস্কোপের তলায় রক্তের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে বলে মাইক্রোস্কোপিক হিমাটুরিয়া। 

কোন বয়েসে হয় ? 
হিমাটুরিয়া যে কোনো বয়েসে যে কোনো মানুষের হতে পারে। তবে আপনি যদি নিম্নলিখিত তালিকার মধ্যে পড়েন তাহলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। যেমন -

# যদি পারিবারিক কিডনির সমস্যা থাকে
# প্রস্টেট গ্ল্যান্ড যদি বড় হয়ে গিয়ে থাকে (পুরুষদের ক্ষেত্রে )
# অতীতে যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে
# যদি ব্যাথার ওষুধ, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা কোনো বিশেষ এন্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন
# যদি শ্রমসাধ্য ব্যায়ামের অভ্যাস থাকে অথবা
# সম্প্রতি কোনো ইনফেকশন হয়ে থাকে বা আছে, তাহলে হিমাটুরিয়া হতেই পারে। 

তবে প্রথম থেকেই ভয়ে পাথর হয়ে যাবেন না। কারণ প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত হচ্ছে মানেই যে কিডনির সমস্যা আছে তা কিন্তু নয়। হিমাটুরিয়া হওয়ার কিছু অন্যরকম কারণ চিহ্নিত করা গেছে যেগুলো জেনে রাখা অতি আবশ্যক। 

কি কারণ হতে পারে ?
# পিরিয়ড বা মাসিক
# ভাইরাস জনিত কারণ 
# কোনো আঘাত লাগা
# মূত্রনালীতে সংক্রমণ ইত্যাদি
এছাড়াও জানিয়ে রাখি যে কিছু অতিগম্ভীর কারণও আছে যা অনায়াসেই আপনার কপালে ভাঁজ ফেলে দিতে পারে। যেমন -
# কিডনি বা মূত্রথলির ক্যান্সার
# কিডনি, প্রস্টেট বা মূত্রনালির কোনো অংশ   ফুলে যাওয়া
# পলিসিস্টিক কিডনি অর্থাৎ কিডনির ভিতর ছোট ছোট টিউমার বা সিস্ট হওয়া
# এমন কোনো রোগ যাতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে এবং  
# সিক্ল সেল ডিজিজ

কি করে বুঝবেন বা উপসর্গ কি ?
যদি মাইক্রোস্কোপিক হিমাটুরিয়া হয়ে থাকে তাহলে হয়ত কোনোরকম উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে যদি গ্রস হিমাটুরিয়া হয়ে থাকে তাহলে প্রস্রাবের রং লাল, বাদামি বা গোলাপি হওয়ার বেশ সম্ভাবনা আছে। সুতরাং একটু খেয়াল রাখবেন প্রস্রাবের বর্ণে কোনোরকম পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। গ্রস হিমাটুরিয়া হলে প্রস্রাবের সাথে রক্তপিণ্ডও বেরিয়ে আসতে পারে। নিঃসন্দেহে এই সমস্যা যন্ত্রণাদায়ক বটে। 

সুতরাং আপনার প্রস্রাবে এমন কিছু যদি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে সত্বর যোগাযোগ করুন একজন ইউরোলজিস্টের সাথে অথবা জেনেসিস হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে। 

কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয় ?
বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়, যেমন -
# প্রস্রাবের পরীক্ষা বা ইউরিন্যালিসিস করে শ্বেতরক্তকণিকার উপস্থিতি পাওয়া গেলে বুঝতে হবে মূত্রনালির সংক্রমণ হয়েছে।
# ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় প্রস্টাইটিস বা বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH) আছে কিনা।
# প্রস্রাবে প্রোটিন, গ্লুকোজ বা কোনো সেডিমেন্ট-এর উপস্থিতি কিডনির রোগ চিহ্নিত করে।
# সমানভাবে রক্ত পরীক্ষাও জরুরি তার কারণ রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা সেটা ধরা পড়বে।
# এছাড়া ইমেজিং, ইউরিন সাইটোলজি এবং সিস্টোস্কপি করেও বিভিন্নভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়। 



এর চিকিৎসা কি ?
প্রথমেই জেনে নিতে হবে যে প্রস্রাবে রক্তপাত হওয়ার সঠিক কারণটা কি। ধরুন আপনার যদি ইনফেকশনের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে তাহলে হয়তো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু এন্টিবায়োটিক ওষুধেই কাজ দেবে এবং আপনি আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে উপরোক্ত টেস্টের মাধ্যমে সঠিক কারণ জেনে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। তেমন হলে জেনেসিস হাস্পাতাল তো আছেই।  চিন্তা কি !

Tags : Gross Haematuria ; Microscopic Haematuria ; Urinalysis ; Blood In Urine ; Urinary Tract Infection ; Genesis Hospital Kolkata ; Prescription Theke 

Tuesday, 28 May 2019

লাম্প থেকে ক্যান্সার !


বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক ডঃ চিরন্তন সরকার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। উল্টোদিকে বসা অনকোলজিস্ট ডঃ চৌধুরী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে চলেছেন। পশ্চিমের জানলা দিয়ে বিকেলের শেষ আলোটুকু পর্দা ভেদ করে টেবিলের ওপর রাখা একটা রিপোর্টের খাম ছুঁয়ে যাচ্ছে। ডঃ সরকার দু’হাতে মুখ ঢেকে বললেন, 'আমি জানতেই পারলাম না ! ডঃ চৌধুরী তাঁর সহকর্মীর হাত দুটি ধরে বললেন, 'শান্ত হও চিরন্তন, অকারণে নিজেকে দোষের ভাগী কোরো না। তোমার তো কিছু করার ছিল না। পেশেন্ট যদি কিছু না বলেন তুমি জানবেই বা কি করে' ? 

অশ্রুসিক্ত চোখে ডঃ সরকার ধীরে ধীরে রিপোর্টটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলেন। বললেন, 'মায়ের ব্রেস্ট টিউমারটা যদি বিনাইন অবস্থাতেই ধরতে পারতাম তাহলে বোধহয় আরও অনেকটা সময় পেতাম.......'

গল্পের এটুকু পড়ে নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে এক্ষেত্রে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। নিজে চিকিৎসক হওয়া সত্বেও মায়ের ব্রেস্ট টিউমারের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন। তার কারণ এই ধরণের বিষয়গুলি আজও মহিলারা ডাক্তারের সমক্ষে আলোচনা করতে ইতস্তত বোধ করেন, যার ফল হয় মারাত্মক। স্তনে ছোট লাম্প বা মাংসপিণ্ড হলে কিভাবে সাবধান হবেন আসুন জেনে নিই।

বিনাইন ব্রেস্ট লাম্প কি :
স্তনের টিস্যুগুলি যখন ফুলে ওঠে বা পুরু হয়ে যায় তখন তাকে ব্রেস্ট লাম্প বলে। তবে ব্রেস্ট লাম্প মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়। যেহেতু ক্যান্সার নয়, তাই একে বিনাইন ব্রেস্ট লাম্প বলা হয়। শরীরে হরমোনের পরিবর্তনেই ফলে অনেকেরই এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ঋতুস্রাবের আগে বা গর্ভধারণের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয় যার ফলে স্তনে লাম্প হতে পারে। এছাড়া কোনো আঘাত লাগলে বা স্তন্যপান করানোর সময়তেও এই সমস্যা হতে পারে।

লাম্পের রকমফের :
# ফাইব্রোএডিনোমা (Fibroadenoma) - অত্যন্ত পরিচিত এবং সাধারণ লাম্প, যা টিস্যু বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত ১৬ - ২৪ বছর বয়েসের মধ্যে হতে পারে।

# সিস্টোসারকোমা ফিলোডস টিউমার (Phyllodes tumor) - এই টিউমার হলে আগামী দিনে বেশ বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটা ৪০ - ৫০ বছর বয়েসের মধ্যে হয় এবং এই টিউমার সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলাই বাঞ্ছনীয়।

# ফ্যাট নেক্রোসিস (Fat necrosis) - এই ধরণের লাম্প বেশ শক্ত প্রকৃতির হয়। সাধারণত কোনো আঘাত লাগলে হতে পারে। 

# স্তনের সংক্রমণ (ম্যাসটাইটিস বা এবসেস) - সাধারণত স্তন্যপানের সময় এই সংক্রমণ হতে পারে।
# ডাক্ট এক্টাশিয়া (Duct Ectasia) - ঋতুবন্ধের সময় এই সমস্যা হতে পারে। স্তনের অভ্যন্তরীণ নালী বন্ধ হয়ে গিয়ে স্তনবৃন্তের তলায় লাম্প হতে পারে। অনেক সময় রক্তপাত হতেও দেখা গেছে।


উপসর্গ :
এমন বেশ কিছু উপসর্গ আছে যা আপনি নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন যে কোনো একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন, স্তনে বা বগলে কোনো লাম্প বা কঠিনভাব, স্তনের আকার বা আয়তনে পরিবর্তন, স্তনের ত্বকে ভাঁজ হওয়া বা কুঁচকে যাওয়া, স্তনবৃন্তের আকার বা অবস্থানে পরিবর্তন, স্তনবৃন্তের চারপাশে ফুসকুড়ি হওয়া স্তনবৃন্ত থেকে তরলের নির্গমন, স্তনের কোনো অংশে ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি। 
   
চিকিৎসা কি ?
এর চিকিৎসা নির্ভর করছে লাম্পের ধরণের ওপর। কিছু লাম্প আছে যাদের তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না যদি না সেই লাম্পের কোনো উপসর্গ দেখা দেয় অথবা আকারে বেশ বড় হয়। তবে যে কোনো রকম লাম্প হলে প্রথমেই এফ.এন.এ.সি (FNAC - Fine Needle Aspiration Cytology) করিয়ে নেওয়া ভালো। যদি শুধুমাত্র পুঁজ জমা হয়ে থাকে তাহলে এন্টিবায়োটিকের সাহায্যে সারিয়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া লাম্পে যদি জল জমে তাহলেও তার চিকিৎসা আছে। তবে এটা যদি ফাইব্রোএডিনোমা বা ফিলোডস টিউমার হয় তাহলে সার্জারি করিয়ে নিয়ে বায়োপসি করা উচিত। কিন্তু ক্যান্সার ধরা পড়লে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য, ফ্যাট নেক্রোসিস হলে, সাধারণত আপনিই মিলিয়ে যায়।


সুতরাং ব্রেস্ট লাম্প খুব সাধারণ একটা ঘটনা হলেও একে হেলাফেলা না করাই ভালো। বলা তো যায় না, যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরোয় তাহলে কপাল চাপড়ানোর অবকাশ পাবেন না। তাই নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আর উপরে উল্লিখিত কোনোরকম উপসর্গ দেখতে পেলেই অবিলম্বে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। এপয়েন্টমেন্টের জন্য ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২। 

Tags : Benign Breast Lump ; Fibroadenoma ; Phyllodes Tumor ; Fat Necrosis ; Duct Ectasia ; Genesis Hospital Kolkata ; Prescription Theke

Saturday, 25 May 2019

স্তন্যপানের পদ্ধতিতে বিপদ !

পলাশ - ঝুমুরের বাড়িতে আজ খুশির রোশনাই। দীর্ঘ চার বছর পর ঝুমুরের কোলে এসেছে একটা মোম মোম গড়নের ফুটফুটে পুতুল। যার চোখের বিস্ময় আর কচি হাত পায়ের ছটফটানিতে গোটা বাড়ি নিশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছে না। এদিক ওদিক থেকে নানান রকম উপদেশ, পরামর্শে পলাশ-ঝুমুর এর মধ্যেই জেরবার হয়ে উঠেছে। কি করে কোলে নেওয়া উচিত, কেমন করে দুধ খাবে, কখন খাওয়াতে হবে, কিভাবে শোয়াতে হবে এমন নানান ফরমায়েশি বিধানে দুজনের হাঁপিয়ে ওঠার জোগাড়। 

সদ্য বাবা মায়েদের বলি, কমবেশি এমনটা হয়ত সমস্ত নবজাতকের বাড়িতেই ঘটে থাকে। অযথা ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং স্তন্যপানের সঠিক তথ্য ও পদ্ধতিগুলি জেনে নিন।

WHO-র তথ্য অনুযায়ী শিশুকে অন্তত দু’বছর পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো উচিত এবং প্রথম ছ’মাস মাতৃদুগ্ধই দেওয়া উচিত। মাতৃদুগ্ধের বিবর্তন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়।https://parenting.firstcry.com/articles/breast-milk-colour-whats-normal-whats-not/ 

১. কোলোস্ট্রাম - হলদেটে রঙের ঘন রসের নাম কোলোস্ট্রাম, যা উচ্চ প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন সমৃদ্ধ। মাতৃদুগ্ধের প্রাথমিক পর্যায় এবং শিশুর জন্মের দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত এটা থাকে।

২. রূপান্তরমুখী দুধ - এর স্থায়িত্ব দু’সপ্তাহ মতো। এতে প্রচুর পরিমান ফ্যাট, ল্যাকটোজ, জলে দ্রাব্য ভিটামিন থাকে এবং এর ক্যালোরি কোলোস্ট্রামের থেকে বেশি হয়।

৩. পরিণত দুধ - এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের মাতৃদুগ্ধ। এই দুধের ৯০% জল যা শিশুর শরীরে জলের মাত্রা বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রয়োজন। বাকি ১০% কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট, যা শিশুর বেড়ে ওঠা এবং শক্তির জন্য দরকার।

যখনই শিশুর খিদে পাবে তখনিই ওকে স্তন্যপান করান। একে বলে চাহিদা অনুযায়ী দুগ্ধপান। প্রথম কয়েক সপ্তাহ মাকে হয়ত প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ বারও দুগ্ধপান করাতে হতে পারে। তাছাড়া শিশুর পাশাপাশি মায়েরও শিশুকে স্তন্যপান করানো জরুরি। এই সুবিধাগুলি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হল।

স্তন্যপানে শিশুর সুবিধা -
# সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উপযুক্ত পুষ্টি যোগায়
# প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
# ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে 
# পাচনতন্ত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে
# মায়ের সাথে বন্ধন গড়ে তোলে

স্তন্যপানে মায়ের সুবিধা -
# উপকারী হরমোন তৈরী করে
# অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায়
# অপরিকল্পিত গর্ভসঞ্চারের আশঙ্কা কমায়
# প্রসবের পরে দেহের স্থুলতা প্রতিরোধ করে
# স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে




স্তন্যপানের নির্দেশিকা 

স্তন্যপান করানোর কিছু পন্থা বা নিয়ম আছে যেগুলো মেনে চললে মা এবং শিশু দুজনেরই উপকার হয় । অনেকেই হয়ত এ বিষয়ে জানেন না যার ফলে অধিকাংশ সময়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিচে বিশদে দেওয়া হল।

সঠিক পদ্ধতি 
# শিশুর মুখ বড় করে খোলা, ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো
# শিশুর চিবুক আর নাক স্তনের ওপর রাখা
# এরোলার বেশিরভাগ অংশই শিশুর মুখের মধ্যে থাকা      উচিত
# ছোট ছোট তীব্র টানের ছন্দে দুগ্ধপান
# দুধ গিলে নেওয়ার শব্দ শোনা যাবে
# প্রথম কয়েকবার দুধ টানার পরে স্তনবৃন্তে আরাম


ভুল পদ্ধতি
# শিশুর মাথা তার দেহের সাথে যখন সরলরেখায় নেই
# শিশু কেবল স্তনবৃন্ত থেকে দুধ খাচ্ছে, এরোলা মুখের মধ্যে নেই
# ছোট ছোট টানে দুগ্ধপান, স্বাভাবিক টানে নয়
# শিশুর গাল ভিতরে ঢুকে রয়েছে, মুখে কুলকুচোর শব্দ পাচ্ছেন
# দুধ গিলে নেওয়ার শব্দ নেই
# স্তনবৃন্তে সর্বক্ষণ ব্যাথা বা ফেটে যাওয়া


মনে রাখবেন, স্তন্যপান করানোর সময় আপনি যদি রিল্যাক্সড থাকেন তাহলে সহজেই শিশুর কাছে দুধ পৌঁছবে। এক্ষেত্রে হেলান দেওয়া চেয়ারে বসাটা খুব উপকারী। শিশুকে আপনার দিকে আনুন, আপনি শিশুর দিকে ঝুঁকে পড়বেন না। তাহলে আপনার ঘাড় ও কাঁধে চাপ পড়বে এবং শিশুর অবস্থানেও ক্ষতি হবে। 

খেয়াল রাখবেন শিশুর মুখে স্তনবৃন্তটি যেন সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেজন্য আপনাকে স্তন ধরে রাখতে হতে পারে। স্তনের পাশ থেকে সি (C) - এর মতো অথবা ইউ (U) এর মতো করে ধরুন। আপনার আঙুল যেন স্তনবৃন্ত থেকে খানিকটা দূরত্বে থাকে যাতে শিশুটির স্তন্যপানে অসুবিধে না হয়। 

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, বসা অবস্থায় শিশুর মাথা আপনার কনুইয়ের ভাঁজে রাখতে হবে। শিশুর নাক যেন স্তনবৃন্তের সাথে এক সরলরেখায় থাকে। 

তবে সাবধান ! সাইড-লায়িং অবস্থানে কখনোই স্তন্যপান করাবেন না। এতে শিশুর শ্বাসনালীতে দুধ ঢুকে জীবন সংশয় হতে পারে। পাশের ছবিগুলি দেখে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। 

এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা দরকার যে, ভারত সরকারের শ্রমমন্ত্রক দ্বারা ঘোষিত এবং মেটার্নিটি বেনিফিটস অ্যাক্ট, ১৯৬১ অনুযায়ী চাকুরীজীবি মায়েরা ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন।


এই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে জানতে হলে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। এপয়েন্টমেন্টের জন্য ক্লিক করুন - https://www.genesishospital.co/doctors অথবা ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২ ৪২৪২ 

এর পাশাপাশি আপনার কোনো জরুরি প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন। উত্তর দেবেন জেনেসিস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

Tags: how to breast feed a baby ; the right methods of breastfeeding ; breast feeding techniques ; Genesis Hospital Kolkata ;  Prescription Theke

Saturday, 18 May 2019

ডায়াবেটিস থেকে মৃত্যু ?

হ্যাঁ তা হতেই পারে। চোরাগোপ্তা মিষ্টি খাওয়া, সর্বোপরি ডায়বেটিসের রুগী হওয়া সত্ত্বেও নোলার আবেগকে সামলে না রাখতে পারাটা কিন্তু আখেরে বিপদের সম্ভাবনাকে বহুগুন বাড়িয়ে তোলে। আর এই বিপদ কিন্তু অধিকাংশ সময়ই আপনার মিষ্টি প্রীতিকে তোয়াক্কা না করে আপনার প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে ওঠে। আসুন জেনে নিই কি কি হতে পারে। 


# হৃদরোগ - ডায়াবেটিস কিন্তু বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। করোনারি ধমনীর সমস্যা, সাথে বুকে ব্যথা (এনজিনা), হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং ধমনীর সংকোচন (এথেরোস্ক্লেরোসিস)। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে আপনার হৃদরোগ বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 






# নার্ভ ড্যামেজ বা নিউরোপ্যাথি - অতিরিক্ত শর্করা, আপনার স্নায়ুকে পুষ্ট করে এমন ক্ষুদ্র রক্তবাহী জালিকার দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে আপনার পায়ের স্নায়ু। এতে সাধারণত হাতের বা পায়ের আঙুলের প্রান্তভাগে জ্বলুনি বা ব্যথা হতে পারে যা ধীরে ধীরে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাচন সম্পর্কীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বমি, ডায়ারিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। 




# চোখের সমস্যা বা রেটিনোপ্যাথি - ডায়াবেটিস রেটিনার রক্তবাহী জালিকার ক্ষতি করতে পারে, যা সম্ভাব্য অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য মারাত্মক অবস্থার ঝুঁকি বাড়ে, যেমন ছানি পড়া, গ্লোকোমা ইত্যাদি। 

# পায়ের সমস্যা - পায়ের স্নায়ু যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা রক্ত প্রবাহ সঠিক না হয় তাহলে নানান রকমের জটিলতা তৈরী হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে অল্প কাটা-ছেঁড়াতেই সংক্রমণ হতে পারে। তেমন মারাত্মক হলে পায়ের আঙ্গুল, পায়ের পাতা বা গোটা পা'টাই বাদ দিতে হতে পারে।

# ত্বকের সমস্যা - ডায়াবেটিসে ত্বকের সমস্যা হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ এক্ষেত্রে হতেই পারে। 

# কানের সমস্যা - ডায়াবেটিসে শুনতে না পাওয়া বা কম শোনার সমস্যাটা অত্যন্ত সাধারণ।  

# আলঝেইমার্স ডিজিজ - টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ডিমেনশিয়া নামক এক রকম স্নায়ুর রোগ হতে পারে যা হলে স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়ে যায়। যেমন - আলঝেইমার্স ডিজিজ। জেনে রাখুন, ব্লাড সুগার যত অনিয়ন্ত্রিত থাকবে ততই এই রোগের ঝুঁকি বাড়বে। 

# বিষন্নতা - টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিক রুগীদের মধ্যে বিষন্নতার বিভিন্ন উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়। এটা কাটিয়ে না উঠতে পারলে চিকিৎসায় বেশ সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

এর পাশাপাশি কয়েকটা জরুরি জিনিস জেনে রাখা দরকার। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য তারা হল উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থুলতা। আসুন এই প্রসঙ্গে একটু আলোকপাত করা যাক।

উচ্চ রক্তচাপ - ফেলুদা-তোপসে বা ব্যোমকেশ-অজিতের মতো উচ্চ রক্তচাপ আর ডায়াবেটিস হল বিখ্যাত মানিকজোড়। সাধারণত এদেরকে একইসাথে দেখতে পাওয়া যায়। এইটা যাঁদের আছে তাঁরা এই লাইনটা পড়ে নিশ্চই এখন ঘাড় নাড়ছেন। সেক্ষেত্রে বলি এতটাও আনন্দিত হবার কিছু নেই। এই মারাত্মক জুটির কারণে কিডনি, চোখ, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও এই রোগে আর যা যা হয় তা হল :

# রক্তনালীর প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়
# শরীরে তরলের পরিমান বৃদ্ধি পায়
# শরীরের ইনসুলিন পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয় 
# হৃদরোগের সমস্যা বাড়ে
এই সমস্ত ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে এবং সঠিক ডায়েট ও ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে হবে। 

মেটাবলিক সিনড্রোম - ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের ওজন বিরাট ভূমিকা পালন করে। বংশগত কারণ বা পেশাগত কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই অল্প বয়েসে মাত্রাতিরিক্ত ওজন মানুষকে প্রিডায়াবেটিক থেকে ডায়াবেটিকে রূপান্তরিত করে। আর এই ওজনের সমস্যা থেকে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গগুলি পৃথকভাবে বা একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হল সুষম আহার বা খাদ্যের মাত্রা কম করা। তার সাথে সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে বা ব্যায়ামের মাধ্যমে অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে যাঁরা স্থুলতায় ভুগছেন তাঁরা অনেকাংশেই স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলবেন। আর যাঁরা ভুগছেন না তাঁরা অনর্থক ওজন বৃদ্ধির হাত থেকে রেহাই পাবেন। 

মেডিক্যাল নিউট্রিশন থেরাপি :
পথ্যের গুরুত্ব মেটাবলিক রোগে অপরিসীম। জীবন, জীবিকা, ওজন, কিডনির ক্ষমতা - এই সমস্ত কিছু বিবেচনা করেই তৈরী হওয়া উচিত ডায়েট চার্ট । ‘ভালো খাবার - ভালো মন’ এই যোগাযোগটা চিন্তা করে একজন নিউট্রিশনিস্ট এবং একজন চিকিৎসক যুগ্মভাবে আপনার ডায়েট চার্ট তৈরী করে দেবেন। তবে যতক্ষণ না সেই চার্ট হাতে পাচ্ছেন ততক্ষন অবধি নিচের চার্টটা একজন চিকিৎসককে দেখিয়ে শুরু করতে পারেন।

ভোরের দিকে : ১ কাপ চিনি ছাড়া চা, সাথে ১/২ বিস্কিট হোক।
জল+খাবার : ১ প্লেট উপ্ মা বা ওট্ স, সাথে একটা ফল বা এক কাপ লেবু জল - এই অভ্যাসটা চালু করুন।
ঠিক দুপুরবেলা : ২টো আটার রুটি, ১ বাটি ভাত, ১ বাটি ডাল, আধবাটি সবজি বা সোয়াবিন, ১/২ পিস্ মাছ এবং শেষ পাতে টক দই আর স্যালাড রাখুন।
বিকেল বিকেল : ১ কাপ চিনি ছাড়া চা, সাথে ১/২ বিস্কিট আর স্বাদবদলের জন্য ১ কাপ স্যুপ খেতে পারেন।
রাতকাবারি : ২ টো আটার রুটি,  ১ বাটি ডাল, আধবাটি সবজি আর স্যালাড হলে সবচেয়ে ভালো। এক-দু পিস্ চিকেন রাখতে পারেন থালার পাশে কিন্তু জমিয়ে রান্না করা কষা মাংসটা নৈব নৈব চ। ঘুমানোর আগে সামান্য দুধ (চিনি ছাড়া) খেতে পারেন।



যে সমস্ত দিকে আর কখনোই ভুলে তাকাবেন না তা হল - রেড মিট, তেল - চর্বি জাতীয় খাবার, সাদা ময়দা, আলু, গাজর এবং নুন। এছাড়া মিষ্টির দোকানের আশপাশ দিয়েও যে যাবেন না সেটা বলাই বাহুল্য। ফুরফুরে মেজাজে থাকার চেষ্টা করুন আর ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন। 

সুতরাং এই সমস্ত কঠিন রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে আজ থেকেই ব্যবস্থা নিন। সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নয়ত দেরি হয়ে গেলে যে বিপদের পাহাড় মাথায় ভেঙে পড়বে এ নিশ্চই দিব্যি বুঝতে পারছেন। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়ত ভাবছেন যে আমার তো অনেক বছরই হল, কই তেমন সাংঘাতিক তো কিছু হয় নি। তাঁদের প্রথমেই অনেক অভিনন্দন কারণ আপনারা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। কিন্তু যাঁরা নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না, তাঁদের বলব, নিজের কথা না হোক অন্ততপক্ষে বাড়ির আপনজনদের কথা তো একবার ভেবে দেখুন ! আপনার বিপদ মানে যে তাদেরও বিপদ সেটা ভুলে যাচ্ছেন কেন ? সুতরাং যতদিন এই ধরাধামে থাকার সুযোগ পেয়েছেন ততদিন সুস্থ হয়ে বাঁচুন।

আর তেমন হলে জেনেসিস হাসপাতালের ডায়াবেটিক ক্লিনিক তো আছেই, চিন্তা কি ! ফোন করুন এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২

#diabetes #heartproblems #neoropathy #retinopathy #alzheimer'sdisease #asprescribed #medicalissues #GenesisHospitalKolkata

Saturday, 20 April 2019

ফাইব্রয়েড থেকে ক্যান্সার !



উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির গৃহবধূ ঊর্মিলা বসাক গত কয়েকমাস ধরে এক বিচিত্র পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। তার সাথে যোগ হয়েছিল ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ। মাঝে পাড়ার একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিয়ম করে ৭ দিন বেশ কয়েকটা গ্যাস-অম্বলের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। তাঁর স্বামী ভদ্রলোকটি অতিরিক্ত রকম যোগাসন প্রিয় ব্যক্তি। তিনি নির্দ্বিধায় ঊর্মিলাকে উষ্ট্রাসনের উপদেশ দিয়ে চুপচাপ নিজের কাজে মন দিয়েছিলেন। অবস্থা যখন প্রায় হাতের বাইরে চলে যায় অর্থাৎ ঊর্মিলার যখন অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে থাকে তখন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হন। পরীক্ষা করার পর জানা যায় ঊর্মিলার ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড হয়েছে এবং সার্জারির প্রয়োজন আছে। এখানে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডটা ঠিক কি। 
    
ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড (uterine fibroid) হল একধরণের টিউমার যা জরায়ুর মধ্যে হয়। এই টিউমারগুলি পেশীর ফাইবার দ্বারা গঠিত হলেও জরায়ুর মায়োমেট্রিয়ামের (uterine wall - myometrium) তুলনায় অনেক বেশি ঘন হয়। এই টিউমার সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কোনোরকম ব্যথা হয় না। তবে ফাইব্রয়েড যদি আকারে বড় হয় সেক্ষেত্রে ব্লাডার বা অন্যান্য অঙ্গে বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ফাইব্রয়েড বেশ কয়েক ধরণের হতে পারে। এর অবস্থান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ভাবে তাদের ভাগ করা হল।

১. সাবসেরোসাল ফাইব্রয়েড (Subserosal fibroid) - জরায়ুর বহিঃস্তরে এই ফাইব্রয়েড হয়।
২. সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েড (Submucosal fibroid) - জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের নিচে এই ফাইব্রয়েডটি হয়।
৩. ইন্ট্রামুরাল ফাইব্রয়েড (Intramural fibroid) - জরায়ুর পেশিতে হয়।
৪. পেডানকুলেটেড ফাইব্রয়েড (Pedunculated fibroid) - এই ফাইব্রয়েড কতকটা ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে যা জরায়ুর বহির্ভাগে হয়।
৫. ইন্ট্রাক্যাভিটারি ফাইব্রয়েড (intracavitary fibroid) - এটি জরায়ুর অভ্যন্তরে হয়। এর ফলে যৌনমিলনে যথেষ্ট ব্যাথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।

এর উপসর্গ কি কি ?
সাধারণত এর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে যাঁর ফাইব্রয়েড আছে তিনিও এর উপস্থিতি নাও টের পেতে পারেন। তবু কিছু কিছু জটিলতার আভাস আগে থেকে পাওয়া যায় যেমন - জরায়ু থেকে রক্তপাত, একটানা অনেকদিন ধরে ঋতুস্রাব, ঋতুস্রাবের সময় যথেষ্ট ব্যাথা, অত্যাধিক ঋতুস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাতে রক্তাল্পতা, যথেষ্ট ব্যাথা অনুভূত হওয়া, পেটে চাপ অনুভূত হওয়া, প্রস্রাব বেশি হওয়া বা আটকে যাওয়া ইত্যাদি। 
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফাইব্রয়েড থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। যার ফলে বারে বারে গর্ভপাতও হতে পারে। এর সাথে অতিরিক্ত রক্তপাতও হতে পারে। যদি সময়মতো ফাইব্রয়েড নির্মূল না করা হয় তাহলে পরবর্তীকালে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখন যে প্রশ্নটা মনে আসে, তা হল -

ফাইব্রয়েড হওয়ার কারণ কি ?
এখনো অবধি কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলা যায়নি, তবে কিছু কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারে যেমন - জিনগত জটিলতা, পারিবারিক ইতিহাসে ফাইব্রয়েডের উপস্থিতি, ভাস্কুলার সিস্টেমে অস্বাভাবিকতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ইস্ট্রোজেনের কারণেও ফাইব্রয়েড হতে পারে।

ফাইব্রয়েড থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে ?
সাধারণত জরায়ুর ফাইব্রয়েড কোনোরকম সমস্যা করে না। তবে এই ফাইব্রয়েড যদি খুব তাড়াতাড়ি আকারে বড় হতে থাকে তাহলে বেশ চিন্তার বিষয় আছে। এর কারণ লিওমায়োসার্কোমা (leiomyosarcoma) নামে একধরণের বিরল ক্যান্সার আছে যা এক্ষেত্রে হতেই পারে। যেটা ভয়ের কথা তা হল আল্ট্রাসাউন্ড বা এম.আর.আই পরীক্ষায় আলাদা করে একে ক্যান্সার ফাইব্রয়েড বলে চেনা যায় না। তবে এই ধরণের টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা ১% এরও নিচে। তাই ফাইব্রয়েড হলে তাকে ফেলে না রেখে সত্বর একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

এর চিকিৎসা কি ?
ফাইব্রয়েডের আকার অনুযায়ী এর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। অর্থাৎ ফাইব্রয়েড যদি বড় হয় তাহলে কয়েকটা সার্জারির মাধ্যমে তা পুরোপুরি নির্মূল করা হয়, যেমন -

# হিস্টেরেক্টমি (hysterectomy) - এই পদ্ধতির মাধ্যমে ফাইব্রয়েড সহ সম্পূর্ণ জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয়। ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা NDVH-এর সাহায্যে হিস্টেরেক্টমি করা হয়।
 
# মায়োমেক্টমি (myomectomy) - এই পদ্ধতিতে ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কপি বা হিস্টেরেস্কোপির সাহায্যে জরায়ুকে যথাস্থানে রেখে শুধুমাত্র ফাইব্রয়েড কেটে বের করা হয়।

এছাড়া আরও কিছু পদ্ধতি আছে যার সাহায্যে জরায়ুর ফাইব্রয়েড বের করে আনা হয়।   
বেশ কিছু ওষুধও আছে যার সাহায্যে ফাইব্রয়েডের চিকিৎসা করা হয়। জেনে রাখা ভালো যে এই সমস্ত ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তবে এই চিকিৎসা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।  বরং ফাইব্রয়েডের হাত  থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি পেতে গেলে অস্ত্রোপচারই সর্বশ্রেষ্ঠ  উপায়। সুতরাং একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ যে অবশ্যই নিয়ে নেওয়া উচিত সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই ধরণের অস্ত্রোপচারের সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন জেনেসিস হাসপাতালে (Genesis Hospital)  এই নম্বরে - ০৩৩ ২৪৪২ ৪২৪২ / ৪০২২৪২৪২ / ৮৫৮৪৮৮৩৮৮৪

#GenesisHospitalKolkata #uterinefibroids #leiomyosarcoma #hysterectomy #myomectomy #Prescriptiontheke