Thursday, 23 November 2017

মিনি স্ট্রোক


ডায়মন্ড হারবারের শেষ মাথায় একটি জনপ্রিয় হোটেলের মালিক সুরঞ্জন চৌধুরী। যেমন সাজানো গোছানো পরিবেশ ততোধিক উপাদেয় পঞ্চব্যঞ্জন। গঙ্গার পারে ফুরফুরে হাওয়া খেতে খেতে এই হোটেলে লাঞ্চ বা ডিনার সেরে নেওয়াটা অধিকাংশ ট্যুরিষ্টেরই পছন্দেরই তালিকায় থাকে। গোলগাল, অমায়িক সুরঞ্জনের ব্যবহার ও আপ্যায়নে অতিথিরা দিব্যি মজে থাকেন। বহু বছরের পুরোনো হোটেলটি যে ঐতিহ্য ও খ্যাতিতে অন্যান্য হোটেলগুলির থেকে কয়েক কদম এগিয়ে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এ নিয়ে ষাটোর্দ্ধ সুরঞ্জন গর্বও করেন বেশ। কিন্তু তাঁর গর্বের ফানুশ যে হাওয়ায় দুলতে দুলতে একেবারে গঙ্গার ঘাটে সলিল সমাধি ঘটাবে তা আর কে জানত ! কি হল ? শুনুন তাহলে।

কোনো এক বসন্তের সন্ধ্যায় এক সদ্য বিবাহিত তরুণ তরুণী প্রেমের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে একটি রুমের সন্ধানে উপস্থিত হলেন সুরঞ্জনের হোটেলে। সুরঞ্জন মিষ্টি হেসে তাদের আপ্যায়ন করলেন ও অনতিদূরেই একটি সোফায় বসালেন। অফিসিয়াল ফর্মালিটি সারতে সারতে কতকটা আকস্মিক ভাবেই সুরঞ্জনের বাঁদিকের চোখ ও মুখ নাচতে লাগল। দূর থেকে দেখে নব পরিণীতা বধূ মনে করলেন, সুরঞ্জন বুঝি তাকে অশালীন ইঙ্গিত করছেন। প্রথমটায় তিনি তেমন পাত্তা দিলেন না। কিন্তু  কেলেঙ্কারির আরো কিছুটা বাকি ছিল। যখন কিছুক্ষন বাদে বাদেই আবার সুরঞ্জনের চোখ মুখ সমান তালে নড়তে লাগল তখন তিনি আর বসে থাকতে পারলেন না। উঠে এসে ঠাস করে এক চড় মেরে সুরঞ্জনকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কি ইতর লোক মশাই আপনি ? সমানে আমাকে চোখ মারছেন তখন থেকে ? এই বয়েসে লজ্জা করে না' ? সুরঞ্জন গালে হাত দিয়ে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। ব্যাপারটা যে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এটা কিছুতেই বুঝিয়ে উঠতে পারলেন না। আশ্চর্যের বিষয় হল সুরঞ্জন চড় খাওয়ার পরও কিছুতেই চোখ ও মুখের মুভমেন্ট কন্ট্রোল করতে পারছিলেন না। সেটা দেখে যুবক স্বামীটি এগিয়ে এসে ভালো করে নিরীক্ষণ করে বললেন, 'আপনার ট্রানসিয়েন্ট ইস্কেমিক এট্যাক হচ্ছে খুব সম্ভবত' । তারপরেই ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের স্ত্রীকে বললেন, 'চট করে আমার প্রেসারের যন্ত্রটা নিয়ে এস তো গাড়ি থেকে'।

সদ্য বিবাহিত যুবকটি ডাক্তার হওয়ার ফলে সে যাত্রা সুরঞ্জন রক্ষা পেয়ে গেলেন বটে। অন্যথা হলে সুরঞ্জনের হেনস্থা আটকানো কঠিন হত খুব। তবে আপনি যে সর্বক্ষেত্রে হাতের সামনে একজন ডাক্তার পেয়ে যাবেন তা নয় কিন্তু। ট্রানসিয়েন্ট ইস্কেমিক এট্যাক বা টিয়া কিন্তু হঠাৎ করেই হয়, প্রায় বিনা নোটিশেই। আসুন জেনে নিই এটি কি জিনিস।


ট্রানসিয়েন্ট ইস্কেমিক এট্যাক বা টিয়া কি ?

মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ যদি অস্থায়ীভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখনই ট্রানসিয়েন্ট ইস্কেমিক এট্যাক বা টিয়া হয়। টিয়ার উপসর্গগুলিও স্ট্রোকের উপসর্গের মতোই। তবে এটি ক্ষণস্থায়ী হয় এবং চরম ক্ষতি কিছু হয় না।সাধারণত টিয়াকে 'মিনি স্ট্রোক' বা 'ওয়ার্নিং স্ট্রোকও' বলা হয়ে থাকে। তাই একে একেবারেই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এর অর্থ হল ভবিষ্যতে আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি আপনার টিয়া হয়ে থাকে তাহলে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ডাক্তার দেখানোই কিন্তু বিচক্ষণতার লক্ষণ।

কোন বয়েসে হতে পারে ?
যে কোনো বয়েসেই এই এট্যাক হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর সম্ভাবনা বেশি দেখা দেয়। পরিসংখ্যান বলছে - প্রত্যেক তৃতীয় ব্যক্তি  যাদের এই এট্যাক হয়েছে এবং চিকিৎসায় গাফিলতি করেছেন তাদের এক বছরের মধ্যেই বড় ধরণের এট্যাক হয়েছে। স্ট্রোক থেকে অর্ধেকের বেশি মৃত্যু মহিলাদের ক্ষেত্রেই ঘটে।  এছাড়াও পরিবারে কোনো সদস্যের যদি টিয়া বা স্ট্রোক হয়ে থাকে তাহলে এই এট্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

এর উপসর্গ কি ?

সাধারণত ১০ - ২০ মিনিটের বেশি এর উপসর্গগুলি থাকে না। এবং সেগুলি হল -

# বিশেষ করে শরীরের একদিকে হঠাৎ নিস্তেজতা, মৃদু কম্পন, দুর্বলতা, মুখ, হাত বা পা সঞ্চালনে সমস্যা
# দৃষ্টিশক্তিতে হঠাৎ পরিবর্তন
# কথা বলায় সমস্যা
# সহজ কথা বুঝতে বিভ্রান্তি বা সমস্যা হওয়া
# হাঁটাচলা বা ব্যালান্স করতে সমস্যা
# হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই মাথাব্যথা হওয়া

কি করে হয় ?
সাধারণত মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণেই এটা হয়। ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, হার্ট এট্যাক বা হৃদপিণ্ডের অনিয়মিত ছন্দের কারণে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাধা পড়ে। জমাট বাঁধার মুহূর্তের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরে  উপরোক্ত উপসর্গগুলি দেখা দিতে থাকে। কখনো কখনো রক্তচাপ সাংঘাতিক হ্রাস পাওয়ার দরুনও এই এট্যাক হয়। একে 'লো ফ্লো' টিয়া বলে। তবে এই এট্যাকটি বিরল। ডাক্তাররা বলেন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা প্রবল হয়। যার ফলে অধিকাংশ সময়েই টিয়া হতে পারে। এছাড়াও আরও কারণ আছে। দেখে নিন কি কি -

# অতিরিক্ত রক্তচাপ
# ক্যারোটিড ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধলে (গলার ধমনী যা সোজা মস্তিষ্কে পৌঁছয় )
# পেরিফেরাল ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধলে (হাত ও পায়ের ধমনী )
# ডায়াবেটিস
# রক্তে এমিনো এসিডের বৃদ্ধি
# অতিরিক্ত ওজন

চিকিৎসা কি ?
একজন দক্ষ নিউরোলজিস্ট বা কার্ডিওলোজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং প্রয়োজনমত সমস্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া। সুবিদার্থে জানিয়ে রাখি, তিনি যে পরীক্ষাগুলি করাতে পারেন তা হল - সিটিস্ক্যান, এমআরআই, এঞ্জিওগ্রাম, ডপ্পলার আল্ট্রাসাউন্ড, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম, ব্লাড টেস্ট প্রভৃতি। তবে এতো গেল চিকিৎসকের অধীনে নিয়মমাফিক কাজ করা। আপনাকে নিজে যা যা করতে হবে তা হল -

# ধূমপান ও এলকোহল পরিত্যাগ করা
# কোলেস্টেরল ও ফ্যাট জাতীয় খাবার বর্জন করা
# প্রচুর ফল ও শাকসবজি খাওয়া
# সোডিয়াম যুক্ত বা নোনতা খাবার কম খাওয়া
# নিয়মিত শরীরচর্চা করা
# সুস্থ, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা
# ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা

এই নিয়মগুলি পরপর মেনে চললে টিয়ার ঝুঁকি যে অনেকাংশেই কমে যায় তা বলাই বাহুল্য। নব বিবাহিতা তরুণী অবশ্য সুরঞ্জনের কাছে ভীষণ ভাবে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন পরবর্তীকালে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে যদি ঠিক এমনটি ঘটত তাহলে তো আপনি 'টিয়া টিয়া' বলে বিখ্যাত গানটা গেয়েও পার পেতেন না। এখন কথা হচ্ছে আপনি সময় থাকতে সাবধান হবেন নাকি জোর করে বিপদ ডেকে আনবেন। পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার ওপর।  

#healtharticle #Transientischemicattack #TIA #healthnews #GenesisHospitalKolkata #asprescribed




Monday, 6 November 2017

৮০তে আসিও না


'বার্লি খেলে কি আর যৌবন ফিরে পাব' ?.......
ভানু বন্দোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত ছবির কথা মনে আছে নিশ্চই ? বার্ধক্যের অমাবস্যা ছেড়ে পুকুর ভর্তি যৌবনের পূর্ণ চন্দ্রিমার লালসায় যে কি কি অলীক কাণ্ড ঘটতে পারে তা তিনি এই ছবিতে সুচারুরূপে বুঝিয়ে গেছেন। তবে কিনা ছায়াছবির গল্পকথায় হৃদয় গলে বটে, তবে বাস্তবের ফাঁক গলে আসল প্রতিচ্ছবিটা আমাদের প্রায়শই বেদনার কারণ হয়ে ওঠে। মন চায় কিন্তু শরীর চায় না মোটে। তবে মনোহর আইচের মতো শতাব্দী জোড়া বাইসেপ্স ট্রাইসেপ্স বাগাতে না পারলেও সুস্থ শরীরটা যে একান্ত কাম্য একথা কিন্তু কায়মনোবাক্যে স্বীকার করবেন সকলে। কারণ মনের প্রজাপতি ইতিউতি উড়ে বেড়ালেও বয়সকালে হাত পা ছুঁড়ে আপনিও যে দিগ্বিদিগ ঘুরে বেড়াবেন তা আর হয়ে ওঠে কৈ ? 

আশিতে আসিলে যে কি কি সমস্যা তৈরী হয় এ আমাদের আপামর বাঙালীকুলের বিলক্ষণ জানা আছে। যেমন - ছানি, আমবাত, গেঁটে বাত, অনিদ্রা, বুক ধড়ফড়, মাড়ি কনকন, গ্যাস অম্বল তো আছেই এমনকি ভীমরতি হওয়াটাও আমরা অধিক বয়েসের রোগ বলেই ধরে থাকি। তবে এতেই ক্ষান্ত নেই, এই সমস্ত রোগের পাশাপাশি এমন আরও একটি রোগ আছে যা কিনা প্রায় বিনা কারণেই দেখা দিতে পারে। আর তা হল - প্রস্রাবে সমস্যা। হ্যাঁ, শুধু ভারতবর্ষে কেন, খুঁজলে পরে গোটা পৃথিবীতেই পঞ্চাশ বা তার বেশি বয়েসের পুরুষের প্রোস্টেটের সমস্যা পাবেন প্রায় ঘরে ঘরে। এই জনপ্রিয় রোগটির একটি গালভরা নাম আছে বটে, ডাক্তারী ভাষায় যাকে বলে বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া। আসুন দেখে নিই কিভাবে এই রোগ হয় এবং এর হাত থেকে নিস্তার পাবার উপায় কি। 

বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া কি ?
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া বলে। ছোট করে একে বিপিএইচ বলা হয়।বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেই সাধারণত এই রোগ দেখা দেয়। তিরিশ বছর বয়েস থেকে এই বিপিএইচ এর সূত্রপাত। ক্রমশ তা বাড়ে ও পঞ্চাশ বছর বয়েসের পর থেকে এই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন কারণ এর থেকে ক্যান্সার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং এই রোগের কারণ ও উপসর্গগুলিতে একটু চোখ বুলিয়ে নিই। সময় থাকতে থাকতে সাবধান হওয়া যাবে অন্তত। 

এই রোগ হওয়ার কারণ 
সাধারণত এর সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কিছু চিকিৎসকদের মতে বয়স্ক পুরুষদের যৌন হরমোনের পরিবর্তন এর কারণ হতে পারে। এছাড়া প্রস্টেট সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই রোগ হতে পারে। জেনেসিস হসপিটালের নামকরা তরুণ ইউরোলজিস্ট ডঃ দেবাংশু সরকার বলছেন এই রোগটিকে এড়ানোর সম্যক কোনো উপায় নেই।  

ঠিক কি হয় 
প্রস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাবার দরুন মূত্রনালীতে চাপ পড়ে। যার ফলে প্রস্রাবের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এই প্রস্রাব মূত্রাশয়ে জমতে থাকে। ফলস্বরূপ দিনে ও রাতে রুগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে। 

উপসর্গ 
# ঘন ঘন মূত্রত্যাগ 
# মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা বা ব্যাথা হওয়া  
# মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
# অসম্পূর্ণ প্রস্রাব
# প্রস্রাব লিক হওয়া  
# প্রস্রাবে রক্তের চিহ্ন 

রোগ নির্ণয় 
চিকিৎসকরা বিভিন্ন পদ্ধতি বা রেক্টাল পরীক্ষার দ্বারা বিপিএইচ নির্ণয় করেন। যেমন - 
# ইউরিনালিসিস 
# ইউরোডায়নামিক টেস্ট 
# প্রস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন টেস্ট 
# পোস্ট ভয়েড রেসিডুয়াল 
# সিস্টোস্কপি 
# ইউরোগ্রাফি 

চিকিৎসা কি 
এই রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাই হলো নিজের যত্ন নেওয়া ও শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা। যেমন মদ্যপান ও ক্যাফিনের থেকে দূরে থাকুন। অযথা স্ট্রেস নেবেন না তাতে প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করুন, বেশ কিছুটা সুফল পাবেন। তারপরেও যদি উপসর্গ রয়ে যায় তাহলে একজন দক্ষ চিকিৎসকের বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে বা প্রয়োজনমত সার্জারি করিয়ে নিতে হবে। আর সার্জারি মানেই কিন্তু কাটাছেঁড়া নয়। বর্তমান শল্য চিকিৎসায় অত্যাধুনিক পদ্ধতির দ্বারা একেবারে সহজ সার্জারি সম্ভব হচ্ছে। যেমন ট্রান্স ইউরেথ্রা রেসেকশন অফ প্রস্টেট। এই পদ্ধতিতে পুরুষের যৌনাঙ্গের মধ্যে দিয়ে রিসেক্টোস্কোপের দ্বারা প্রস্টেটের কিছু অংশ বা বর্দ্ধিত টিস্যু বের করে নেওয়া হয়। এছাড়াও লেজার ট্রিটমেন্টের দ্বারা সফল ভাবে প্রস্টেট সার্জারি করা হয়। 

তবে ভয়ের কিছু নেই। তার কারণ আপনি একা নন। সারা পৃথিবী জুড়ে সংখ্যায় প্রায় ১০ কোটির ওপর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং আশ্চর্যের বিষয় হল আশি বছর বয়েসের ঊর্ধ্বে প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষেরই এই রোগ হয়। সুতরাং নিশ্চিন্তে থাকুন এবং একজন ইউরোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার শরীর তো আপনারই দায়িত্ত্বে। তাই না ?

#urology #prostate #benignprostatichyperplasia #oldmendisease #GenesisHospitalKolkata #asprescribed

Monday, 23 October 2017

মাথা ব্যাথা না অন্যকিছু ?


একটা সহজ সরল আপাত নিরীহ রোগ। যে রোগটাকে অনায়াসেই আমরা হাতের পাঁচ করে দিব্যি দৈনন্দিন জীবনে পিছলিয়ে পাশ কাটিয়ে যাই। যেমন ধরুন আজ অফিস যাবো না, ছোট্ট এসএমএস - 'প্রচণ্ড মাথাব্যথা, মাথা তুলতেই পারছি না'। কিম্বা বৌয়ের সাথে শপিংয়ে যেতে হবে - 'ওফ ! আজ না ভীষণ মাথা ধরেছে, তুমি একা চলে যাও প্লিজ'। অথবা অনেকদূরের কোনো নিমন্ত্রণ -  'অসহ্য যন্ত্রণায় মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে, আজ ছেড়ে দিন দাদা, অন্য একদিন সময় করে গিফট দিয়ে আসব'। ইত্যাদি চেনা জানা ছকের আওতায় মাথা খেলিয়ে ডজ দেওয়াটা প্রায়শই আমাদের বেসিক স্কিলের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সত্যিই যদি একদিন পালে বাঘ পড়ে ? তাহলে ? ঘুঘু দেখতে গিয়ে যদি ফাঁদে জড়িয়ে আছাড় খেয়ে পড়েন, তখন ? ভেবে দেখেছেন কি ? তাহলে এমনই একটা সত্যি ঘটনা বলি। পেশা ও নামগুলো শুধু বদলে দিলাম। 

প্রফেসর দীনেন গুপ্ত দক্ষিণ কলকাতার একজন নামকরা শিক্ষক। পদার্থবিদ্যায় সুনামের ফলে কলেজ ও কলেজের বাইরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তাঁর যথেষ্ট। তাঁর স্ত্রী শ্রীমতি কল্যাণী গুপ্ত সরকারি চাকুরে। গত দেড় মাস যাবৎ কল্যাণী মাথার মধ্যে এক আশ্চর্য যন্ত্রনা অনুভব করছেন এবং সময় বিশেষে কিছু মাথাব্যথার ওষুধও খেয়ে চলেছেন। কিন্তু রোগ নিরাময় হচ্ছে না কিছুতেই। সচরাচর সাধারণ মাথাব্যথায় অধিকাংশ সময়ই আমরা ডাক্তার এড়িয়ে চলি। স্বাভাবিকভাবে কল্যাণীও তাই করেছিলেন। ছাত্রছাত্রী নিয়ে ব্যস্ত প্রফেসরও স্ত্রীর মাথাব্যথাকে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কল্যাণীর মাথাব্যথার চরিত্রও বদলাতে লাগলো একটু একটু করে। কালক্ষেপ না করে কল্যাণী চলে গেলেন তাঁর এক চেনা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। কল্যাণীকে পরীক্ষা করে ও কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর ডাক্তার তাঁকে সিটি স্ক্যান করিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। যথাসময়ে রিপোর্টে দেখা গেল কল্যাণীর ব্রেনে গ্লিয়োব্লাস্টোমা মাল্টিফর্ম হয়েছে। শুনতে কতকটা এটম বোমের মত লাগলো বটে তবে সোজা বাংলা ভাষায় এর অর্থ হল - ব্রেন টিউমার। আজ্ঞে হ্যাঁ, সিনেমা সিরিয়ালে বহুল প্রচারিত যে রোগ ঠিক সেই রোগটির কথাই বলছি। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যে অনেকসময় কেউটে বেরিয়ে আসে এইটি হল তার মোক্ষম উদাহরণ। সুতরাং সময় থাকতে থাকতে যদি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফেলেন তাহলে বাপ্ মায়ের দেওয়া প্রাণটা রক্ষা পায় - এই আর কি। নিচে ব্রেন টিউমারের কিছু লক্ষণ দেওয়া হল। 

লক্ষণ :
# মাথা যন্ত্রণা, সময়ের সাথে সাথে ব্যাথার তীব্রতা বৃদ্ধি
# শরীরের একাংশে বা সারা শরীরে কাঁপুনি  
# দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তিতে পরিবর্তন 
# হাতে ও পায়ে দুর্বলভাব
# মেজাজে পরিবর্তন 
# কথা বলার সময় সমস্যা 
# শারীরিক অক্ষমতা 
# স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া
# বমি ভাব 
# ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব

কিছু কিছু সময় টিউমারের স্থান অনুযায়ী নানারকম হরমোনের সমস্যা হতে পারে। যেমন অনিয়মিত মাসিক, ঊষরতা, ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস। এই সমস্ত লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে, কয়েক মাস বা বছর অথবা হঠাৎ করেও দেখা দিতে পারে। 

এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আর আলাদা করে আলোচনা করলাম না কারণ উপরের লক্ষণগুলি দেখা দিলে যে একজন দক্ষ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু কয়েকটা জিনিস - 

মনে রাখবেন :
এই ধরণের মাথাব্যথা কিন্তু ভোরবেলার দিকে বেশি হয়। সুতরাং সামান্য মাথাব্যথা বলে এড়িয়ে যাবেন না। 'আমার তো মাইগ্রেন আছে, বেশি পরিশ্রম করলে একটু আধটু মাথাব্যথা হয়' - ইত্যাদি যাবতীয় ধারণাগুলির থেকে বেরিয়ে আসুন। বিশেষ করে সে ব্যথা যদি নিয়ম করে প্রায় প্রত্যেকদিনই হতে থাকে এবং তা যদি কষ্টসাপেক্ষ হয় তাহলে বলব দেরি করা মোটে ভালো কাজ না। মাথা বলে কথা, তাছাড়া ঘাড়ের ওপর তো একটাই হয়, তাই দরকার কি বাপু মাথার ব্যামো নিয়ে ঘোরাঘুরি করার। টিউমার হোক বা না হোক সময় করে একটু দেখিয়ে নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি ?

এই বিষয়টির উপস্থাপনা কিন্তু ভয় দেখানো নয় বা মাথাব্যথা হলেই ব্রেন টিউমার হবে এমনটাও বলা নয়। বরং এই রোগটি যে হতে পারে এবং এড়িয়ে যাবার কারণে আরও জটিল হতে পারে সেই বিষয়ে আরও সাবধান করা। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন.......

#medicalarticle #braintumour #genesishospitalkolkata #asprescribed #health

Thursday, 12 October 2017

নিদ্রাবিলাস


এক ঘুমে কি রাত কাবার হচ্ছে না ? আপনার নাক ডাকার জ্বালায় কি বাড়ির লোকজন বিরক্ত ? নাকি আপনি ঘুমোলে পাড়ার লোকজন জেগে উঠছে ? যদি সবকটা প্রশ্নের দিকে আপনি করুন মুখ করে তাকিয়ে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন আপনার স্লিপ স্টাডির বিশেষ প্রয়োজন আছে। কি ভাবছেন ? গ্রূপ স্টাডি শুনেছেন, স্লিপ স্টাডিটা আবার কি জিনিস ? তাহলে বলি, এটি একটি পরীক্ষা এবং এর মাধ্যমে জেনে নেওয়া যায় আপনার ঘুমের কোনো সমস্যা আছে কিনা বা কোনোরকম নিদ্রাজনিত রোগের দ্বারা আপনি আক্রান্ত কিনা। এই পরীক্ষার নাম পলিসমনোগ্রাফি। এর মাধ্যমে ব্রেন ওয়েভ, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, হৃদস্পন্দন, শ্বাস প্রশ্বাস, চোখ এবং পায়ের ম্যুভমেন্ট ইত্যাদি রেকর্ড করা হয়। আপনার ঘুমের যদি কোনো অস্বাভাবিক প্যাটার্ন থাকে বা আপনার স্লিপ এপ্নিয়া হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এই পরীক্ষায় ধরা পড়বে। সুতরাং অহেতুক দেরি করে নিজের এবং বাড়ির লোকের বিপদ আর বাড়াবেন না। পলিসমনোগ্রাফি করিয়ে নিন আর ছোট্ট করে জেনে নিন স্লিপ এপ্নিয়া কি। 

স্লিপ এপ্নিয়া কারে কয়  ?
স্লিপ এপ্নিয়া হল একরকম ঘুমের ব্যাধি। ঘুমোনোর সময় শ্বাসজনিত সমস্যার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে কিছু সেকেন্ড বা মিনিটের বিলম্ব হলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। সারারাতে বহুবার এই শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। এরই সাথে তাল মিলিয়ে চলতে থাকে অস্বাভাবিক নাক ডাকা। এই রোগ যাঁদের আছে তাঁরা সমস্তদিন ক্লান্তিতে ভোগেন ও অসময়ে তাঁদের ঘুম পেতে থাকে। স্লিপ এপ্নিয়ার ফলে রোগীর নানারকম শারীরিক সমস্যাও হয়, যার ফলে প্রতিদিনের কাজে ও মনোঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। মূলত স্লিপ এপ্নিয়া তিন ধরণের হয়।

১. অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপ্নিয়া - এটি তখনই হয় যখন ঘুমের মধ্যে গলার পিছনে থাকা সফ্ট টিস্যু কোল্যাপ্স করে বায়ুনালীর পথ রোধ করে। এই রোগটিই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

২. সেন্ট্রাল স্লিপ এপ্নিয়া - যখন মস্তিস্ক শ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশীকে সংকেত পাঠাতে ব্যর্থ হয় তখনই এই রোগটি হয়। এই সমস্যাটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (central nervous system) সাথে যুক্ত।

৩. কমপ্লেক্স বা মিক্সড স্লিপ এপ্নিয়া - উপরের  দুটি স্লিপ এপ্নিয়ার সমন্বয়ের ফলে এই রোগ দেখা দেয়।

স্লিপ এপ্নিয়ার উপসর্গ কি কি ?
# ভীষণ জোরে নাক ডাকা
# ঘুমোনোর সময় হঠাৎ বিষম খাওয়া
# শ্বাস প্রশ্বাসে বিলম্ব
# শ্বাসকষ্টের কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া
# দিনের বেলায় ক্লান্তি ও অবসাদ
# গলায় ব্যাথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা
# অনিদ্রা ও তার ফলে শারীরিক অস্থিরতা
# রাত্রে বারে বারে টয়লেট যাওয়া
# সকালে মাথাব্যথা হওয়া

দেখে নিন স্লিপ এপ্নিয়ার প্রভাবে কি হতে পারে ?
# উচ্চ রক্তচাপ
# স্ট্রোক
# অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, হার্টফেল, হার্ট এট্যাক
# ডায়াবেটিস
# অবসাদ
# মাথাব্যথা   

আমার কি স্লিপ এপ্নিয়া হতে পারে ? 
স্লিপ এপ্নিয়া সাধারণত যে কোনো মানুষেরই হতে পারে, যে কোনো বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে। তবুও মূলত যে কারণে হয় সেগুলি হল :
# অতিরিক্ত ওজন
# ৪০ বছরের ঊর্দ্ধে বয়েস হলে 
# গলার আকার ১৬ - ১৭ ইঞ্চির বেশি হলে 
# টন্সিল বা জিহ্বার আকার যদি বড় হয়
# চোয়ালের হাড় যদি ছোট হয়
# এলার্জি বা সাইনাসের সমস্যাজনিত নাকে বাধা 
# পরিবারের কোনো সদস্যের যদি স্লিপ এপ্নিয়া হয়ে থাকে
# মদ্যপান, ধূমপান, ঘুমের ওষুধ বা ট্রাংকুইলাইজার এর অভ্যাস থাকে   

কিভাবে রেহাই পাবেন ?
# ওজন কমিয়ে ফেলুন, গলায় অতিরিক্ত টিস্যুর সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। 
# ধূমপান এড়িয়ে চলুন। এর ফলে গলা বা বায়ুনালী কোনোটাই ফুলবে না। 
# মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধ একেবারে বর্জন করুন, বিশেষ করে ঘুমের আগে।  
# নিয়মিত ব্যায়াম করুন। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে এবং ভালো ঘুম হবে। 
# ঘুমের আগে ভারী খাবার বা ক্যাফিন এড়িয়ে চলুন।  
# প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস করুন। সঠিক ঘুমের ফলে স্লিপ এপ্নিয়া সেড়ে যাবার সম্ভাবনা  অনেকটাই।

অতএব কষ্ট করে ঘুমোনোর দরকার কি ? চিকিৎসকের পরামর্শে চট করে পোলিসমনোগ্রাফি করিয়ে নিন, তারপর সামান্য কিছু বদল আনুন আপনার জীবনযাত্রায়। এ যাত্রায় যে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন তা কিন্তু হলপ করে বলতে পারি। অন্তত বাড়ির লোকজনও হাঁপ ছেড়ে ঘুমোক একটু। তাই না ?

#medicalarticle #sleepapnoea #sleepapnea #genesishospitalkolkata #asprescribed

Saturday, 7 October 2017

গোপন কথাটি রবে না গোপনে....

ইদানীং অবনীবাবু ঘুম ভাঙলেই যেন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দুচোখের পাতা খুললেই তাঁর চোখের কোণে জল আসার উপক্রম হয়। পায়ে পায়ে বাথরুমের দরজা খুলে কমোডের ওপর বসলেই তিনি প্রায় সর্ষেফুল দেখতে থাকেন চারিধারে। প্রথমদিকে ভয়ের চোটে বাথরুম যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন একেবারে। কিন্তু পেটের কামড় উপেক্ষা করবে এমন বীরপুঙ্গব আর যেই হোন না কেন অবনীবাবু অন্তত নন। আর তাই সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে প্রত্যেক সকালবেলাতে তিনি কোনোমতে কষ্ট করে কমোডের ওপর বিরাজমান হতে থাকেন। কিন্তু সেও ক্ষনিকের। কিছুটা হওয়ার পরই অস্বস্তিতে উঠে চলে আসেন বারবার। কারণটা আর কিছুই নয়। ফুরফুরে দিনের শুরুতেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তিনি বিলক্ষণ বুঝতে পারেন যে তাঁর গুপ্তস্থানে কিঞ্চিৎ গোলযোগ দেখা দিয়েছে অথচ চরম সঙ্কোচের ফলে ভরসা করে বাড়ির কাউকে বলেও উঠতে পারছেন না। কারণ বললেই যদি কেউ বলে, 'কই দেখি' ? তাহলে তো আর তিনি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে কোনোকিছুই ঠিক দেখিয়ে উঠতে পারবেন না। তাই তিনি চুপচাপ ঠিক করলেন পাড়ার ডাক্তারকে গিয়ে একবার গোপনে দেখিয়ে নেবেন। চেম্বারে গিয়ে পাজামার দড়ি আলগা করে কামানের মতো পিছন তাক করে যখন ঝুঁকে দাঁড়ালেন তখন ডাক্তার গম্ভীর হয়ে বললেন, 'হুম, আপনার তো পাইলস হয়েছে মশাই'। একথায় অবনীবাবু প্রায় শুকনো মুখে জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে' ?

এই তাহলে যে কি সেটা জানতে হলে বেশ কিছু জিনিস আগে জেনে রাখা প্রয়োজন। যেমন শুধু পাইলস নয়, গুপ্তস্থানে ফিশার বা ফিশ্চুলার মতোও কঠিন রোগ হতে পারে। সেগুলো কি, কেমন করে হয় আর তার কি প্রতিকার, আসুন জেনে নিই এক এক করে।  

পাইলসের সাতকাহন 
মলদ্বারের ভিতরে যে ছোট ছোট শিরাগুলি থাকে সেগুলি যখন বিভিন্ন কারণে স্ফীত হয় তখনই তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। মূলতঃ কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়া, ভারী ওজন তোলা, প্রেগন্যান্সি বা মলত্যাগে সমস্যার দরুন পাইলস হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, অনেকসময়ই পাইলস কিন্তু নিজে থেকেই সেরে যায়। অবশ্য সমস্যা জটিল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। খুব কঠিন সমস্যা হলে ছোট্ট সার্জারিতেই রোগ নিরাময় হয়।  

পাইলসের উপসর্গ কি ?

সাধারণত পাইলসে কোনো যন্ত্রনা হয় না। মলদ্বারের চারপাশে অস্বস্তিকর সমস্যা হয়। প্রথম দিকে মলদ্বার থেকে রক্তপাত হয়। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর পাইলস থেকে কষ্ট অনুভূত হয়। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণীতে পৌঁছলে রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসিসের আকার ধারণ করে। সেক্ষেত্রে যথেষ্ট বেদনাদায়ক হয়।

এর চিকিৎসা কি ?
জেনেসিস হসপিটালের কর্ণধার ও বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক ডঃ পূর্ণেন্দু রায় এই সমস্যার কিছু সহজ সমাধান দিয়েছেন। ডায়েট কন্ট্রোল করলে অনেকাংশেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যেমন ফাইবার যুক্ত খাবার, ফল, শাকসবজি, ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রচুর পরিমানে জল খেতে হবে এবং ক্যাফিনের থেকে দূরে থাকতে হবে। মলত্যাগের সময় বেশি চাপ না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। শরীরের স্থূলতা কমিয়ে ফেলতে হবে এবং নিয়ম করে কিছু হালকা ব্যায়াম করলে এর সুফল পাওয়া যাবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু মলম, ক্রীম বা স্টুল সফ্টনার ব্যবহার করলে অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়।

এবার ফিশার 
মলদ্বার চিরে যাওয়া বা কেটে যাওয়াকে ফিশার বলে। এই চিরে যাওয়া জায়গায় অসম্ভব যন্ত্রনা হয় এবং মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত ঘটে। এর বিভিন্ন কারণগুলি হল কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে সমস্যা, শিশুর জন্ম দেওয়া, ডায়েরিয়া, ইনফেকশন বা অন্যান্য পেটের সমস্যা।  যে কোনো বয়েসেই এই রোগ হতে পারে। সাধারণত ফিশার নিজের থেকেই সেরে যায় তবুও একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফিশারের উপসর্গ কি ?
# চেরা জায়গার পাশে ছোট মাংসপিণ্ড হওয়া।
# মলত্যাগের সময় অসহ্য যন্ত্রনা।
# মলের সাথে রক্তপাত এবং মলদ্বারে জ্বলন।  

এর চিকিৎসা কি ?
সাধারণত অত্যাধিক ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। কিছু সহজ প্রতিকারের মাধ্যমে এই রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেমন প্রচুর পরিমানে জল, ফলমূল, সবজি খেতে হবে। নাইট্রোগ্লিসারিন মলম বা হাইড্রোকর্টিসোন ক্রীম ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সিটজ বাথ নিলে অনেকটাই অস্বস্তি কমে। এক গামলা ঈষদুষ্ণ জলে দিনে অন্তত দুবার কোমর অবধি ডুবিয়ে রাখলে অনেকটাই সুফল পাবেন। এর পরেও যদি সমস্যা হয় তাহলে একমাত্র চিকিৎসকই আপনার ভরসা।

সবশেষে ফিশ্চুলা 
ফিশ্চুলা হল একটি ছোট চ্যানেল বিশেষ, যা অন্ত্রের শেষভাগ ও মলদ্বারের চামড়ার মাঝামাঝি তৈরী হয়। এর মাধ্যমে রক্তপাত হয়, পুঁজ জমা হয় এবং কখনো কখনো মল বেরিয়ে আসে। ফিশ্চুলা যথেষ্ট বেদনাদায়ক এবং সার্জারি করেই এই রোগের নিরাময় ঘটে। ডঃ পূর্ণেন্দু রায় জানাচ্ছেন যে ফিশ্চুলার অন্যতম কারণ হল মলদ্বারে ইনফেকশন বা ফোঁড়া হওয়া। অনেকসময় ক্রনজ ডিজিস, টিউবারকিউলোসিস এবং ডাইভারটিকিউলাইটিস এর কারণেও ফিশ্চুলা হয়। 

এর উপসর্গ কি ?
# অসহনীয় একটানা ব্যথা হওয়া। বিশেষ করে বসার সময় অত্যন্ত অস্বস্তি হওয়া। 
# মলদ্বার ফুলে যাওয়া, চুলকানি হওয়া এবং লাল হয়ে যাওয়া। 
# পুঁজ বেরোনো ও রক্তক্ষরণ। 
# মলত্যাগে যন্ত্রনা ও কোষ্ঠকাঠিন্য।  
# জ্বর হওয়া। 

তাহলে ফিশ্চুলার চিকিৎসা কি ?
এর একমাত্র চিকিৎসা হল সার্জারি। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করবে মলদ্বারের ঠিক কোন জায়গায় ফিশ্চুলা হয়েছে তার ওপর। নিচে কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল। 
# ফিশ্চুলোটমি  - ৯০% সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এক -দু মাস সময় লাগে। 
# সিটন - এই পদ্ধতি একটি সার্জিক্যাল থ্রেডের মাধ্যমে করা হয়। অনেকসময় অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করার আগে সিটন ব্যবহার করা হয়।
# ফিশ্চুলেক্টোমি - এই পদ্ধতিতে ফিশ্চুলা ট্রাক্ট কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। জটিল ফিশ্চুলার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটিই শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা। 
# লেজার ট্রিটমেন্ট - এই আধুনিক পদ্ধতিতে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে না। এতে অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় সেরে উঠতেও কম সময় লাগে। 

এছাড়াও আরও পদ্ধতি আছে যা জটিল ফিশ্চুলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অবলম্বন করেন। 

সুতরাং এসমস্ত রোগ যদি আপনার হয়ে থাকে এবং আপনি যদি লজ্জা ও কুণ্ঠার ভেলায় ভেসে বেড়ান তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই কোনোরকম সঙ্কোচ না করে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া ভীষণ জরুরী। মনে রাখবেন এই সমস্ত রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়াটাই আপনার পক্ষে অত্যন্ত মঙ্গলের। নাহলে ইনফেকশনের কবলে পড়ে শেষকালে কি মুখ আর 'ইয়ে' দুটোই খোয়াবেন নাকি ?

#piles #fissure #fistula #medicalarticles #genesishospitalkolkata #asprescribed

Sunday, 10 September 2017

কোষ্ঠের পরাকাষ্ঠা


মানুষের অন্যতম সংবেদনশীল স্থান হল কোষ্ঠ। কোষ্ঠ নিয়ে মানুষ এতো সহজেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে যে রাতে ঘুমটাও ঠিকমতো হয় না। সকালে উঠে যথারীতি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তবে সে টয়লেট থেকে বেরোতে পারে। তাও পুরোপুরি নয়, 'আবার আসিব ফিরিয়া' বা 'স্মৃতিটুকু থাক' এর মতো করে সম্পূর্ণরূপে সে পিছুটান অবজ্ঞা করতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে অন্তত একজনের পেটের সমস্যা নেই। কোষ্ঠকাঠিন্য তাদের মধ্যে জনপ্রিয় তথা অন্যতম। কঠিন থেকে কঠিনতর বাধা মানুষ নির্দ্বিধায় অতিক্রম করতে পারে কিন্তু কোষ্ঠের কাঠিন্য উপেক্ষা করা বিন্দুমাত্র সম্ভব হয় না তার পক্ষে। তবে আপনার যদি অল্প বয়স হয় এবং আপনি যদি তুড়ি মেরে ভেবে থাকেন 'এসব তো বয়সকালীন রোগ, যখন হবে দেখা যাবে', তাহলে আপনাকে বলি আপনি সম্পূর্ণ ভুল ভাবছেন। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে স্কুলপড়ুয়াদের ৪০ শতাংশই ভুগছে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়। অতএব কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার তেমন কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা লগ্ন নেই। সুতরাং কৈশোর বা যৌবন কোষ্ঠকাঠিন্যের থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত, এমন ভাবারও কিন্তু কোনো কারণ নেই। তারচেয়ে বরং আসুন এই রোগটার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্বন্ধে একটু বিশদে জেনে নিই। তাহলে অন্তত আগামী দিনে সাবধানে থাকতে পারবেন বা বর্তমানে এই রোগের হাত থেকে রেহাই পাবেন।


এই রোগের কারণ কি কি ?

# খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন - অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার, প্রসেস্ড ফুড, মদ্যপান বা অত্যাধিক ক্যাফিনের কারণে হতে পারে। কম ফাইবার  যুক্ত খাবারের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
# তরলের ঘাটতি - যে সমস্ত দিনে আপনি যথেষ্ট জল পান করেন না সেসব দিনে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। মনে রাখবেন কৃত্রিম পানীয় কখনোই স্বাস্থকর নয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ।
# ব্যায়ামের অভাব - ব্যায়ামের অভাবে অনেকসময়ই মেটাবলিজম হ্রাস পায়। তার থেকে হজমের গোলমাল হলে পরবর্তীকালে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়।
# ওষুধ - কিছু বিশেষ ওষুধ বা পেইন কিলার্স-এর দরুন অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এমনকি নানারকম ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্টের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তেমনটা হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।

এর লক্ষণগুলি কি কি ?

# অনিয়মিত মলত্যাগ
# টয়লেট যাবার সময় ব্যাথা অনুভূত হওয়া
# কঠিন মল হওয়া
# সম্পূর্ণ অপসারিত না হওয়া
# তলপেটে অস্বাচ্ছন্দ বোধ করা
# পেট ফাঁপা
# মলদ্বার থেকে রক্তপাত হওয়া
# মাঝেমাঝেই ডায়েরিয়া হওয়া
# বারে বারে টয়লেট যাওয়া ইত্যাদি।

এই রোগের চিকিৎসা কি ?

# একটি ছোট গ্লাসে ঈষদুষ্ণ জলে লেবুর রস এবং মধু দিন। লেবু হজমে সাহায্য করবে ও বর্জ্য পদার্থের অপসারণ ঘটাবে। মধু টক ভাব কাটিয়ে রেচকের ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ মল নরম হবে।
# অলিভ অয়েল, ঘি বা ক্যাস্টর অয়েল এক্ষেত্রে ভীষণ উপকারী। এগুলিও রেচকের কাজ করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। খালি পেটে খেলে উপকার বেশি হয়।
# ফাইবার যুক্ত খাবার যেমন গম বা যবের রুটি, ওটস, ব্রকোলি, শাক ও বিভিন্ন ফল এক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকার দেয়।
# বেকিং সোডা কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট স্টমাক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে নুন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও জল উৎপাদন করে যা পেট পরিষ্কারের জন্য আদর্শ।
# চিজ, পাঁউরুটি, আলু এবং পর্ক -এর থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।

উপরোক্ত বিষয়গুলির ওপর জোর দিলে এই সমস্যার থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা করার দরকার নেই কারণ এই রাজ্যে বা দেশে আপনি একমাত্র মানুষ নন যিনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কষ্ট পাচ্ছেন। বরং সমস্ত জড়তা ঝেড়ে ফেলে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করুন ও প্রতিদিনের খাবারের দিকে নজর দিন। তেমন 'কঠিন' কিছু হলে চিকিৎসকরা তো আছেনই.........চিন্তা কি !

#genesishospitalkolkata #constipation #bengalihealtharticles #health #medicalarticle #asprescribed

Sunday, 3 September 2017

The Right Nutrition


Nutrition is the most significant point of health and well-being. It makes you strong, provides you with energy to perform and above all makes you look and feel good. According to WHO, "Nutrition is the intake of food, considered in relation to the body’s dietary needs". Nutrition is an issue of survival, health and development for current and succeeding generations. 
Malnutrition is defined as "a state of poor nutrition caused by insufficient or unbalanced diet". It is one of the major health problems especially in developing countries. Malnutrition is estimated to contribute to more than one third of all the child deaths. One out of three world's malnourished children live in India. Malnutrition has its adverse effects on human health, growth and development. It also results in loss of productivity and economic backwardness.
Good nutrition combined with a regular physical activity is the cornerstone of good health. Healthy children learn better, implement better and grow better. People with adequate nutrition are more productive comparatively. On the other hand, poor nutrition will lead to reduced immunity, increased vulnerability to disease, impaired physical and mental development, and reduced productivity. We often get confused about our right intake, their necessity and impact on our lives. So, let us find out answers to some of those very important questions which we keep asking to Doctors every now and then because good nutrition prepares healthy individuals and it eventually leads to a healthy nation.

What are the elements of a Healthy Diet?
Food consists of six specific types of nutrients: proteins, carbohydrates, fats, vitamins, minerals and water, all of which are necessary for life, growth, body function and tissue repair.
What is Balanced diet?
A balanced diet is one which provides all the types of nutrients in prescribed amounts and proper proportion. It includes fruits and vegetables, grains, roots, beans, pulses, nuts and animal products.
Can you explain in terms of calories requirement?
A balanced diet should provide around 50-60% of total calories from carbohydrates, preferably from complex carbohydrates, about 10-15% from proteins and 20-30% from both visible and invisible fat.
What is the role of fruits?
Fruits contain vitamins, minerals, fibres and plant chemicals (phytonutrients).
Why do we need Calcium?
Calcium is essential for strong and healthy bones.
Which are the best sources of calcium?
Rich sources of calcium are milk, cheese, yoghurt and green leafy vegetables.
Are cooking oils good for the health?
No single oil can do the job. It is always recommended to use a combination of oils either blended or by rotation. Such as, groundnut oil, soya bean oil, sunflower oil, rice bran oil so that you get the benefit of all.
Will eating tomatoes and spinach cause stones in the kidney?
No. These are unfounded fears. Eating tomatoes and spinach may be little harmful to those who are prone to formation of stones in the kidneys.
Does excessive eating of salt increase blood pressure?
Yes, excessive eating of salt increase blood pressure
What is the role of breast milk for infants?
Breast milk is the single most important food for infants.
Why breast milk is considered as single most important food for infants?
Breast milk contains adequate amount of proteins, fats, calories, lactose, vitamins, iron, minerals, water and enzymes. It also boosts immunity of the baby which further protects baby from several infections. It is quick and easy to digest.

Nutrition Tips
  • Eat fresh food with minimum of processing.
  • Eat raw fruits and vegetables whenever possible because cooking destroys many nutrients.
  • Wash the fruits and vegetables thoroughly and eat them with skin on
  • Don't cut, wash or soak fruits and vegetables until you are ready to eat them.
  • Prefer traditional, homemade food as compared to fast food.
  • Avoid replacing main meals with snacks
  • Limit consumption of sugar and unhealthy processed foods.
#nutrition #genesishospitalkolkata #health #medicalarticle #asprescribed

Information courtesy: https://www.nhp.gov.in/national-nutrition-week-2016_pg